Devaamoy Mukherjee:সন্তানের জ’ন্মে’র পর জীবন পরিবর্তন থেকে আত্মবিশ্বাসে ভাঁটা, কাজ না পাওয়া আর ইন্ডাস্ট্রির নীরবতা নিয়ে অকপট দেবময় মুখার্জী

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now
Instagram Group Join Now

ছোটপর্দার জনপ্রিয় একজন অভিনেতা দেবময় মুখার্জী (Debomoy Mukherjee )। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকরে অভিনেতা দেবময় মুখার্জী (Devaamoy Mukherjee ) এবং তাঁর স্ত্রী সায়ন্তী রায় মুখার্জী (Sayanti Roy Mukherjee )দুজনেই জোর দেন যে, সন্তানদের বড় করার দায়িত্ব মা এবং বাবা উভয়েরই সমান।
দেবময় বলেন, “আমি এটাকে আলাদা কোনো কৃতিত্বের চোখে দেখি না, এটা প্রত্যেক বাবারই… মায়ের তো বটেই, বাবারও উচিত করা।“ তাঁর স্ত্রী আরও যোগ করেন, “এটা তো পার্ট অফ পেরেন্টিং না… একটা মায়েরও যেমন দায়িত্ব কর্তব্য থাকে, বাবারও তো থাকা উচিত।“

দেবময় অভিনেতা হিসেবে তাঁর স্বচ্ছ ভাবমূর্তি এবং পরিশ্রমের কথা উল্লেখ করেন। তিনি নিজেকে ‘প্রোডাকশন ফ্রেন্ডলি’ (Production Friendly) শিল্পী হিসেবে দাবি করেন। তিনি বলেন, “আমি একজন প্রোডাকশন ফ্রেন্ডলি আর্টিস্ট। আমার কোনো রকম ট্যানট্রম (tantrum) নেই, আমার ডেট নিয়ে সমস্যা নেই, আমার কারোর সাথে কোনো বিরোধ নেই।“ তবে এত কিছুর পরেও কেন তিনি নিয়মিত কাজ পাচ্ছেন না, তা নিয়ে কিছুটা আক্ষেপও প্রকাশ করেন।
দেবময়ের স্ত্রী তাঁদের কঠিন সময়ের কথা শেয়ার করেন। তিনি যখন অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন, তখন তাঁকে অনেকটা সময় একাই সামলাতে হয়েছিল, যা এখন ভাবলে তিনি নিজেই অবাক হন।
“সাড়ে সাত মাস যে আমি একা থাকতাম বাড়িতে, আমি এখন ভাবি আমি কি করে থাকতাম… এমনও হয়েছে আমি নিজে বমি করছি এবং আমি নিজেই পরিষ্কার করছি।” দুই কন্যাসন্তানকে নিয়ে তাঁদের ভবিষ্যৎ ভাবনা এবং বর্তমানের কঠিন প্রতিযোগিতা নিয়ে তাঁরা চিন্তিত।

সাক্ষাৎকারে দেবময় (Debomoy) জানান যে যখন তিনি প্রথম শোনেন যে তাঁদের যমজ সন্তান হতে চলেছে, তখন তাঁর মনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া হয়েছিল। তিনি জানান, “তখন মনে হল যে একসাথে দুটো, সেটার একটা আলাদা মজা। এবার একসাথে দুজনকে বড় করার সবরকম যে প্রতিকূলতাগুলো… সেই দুটোই একসাথে মাথায় তখন চলছিল সেই মুহূর্তে।“

আরও পড়ুন:Javed Akhtar: স্বপ্ন ভে’ঙে’ছি’ল, কলম ভা’ঙে’নি – পর্দার আড়ালের যে মানুষটি বদলে দিয়েছিলেন হিন্দি সিনেমা

সায়ন্তী (Sayanti) তার গ’র্ভা’ব’স্থা’র কঠিন সময়ের কথা শেয়ার করেন। সায়ন্তী বলেন, “ওরা হচ্ছে ডিসিডিএ টুইনস, ওরা সেপারেট স্যাকে ছিল আমার। এবার যার জন্য আমার মানে বুঝতেই পারছ আমার কতটা কষ্ট আছে“। গ’র্ভা’ব’স্থা’য় সায়ন্তীকে দিনের অনেকটা সময় একা কাটাতে হত, যা তার জন্য খুব ভ’য়ে’র ছিল। তিনি জানান, “দেবময় তখন বোধ হয় শুটিংয়ে চলে গিয়েছিল… চলে যেত সে কোন সকালে, একদম রাত্রিবেলা ফিরত, সারাদিন আমি একা”। গর্ভাবস্থার শেষের দিকে যখন পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়ে, তখন পরিবার এগিয়ে আসে সেই কোথাও জানান তারা। “সাড়ে সাত মাসে মানে যখন আমার অবস্থা খুবই খারাপ হয়ে যাচ্ছিল আস্তে আস্তে, তখন মায়েরা সবাই মিলে এখানে শিফট করল”।
সায়ন্তী অধ্যাপনা পেশা থেকে বিরতি নেওয়াকে কোনো আক্ষেপ হিসেবে দেখছেন না। তিনি মনে করেন সন্তানদের সময় দেওয়াটা এখন সবচেয়ে বেশি আনন্দদায়ক।“আমি একদম যে আ’ক্ষে’প করছি সেটা একদমই নয়। আমি পুরো বিষয়টাই মজায় করছি। কারণ যারা ওয়ার্কিং মাদার্স তারা এটা খুব একটা পায় না”। তাঁর কথায় তিনি পাকাপাকিভাবে ক্যারিয়ার ছাড়েননি, বরং সন্তানদের একটু গুছিয়ে নিয়ে আবার পেশায় ফেরার ইচ্ছা পোষণ করেছেন।
তিনি বলেন – “আমি চাইছি একটুখানি গুছিয়ে নিয়ে তারপর আমি কোথাও জয়েন করি… আরও দুই তিন বছর না হয় একটু ওয়েট করে যাই, হয়তো ভালো কিছুই অপেক্ষা করছে”।
তাঁদের মতে সন্তান বড় করার দায়িত্ব শুধু মায়ের নয়। সাক্ষাৎকারে তিনি বাবার সক্রিয় অংশগ্রহনের কথাও বলেছে তারা –
“বাবা হিসেবে যা যা কর্তব্য করা উচিত আমি সেগুলো করি। বাড়িতে থাকলে ওদের স্নান করানো, রাতে ওদের দেখাশোনা করা, দুধ তৈরি করে খাওয়ানো—সবই করি”। সন্তান লালন-পালন যে একটি যৌথ প্রচেষ্টা, সেই কথাই বলে দেবময় – “আমরা পুরো বিষয়টা ফিফটি-ফিফটি (50-50) করে নিয়েছি। এটা প্রত্যেক বাবারই করা উচিত। এটা প্যারেন্টিং-এরই একটা অংশ”। সায়ন্তীও বলেন যে – “সন্তান সামলানো বোধহয় মা-বাবা দুজনেরই সমান দায়িত্ব”। সে জানায় যে, মা ও শাশুড়ির কাছ থেকেও বাবা হিসেবে দেবময় বেশ প্রশংসা ও সমর্থন পান, যা তাকে উৎসাহিত করে।

আরও পড়ুন:Lawho Gouranger Naam Rey:ছবির সেটে অভিনয় নয়, সাধনা: ‘লহ গৌরঙ্গের নাম রে’ ঘিরে টিমের অলৌকিক অভিজ্ঞতা! কী জানালেন ছবির কলাকুশলীরা?

দেবময় বলেন যে তাঁরা অনেকদিন ধরেই পরিকল্পনার পর দুই সন্তানকে পেয়েছেন। তবে বর্তমানে তিনি পেশাগত দিক থেকে কিছুটা সমস্যার সম্মুখীন। তিনি জানান যে গত ছয় মাস ধরে তার হাতে তেমন কোনো কাজ নেই। যারা কাজ দেবেন, তাদের পক্ষ থেকে সাড়া না পাওয়ায় তিনি বর্তমানে অসুবিধার মধ্যে রয়েছেন।তিনি বলেন, “প্ল্যানিং তো অনেকদিন ধরেই করছি কিন্তু এখন মানে আমার ইচ্ছেতেই সব হচ্ছে না… যাঁরা কাজে নেবেন তাঁদের ইচ্ছে হচ্ছে না, সে জন্য আমি একটু অসুবিধার মধ্যে আপাতত পড়েছি”।
তাঁর স্ত্রী দুই সন্তানকে সামলাতে ব্যস্ত, তাই আগামী দুই-তিন বছর তাঁর পক্ষে কাজে ফেরা সম্ভব নয়। এই পরিস্থিতিতে সংসারের যাবতীয় চাপ দেবময়ের ওপর, যা তাঁকে মানসিকভাবে উদ্বিগ্ন করে তুলছে।
দেবময় আক্ষেপ করে বলেন যে বিপদের সময় বা অভাবের সময় মানুষের আসল রূপ চেনা যায়। যাঁরা আগে সবসময় পাশে থাকার কথা দিতেন, এখন প্রয়োজনে তাঁদের পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁর কথায় –“আগে যারা দেখাত যে আমরা আছি… যখন পাকে পড়েছি, তখন হাত পেতেছি… মানে কাজের জন্য আর কি… তখন কোনো সাড়া নেই।“

আরও পড়ুন:Akshaye Khanna:বরের সামনেই করিশ্মার হাতে চু’মু! পুরানো ভিডিয়ো ঘিরে ফের চর্চায় অক্ষয় খান্না, কেন আজও অবিবাহিত বলিউডের এই নায়ক?

তবে তিনি এও জানান যে ইন্ডাস্ট্রির সবাই তাকে ফিরিয়ে দেননি। নীল ভট্টাচার্য (Neel Bhattacharya) ও সন্দীপ চক্রবর্তী (Sandip Chakraborty) -র মতো কিছু মানুষ তাঁকে কাজ পেতে সাহায্য করছেন এবং বিভিন্ন জায়গায় তাঁর হয়ে সুপারিশ করছেন।
দেবময় দাবি করেন যে তিনি একজন অত্যন্ত সহযোগিতামূলক শিল্পী এবং তার কোনো বাড়তি চাহিদা (Tantrums) নেই। তা সত্ত্বেও কেন কাজ পাচ্ছেন না, তা তাঁর কাছে অজানা। তাঁর কথায়, “আমি নিজে বলতে পারি যে আমি একজন প্রোডাকশন ফ্রেন্ডলি আর্টিস্ট… কিন্তু কেন হচ্ছে না সেটা বুঝতে পারছি না… যদি কারণটা জানতাম তবে সংশোধন (Rectify) করতে পারতাম।“
সাক্ষাৎকারে তাঁরা তাঁদের বর্তমান পরিস্থিতির কঠিন সময়ের কথা উল্লেখ করেন, তখন দেবময়ের স্ত্রী ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন। ভবিষ্যতের কঠিন প্রতিযোগিতার কথা মাথায় রেখে তাঁরা সন্তানদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। দেবময় বলেন, “মেয়েদের সবথেকে ভালো আমরা যাতে দিতে পারি… কারণ এই যা আসছে সময়, সাংঘাতিক একটা কম্পিটিটিভ টাইম চলে আসছে”। জীবনে প্রতিকূলতা আসলেও তা কাটিয়ে নতুন পথ খুঁজে নেওয়ার ব্যাপারে তাঁরা আশাবাদী। “একটা রাস্তা বন্ধ হয়ে গেলে অন্য রাস্তা তো খুলবেই।“
দেবময়ের স্ত্রী জানিয়েছেন, দেবময়ের চেয়ে তাঁর মনের জোর বেশি হতে পারে, কিন্তু তাঁরা একে অপরের পরিপূরক। দেবময় স্বীকার করেন যে মাঝে মাঝে কাজের চাপে তাঁর আত্মবিশ্বাস কিছুটা কমে যায়। তিনি বলেন, “আগে হয়ত আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী ছিলাম, এখন মাঝে মাঝে একটু ভেঙে পড়ি”।
“নিজের ক্ষমতার প্রতি একটা প্রশ্ন চলে আসে… খামতিটা কোথায় হচ্ছে, ভুলটা কোথায় হচ্ছে।“
ইন্টারভিউয়ের শেষে দেবময় স্বীকার করেন যে বর্তমান পরিস্থিতির কারণে তাঁর আত্মবিশ্বাসে কিছুটা ভাঁটা পড়েছে। কিন্তু এত কিছুর মাঝেও তাঁরা লড়াকু মানসিকতারও কথা উল্লেখ করেন।

Leave a Comment