Dev:”ইধিকাকে আমি স্টার বানিয়েছি… “, “শেষ, গল্প এখানেই শেষ – ‘ধূমকেতু ২’-এর দরজা চিরতরে বন্ধ” – দেবের সোজাসাপ্টা ঘোষণা

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now
Instagram Group Join Now

Dev:টলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা দেব(Dev) সম্প্রতি এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে খো’লা’মে’লা আ’লো’চ’না করেছেন সাফল্য, প’রি’শ্র’ম, ভাগ্য এবং চলচ্চিত্র জীবনের নানা অভিজ্ঞতা নিয়ে। একই সাক্ষাৎকারে দীর্ঘদিন ধরে বি’ত’র্ক ও প্র’তী’ক্ষা’র বিষয় হয়ে থাকা তাঁর ছবি ‘ধূমকেতু’(Dhumketu)-র দ্বিতীয় ভাগ বা ‘ধূমকেতু ২’ সম্পর্কেও স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে একদিকে জীবনমুখী দর্শন, অন্যদিকে পেশাদার সিদ্ধান্তের বা’স্ত’ব’তা।

এই সাক্ষাৎকারে দেব স্পষ্ট জানিয়েছেন, আজকের দিনে শুধু প্রতিভা বা সুযোগ নয় সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় শ’ক্তি হল ক’ঠো’র প’রি’শ্র’ম, নিয়মানুবর্তিতা এবং ধারাবাহিকতা। সেই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেছেন ভাগ্যের ভূমিকাও। একইসঙ্গে ‘ধূমকেতু ২’-এর ভবিষ্যৎ নিয়ে বহু দর্শকের মনে লু’কি’য়ে থাকা প্রশ্নেরও চূ’ড়া’ন্ত উত্তর দিয়েছেন অভিনেতা।

সাক্ষাৎকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ জুড়ে ছিল সাফল্যের মানে ও তার মূল্য নিয়ে দেবের দৃষ্টিভঙ্গি। তাঁর মতে – কেউ কাউকে স্টার বানাতে পারে না প্রত্যেকের জীবনে ভাগ্যের একটি নিজস্ব স্থান রয়েছে। ইধিকা (Idhika Paul)-র স্টার হওয়ার পেছনে দেবের হাত রয়েছে প্রশ্ন উঠলে এই প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “.. ইধিকাকে আমি স্টার বানিয়েছি..কেউ কাউকে স্টার বানায় না, সবারই একটা ভাগ্য আছে।” তবে তিনি এটাও জানান, ভাগ্যের উপর নির্ভর করে বসে থাকলে চলবে না। ক’ঠো’র প’রি’শ্র’ম ও নিবেদনই সাফল্যের আসল ভিত্তি।

আরও পড়ুন:Shruti Das:’শ’রী’রে’র ও’জ’ন বেড়ে গিয়েছে, এ কেমন দৌড়! কচ্ছপের মতো’… আবারও নেটিজেনদের ট্রো’লে’র মুখে শ্রুতি, ট্রো’লা’র’দে’র সামনে নিজের বাস্তবতার পর্দা তুললেন অভিনেত্রী

বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকার চাবিকাঠি হিসেবে দেব বিশেষভাবে গুরুত্ব দেন শৃঙ্খলা ও আত্মসমর্পিত কর্ম নিষ্ঠাকে। তিনি বলেন, “আজকের দিনে যারা ডিসিপ্লিনড, যারা ডেডিকেটেড, যারা পরিশ্রমী তারাই জায়গা পায়।”
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, শুধু একটিমাত্র সিনেমা বা মুহূর্তের সাফল্য নয় দীর্ঘমেয়াদি টিকে থাকার জন্য দরকার ধারাবাহিক ও নিয়মিত প’রি’শ্র’ম।
দেবের মতে, যারা নিজেদের কাজে নিষ্ঠাবান নন, কিংবা নিয়মিত পরিশ্রম করেন না, তারা খুব দ্রুতই হা’রি’য়ে যান ইন্ডাস্ট্রির ভিড়ে। তিনি বলেন, “নাহলে একটা ছবির পরে সবাই অতীত হয়ে যায়।” এই মন্তব্যে স্পষ্ট হয়, সাফল্য তাঁর কাছে কেবল একটি অর্জন নয় বরং তা ধরে রাখার দুঃ’সা’ধ্য সং’গ্রা’ম।

সাক্ষাৎকারে দেব বর্তমান সময়ে সাফল্য অর্জনের ক’ঠি’ন বা’স্ত’ব’তা’ও তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, যত মানুষের স্বপ্ন এই ইন্ডাস্ট্রিকে ঘিরে, তার তুলনায় সফলতার হার অত্যন্ত ক’ম। তিনি বলেন, “আজকের দিনে সাফল্যের রেশিওটা ০.০০১%, ভাই!” এই মন্তব্য শুধু পরিসংখ্যান নয়, বরং বহু বছরের অভিজ্ঞতা থেকে উঠে আসা এক ধরনের স’ত’র্ক সং’কে’ত’ও বটে।

দেবের মতে, সাফল্য পাওয়া যেমন ক’ঠি’ন, তার থেকেও ক’ঠি’ন হল সেই সা’ফ’ল্য বজায় রাখা। তিনি বলেন, “সা’ফ’ল্য সহজ নয় এবং সেই সাফল্যটা ধরে রাখার জন্য অতি প’রি’শ্র’ম প্রয়োজন।”
তাঁর এই বক্তব্যে স্পষ্ট যে, তিনি নিজের ক্যারিয়ারকে শুধু জনপ্রিয়তার মাপকাঠিতে নয়, বরং নিয়মানুবর্তিতা ও প’রি’শ্র’মে’র ধারাবাহিকতায় বি’চা’র করেন।

আরও পড়ুন:Saptarshi-Sohini:“দায়িত্ব নিতে চান না সপ্তর্ষি”..১৪ বছরের ছোট স্বামী! ১৩ বছরের দাম্পত্যেও সন্তান না নেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল সোহিনী সেনগুপ্ত

সাক্ষাৎকারের বক্তব্য জুড়ে ধরা পড়ে তাঁর আত্মবিশ্বাসী অথচ বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গি। নিজের সাফল্যকে তিনি শুধুমাত্র অর্জন হিসেবে দেখেন না, বরং তা এক অব্যাহত দায়িত্ব হিসেবেও ভাবেন।

এই সাক্ষাৎকারে ভক্তদের কাছে সবচেয়ে বড় আলোচ্য বিষয় হয়ে ওঠে ‘ধূমকেতু ২’–এর ভবিষ্যৎ। দীর্ঘদিন ধরে ছবিটির দ্বিতীয় অংশ নিয়ে নানা গু’ঞ্জ’ন, আশার কথা ও বি’ত’র্ক চলছিল। তবে দেব স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ‘ধূমকেতু ২’ আর কখনওই মুক্তি পাবে না।

সাক্ষাৎকারের শুরুতেই সঞ্চালক যখন প্রশ্ন তোলেন ‘ধূমকেতু ২’ কি আসছে? দেব বিন্দুমাত্র দ্বি’ধা না করে উত্তর দেন, “না, ‘ধূমকেতু’ জীবনেও আসবে না।” তাঁর এই দৃ’ঢ় উত্তর সঞ্চালককে যেমন বি’স্মি’ত করে, তেমনই ভক্তদের কাছেও পৌঁছে যায় এক বড় সিদ্ধান্তের বার্তা।

সঞ্চালক বিষয়টি আরও পরিষ্কারভাবে জানতে চাইলে দেব বলেন, “শে’ষ, গল্প এখানেই শে’ষ।” এই সংক্ষিপ্ত অথচ সোজাসাপ্টা বাক্যেই তিনি বুঝিয়ে দেন যে, প্রজেক্টটি আর কোনওভাবেই সামনে আসবে না।

‘ধূমকেতু ২’ নিয়ে বারবার আশার বার্তা শোনা গিয়েছিল প্রযোজক রানা সরকারের তরফে। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি বহুবার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন সম্ভাব্য পুনরুজ্জীবনের কথা। এই প্রসঙ্গ উঠে আসতেই দেব একপ্রকার রসিকভঙ্গিতে বলেন, “রানা’দা প্রচুর কথা বলে। রানা’দার এটাই প্লাস পয়েন্ট।”

তিনি আরও যোগ করেন, “রানা সরকার শুধু কথা বলেন না তিনি প্রচুর স্বপ্নও দেখেন। দেবের মন্তব্যে প্রযোজকের প্রতি ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা ও মমতা যেমন ফু’টে ওঠে, তেমনই বোঝা যায়, পেশাদার ম’ত’ভে’দ তাঁদের স’ম্প’র্কে’র উপর ছায়া ফে’লে’নি।”

এখানেই দেব একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট করেন পেশাগত সিদ্ধান্ত ও ব্যক্তিগত স’ম্প’র্ক’কে তিনি আলাদা করেই দেখেন। তাঁর ভাষায়, “রানা দা এখন খুব কাছের মানুষ আমার। আই থিঙ্ক হি ইজ আ ফ্যান্টাস্টিক ম্যান। অর্থাৎ আমার মনে হয় উনি একজন দারুণ মানুষ।” এই বক্তব্যে পরিষ্কার যে, ‘ধূমকেতু ২’ বন্ধ হয়ে গেলেও ব্যক্তিগত পরিসরে দুইজনের স’ম্প’র্ক অটুট।

‘ধূমকেতু’ এক সময় টলিউডের বহু দর্শকের কাছে ছিল একটি বহুল প্রতীক্ষিত প্রজেক্ট। ছবির ভবিষ্যৎ নিয়ে দীর্ঘ সূত্রতা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বহু ভক্তই দ্বিতীয় ভাগের আশায় ছিলেন। দেবের এই সাক্ষাৎকারে দেওয়া পরিষ্কার মন্তব্যের পর সেই আশার পর্দা কার্যত নেমে গেল।

ভক্তদের একাংশের হ’তা’শা স্বাভাবিক হলেও দেব এই সিদ্ধান্তে অটল। তাঁর ভাষ্য ও ভঙ্গিমা থেকে বোঝা যায় তিনি কোনও অস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি বা বি’ভ্রা’ন্তি রেখে যেতে চান না। বরং বা’স্ত’ব’তা’র জায়গা থেকেই তিনি একটি চূ’ড়া’ন্ত অবস্থান গ্রহণ করেছেন।

আরও পড়ুন:Prantikk Banerjee:”দিন আনি দিন খাই, আমার সঞ্চয়ও কিছু নেই…”, পর্দার ঝলকের আড়ালে কঠিন বাস্তবতা: আ’র্থি’ক ল’ড়া’ই’য়ে’র কথা প্রকাশ্যে আনলেন অভিনেতা প্রান্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়

এখন প্রশ্ন রয়ে যায়, দেবের এই ম’ন্ত’ব্যে’র পর প্রযোজক রানা সরকার কী প্রতিক্রিয়া দেন কিংবা নতুন কোনও বক্তব্য সামনে আসে কি না। তবে আপাতত দেবের স্পষ্ট ঘোষণায় ‘ধূমকেতু ২’–এর অধ্যায় কার্যত স’মা’প্ত বলেই ধরে নেওয়া যায়।

পুরো সাক্ষাৎকারে দেবের বক্তব্য একদিকে যেমন অনুপ্রেরণামূলক, তেমনই বাস্তবধর্মী। সাফল্য নিয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ইন্ডাস্ট্রির তরুণ প্রজন্মের কাছে শিক্ষণীয়। ভাগ্যের অস্তিত্ব স্বীকার করলেও তিনি সর্বাগ্রে রেখেছেন প’রি’শ্র’ম, শৃঙ্খলা ও নিবেদনকে। একইসঙ্গে তিনি প্রমাণ করেছেন জনপ্রিয়তার চা’পে’র মধ্যেও ঝু’লে থাকা প্রজেক্ট নিয়ে অ’স্প’ষ্ট’তা না রেখে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়াই তাঁর নীতি।

এই সাক্ষাৎকারের মূল বার্তা যেন একটাই সাফল্য কোনও একদিনের গল্প নয়, তা একটি দীর্ঘ পথচলা। আর সেই পথচলাকে অর্থবহ করে তোলাই দেবের কাছে জীবনের বড় চ্যা’লে’ঞ্জ।

Leave a Comment