Ratnapriya Das: টেলিপাড়ায় গুঞ্জনের শেষ নেই। কখনও নতুন সম্পর্ক, কখনও পুরানো প্রেম ভাঙার গল্প, এসব নিয়েই প্রায়শই চর্চায় থাকেন ছোটপর্দার তারকারা। সেই তালিকায় এবার নতুন করে নাম উঠে এল অভিনেত্রী রত্নাপ্রিয়া-(Ratnapriya Das)-র । ‘উড়ান’(Uraan) ধারাবাহিক খ্যাত এই নায়িকাকে ঘিরে সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় যে ঝড় উঠেছে, তা এক কথায় ভাইরাল। পরিচালক কৃষ(Krish Bose)-এর সঙ্গে তাঁর পুরনো সম্পর্কের গুঞ্জন পেরিয়ে হঠাৎই বিয়ের সাজে ধরা দেওয়ার ছবি দেখে অনুরাগীদের একটাই প্রশ্ন, তবে কি সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে চুপিসাড়ে বিয়েটা সেরে ফেললেন রত্নাপ্রিয়া?
বুধবার সকাল থেকেই নেটদুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে একগুচ্ছ ছবি। কোথাও লাল বেনারসিতে, মাথায় সিঁদুর, চন্দনের গয়নায় সেজে একেবারে বাঙালি বধূ রত্নাপ্রিয়া। তাঁর পাশে ঘিয়ে রঙের পাঞ্জাবিতে, গলায় মালা জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার মুকুল জানা। ছবিগুলোর ফ্রেম, আলো, সাজ সবটাই যেন একেবারে বাস্তব বিয়ের মুহূর্ত। তাই ছবি দেখেই অনেকেই ধরে নেন, টেলিপাড়ায় বুঝি আরও এক নায়িকার গোপন বিয়ের খবর সামনে চলে এল।
রত্নাপ্রিয়ার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আগ্রহ নতুন কিছু নয়। একটা সময় ‘পরিণীতা’(Parineeta) ধারাবাহিকের পরিচালক কৃষ(Krish Bose)-এর সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা নিয়ে টেলিপাড়ায় বিস্তর কানাঘুষো শোনা গিয়েছিল। শুটিং ফ্লোর থেকে শুরু করে অফস্ক্রিন সর্বত্রই তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে নানা আলোচনা চলত। যদিও সেই সম্পর্ক নিয়ে কখনও প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি রত্নাপ্রিয়া বা কৃষ। তবু অনুরাগীদের কৌতূহল কমেনি। সেই অধ্যায়ের কোনও আনুষ্ঠানিক ইতি না টানতেই হঠাৎ মুকুল জানা(Mukul Kumar Jana)-র সঙ্গে বিয়ের সাজে ছবি দেখে স্বাভাবিকভাবেই অবাক হয়েছেন অনেকে।
এই ছবিগুলোর সঙ্গে আরও রহস্য যোগ করেছে ক্যাপশন। কোথাও সরাসরি ‘বিয়ে’ শব্দের উল্লেখ নেই, আবার কোথাও কেবল ধন্যবাদ আর ভালোবাসার ইমোজি। কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা না থাকায় জল্পনা আরও উসকে যায়। কেউ মন্তব্য করছেন, “অবশেষে সত্যিটা সামনে এল।” কেউ আবার প্রশ্ন তুলছেন, “কৃষ অধ্যায় তাহলে শেষ?” আবার অনেকে সরাসরি শুভেচ্ছা জানিয়ে বসেছেন নতুন জীবনের জন্য।
তবে ছবির আড়ালের সত্যিটা একটু অন্যরকম। ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই বিয়ের সাজ আসলে বাস্তব জীবনের কোনও অনুষ্ঠান নয়। এটি একটি বিজ্ঞাপনী প্রচারের অংশ। একটি ব্র্যান্ডের জন্য শ্যুটিংয়ের প্রয়োজনেই বর-কনের সাজে ধরা দিয়েছেন রত্নাপ্রিয়া ও মুকুল। পুরো বিষয়টি একটি অ্যাড ক্যাম্পেনের ঝলক মাত্র। কিন্তু ছবির বাস্তবতা আর ইচ্ছে করেই ধোঁয়াশা রাখা ক্যাপশন এই দুয়ে মিলেই সোশ্যাল মিডিয়ায় আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।
প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি ইচ্ছাকৃতভাবেই এই জল্পনা তৈরি করা হয়েছিল? অনেকের মতে, প্রচারের দিক থেকে এটি নিঃসন্দেহে একেবারে মাস্টারস্ট্রোক। কারণ কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ছবিগুলো ছড়িয়ে পড়ে হাজার হাজার শেয়ার আর মন্তব্যে। কেউ কেউ বলছেন, বিজ্ঞাপনের আড়ালে হয়ত সত্যিই কোনও বিশেষ সম্পর্ক দানা বাঁধছে, যা এখনই সামনে আনতে চাইছেন না তাঁরা। আবার একাংশের দাবি, পুরোটা শুধুই কাজের খাতিরে এর বাইরে অন্য কোনও অর্থ খোঁজা ঠিক নয়।
এদিকে মুকুল জানা নিজেও সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ জনপ্রিয় মুখ। তাঁর ফলোয়ার সংখ্যা নেহাত কম নয়। তাই এই জুটি একসঙ্গে আসায় স্বাভাবিকভাবেই নজর কেড়েছে আলাদা করে। অনেক ভক্তই মন্তব্য করেছেন, বিয়ের সাজে তাঁদের দু’জনকে বেশ মানিয়েছে। কেউ কেউ তো লিখেছেন, “আসলেই বিয়ে হলে খারাপ হত না।” আবার কেউ আবার একটু ঠাট্টার সুরে বলেছেন, “অ্যাড হোক বা বিয়ে, লুকটা একেবারে পারফেক্ট।”
সব মিলিয়ে রত্নাপ্রিয়ার এই ‘বিজ্ঞাপনী বিয়ে’ এখন টেলিপাড়া ও নেটদুনিয়ার আলোচনার কেন্দ্রে। পরিচালক কৃষের সঙ্গে তাঁর অতীত সম্পর্কের জল্পনা, তার পর হঠাৎ নতুন মানুষের সঙ্গে বিয়ের সাজ সবকিছু মিলিয়ে গল্পটা বেশ সিনেমাটিক। যদিও আপাতত নিশ্চিতভাবে বলা যায়, এই ছবি বাস্তব বিয়ের নয়, তবু রহস্যটা পুরোপুরি কাটেনি।
শেষ পর্যন্ত রত্নাপ্রিয়া বা মুকুল কেউই এখনও খোলাখুলি কিছু বলেননি। ফলে অনুরাগীদের কৌতূহল যেমন ছিল, তেমনই রয়ে গিয়েছে। আদৌ কি এই বিজ্ঞাপনী জুটির সম্পর্ক ভবিষ্যতে অন্য কোনও দিকে মোড় নেবে? নাকি এটি শুধুই কাজের খাতিরে তৈরি করা এক ঝলক চমক? সেই উত্তর সময়ই দেবে। তবে একথা নিশ্চিত, আপাতত সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ‘বিয়ে’ সুপারহিট, আর রত্নাপ্রিয়া আবারও প্রমাণ করলেন, আলোচনায় থাকতে তিনি জানেন ঠিকই।