Sudip-Pritha:ডি’ভো’র্সে’র সিদ্ধান্ত হয়েছিল, কিছুটা সময় আলাদা থাকতেও হয়েছিল তবু শেষ পর্যন্ত দুটি ছেলের কথা ভেবেই ফের একসঙ্গে থাকার পথই বেছে নিলেন টলিপাড়ার জনপ্রিয় দম্পতি সুদীপ মুখোপাধ্যায় (Sudip Mukherjee) ও পৃথা চক্রবর্তী(Pritha Chakraborty)। সম্পর্কের ও’ঠা’প’ড়া, ব্যক্তিগত টা’না’প’ড়ে’ন সবকিছুর মাঝেও সন্তানদের ভবিষ্যৎকে অগ্রাধিকার দিয়ে আবার একই ছাদের নীচে ফিরেছেন তাঁরা। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া এক ভিডিও যেন ফের প্রমাণ দিল, দূরত্ব যতই তৈরি হোক, এই স’ম্প’র্ক’কে ছেঁ’টে ফেলা সহজ নয়।
ভিডিওটিতে দেখা যায়, ‘চিরসখা’(Chiroshokha)-তে অভিনয়ের পর থেকে বিশেষভাবে আলোচনায় থাকা ‘স্বতন্ত্র’ অর্থাৎ সুদীপ একটি উষ্ণ শীতের দিনে পরিবারকে নিয়ে বেড়াতে বেরিয়েছেন। মাফলারে মুখ ঢাকা, হাতে ফোনের সেলফি ক্যামেরা এইভাবেই ধরা পড়েছেন তিনি। আর ঠিক পেছনেই হেঁটে আসছেন তাঁর স্ত্রী পৃথা, সঙ্গে দুই ছেলে বালি ও ঋদ্ধি। সহজ-সরল এই পারিবারিক মুহূর্তই যেন বলে দেয়, তাঁদের সম্পর্কের সমীকরণ নিয়ে যত জল্পনাই থাক, পরিবারের বন্ধন এখনও দৃঢ়।
ভিডিওর ক্যাপশনে নস্টালজিয়ার আবেশে লিখেছেন সুদীপ শীতকাল মানেই তাঁর কাছে আলিপুর চিড়িয়াখানা, পিকনিক আর চড়ুইভাতির মিষ্টি স্মৃতি। ছোটোবেলায় যেমন পশুপাখি দেখা আর রোদে বসে আড্ডা ছিল আনন্দের অংশ, এখন সেই একই অভ্যাস তিনি পালন করেন ছেলেদের সঙ্গেও। অর্থাৎ নতুন প্রজন্মের হাত ধরে পুরানো স্মৃতিই ফিরছে জীবনে যেখানে পরিবারের উপস্থিতি সবচেয়ে বড় সঙ্গী।
কিছুদিন ধরেই একাধিক জায়গায় তাঁদের একসঙ্গে দেখা যাচ্ছে। ফলে ভক্তদের মনে প্রশ্ন জেগেছিল তাহলে কি অতীতের ঝামেলা গলেই আবার কাছাকাছি এলেন তাঁরা? যদিও এই নিয়ে প্রকাশ্যে খুব বেশি কথা বলেন না কেউই, তবু জানা গিয়েছে দুই সন্তানের মা’ন’সি’ক সু’র’ক্ষা আর সুন্দর শৈশব নিশ্চিত করতেই তাঁরা নতুন করে সংসার শুরু করেছেন। এক সাক্ষাৎকারে সুদীপ নিজেই জানিয়েছিলেন, যেকোনও সম্পর্কে ম’ত’ভে’দ থাকতেই পারে, কারণ প্রত্যেকেই স্বতন্ত্র মানুষ নিজস্ব ভাবনা, মত, সিদ্ধান্ত থাকবেই। কিন্তু তার জন্য সম্পর্ক শেষ হয়ে যায় না। বরং এখন তাঁরা একসঙ্গে থাকছেন, এটুকুই তাঁর স্পষ্ট বার্তা।
এই সিদ্ধান্ত ঘিরে কখনও কখনও নেটমাধ্যমে স’মা’লো’চ’না, ক’টা’ক্ষ’ও এসেছে। বিশেষ করে ২০২৫ সালের দুর্গাপুজোয় ঠাকুর বরণ আর সিঁদুরখেলার ছবি প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছিল বি’ত’র্ক। তখন পৃথা সাফ লিখেছিলেন বালি ও ঋদ্ধির বাবা-মা তাঁরা চিরকালই থাকবেন। তিনি আবার বিয়ে করুন বা না-করুন, প্রতি বছর মায়ের বরণ করবেনই, শাখা-পলা-সিঁদুর সব নিয়েই উৎসবে অংশ নেবেন। তাঁর মতে, মাতৃত্ব ও পারিবারিক পরিচয় কখনও মুছে যায় না।
উল্লেখ্য, পৃথা হলেন সুদীপের দ্বিতীয় স্ত্রী। এর আগে অভিনেত্রী ও শিক্ষিকা দামিনী বেনি বসু (Daminee Benny Basu)-র সঙ্গে প্রথম বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন তিনি, এবং সেই দাম্পত্য থেকে রয়েছে এক কন্যাসন্তান। পরে সেই সম্পর্কের ইতি টেনে, অনেকটাই ছোটো বয়সের পৃথার প্রেমে পড়েন সুদীপ। নাচে দ’ক্ষ, প্রাণবন্ত ব্যক্তিত্বের অধিকারী পৃথার চোখের মায়াতেই নাকি হৃদয় হেরে ছিলেন অভিনেতা। প্রেমের সেই আবেশ পৌঁছে গিয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়াতেও কখনও ভা’লো’বা’সা’য় ভরা চু’ম্ব’ন, কখনও বরের কোলে বসা মিষ্টি মুহূর্ত তাঁদের ভা’লো’বা’সা’র ছবিগুলো ছিল আ’লো’চ’না’র কেন্দ্রবিন্দু।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে ব’দ’লে’ছে সমীকরণ। হঠাৎই পৃথার ডি’ভো’র্স ঘোষণায় অবাক হয়েছিল টলিপাড়া। প্রথমে যদিও সুদীপ এবিষয়ে সরাসরি কিছু বলতে চাননি, পরে তিনি স্বীকার করেন একটা সময় তাঁরা আলাদা থাকছিলেন। কয়েক মাসের সেই ব্যবধানই হয়ত তাঁদের ভাবতে বাধ্য করে সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করলে দূরত্বের দেওয়াল ভা’ঙা’ই ভালো। তাই নয় নতুন প্রেম, নয় তি’ক্ত’তা’র শেষবিন্দু বরং দায়িত্ববোধ ও স্থিতির জায়গা থেকেই ফের একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত।
আজ তাঁদের দেখা যায় স্কুলের অনুষ্ঠান, বেড়াতে যাওয়া, কিংবা সাধারণ দিনযাপনের মুহূর্তে সবেতেই পরিবারের উপস্থিতি স্পষ্ট। যদিও সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই প্রশ্ন তুলতে থাকেন এই মিলনের পেছনে কি কেবল সন্তানের কারণ, নাকি সম্পর্কও ধীরে ধীরে জোড়া লাগছে? সে প্রশ্নের উত্তর হয়ত সময়ই দেবে। তবে যেটা নিশ্চিত বাবা-মা হিসেবে তাঁদের অঙ্গীকারে কোনও ভা’ঙ’ন নেই।
শোবিজ দুনিয়ায় সম্পর্কের টানাপোড়েন নতুন কিছু নয়। আলো, ক্যামেরা ও ব্যক্তিগত জীবনের সীমানা কখনও কখনও গুলিয়ে যায়। তবুও সুদীপ–পৃথার সিদ্ধান্ত যেন মনে করিয়ে দেয় ভা’লো’বা’সা মানেই সবসময় রূপকথার পরিণতি নয়, কখনও তা দায়িত্ব, কখনও স’ম’ঝো’তা, কখনও বা সন্তানের হাসি র’ক্ষা করার দৃ’ঢ়’তা। আর তাই হয়ত ডি’ভো’র্সে’র কাগজ থাকলেও তাঁদের গল্পে এখনও জায়গা রয়েছে একসঙ্গে পথচলার।
আরও পড়ুন:Saayoni Ghosh:অনেকের দাবি সায়নীকে নাকি হুবহু মুখ্যমন্ত্রীর মতো দেখতে লাগে? কী বললেন অভিনেত্রী?
পরিবারের এই ছোট্ট সফরের ভিডিওটিও তাই হয়ে উঠেছে প্রতীক ঝ’ড় পেরিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এক সম্পর্কের, যেখানে অতীতের ভা’ঙ’ন ছাপিয়ে সামনে রেখে দেওয়া হয়েছে ছেলেদের নি’রা’প’দ আগামী।