Arshad Warsi:১৬ বছর বয়সেই অ’না’থ, খা’রা’প শ্যাম্পু বিক্রিই বাঁচিয়েছিল জীবন! বাবা-মা হারিয়ে বেঁচে থাকার ল’ড়া’ই’য়ে’র চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি আরশাদ ওয়াসির

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now
Instagram Group Join Now

Arshad Warsi:কৈশোর সাধারণত মানুষের জীবনের সবচেয়ে নির্ভার সময়, কিন্তু আরশাদ ওয়ারসি (Arshad Warsi)-র ক্ষেত্রে সে সময়টুকুই হয়ে উঠেছিল সবচেয়ে ক’ঠি’ন ও নি’ষ্ঠু’র বা’স্ত’ব’তা’র সূচনা। আজ তাঁকে আমরা চিনি বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা হিসেবে তাঁর নি’খুঁ’ত কমিক টাইমিং, সাবলীল অভিনয় ও প্রাণবন্ত উপস্থিতি দর্শকদের বহুবার আনন্দ দিয়েছে। কিন্তু এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে এমন এক লু’কা’নো সং’গ্রা’ম, যা খুব বেশি মানুষ জানেন না। মাত্র ১৬-১৭ বছর বয়সেই বাবা–মাকে হা’রি’য়ে হঠাৎই পৃথিবীর সঙ্গে অন্যরকম এক ল’ড়া’ই শুরু করতে হয়েছিল তাঁকে। অল্প বয়সেই নিজের পরিবারের দায়িত্ব এসে পড়ে তাঁর কাঁধে, আর সেখান থেকেই তিনি খুব তাড়াতাড়ি জীবনকে অন্যভাবে বুঝতে শেখেন।

সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে কথা বলতে গিয়ে আরশাদ ওয়ারসি (Arshad Warsi) ফিরে যান সেই নি’র্ম’ম স্মৃতিগুলোর কাছে। তিনি জানান, তাঁর বাবা আহমেদ আলি খান ছিলেন মূলত একজন উর্দু কবি, সং’বে’দ’নশী’ল, শিল্পী-মনস্ক, পাশাপাশি হিন্দি সিনেমার জগতের সঙ্গে যুক্ত একজন সংগীতশিল্পীও। ছোটবেলায় আরশাদ বোর্ডিং স্কুলে পড়তেন, ফলে বাবার সঙ্গে কাটানো সময় ছিল খুবই কম। ছুটিতে বাড়ি ফিরলেও তখন তাঁর মন পড়ে থাকত ঘো’রা’ঘু’রি ও বন্ধুদের আড্ডায় বাবার শায়রি বা শিল্পীজীবনের গল্প শোনার মতো ধৈ’র্য কিংবা আগ্রহ ছিল না তাঁর। পরে বড় হয়ে যখন স্মৃতিগুলো ফিরে আসে, তখনই বুঝতে পারেন কত কিছুই তাঁর অগোচরে থেকে গিয়েছিল।

আরশাদ জানান, তাঁর বাবা ছিলেন অ’দ্ভু’ত’র’ক’ম উদার ও হৃদয়বান মানুষ কিন্তু ব্যবসার ক্ষেত্রে অত্যন্ত ভ’ঙ্গু’র। মানুষকে সাহায্য করতে, জিনিস বিলিয়ে দিতে তাঁর কোনও দ্বি’ধা’ই ছিল না। ঘ’নি’ষ্ঠ শিল্পী-বন্ধুদের সঙ্গে তাঁদের বাড়িতে নিয়মিতই জমত আড্ডা, ভোজ, আয়োজন। অভিনেতা জগদীপ কিংবা ইউনুস পারভেজের মতো তারকারা প্রায়ই তাঁদের বাড়িতে আসতেন। একবার নাকি তাঁদের এক অতিথি বাবার সোনার লাইটারটির প্রশংসা করতেই বিন্দুমাত্র ভেবে না দেখে তিনি সেটি উপহার দিয়ে দেন। এমনকি নিজের গাড়িটিও এক আত্মীয়কে দিয়ে দিয়েছিলেন নিঃ’সং’কো’চে। অতিরিক্ত বি’শ্বা’স, দা’ন’শী’ল’তা আর আ’বে’গে’র টানে তিনি যা কিছু অর্জন করেছিলেন, ধীরে ধীরে তার প্রায় সবই হা’রি’য়ে যায়।

আরও পড়ুন:Ankush Hazra:“তিন–চারটে ছবি হতেই মনে হয় পাখনা গজিয়েছে”, “আমার কাছে প্রতিটি সেকেন্ড একেকটা কোটির সমান”- ৪৭ লাখ টা’কা’র স’ম্প’ত্তি বাজেয়াপ্ত প্রসঙ্গেও মুখ খুললেন অঙ্কুশ হাজরা

এই ঘটনাগুলো খুব অল্প বয়সেই গ’ভী’র’ভা’বে প্রভাব ফেলেছিল আরশাদের মনে। তিনি উপলব্ধি করেন অ’তি’রি’ক্ত উদারতা কখনও কখনও জীবনে বড় ক্ষ’তি ডেকে আনতে পারে। তাঁর কথায়, বাবা গ্রান্ট রোডে একাধিক স’ম্প’ত্তি’র মালিক ছিলেন, কিন্তু আ’ই’ন’গ’ত জ’টি’ল’তা, অ’জ্ঞ’তা ও ভু’ল মানুষের উপর আস্থা রাখার ফলে একসময় সেই সমস্ত স’ম্প’ত্তি’ই হা’ত’ছা’ড়া হয়ে যায়। যে মানুষটি সারাজীবন অন্যকে দিতে শিখেছেন, শে’ষে তাঁর নিজের জন্যই কিছু অবশিষ্ট থাকেনি।

বাবা-মায়ের মৃত্যু যেন মুহূর্তের মধ্যেই পা’ল্টে দেয় আরশাদের সমগ্র জীবন। বন্ধুদের সঙ্গে পার্টি, আনন্দ, স্বা’ধী’ন’তা সবকিছু এক ধা’ক্কা’য় পি’ছ’নে পড়ে যায়। বেঁচে থাকা, দাঁড়িয়ে থাকা এবং পরিবারের দায়িত্ব পালনই হয়ে ওঠে তাঁর একমাত্র লক্ষ্য। তখনই শুরু হয় তাঁর ক’ঠো’র প’রি’শ্র’মে’র দিনযাপন। খুব অল্প বয়সে তিনি কাজ খুঁজে বের করেন একজন ট্রাভেলিং সেলসম্যান হিসেবে বাড়ি বাড়ি ঘুরে শ্যাম্পু বি’ক্রি করতেন। পণ্যের গুণমান বিশেষ ভালো না হলেও, সেটিকে ‘প্রাকৃতিক’ ও ‘অর্গানিক’ বলে বিশ্বাসযোগ্যভাবে উপস্থাপন করার দ’ক্ষ’তা তাঁর ছিল অসাধারণ। সেই ম’নো’ব’ল, ধৈ’র্য ও আত্মবিশ্বাসই তাঁকে ধীরে ধীরে কাজের মধ্যে সফল করে তোলে।

আরও পড়ুন:Idhika Paul:“দেব ছাড়া কাজ করবেন না?” গুজবে মুখ খুললেন ইধিকা পাল, দেবের ‘হিট নায়িকা’ তকমা নিয়ে শুরু বি’ত’র্ক

এই সময়ের অভিজ্ঞতা আরশাদকে জীবনের এক অনন্য বা’স্ত’ব’তা শিখিয়েছিল ক’ঠি’ন পরিস্থিতি মানুষকে গড়ে তোলে, শা’ণি’ত করে। তিনি বুঝতে পারেন, আলো-ঝলমলে গ্ল্যামার বা হাসির পর্দার আ’ড়া’লে কত গ’ভী’র ল’ড়া’ই, হা’রা’নো সুযোগ আর অপ্রকাশিত য’ন্ত্র’ণা’র ইতিহাস লু’কি’য়ে থাকতে পারে। আজ তিনি যখন পর্দায় চরিত্রকে হাস্যরসের আবরণে উপস্থাপন করেন, সেই হাসির পেছনে লু’কি’য়ে থাকা সং’গ্রা’মে’র স্মৃতিও তাঁর জীবনকে নীরবে চালিত করে।

আরও পড়ুন:Aishwarya-Abhishek:ডি’ভো’র্স জল্পনায় অবশেষে মুখ খুললেন অভিষেক বচ্চন, এক ছাদের তলায় না থাকার গু’ঞ্জ’ন নিয়ে কী জানালেন জুনিয়র বচ্চন?

সং’গ্রা’ম পেরিয়ে উঠে আসা এই শিল্পীর কাহিনি কেবল সফলতার গল্প নয়, এ এক বেঁ’চে থাকার শি’ক্ষা। অল্প বয়সে সব হা’রি’য়ে’ও ভে’ঙে না প’ড়ে, শূ’ন্য থেকে শুরু করে জীবনের নতুন সংজ্ঞা তৈরি করেছিলেন আরশাদ ওয়ারসি। তাই তাঁর যাত্রা স্ম’রণ’ করিয়ে দেয় ঝ’ড় যত প্রবলই হোক, ল’ড়া’ই করা মানুষ কখনও সম্পূর্ণ হা’রি’য়ে যায় না। বরং সেই ল’ড়া’ই-ই তাঁকে করে তোলে আরও শ’ক্ত, আরও প’রি’প’ক্ক, এবং জীবনের প্রতি অনেক বেশি সজাগ।

Leave a Comment