Prosenjit-Jisshu: টলিউডে ক্ষ’ম’তা’র রা’জ’নী’তি, তারকাদের প্রভাব আর ‘কেরিয়ার ন’ষ্ট করে দেওয়া’র অ’ভি’যো’গ, এই বিষয়গুলি নিয়ে মাঝেমধ্যেই উ’ত্তা’ল হয় বাংলা চলচ্চিত্র জগৎ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে একের পর এক অভিনেতা-অভিনেত্রীর মুখে উঠে এসেছে ক্ষো’ভ, অ’ভি’যো’গ কিংবা অ’ভি’মা’ন। সেই তালিকায় শ্রীলেখা মিত্র(Sreelekha Mitra), অভিষেক চট্টোপাধ্যায়(Abhishek Chatterjee)-এর মতো পরিচিত মুখেরা প্রকাশ্যেই আঙুল তুলেছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়(Prosenjit Chatterjee)-এর দিকে। তাঁদের দাবি, টলিউডের অন্যতম প্র’ভা’ব’শা’লী এই অভিনেতার কা’র’ণে’ই নাকি তাঁদের কেরিয়ার ঠিকমতো এগোয়নি।
এই অ’ভি’যো’গে’র আবহে-ই বহুদিন ধরে শোনা যায় আরেক জনপ্রিয় অভিনেতা যিশু সেনগুপ্ত(Jisshu Sengupta)-কে ঘিরেও একই ধরনের কা’না’ঘু’ষো। ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে গু’ঞ্জ’ন, যিশুর মতো যোগ্য ও সুদর্শন অভিনেতাকে নাকি ‘উঠতে দেননি’ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। বিশেষ করে কেরিয়ারের শুরুর দিকে যিশুর হাতে খুব বেশি বড় বা উল্লেখযোগ্য প্রজেক্ট না আসাকে ঘিরেই এই জ’ল্প’না আরও জো’রা’লো হয়। কিন্তু প্র’শ্ন হল, যিশু নিজে কি এই ধারণাকে সত্য বলে মনে করেন?
সম্প্রতি ‘খাদান’(Khadaan) ছবির মুক্তির পর একটি সাক্ষাৎকারে এই প্রসঙ্গেই মুখ খুলেছেন যিশু সেনগুপ্ত। দীর্ঘদিনের বি’ত’র্কে জল ঢেলে অভিনেতা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি এই অ’ভি’যো’গে মোটেও বিশ্বাসী নন। যিশুর কথায়, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর স’ম্প’র্ক বরাবরই সম্মানের এবং ভা’লো’বা’সা’র। অভিনেতা বলেন, “আমি বারবার বলেছি, আই লা’ভ বুম্বাদা। এমন কোনও মুহূর্ত আসেনি, যখন উনি আমাকে ডেকে বলে দিয়েছেন।
যে এই চরিত্রটাই করতে হবে, কিংবা আমাকে তাঁর ভাইয়ের চরিত্রে অভিনয় করতেই হবে। যেসব চরিত্র করেছি, সেগুলো আমি নিজের ইচ্ছেতেই বেছে নিয়েছি।”
শুধু তাই নয়, যিশু আরও জো’র দিয়ে উড়িয়ে দিয়েছেন সেই অ’ভি’যো’গ’ও, যেখানে বলা হয় তাঁর চরিত্র বা পার্ট নাকি ছোট করে দেওয়া হয়েছিল। এই বিষয়ে অভিনেতার বক্তব্য একেবারেই স্পষ্ট। তাঁর কথায়, “এমনটা কখনও হয়নি যে বুম্বাদা আমার পার্ট কেটে দিয়েছে বা ছোট করে দিয়েছে। এটা মানুষের বিশ্বাস, তাঁদের মতো করে তাঁরা ভাবতেই পারেন। কিন্তু আমি আমার বিশ্বাস নিয়ে থাকতে চাই।” যিশু সোজাসাপ্টা জানিয়ে দেন, প্রসেনজিৎ এমন কোনও কা’জ করেননি, যার ফলে তাঁর কেরিয়ার ক্ষ’তি’গ্র’স্ত হতে পারে।
তবে যিশু এও স্বীকার করেছেন, ইন্ডাস্ট্রির ভেতর থেকে একাধিকবার তাঁকে এই ধরনের কথা শুনতে হয়েছে। অনেকেই নাকি তাঁকে সরাসরি বলেছেন, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ই তাঁর কেরিয়ার আ’ট’কে দিয়েছেন। কিন্তু এইসব কথায় কোনও গু’রু’ত্ব দিতে রাজি নন অভিনেতা। বরং নিজের ব্য’র্থ’তা’র দায় অন্যের ঘাড়ে চা’পা’তে তিনি না’রা’জ। যিশুর যুক্তি, “আমি যদি কিছু করতে না পারি, তাহলে তো অন্য কাউকে দো’ষ দিতে পারি না। আমাকে অনেকে বলেছে, বুম্বাদা তোকে উঠতে দেয়নি। কিন্তু যদি সত্যিই এমন কিছু হয়ে থাকে, তার মানে উনি সেই জায়গায় পৌঁছাতে পেরেছিলেন বলেই এটা করতে পেরেছেন। আমি তো সেই জায়গায় পৌঁছাতেই পারিনি।”
এই বক্তব্যের মধ্যেই লু’কি’য়ে রয়েছে যিশুর বা’স্ত’ব’বা’দী ম’নো’ভা’ব। তাঁর মতে, ক্ষ’ম’তা’র জায়গায় পৌঁছনোর জন্য নিজের যোগ্যতা আর পরিশ্রমই শে’ষ কথা। তিনি বলেন, “ধরা যাক, আমিও যদি চারটে ছবি থেকে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে বা’দ দিতে পারতাম, তাহলে হয়ত আমিও একই কা’জ করতে পারতাম। কিন্তু আমি তো পারিনি। তাই যদি উনি পেরেও থাকেন, আমি সেটার জন্য ওঁকে ক্রেডিট-ই দেব। কারণ উনি নিজেকে সেই জায়গায় নিয়ে গিয়েছেন।”
টলিউডে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে ‘ইন্ডাস্ট্রি’ বলেই ডাকা হয়। একটা সময় ছিল, যখন বাংলা ছবি প্রায় ধুঁ’ক ছিল। সেই সময় একাই নিজের কাঁধে ইন্ডাস্ট্রিকে টে’নে তুলেছেন বুম্বাদা এমনটাই মনে করেন অনেকেই। তবে তার পাশাপাশি তাঁর বি’রু’দ্ধে ক্ষ’ম’তা’র অ’প’ব্য’ব’হা’রে’র অ’ভি’যো’গও নতুন নয়। শ্রীলেখা মিত্র কিংবা অভিষেক চট্টোপাধ্যায়ের মতো শিল্পীদের প্রকাশ্য মন্তব্য সেই বি’ত’র্ক’কে আরও উ’স’কে দিয়েছে।
কিন্তু যিশু সেনগুপ্তের বক্তব্য এই বি’ত’র্কে একেবারেই ভিন্ন সুর যোগ করল। যেখানে অনেকেই ক্ষো’ভ উগরে দেন, সেখানে যিশু বেছে নিলেন আ’ত্ম’স’মা’লো’চ’না আর কৃতজ্ঞতার পথ। তাঁর কথায় স্পষ্ট, নিজের কেরিয়ার গড়ার দায়িত্ব তিনি কখনও অন্যের হাতে তুলে দেননি। ব্য’র্থ’তা বা সাফল্য দুটোর দায়ই নিজের কাঁধে নিতে তিনি প্রস্তুত।
সব মিলিয়ে, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের বি’রু’দ্ধে ওঠা একাধিক অ’ভি’যো’গে’র মাঝেই যিশু সেনগুপ্তের এই মন্তব্য নতুন করে আ’লো’চ’না’র জন্ম দিয়েছে। কেউ যেখানে ‘কেরিয়ার ন’ষ্ট’-এর তত্ত্বে বিশ্বাসী, সেখানে যিশু জানিয়ে দিলেন বিশ্বাস আর দৃ’ষ্টি’ভ’ঙ্গি’র পা’র্থ’ক্য’ই এই বি’ত’র্কে’র মূল। টলিউডের অন্দরমহলে এই বক্তব্য যে নতুন করে চ’র্চা শুরু করবে, তা বলাইবাহুল্য।