Hiraan Chatterjee:“ডিভোর্স হোক, তারপর নাচতে নাচতে বিয়ে করুক”— নীরবতা ভেঙে কী বললেন হিরণ?

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now
Instagram Group Join Now

Hiraan Chatterjee: বিয়ে ঘিরে টানা দু’সপ্তাহের বিতর্কে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি ও টলিপাড়া। অভিনেতা তথা বিজেপি বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়(Hiraan Chatterjee)-এর দ্বিতীয় বিয়ের ছবি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই শুরু হয় জোর চর্চা। প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়(Anindita Chatterjee)-এর অভিযোগ, তাঁদের আইনি বিচ্ছেদ এখনও হয়নি। অন্য দিকে দ্বিতীয় স্ত্রী ঋতিকা গিরি(Ritika Giri)-ও নিজের বক্তব্য সামনে আনেন। তবে এই গোটা সময় জুড়ে সম্পূর্ণ নীরব ছিলেন হিরণ। অবশেষে সেই নীরবতা ভাঙলেন তিনি।

কলকাতায় এসে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন বিজেপি বিধায়ক। এতদিন কোথায় ছিলেন এই প্রশ্নের উত্তরে হিরণ জানান, তিনি কলকাতার বাইরে ছিলেন। তাঁর কথায়, গত কয়েকদিন চেন্নাইতেই কাটিয়েছেন। পাশাপাশি বিতর্ক প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে স্পষ্ট করে দেন, বিষয়টি এখন বিচারাধীন। তাই এ নিয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করতে তিনি রাজি নন। হিরণ বলেন, “যে বিষয় আদালতে বিচারাধীন, তা নিয়ে মন্তব্য করা মানেই আদালতের অসম্মান করা। সেটা আমি করতে চাই না।”

উল্লেখ্য, দু’সপ্তাহ আগে এক মঙ্গলবার আচমকাই সমাজমাধ্যমে একাধিক ছবি ভাগ করে নেন হিরণ। সেই ছবিতে দেখা যায়, বারাণসীর একটি ঘাটে হিন্দু রীতি মেনে ঋত্বিকা গিরিকে বিয়ে করছেন তিনি। মুহূর্তের মধ্যেই সেই ছবি ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। শুরু হয় জোর আলোচনা ও বিতর্ক। ঠিক তার পরেই সামনে আসেন হিরণের প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেন, হিরণের সঙ্গে তাঁর এখনও আইনি বিচ্ছেদ হয়নি। তাঁদের ১৯ বছরের একটি কন্যাসন্তানও রয়েছে।

এই অভিযোগকে কেন্দ্র করেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। প্রথম স্ত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে আনন্দপুর থানায় বিজেপি বিধায়কের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। বিষয়টি শুধু ব্যক্তিগত স্তরে সীমাবদ্ধ না থেকে রাজনৈতিক রঙও নিতে শুরু করে। এক জন জনপ্রিয় অভিনেতা ও বর্তমান বিধায়কের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে শুরু হয় তীব্র চর্চা।

আরও পড়ুন:Debolinaa Nandy:’৭৮’ নিয়ে হাসি-ঠাট্টা বন্ধ করুন…ভালো না লাগলে দেখবেন না”, “যারা সবকিছুতেই মে’য়ে’দে’র দো’ষ খোঁজে, তারা আমার য’ন্ত্র’ণা বুঝবে না” – দেবলীনার বি’স্ফো’র’ক জবাব

এরপরেই মুখ খোলেন ঋত্বিকা গিরি। সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে তিনি জানান, হিরণের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক পাঁচ বছরের। তাঁর দাবি ছিল, এই সম্পর্কের কথা অনিন্দিতা জানতেন। যদিও কিছু সময়ের মধ্যেই সেই পোস্ট মুছে দেন ঋত্বিকা। পরে সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তিনি কোনওরকম খ্যাতি বা প্রচার চান না। বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে তাঁর আগ্রহ নেই। বরং সবকিছুর থেকে দূরে থাকতে চান বলেই জানান তিনি।

এই সবের মাঝেই সম্পূর্ণ চুপ ছিলেন হিরণ চট্টোপাধ্যায়। রাজনৈতিকমহল থেকে শুরু করে বিনোদন জগত সর্বত্রই প্রশ্ন উঠছিল, এতদিন কেন কোনও প্রতিক্রিয়া দিচ্ছেন না তিনি? অবশেষে কলকাতায় ফিরে এসে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করলেন বিজেপি বিধায়ক। যদিও তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আদালতের বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলবেন না।

হিরণ আরও জানান, আপাতত রাজনৈতিক কাজের সূত্রেই তিনি কলকাতাতেই থাকবেন। দলের কর্মসূচি ও সাংগঠনিক কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকবেন বলেও জানান তিনি। ব্যক্তিগত বিতর্কের মধ্যেও রাজনৈতিক দায়িত্ব থেকে নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছেন না এমন বার্তাই দিতে চাইলেন তিনি।

আরও পড়ুন:Hiran-Anindita:বারাণসীর ‘পবিত্র বিয়ে’ থেকে আনন্দপুর থানার অভিযোগে চুপ হিরণ—নীরবতাই কি সবচেয়ে বড় প্রশ্ন? হিরণ-ঋত্বিকা বিতর্কে নয়া মোড়, পোস্ট ডিলিটে রহস্য ঘনীভূত! “শিব আমার উপরই বেশি সন্তুষ্ট “- বিস্ফোরক অনিন্দিতা

এদিকে বিতর্ক কিন্তু থামেনি। দ্বিতীয় বিয়ের ছবি প্রকাশ্যে আসার পরেই প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায় থানায় গিয়ে বিয়ের শংসাপত্র সংক্রান্ত অভিযোগ জানান। থানায় অভিযোগ জানিয়ে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অনিন্দিতা বলেন, “আমাদের ডি’ভো’র্স হয়ে যাক। তারপর নাচতে নাচতে বিয়ে করুক। সে হিরণ চ্যাটার্জি ওকে বিয়ে করে কি না, আমরা দেখব।” তাঁর এই মন্তব্য নতুন করে বিতর্কে ঘি ঢালে।

অন্যদিকে ঋত্বিকা গিরির বক্তব্যও আলোচনার কেন্দ্রে। তিনি দাবি করলেও যে সম্পর্কের কথা অনিন্দিতা জানতেন, প্রথম স্ত্রীর বক্তব্য তার সঙ্গে পুরোপুরি সাংঘর্ষিক। ফলে সত্যটা ঠিক কোথায়, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। আইনি ল’ড়া’ই শুরু হয়ে যাওয়ায় বিষয়টি এখন আদালতের আওতায়।

সব মিলিয়ে, অভিনেতা-রাজনীতিক হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত জীবন এখন প্রকাশ্য বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। এক দিকে প্রথম স্ত্রীর আইনি অভিযোগ, অন্যদিকে দ্বিতীয় স্ত্রীর সম্পর্কের দাবি আর তার মাঝখানে আদালতের প্রক্রিয়া। নীরবতা ভে’ঙেও হিরণ যে খুব বেশি কিছু বললেন, তা নয়। বরং আদালতের প্রতি সম্মান দেখিয়ে তিনি নিজেকে মন্তব্য থেকে দূরে রাখলেন।

তবে বিতর্ক যে এখানেই থামবে না, তা বলাই যায়। মামলার গতিপ্রকৃতি, আদালতের সিদ্ধান্ত এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ। সব কিছুর দিকেই এখন তাকিয়ে রাজ্য রাজনীতি ও সাধারণ মানুষ। আপাতত, বিয়ে-বিতর্কের ঝড়ের মাঝেই কলকাতায় রাজনৈতিক কাজে সক্রিয় থাকার বার্তা দিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে রইলেন বিজেপি বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়।

Leave a Comment