Hiran Chatterjee’s Second Marriage: শহরের আলো-আড়ম্বর, প্রচার আর রাজনৈতিক কোলাহল থেকে অনেক দূরে, সম্পূর্ণ নীরবে দ্বিতীয়বার বিয়ের পিঁড়িতে বসলেন বিজেপির তারকা বিধায়ক ও অভিনেতা হিরণ চট্টোপাধ্যায়(Hiran Chatterjee)। গতকাল দুপুরে নিজেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বিয়ের ছবি ও খবর প্রকাশ্যে আনতেই মুহূর্তের মধ্যে তা নিয়ে শুরু হয় জোর চর্চা। বেনারসের গঙ্গার ঘাটে সারা হয়েছে এই বিয়ে এমনটাই জানা গিয়েছে। তবে বিয়ের খবর সামনে আসতেই শুধু শুভেচ্ছা নয়, সঙ্গে সঙ্গে উঠে আসে একের পর এক প্রশ্ন, অভিযোগ আর পুরানো ক্ষ’তে’র কথা।
গত কয়েক বছর ধরেই হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানা গুঞ্জন চলছিল। ২০২৫ সালেই শোনা গিয়েছিল, তাঁর জীবনে নতুন কারও আগমন ঘটেছে। যদিও সে সময় বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি তিনি। শেষ পর্যন্ত সেই জল্পনাই সত্যি প্রমাণিত হল। তবে যেটা নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা, তা হল বয়সে অনেকটাই ছোট ঋত্বিকা গিরিকে বিয়ে করা এবং সেই সঙ্গে প্রথম পক্ষের স্ত্রীর সঙ্গে আইনি বি’চ্ছে’দ না হওয়া।
বিয়ের ঘোষণার পরপরই সামনে আসেন হিরণের প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়। তাঁর প্রতিক্রিয়ায় নতুন মাত্রা পায় বি’ত’র্ক। অনিন্দিতার অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে তিনি মানসিক অ’ত্যা’চা’রে’র শিকার হয়েছেন। তাঁর দাবি, সম্পর্কের ভিতরে থেকেই তাঁকে একপ্রকার একা করে দেওয়া হয়েছিল। এই পরিস্থিতির সবচেয়ে বড় শিকার তাঁদের ১৯ বছরের মেয়ে নিয়াসা এমনটাই জানান অনিন্দিতা। বাবার দ্বিতীয় বিয়ের খবরে মেয়েটি মানসিকভাবে ভে’ঙে পড়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
অনিন্দিতার বক্তব্য অনুযায়ী, নিয়াসার সঙ্গে হিরণের সম্পর্ক খুব একটা ভালো ছিল না। সাধারণত মেয়ের সঙ্গে দেখা করতেই তিনি ফ্ল্যাটে আসতেন। মাসখানেক আগেও এমনই একবার এসে মেয়েকে কিছু উপহার দিয়ে গিয়েছিলেন বলে জানান অনিন্দিতা। তবে পারিবারিক সম্পর্কের টানাপড়েন নতুন নয়। ২০২২ সালেই অনিন্দিতার একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ভাইরাল হয়েছিল, যেখানে সন্তানের প্রতি মানসিক অবহেলা ও পারিবারিক অশান্তির ইঙ্গিত মিলেছিল। সেই সময়েও বিষয়টি নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছিল বিভিন্ন মহলে।
আরও পড়ুন:Hiraan Chatterjee:বেনারসে হিরণের ‘সিক্রেট’ বিয়ে, বিস্ফোরক প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা
এদিকে হিরণের দ্বিতীয় বিয়ের খবর সামনে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয় আইনি বি’ত’র্ক। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, অনিন্দিতার সঙ্গে আইনি বি’চ্ছে’দ না হলে কীভাবে দ্বিতীয় বিয়ে সম্ভব? হিন্দু ম্যারেজ অ্যাক্ট লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ক্ষো’ভ উগরে দেন নেটিজেনদের একাংশ। যদিও এই প্রসঙ্গে এখনও পর্যন্ত হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের তরফে কোনও বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এই সমস্ত বিতর্কের মাঝেই বুধবার এক আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী থাকে সোশ্যাল মিডিয়া। সাধারণত খুব একটা সক্রিয় নন নিয়াসা(Niyasa Chatterjee)। কিন্তু এই সংকটের সময় তিনি প্রকাশ্যে মায়ের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দেন। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে অনিন্দিতার সঙ্গে একটি ভিডিও পোস্ট করেন নিয়াসা, যেখানে মা-মেয়ের একান্ত মুহূর্ত ধরা পড়ে। সেই ভিডিওর ক্যাপশনেই স্পষ্ট করে দেন, এই মুহূর্তে তাঁর জীবনে মায়ের বাইরে আর কেউ গুরুত্বপূর্ণ নন।
ক্যাপশনে নিয়াসা লেখেন, ছোটবেলা থেকেই মা-ই তাঁর সবচেয়ে বড় ভরসা। জীবনের প্রতিটি দায়িত্ব অনিন্দিতা একাই সামলে এসেছেন মা, বাবা, অভিভাবক এবং পথপ্রদর্শক হয়ে। তিনি লেখেন, “যতদূর আমার মনে পড়ে, শুরু থেকেই আমরা দু’জনেই একে অপরের ভরসা। তুমি অসম্ভব শক্তি, ভালোবাসা আর মর্যাদা নিয়ে জীবনের প্রতিটি ভূমিকা একাই পালন করে গেছ। তুমি আমার মা, আমার বাবা, আমার পথপ্রদর্শক এবং আমার সবচেয়ে বড় সমর্থন। সবকিছুর জন্য তোমাকে ধন্যবাদ। তুমিই আমার নায়ক, মা।”
এই পোস্ট প্রকাশ্যে আসতেই আরও একবার উত্তাল হয়ে ওঠে নেটদুনিয়া। অনেকেই নিয়াসার সাহসী অবস্থানের প্রশংসা করেছেন, আবার কেউ কেউ পুরো ঘটনাটিকে ঘিরে আরও প্রশ্ন তুলেছেন। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে হিরণ চট্টোপাধ্যায়(Hiran Chatterjee)-এর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত যে তাঁর জনজীবনকেও প্রভাবিত করবে, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।
সব মিলিয়ে হিরণের দ্বিতীয় বিয়ে এখন আর শুধুমাত্র ব্যক্তিগত বিষয় নয়। মানসিক অবসাদ, পারিবারিক সম্পর্কের টানাপড়েন, আইনি প্রশ্ন এবং সন্তানের আবেগ সবকিছু মিলিয়ে এই ঘটনা এখন রাজনৈতিক ও সামাজিক স্তরে বড় বি’ত’র্কে’র কেন্দ্রবিন্দু। ভবিষ্যতে এই বিষয়ে হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের অবস্থান কী হয়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে রাজনৈতিকমহল থেকে সাধারণ মানুষ।