Hiran-Anindita: বারাণসীর পবিত্র ঘাট, গঙ্গাকে সাক্ষী রেখে ‘গান্ধর্ব মতে’ বিয়ের দাবি—আর তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সেই পোস্ট উধাও! বিজেপির তারকা বিধায়ক ও অভিনেতা হিরণ চট্টোপাধ্যায়(Hiran Chatterjee)-এর দ্বিতীয় বিয়ে ঘিরে তৈরি হওয়া বি’ত’র্ক দিনে দিনে যেন আরও জটিল রূপ নিচ্ছে। প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়ের(Anindita Chatterjee) আইনি পদক্ষেপ, দ্বিতীয় স্ত্রী ঋত্বিকা গিরি(Ritika Giri)-র পোস্ট ডিলিট, আর সব কিছুর মাঝখানে হিরণের নীরবতা সব মিলিয়ে এই ঘটনা এখন রাজ্য রাজনীতির পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়াতেও তুমুল চ’র্চা’র বিষয়।
বুধবার রাতেই আইনি বিচ্ছেদ না করেই দ্বিতীয়বার বিয়ে করার অভিযোগে হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আনন্দপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তাঁর প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়। অভিযোগের পর থেকেই বিষয়টি নতুন মোড় নেয়। কারণ, তার কিছু ঘণ্টা আগেই প্রথমবার প্রকাশ্যে মুখ খুলেছিলেন হিরণের দ্বিতীয় স্ত্রী ঋত্বিকা গিরি। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া পোস্টে তিনি স্পষ্ট দাবি করেন, “পাঁচ বছর ধরে আমি হিরণের সঙ্গে রয়েছি। ওঁর প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা সবটাই জানতেন।” শুধু তাই নয়, বারাণসীর মতো পবিত্র জায়গায় ধর্মীয় রীতি মেনে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে বলেও উল্লেখ করেছিলেন তিনি।
কিন্তু নাটকীয়তা সেখানেই থেমে থাকেনি। চব্বিশ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই ঋতিকা গিরির সেই পোস্ট হঠাৎ করেই ডিলিট হয়ে যায়। আর তাতেই শুরু হয় নতুন করে প্রশ্ন। কেন সরানো হল পোস্ট? আইনি চাপ নাকি তথ্য প্রমাণের ভয়? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়।
প্রথম স্ত্রীর বক্তব্য, “আমি যা বলেছি, তা সত্যি বলেই ওঁরা পোস্ট মুছে ফেলতে বাধ্য হয়েছেন। বারাণসীর মতো পবিত্র জায়গায়, মা গঙ্গাকে সাক্ষী রেখে বিয়ে হয়েছে, এই দাবিগুলোই তো ঋত্বিকা নিজেই লিখেছিলেন। কিন্তু আমার কাছে সব তথ্য প্রমাণ রয়েছে। আমার বিশ্বাস, শিব আমার উপরই সন্তুষ্ট, তাই সত্য সামনে আসছে।” এখানেই থামেননি অনিন্দিতা। আরও একধাপ এগিয়ে তিনি ঋত্বিকা গিরিকে ‘সামাজিক অপরাধী’ বলেও ক’টা’ক্ষ করেন।
এই বিতর্কের কেন্দ্রে থেকেও এখনও পর্যন্ত সম্পূর্ণ নীরব হিরণ চট্টোপাধ্যায়। প্রথম স্ত্রীর আইনি অভিযোগ হোক বা দ্বিতীয় স্ত্রীর পোস্ট ডিলিট কোনও বিষয়েই একটি শব্দও খরচ করেননি তিনি। এই নীরবতাই যেন আ’গু’নে ঘি ঢালছে। রাজনৈতিকমহল থেকে সাধারণ মানুষ সবাই জানতে চাইছেন, কেন এত বড় অভিযোগের মুখেও চুপ বিজেপির বিধায়ক?
এক সাক্ষাৎকারে অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায় আরও বিস্ফোরক দাবি করেন। তাঁর কথায়, ঋত্বিকা গিরি বিজেপির মহিলা মোর্চার সঙ্গে যুক্ত। সেই সূত্রেই খড়্গপুরে হিরণের বাড়িতে তাঁর যাতায়াত শুরু হয়। এমনকি একদিন হিরণকে না জানিয়েই ঋত্বিকা সেখানে হাজির হন বলে দাবি করেন অনিন্দিতা। সেই মুহূর্তে দু’জনেই নাকি অপ্রস্তুত হয়ে পড়েছিলেন। এখানেই শেষ নয় হিরণের বিরুদ্ধে একাধিক নারীসঙ্গের অভ্যাস রয়েছে বলেও গুরুতর অভিযোগ তোলেন তিনি।
এই সব অভিযোগ পাল্টা কোনও প্রতিক্রিয়া না এলেও, দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে রাজনৈতিক চাপ যে বাড়ছে, তা স্পষ্ট। বিজেপির অন্দরমহলেও বিষয়টি অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে খবর। যদিও দলীয় স্তরে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
এদিকে, সোশ্যাল মিডিয়ায় হিরণ-ঋত্বিকা-অনিন্দিতা ত্রিকোণ নিয়ে জ’ল্প’না’র শেষ নেই। কেউ প্রশ্ন তুলছেন, আইনি বিচ্ছেদ ছাড়া কীভাবে দ্বিতীয় বিয়ে সম্ভব? আবার কেউ বলছেন, পোস্ট ডিলিট আসলে আইনি ঝামেলা এড়ানোর কৌশল। সব মিলিয়ে বিষয়টি যেন একেবারে ধারাবাহিকের চিত্রনাট্যকে হার মানাচ্ছে।
সমাজমাধ্যমে এই ‘চুপিসারে বিয়ে’-র খবর ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল পাড়ায়। থানায় অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর তা আরও বড় আকার নেয়। ভোটের মুখে একজন বিরোধী দলের বিধায়কের বিরুদ্ধে এহেন অভিযোগ রাজনৈতিকভাবে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েও শুরু হয়েছে আলোচনা।
একদিকে ‘পবিত্র বিয়ে’-র দাবি, অন্যদিকে থানার অভিযোগ এই দুই মেরুর টানাপোড়েনে দাঁড়িয়ে হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের দ্বিতীয় দাম্পত্য জীবন এখন প্রকাশ্য বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। সত্যিই কি সব কিছু জেনেই চুপ ছিলেন প্রথম স্ত্রী? নাকি সত্য লুকোতে গিয়ে এখন পিছু হটছেন দ্বিতীয় স্ত্রী? উত্তর দেবে সময়ই। তবে আপাতত, এই বিতর্ক যে থামছে না, তা বলাইবাহুল্য।