Shankar Chakraborty:“বহুদিন কোন ছবি পাইনি… আমাকে আদিবাসীর মতো দেখতে…এক সময় আমার মনে হয়েছিল ওঁর ছবি করা উচিত নয়,মেল ইগো থেকে করেছিলাম, যেটা আমার করা উচিত হয়নি…” নিজের ভয়ানক অপরাধের কথা স্বীকার করলেন টলি অভিনেতা শঙ্কর চক্রবর্তী।
বহু বছর ধরেই বাংলা টলিজগতের সঙ্গে জুড়ে রয়েছেন শঙ্কর চক্রবর্তী। কিছুদিন আগে তাঁর পত্নী বিয়োগের ঘটনা ঘুরেছিল সমাজমাধ্যমের পাতায় পাতায়। স্ত্রীকে তথা দীর্ঘদিনের সাথীকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছিলেন অভিনেতা। এই সময় অভিনেতাকে বলতে শোনা যায়, “হ্যাঁ আছি, মাঝে মাঝে মনে হয় কেন আছি?” জীবন এবং কর্মজীবনের বহু অভিজ্ঞতা রয়েছে শঙ্কর চক্রবর্তীর।
তাঁর সুসজ্জিত ফ্ল্যাটে বর্তমানে বহু জিনিস ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। নেই শুধু প্রিয়জনের অপেক্ষা। অভিনেতাকে বলতে শোনা যায়, “এগুলোকে আবার সুন্দর করে একটু ঠিকঠাক করতে হবে। আপাতত আমার কাছে টাকা নেই। আমি গত প্রায় দেড় মাস কোন সিরিয়ালে কাজ করিনি। কোন কাজ নেই, বন্ধ হয়ে গেছে। ‘মিত্তির বাড়ি’ বলে একটা সিরিয়ালে কাজ করতাম, সেখানে আমাকে রাখছে না। ‘রোশনাই’ সিরিয়ালেও ছিলাম, সেটাও বন্ধ হয়ে গেছে। কোনো এক অজ্ঞাত কারণে ‘দাবাড়ু’র পর আমাকে আর কোনো ছবিতে নেওয়া হয়নি।
আরও পড়ুন:Sandhya-Anamika:জনপ্রিয় অভিনেত্রী সন্ধ্যা রায়কে নিয়ে চাঞ্চল্যকর মন্তব্য অভিনেত্রী অনামিকা সাহার।
অভিনেতা বলেন, আমি হয়ত সিনেমায় অভিনয় করার উপযুক্ত নই। আমার থেকে ভালো অভিনেতাদের নিয়ে তাঁরা কাজ করছেন। ২০০৯ সালের এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হয় অভিনেতাকে। সেই সময় হাত থেকে চলে যায় সিরিয়ালের কাজও। দশ মাস কোন কাজ ছিল না। সেই সময় শখের বিলাসবহুল ফ্ল্যাট বিক্রি করে দিতে হয় অভিনেতাকে। গলা পর্যন্ত ঋণের জর্জরিত হয়ে পড়েছিলেন শঙ্কর চক্রবর্তী, ‘শ্বাস নেওয়ার জায়গা ছিল না’।
বর্তমানে নাটকের রিহার্সাল করছেন শঙ্কর চক্রবর্তী। নাটক দিয়েই তাঁর জীবনের শুরু। ছোটবেলায় চরম দারিদ্র্যের সঙ্গে জীবনযাপন করতে হয়েছে অভিনেতাকে। সেই সময় এক দূর সম্পর্কের মামার বাড়ির চায়ের দোকানে থেকে নিজের পড়াশোনা চালিয়েছেন। নাটক করেও কোন টাকা পেতেন না। পরবর্তী সময়ে নাটক এবং আবৃত্তির মাধ্যমে টলিপাড়ার স্বনামধন্য মানুষের সংযোগে আসেন অভিনেতা। তারপর থেকেই শুরু তাঁর অভিনয় জীবন। সেই সময়েই তাঁর স্ত্রী সোনালীর সঙ্গে পরিচয় হয় শঙ্কর চক্রবর্তীর।
একসময়ের খুব জনপ্রিয় অভিনেতা শঙ্কর চক্রবর্তীকেই তাঁর শাশুড়ির কাছে শুনতে হয়েছিল, “আদিবাসী এর মত দেখতে”। পরবর্তী সময়ে সোনালীর সঙ্গেই তাঁর বিয়ে হলেও অভিনেতা স্বীকার করেন, “একসময় আমার মনে হয়েছিল ওঁর সংসার করাই উচিত। তাই ওঁকে অভিনয় করতে দিইনি। আমি অনেক অপরাধ করেছি সোনালীর প্রতি। মেল ইগো থেকেই এগুলো করেছিলাম। পরে বুঝেছি, এটা আমার করা উচিত হয়নি। ওঁর কোন কথাই আমি শুনিনি। দিনের পর দিন ভুল কাজ করেছি।”