Prity Biswas: বাংলা ধারাবাহিকের জনপ্রিয় অভিনেত্রী প্রীতি বিশ্বাস(Prity Biswas)সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত একটি ভিডিওর মাধ্যমে ইন্ডিগো এয়ারলাইনস(IndiGo Airlines)-এর বি’রু’দ্ধে তী’ব্র ক্ষো’ভ উ’গ’রে দিয়েছেন। হা’রি’য়ে যাওয়া লাগেজ ঘিরে তাঁর এই অভিজ্ঞতা শুধু ব্যক্তিগত ভো’গা’ন্তি’র মধ্যেই সী’মা’ব’দ্ধ থাকেনি, বরং এয়ারলাইনস পরিষেবার সামগ্রিক অ’ব্য’ব’স্থা’প’না ও যাত্রী হ’য়’রা’নি’র একটি বড় ছবি সামনে এনে দিয়েছে। ভিডিওতে অভিনেত্রী প্রীতি বিশ্বাসের বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে দা’য়ি’ত্ব’জ্ঞা’ন’হী’ন’তা, তথ্যের অ’ভা’ব এবং সাধারণ যাত্রীদের অ’স’হা’য় অবস্থার কথা।
ভিডিও অনুযায়ী, প্রীতি বিশ্বাস(Prity Biswas) তাঁর দাদার সঙ্গে যাত্রাপথে হা’রি’য়ে যাওয়া লাগেজের খোঁজে একের পর এক জায়গায় ঘুরতে বা’ধ্য হন। লাগেজ না পাওয়ার কা’র’ণে তিনি এবং তাঁর টিম চ’র’ম স’ম’স্যা’র মুখে পড়েন। যাত্রার পরদিনও একই পোশাক পরে থাকতে হয়েছে তাঁকে, যা পরিস্থিতির ভ’য়া’ব’হ’তা’কে’ই স্পষ্ট করে। একটি বিমান সংস্থার কাছ থেকে যাত্রী যে ন্যূনতম পরিষেবা ও সহযোগিতা প্র’ত্যা’শা করেন, তার বিন্দুমাত্র ছাপ তিনি এই ঘ’ট’না’য় পাননি বলেই অ’ভি’যো’গ করেন অভিনেত্রী।
প্রীতি বিশ্বাস জানান, শে’ষ পর্যন্ত ব্যক্তিগত পরিচিতির জোরেই তাঁরা হা’রি’য়ে যাওয়া লাগেজের সন্ধান পান। তাঁর দাদার বন্ধুর এবং জামাইবাবুর পরিচিতি ও তথাকথিত ‘সোর্স’ কাজে লাগিয়েই ব্যাগটি উ’দ্ধা’র সম্ভব হয়। এই অভিজ্ঞতার পর তিনি প্র’শ্ন তোলেন যাঁদের এমন কোনও প্র’ভা’ব’শা’লী পরিচিতি নেই, তাঁদের কী হবে? যাঁরা সাধারণ যাত্রী, যাঁদের কাছে ফোন করার মতো ‘সোর্স’ নেই, তাঁরা কি এভাবেই তাঁদের প্রয়োজনীয় জিনিস হা’রি’য়ে ফেলবেন? তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট উ’দ্বে’গ এই ব্যবস্থায় সাধারণ মানুষ কতটা অ’স’হা’য় হয়ে পড়ছেন।
ভিডিওতে অভিনেত্রী আরও ক্ষো’ভ প্রকাশ করেন, অনেক টা’কা দিয়ে ফ্লাইটের টিকিট কাটার পরও যদি যাত্রীদের এধরনের পরিস্থিতির মু’খো’মু’খি হতে হয় এবং সময়মতো কোনও তথ্য দেওয়া না হয়, তাহলে সেই পরিষেবাকে কখনও গ্রহণযোগ্য বলা যায় না। তাঁর অ’ভি’যো’গ, লাগেজ মিসপ্লেসড অর্থাৎ ভু’ল জায়গায় হতে পারে,এটা মেনে নেওয়া যায়, কিন্তু সেটি হলে যাত্রীকে আগে থেকে জানানো এবং সঠিক তথ্য দেওয়া এয়ারলাইনসের দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালনে ইন্ডিগো সম্পূর্ণ ব্য’র্থ হয়েছে বলেই তিনি দাবি করেন।
এই ঘটনার রেশ ধরেই প্রীতি বিশ্বাস ভিডিওতে ইন্ডিগো এয়ারলাইনস ব’য়’ক’ট করার ডাক দেন। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য ইন্ডিগো বারবার এধরনের স’ম’স্যা’র সৃষ্টি করে এবং গ্রাহকদের চ’র’ম ভো’গা’ন্তি’তে ফেলে। তাঁর মতে, যাত্রীরা যদি একবার ইন্ডিগোতে ওঠা ব’ন্ধ করেন, তবেই সংস্থাটি তাদের পরিষেবা উন্নত করতে বা’ধ্য হবে। তাঁর কথায়, “ইন্ডিগোকে ব’য়’ক’ট করাই উচিত,”এই মন্তব্য ঘিরেই ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় তী’ব্র আ’লো’চ’না শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, “..যদি ব’য়’ক’ট করি তাহলেই ইন্ডিগো… তাহলেই এই জিনিসগুলো করা ব’ন্ধ করবে”।
শুধু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নয়, প্রীতি বিশ্বাস তাঁর ভিডিওতে আরও একটি বড় ঘ’ট’না’র উল্লেখ করেন, যেখানে ইন্ডিগো এয়ারলাইনসের অ’ব্য’ব’স্থা’প’না’র শি’কা’র হয়েছেন একাধিক যাত্রী। তিনি জানান, তাঁদের দলের অনেকগুলো লাগেজ এবং খেলোয়াড়দের প্রয়োজনীয় ‘কিটব্যাগ’ গন্তব্যে পৌঁছায়নি। এই ঘ’ট’না’য় শুধু তিনি নন, পুরো বেঙ্গল টাইগারস(Bengal Tigers) টিম এবং সিসিএল(CCL)-এর সদস্যরাও চ’র’ম হ’য়’রা’নি’র শি’কা’র হয়েছেন বলে দাবি করেন অভিনেত্রী।
প্রীতি বিশ্বাসের অ’ভি’যো’গ, লাগেজ হা’রি’য়ে যাওয়ার পরেও ইন্ডিগোর স্টাফদের কাছে কোনও সঠিক তথ্য ছিল না। তিনি বলেন, “হা’রি’য়ে যেতে পারে বা মিসপ্লেস হতে পারে, কিন্তু তার একটা তথ্য থাকবে না স্টাফদের কাছে এটা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।” তাঁর মতে, যাত্রীদের অ’ন্ধ’কা’রে রেখে দেওয়া হয়েছে, যা সরাসরি হ’য়’রা’নি’র সমান।
এই ঘ’ট’না’র সময়কালও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। তাঁদের ১৭ তারিখ একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ ছিল। অথচ কিটব্যাগ ছাড়াই তাঁরা বিশাখাপত্তনমে পৌঁছান। ম্যাচের আগে খেলোয়াড়দের প্রয়োজনীয় সামগ্রী না থাকায় মা’ন’সি’ক চা’প ও উ’দ্বে’গ চ’র’মে পৌঁছেছিল। এই পরিস্থিতিতে এয়ারলাইনসের পক্ষ থেকে কোনও আ’শ্বা’স বা স্পষ্ট বার্তা না পাওয়া তাঁদের হ’তা’শা আরও বাড়িয়ে দেয়।
ফ্লাইট পরিবর্তনের বিষয়টিও উঠে এসেছে তাঁর অ’ভি’যো’গে। প্রীতি বিশ্বাস জানান, রায়পুর থেকে বিশাখাপত্তনম যাওয়ার সময় তাঁদের একটি ছোট ATR ফ্লাইটে পাঠানো হয়। সেই বিমানে জায়গা না থাকার কা’র’ণে অর্ধেক লাগেজই তোলা হয়নি। সবচেয়ে গু’রু’ত’র অ’ভি’যো’গ এই বিষয়ে যাত্রীদের আগে কোনও তথ্য জানানো হয়নি। অভিনেত্রীর প্রশ্ন, যদি লাগেজ তোলা না হয়, তবে অন্তত জানানো উচিত ছিল যে পরে পাঠানো হবে, যাতে যাত্রীরা মা’ন’সি’ক’ভা’বে প্রস্তুত থাকতে পারেন। তিনি বলেন,”ইনফর্ম তো করবেন যে এই ল্যাগেজটা তোলা হয়নি, আমরা পাঠিয়ে দেব… আপনারা চিন্তা করবেন না।“
ভিডিওতে আরও জানা যায়, লাগেজের খোঁজে তাঁদের টিমের সদস্যরা সকাল ১০টা ২০ মিনিট থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত না খেয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। দীর্ঘ সময় অ’পে’ক্ষা, কোনও স্পষ্ট তথ্য না পাওয়া এবং শা’রী’রি’ক ক্লা’ন্তি সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ছিল চ’র’ম ভো’গা’ন্তি’র। প্রীতি বিশ্বাস এই ঘ’ট’না’কে ‘অ’মা’ন’বি’ক’ বলেই ব্যাখ্যা করেন।
ব্যক্তিগত ভো’গা’ন্তি’র কথাও তিনি আ’লা’দা করে তুলে ধরেন। তাঁর লাগেজে ছিল তাঁর বাচ্চার খাবার ও জামাকাপড়। ভাগ্য ভালো যে তিনি হাতে দুধ ও মুড়ি রেখেছিলেন, নাহলে বাচ্চার জন্য পরিস্থিতি আরও ভ’য়া’ব’হ হয়ে উঠতে পারত। একজন মায়ের দু’শ্চি’ন্তা ও অ’স’হা’য়’তা’র ছবি এই বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
এই পুরো ঘ’ট’নার প্র’ভা’ব তাঁর মা’ন’সি’ক অবস্থার উপরও পড়েছে বলে স্বীকার করেন অভিনেত্রী। ভিডিওর শে’ষে আবেগপ্রবণ হয়ে তিনি বলেন,“আমার সারাটা দিন কেঁ’দে কেঁ’দে গেছে।“। এই বক্তব্য শুধু ক্ষো’ভ নয়, একজন যাত্রীর মা’ন’সি’ক বি’প’র্য’য়ে’র কথাও সামনে আনে।
ইন্ডিগো এয়ারলাইনসের অ’ব্য’ব’স্থা’প’না নিয়ে প্রীতি বিশ্বাস একাধিক দিক থেকে প্র’শ্ন তুলেছেন। তাঁর অ’ভি’যো’গ, লাগেজ হা’রি’য়ে যাওয়ার পরেও ইন্ডিগোর স্টাফরা নিজেরাই জানতেন না লাগেজ কোথায় আছে। যাত্রীদের সঠিক তথ্য না দেওয়া এবং দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়াকেই তিনি সবচেয়ে বড় স’ম’স্যা বলে মনে করেন।
তিনি আরও প্র’শ্ন তোলেন, যাঁরা প্রযুক্তিতে দ’ক্ষ নন, যাঁরা ইমেল বা টুইট করতে জানেন না, অথবা বয়স্ক মা-বাবারা যদি একা ভ্রমণ করেন, তাঁদের এমন পরিস্থিতিতে কী অবস্থা হবে? এয়ারপোর্টে ছোটাছুটি করা কি তাঁদের পক্ষে সম্ভব? এই প্রশ্নের মধ্য দিয়ে তিনি আসলে সাধারণ ও অ’স’হা’য় যাত্রীদের কথাই তুলে ধরেছেন।
অভিনেত্রী আরও অভিযোগ করেন, লাগেজের ও’জ’ন সামান্য বেশি হলেই এয়ারলাইনস বাড়তি টা’কা নিতে দ্বি’ধা করে না। অথচ এত টা’কা নেওয়ার পরেও পরিষেবার মান বজায় রাখা হচ্ছে না। তিনি জানান, তাঁদের কাছ থেকে অতিরিক্ত প্রায় ১৫ হা’জা’র টা’কা লাগেজের জন্য নেওয়া হয়েছিল। তাঁর প্রশ্ন যেখানে ১০০ গ্রাম ওজন বেশি হলেও এক টা’কা’ও ছাড় দেওয়া হয় না, সেখানে লাগেজ হা’রি’য়ে গেলে তার কোনও জ’বা’ব’দি’হি থাকবে না কেন? তাঁর কথায়,“..তোমার টা’কা যখন ১০০ গ্রামও বেশি হয় তোমরা এক টা’কা ছাড়ো না, আর এদিকে লাগেজের হদিস পাওয়া যাচ্ছে না।“
সবশেষে প্রীতি বিশ্বাস ইন্ডিগো এয়ারলাইনসকে স’ত’র্ক করেন। তাঁর মতে, লাগেজ মিসপ্লেসড হলে সেটি সঠিকভাবে ট্র্যাক করা এয়ারলাইনসের দায়িত্ব। যাত্রীদের জানানো উচিত কী হয়েছে এবং কবে লাগেজ পৌঁছাবে। ক্লেইম না করলে লাগেজ পাঠানো হবে না এই মা’ন’সি’ক’তা’কে’ই তিনি তী’ব্র ভাষায় আ’ক্র’ম’ণ করেন।
এয়ারলাইনসের কর্মীদের অপেশাদার আচরণ নিয়েও তিনি প্র’শ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, এমন দা’য়ি’ত্ব’জ্ঞা’নহী’ন স্টাফ রাখলে সংস্থার নামই খা’রা’প হবে। একজন যাত্রীর কাছে তার লাগেজ কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা বোঝার চেষ্টা করা উচিত বলেই তিনি মনে করেন। তাঁর ভাষায়, লাগেজ হা’রি’য়ে গেলে একজন যাত্রী কার্যত নিঃ’স্ব হয়ে যায়।
এই ভিডিওর মাধ্যমে প্রীতি বিশ্বাস(Prity Biswas) মূলত লাগেজ হা’রা’নো এবং তা পু’ন’রু’দ্ধা’রে এয়ারলাইনসের গা’ফি’ল’তি’র বিষয়টি সামনে আনতে চেয়েছেন। তাঁর ক্ষো’ভ, আবেগ এবং প্র’শ্ন সব মিলিয়ে ইন্ডিগো এয়ারলাইনসের পরিষেবা নিয়ে নতুন করে বি’ত’র্ক উ’স’কে দিয়েছে। এখন দেখার, এই অ’ভি’যো’গে’র পর সংস্থার পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া বা পদক্ষেপ নেওয়া হয় কি না!