Pratik-Sonamoni: ছোটপর্দার জনপ্রিয় জুটি ‘সোনাতিক’ ফের চর্চার কেন্দ্রে। একদিকে সদ্য শেষ হয়েছে সোনামণি সাহা(Sonamoni Saha)-র মেগা ‘শুভ বিবাহ’, অন্যদিকে ঠিক তার পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতীক সেন(Pratik Sen)-এর একটি পোস্ট ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। সেই পোস্টে অভিনেতার আবেগঘন বার্তা, আর তার নীচে সোনামণির চটজলদি মন্তব্য সব মিলিয়ে নেটদুনিয়ায় এখন একটাই প্রশ্ন, তবে কি আবার একসঙ্গে ফিরছেন তাঁরা?
টলিউডের ছোটপর্দায় সোনামণি সাহা ও প্রতীক সেনের জুটির জনপ্রিয়তা নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। পর্দার রসায়ন বাস্তবেও কতটা গভীর, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই চর্চা চলছে। যদিও কেউই সম্পর্ক নিয়ে সরাসরি স্বীকারোক্তি দেননি, তবু তাঁদের সোশ্যাল মিডিয়া পিডিএ, একে অপরকে ঘিরে পোস্ট বা উপস্থিতি সবই বারবার ইঙ্গিত দিয়েছে বিশেষ সমীকরণের দিকে। ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে তাঁদের প্রেমকে ‘ওপেন সিক্রেট’ বলেই মনে করেন অনেকেই।
এই আবহেই কদিন আগে শেষ হয়েছে সোনামণি সাহা অভিনীত ধারাবাহিক শুভ বিবাহ। সিরিয়াল শেষ হওয়ার পরপরই প্রতীক নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে লেখেন, “অনেক অনেক শুভেচ্ছা। আগের থেকে শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসো। জাপানি, ভগবান তোমার মঙ্গল করুক।” পোস্টের সঙ্গে একটি উদ্ধৃতিও শেয়ার করেন তিনি, “মাটির পৃথিবী আকাশ দেখেছে এভাবেই প্রতিবার… সময় হাঁটছে সময়ের মতো, স্বপ্ন বুনছে রূপ… তাই ফিরে আসো বারবার।”
‘জাপানি’ সম্বোধন নিয়েও কৌতূহল কম নয় অনুরাগীদের মধ্যে। এই ডাক যে একান্তই ব্যক্তিগত, তা বুঝতে অসুবিধা হয়নি কারও। তবে আরও চমক ছিল পোস্টের কমেন্ট বক্সে। সেখানে সোনামণি সাহার মন্তব্য, “একা ফিরব বুঝি?” সংক্ষিপ্ত, মজাদার অথচ অর্থবহ এই প্রতিক্রিয়া ঘিরেই শুরু হয়েছে জল্পনার ঝড়। নেটপাড়ার একাংশের মতে, এই কথোপকথন নিছক শুভেচ্ছা বিনিময় নয়, বরং হয়তো ইঙ্গিত দিচ্ছে নতুন কোনো প্রোজেক্টে একসঙ্গে ফেরার সম্ভাবনার।
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালে ধারাবাহিক ‘খোকাবাবু’ দিয়ে ছোটপর্দায় আত্মপ্রকাশ করেন প্রতীক সেন। তারপর ধাপে ধাপে জনপ্রিয়তার সিঁড়ি বেয়ে তিনি জায়গা করে নেন দর্শকের মনে। বিশেষ করে মোহর ধারাবাহিকে তাঁর অভিনয় ও চরিত্রায়ণ ব্যাপক সাড়া ফেলে। আর সেই মোহর-এই প্রথম বড় পরিসরে একসঙ্গে কাজ করেন প্রতীক ও সোনামণি। পর্দায় তাঁদের রসায়ন এতটাই জনপ্রিয় হয় যে, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই জুটি হিসেবে আলাদা ফ্যানবেস তৈরি হয়ে যায়।
এরপর ‘এক্কা দোক্কা’ ধারাবাহিকে মাঝপথে কেমিও চরিত্রে যোগ দেন প্রতীক। যদিও তাঁর উপস্থিতি ছিল সীমিত সময়ের জন্য, কিন্তু দর্শকপ্রিয়তার জোরে সেই চরিত্রই ধীরে ধীরে প্যারালাল লিডে পরিণত হয়। এই ঘটনাই প্রমাণ করে, ‘সোনাতিক’ জুটির আবেদন কতটা গভীর। দর্শকের চাহিদাই যে অনেক সময় গল্পের গতিপথ বদলে দিতে পারে, তার অন্যতম উদাহরণ হয়ে ওঠে সেই ধারাবাহিক।
বর্তমানে প্রতীক সেন কাজ করছেন নীলাঞ্জনা সেনগুপ্তের ‘নিনি চিনি’স মাম্মা’স প্রোডাকশন হাউস প্রযোজিত ধারাবাহিক আমাদের ‘দাদামণি’-তে। নতুন চরিত্রে তাঁকে দেখছেন দর্শক। তবে ব্যক্তিজীবনের নানা ইঙ্গিত, বিশেষ করে সোনামণিকে ঘিরে তাঁর আবেগঘন পোস্ট, ভক্তদের কৌতূহল বাড়িয়েই চলেছে।
সম্প্রতি আরেকটি ঘটনাও শিরোনামে আসে। অঞ্জনা বসুর বাড়ির পুজোয় প্রতীক তাঁর মাকে নিয়ে উপস্থিত ছিলেন। সেখানে সোনামণিরও উপস্থিতি নজর কাড়ে। শুধু উপস্থিতিই নয়, হবু বউমাকে নিয়ে প্রতীকের মা প্রকাশ্যে প্রশংসাও করেন। তিনি বলেন, “ভীষণ মিষ্টি মেয়ে সোনামণি। মিষ্টি মেয়ে তো অনেক আছে। ও স্পেশাল আমার কাছে।” এই মন্তব্য আরও উসকে দেয় সম্পর্কের জল্পনা।
অন্যদিকে, প্রতীকের মা-কে নিয়ে সোনামণিও অকপট ছিলেন। তিনি জানান, “আমাদের সব বিষয়ে আলোচনা হয়। আমি যদি কিছু ভুল করি আমায় বলে দেন। ফোনে সব সময় নানা বিষয়ে আলোচনা করি।” এই খোলামেলা স্বীকারোক্তি সম্পর্কের গভীরতারই ইঙ্গিত দেয় বলে মনে করছেন অনেকে।
তবে এই পথ একেবারেই মসৃণ ছিল না। মাঝখানে দুজনের সম্পর্কে ভুল বোঝাবুঝির খবরও শোনা গিয়েছিল। ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে ফিসফাস চলেছিল দূরত্ব তৈরি হওয়ার। যদিও প্রকাশ্যে কেউই সে বিষয়ে কিছু বলেননি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই জল্পনা স্তিমিত হয়। এখন আবার তাঁদের একসঙ্গে দেখা যাওয়া, সোশ্যাল মিডিয়ায় খুনসুটি সবই ইঙ্গিত দিচ্ছে সম্পর্কের বরফ গলেছে অনেক আগেই।
তাই প্রতীকের “ফিরে আসো” বার্তা আর সোনামণির “একা ফিরব বুঝি?” মন্তব্য এই ছোট্ট আদানপ্রদানই যেন বড় কোনো সম্ভাবনার ইঙ্গিত। সেটা কি শুধুই ব্যক্তিগত রসিকতা, না কি পেশাগত চমক উত্তর সময়ই দেবে। তবে একথা নিশ্চিত, ‘সোনাতিক’ জুটি এখনও দর্শকের আগ্রহের কেন্দ্রে। আর তাঁদের সামান্য সোশ্যাল মিডিয়া কথোপকথনও যে বড় খবর হয়ে উঠতে পারে, তা আরও একবার প্রমাণ হল।