Susmita- Sabyasachi:”কারও মাকে নিয়ে এভাবে বলা যায়? ধর্ষণকে খিল্লিবাজির পর্যায়ে নামানোর জন্য আমি পুরুষ হিসেবে লজ্জিত…” প্রাক্তন স্ত্রী ও তাঁর মাকে চরম অপমান করায় রেগে ফুঁসে উঠলেন সাংবাদিক সব্যসাচী চক্রবর্তী
ডিভোর্সের পরে লাগাতার ট্রোলের শিকার হচ্ছেন অভিনেত্রী সুস্মিতা রায়। শুধু অভিনেত্রী বলে ভুল হবে এখন তিনি নিজের নতুন ব্যবসায় মন দিয়েছেন। তবে এত কিছুর মাঝেও ডিভোর্স নিয়ে বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না অভিনেত্রীর। নানান প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে তাঁকে। কখনও ডিভোর্সের পরে সিঁদুর পরা যায়,বা কখনও শুনতে হচ্ছে এইসব ঔদ্ধত্য করবে বলেই তো সংসারটা টিকিয়ে রাখতে পারলে না। ডিভোর্সের জন্য অনেকে আবার অভিনেত্রীর মাকেও দোষ দিতে ছাড়েননি। বলেছেন মায়ের জন্যই মেয়ের এমন দশা। স্বামীর সব্যসাচী চক্রবর্তীর সাথে ডিভোর্সের পর কেউ কেউ অভিনেত্রীর পাশে থেকেছেন আবার কেউ এই বিষয়টি নিয়ে সমালোচনাও করেছেন। তবে এসব সমালোচনাকে তেমনভাবে পাত্তা দিতে নারাজ সুস্মিতা।
বর্তমানে তাঁর পোশাক, আচরণ নিয়েও যেন নেটিজেনদের একাংশের সমস্যা। কেউ বলছেন আগে সেই সহজ সরল মেয়েটা আর নেই বদলে গিয়েছেন সুস্মিতা। তবে জীবনের কঠিন সময় পেরিয়ে নিজের ব্যবসাকে যেভাবে এগিয়ে নিয়ে চলছেন তিনি তা সত্যি প্রশংসনীয়।
কিছুদিন আগে সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন অভিনেত্রী। যেখানে তিনি জানান,”অনেকে জানতে চান, কেন হয়েছে আমাদের ডিভোর্স! যেখানে আমরা দু’জনেই জানিয়ে দিয়েছি, এই বিষয়ে কোনও কথা বলতে চাই না। তাও মানুষের আলোচনার শেষ নেই। খুব সাম্প্রতিক সেই আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছি আমি এবং আমার মা। আপনারা কোনও মেয়ের ধর্ষণ হলে অনেক আন্দোলন করেন। কিন্তু সামাজিক মাধ্যমে আমাকে আর আমার মাকে দিনের পর দিন যে ভাবে কিছু মহিলা এবং পুরুষ মিলে সামাজিক ভাবে ধর্ষণ করেছেন, তার প্রমাণ শেষ দু’মাসের ভিডিয়ো কমেন্ট। একটা প্রশ্ন রেখে গেলাম, ডিভোর্সের জন্য কি সব সময় মেয়েরাই দায়ী হয়? ভালো কমেন্ট যেমন উৎসাহ দেয়, খারাপগুলো কষ্ট দেয়। রক্তমাংসের মানুষ তো, তাও লড়ে যাই নিজের সঙ্গেই।”
ব্যস তারপর কোনো এক সংবাদমাধ্যমে অভিনেত্রী কথাটার ভুল ব্যাখ্যা বার করে সবার সামনে তুলে ধরেন। সংবাদমাধ্যম প্রকাশিত সেই খবরের ক্যাপশনে লেখা হয়,”আমাকে আর আমার মাকে যেভাবে ধর্ষণ করা হয়েছে… বিবাহবিচ্ছেদ প্রসঙ্গে বিস্ফোরক সুস্মিতা।”
আরও পড়ুন:Srabanti Chatterjee:ঘোড়ায় চড়ে অভিনব প্রচার ‘দেবী চৌধুরানী’র। কী বলছেন দর্শক?
লেখাটি দেখে গর্জে উঠলেন সুস্মিতার প্রাক্তন স্বামী তথা সাংবাদিক সব্যসাচী চক্রবর্তী। সেই নিজের সমাজমাধ্যমের পাতায় লেখাটি পোস্ট করে সরাসরি কড়া ভাষায় জবাব দিলেন তিনি। লেখেন,”কাক কখনও কাকের মাংস খায় না। আমাদের সাংবাদিকদের এসবের বালাই নেই অবশ্য। কোন অতি শিক্ষিত তানিয়া এটা লিখেছে, আমি চিনি না। তানিয়া নিশ্চয়ই আমাকে চেনে। তারপরেও এই ধরণের ক্যাপশন !? কারও মা-কে নিয়ে এভাবে বলা যায়?
সুস্মিতা মানসিক ধর্ষণের প্রসঙ্গ তুলেছিলো সোশ্যাল মিডিয়ার ট্রোল নিয়ে। এটা ওর ব্যক্তিগত, আমার এখানে কিছুই বলার নেই
সোশ্যাল মিডিয়ায় মানসিক ধর্ষণ আর ধর্ষণের মধ্যে ফারাক যদি কেউ না বোঝে, সে মানসিক ভাবে অসুস্থ। এরকম অশিক্ষিত, মানসিক অসুস্থরা আছে সব জায়গায়। আমাদের প্রফেশনেও আছে। এই তানিয়ার হয়ে আমি লজ্জিত, সাংবাদিক হিসেবে।
সুস্মিতার মায়ের স্ট্রাগেল আমি জানি। এই বয়সে এটা ওনার প্রাপ্য নয়। আমার সাথে তার সম্পর্ক কীরকম সেটা এখানে ম্যাটার করে না। সামাজিক এই অসম্মান খুব খুব ভয়ঙ্কর। সেটা মা মেয়ে যেকোনও মেয়ের ক্ষেত্রেই
ধর্ষণকে খিল্লিবাজির পর্যায়ে নামানোর জন্য আমি পুরুষ হিসেবে লজ্জিত। যদি সুস্মিতাও এরকম কোনও কথা বলে থাকে, যাতে এই হেডলাইনস করার স্কোপ থাকে, সেক্ষেত্রেও আমার লজ্জিত হওয়া উচিৎ।
আমি সাংবাদিক হিসেবে ক্ষমাপ্রার্থী। আমি ব্যর্থ স্বামী হিসেবে দুঃখিত। আমি পুরুষ হিসেবে লজ্জিত।
সুস্মিতাকে নিয়ে দয়া করে ট্রোল বন্ধ হোক। হাতজোড় করে অনুরোধ করছি 🙏🏻
NB: নতুন যারা সাংবাদিকতা করতে আসছিস, একটু পড়াশনা কর প্লিজ, একটু সেনসিটিভ হ।”