Kanchan Mullick:আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে উত্তরপাড়ার রাজনৈতিক অন্দরে নতুন করে চর্চার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন বিধায়ক তথা অভিনেতা কাঞ্চন মল্লিক(Kanchan Mullick)। প্রশ্ন একটাই এইবারও কি তিনি ঘাসফুল শিবিরের প্রার্থী হবেন, নাকি দলীয় সমীকরণে তাঁর নাম বাদ পড়তে চলেছে? টলিপাড়ার অলিগলি থেকে রাজনৈতিক মহল সব জায়গাতেই এখন এই জল্পনাই ঘুরছে।
উত্তরপাড়ার বর্তমান বিধায়ক হিসেবে দায়িত্ব সামলালেও, দলীয় টিকিট পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তার গুঞ্জন ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বিধায়ক হিসেবে তাঁর কাজকর্ম নিয়ে শীর্ষ নেতৃত্ব পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন এমন কথাও ভাসছে অন্দরে। সেই কারণেই নাকি আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থী তালিকায় বড়সড় চমক থাকতে পারে। যদিও এ সবই এখনও গুঞ্জনের পর্যায়েই রয়েছে, তবুও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে কাঞ্চনের রাজনৈতিক ইনিংস কি এবার থমকে যেতে পারে?
সম্প্রতি সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই বিতর্ক নিয়েই মুখ খুলেছেন কাঞ্চন নিজে। টিকিট পাওয়া বা না পাওয়া নিয়ে তিনি স্পষ্টতই অনাসক্ত সুরে কথা বলেছেন। তাঁর বক্তব্য, রাজনীতিতে প্রবেশের সময়ও তিনি কখনও টিকিটের জন্য তদবির করেননি। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী (Mamata Banerjee)-র অনুরোধেই তিনি নির্বাচনী ময়দানে নামেন।তাঁর কথায়, “কাঞ্চন মল্লিক প্রথমবারও টিকিট পাওয়ার জন্য তদবির করেনি। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর অনুরোধেই এই পদক্ষেপ নিয়েছিলাম”। ফলে আবার প্রার্থী করা হবে কি না, সেই সিদ্ধান্তও সম্পূর্ণভাবে দলের উপরেই ছেড়ে দিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, দল কোনও ব্যক্তির ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, নেতৃত্ব যা সিদ্ধান্ত নেবে, সেটাই মেনে নেবেন।
তবে এই জল্পনার পেছনে শুধু রাজনৈতিক কারণ নয়, ব্যক্তিগত জীবনের বিতর্কও বড় ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন অনেকে। গতবার বিধায়ক হওয়ার পর থেকেই তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নানা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। বিশেষ করে তাঁর তৃতীয় বিয়ে এবং শ্রীময়ী চট্টরাজ(Sreemoyee Chattoraj)-কে ঘিরে দীর্ঘ বিতর্ক জনমানসে ব্যাপক আলোড়ন তোলে। সেই বিতর্ক কি দলের অন্দরেও অস্বস্তির কারণ হয়েছিল? রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের ধারণা, জনসমক্ষে তৈরি হওয়া নেতিবাচক ইমেজ অনেক সময় রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও এ বিষয়ে সরাসরি কিছু বলতে চাননি কাঞ্চন।
নিজের কাজের মূল্যায়ন প্রসঙ্গে অবশ্য আত্মবিশ্বাসী সুরই শোনা গেছে তাঁর গলায়। তিনি জানিয়েছেন, গত পাঁচ বছরে উত্তরপাড়ার উন্নয়নের জন্য তিনি কী কী পদক্ষেপ নিয়েছেন, তার একটি বিস্তারিত তালিকা খুব শীঘ্রই প্রকাশ করবেন। তাঁর দাবি, সেই কাজের খতিয়ান দেখলেই বোঝা যাবে তিনি দায়িত্ব পালনে কতটা আন্তরিক ছিলেন। সমালোচকদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, বিচার হোক কাজের ভিত্তিতে, গুজবের উপর নয়।
সাক্ষাৎকারে তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জী (Abhishek Banerjee)-র প্রতি। একজন শিল্পী হিসেবে রাজনীতির ময়দানে কাজ করার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য দলের প্রতি কৃতজ্ঞ বলেই জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে বুঝিয়ে দিয়েছেন, প্রার্থী করা না করা সম্পূর্ণ দলের কৌশলগত সিদ্ধান্ত, সেখানে ব্যক্তিগত আবেগের কোনও স্থান নেই।
এদিকে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মাঝেও বিনোদন জগতে তাঁর ব্যস্ততা কিন্তু কমেনি। জানা গিয়েছে, আগামী মার্চ মাস জুড়ে তিনি পরিচালক ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত(Indraadip Das Gupta)-র নতুন ছবির শুটিংয়ে থাকবেন। সেই ছবিতে তাঁর সঙ্গে রয়েছেন টলিউডের একাধিক প্রথম সারির তারকা -প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জী (Prosenjit Chatterjee), যীশু সেনগুপ্ত(Jissu U Sengupta) এবং শুভশ্রী গাঙ্গুলী(Subhashree Ganguly) । অর্থাৎ, রাজনৈতিক বিতর্কের আবহ থাকলেও ক্যামেরার সামনে তাঁর উপস্থিতি বজায় থাকছে পুরোদমে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, কোনও বিধায়ককে পুনরায় প্রার্থী করা হবে কি না, তা নির্ভর করে একাধিক বিষয়ের উপর দলীয় সংগঠন, জনসংযোগ, স্থানীয় সমীকরণ এবং জনমত সবকিছুর সমন্বয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই নিরিখে কাঞ্চনের ক্ষেত্রেও নানা দিক খতিয়ে দেখছে দল, এমনটাই ধারণা অনেকের। যদিও দলীয় নেতৃত্বের তরফে এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি।
উত্তরপাড়ার রাজনৈতিক সমীকরণ বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রার্থী নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনা থাকাটাই স্বাভাবিক। কাঞ্চনের সমর্থকরা অবশ্য আশাবাদী তাঁদের দাবি, এলাকায় তাঁর গ্রহণযোগ্যতা এখনও অটুট। অন্যদিকে সমালোচকদের বক্তব্য, ব্যক্তিগত বিতর্ক এবং প্রশাসনিক কাজের মূল্যায়ন দুটোই এবার বড় ফ্যাক্টর হতে পারে।
সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখনও ধোঁয়াশায় মোড়া। টিকিট মিলবে কি না? সেই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর এখনও মেলেনি। কাঞ্চন নিজে অবশ্য সময়ের উপরেই ভরসা রাখছেন। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, সিদ্ধান্ত যাই হোক, তিনি তা মেনে নেবেন। তবে রাজনৈতিক বৈতরণী আবারও পেরোতে পারবেন কি না, সেটাই এখন দেখার।
আপাতত উত্তরপাড়ার রাজনীতি থেকে টলিপাড়া সব জায়গাতেই একটাই প্রশ্ন ঘুরছে ‘ফেল’ বিধায়ক তকমা কি সত্যিই জুটতে চলেছে কাঞ্চনের কপালে, নাকি শেষ মুহূর্তে বদলে যাবে ছবিটা? উত্তর লুকিয়ে রয়েছে দলের চূড়ান্ত ঘোষণার মধ্যেই। সময়ই দেবে তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা।