Kanchan Mullick:“আমি কমেডিয়ান, তাই চাই সবাই হাসুক”- ট্রো’ল, তৃতীয় বিয়ে আর সোশ্যাল মিডিয়ার ক’টা’ক্ষ নিয়ে অকপট কাঞ্চন মল্লিক

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now
Instagram Group Join Now

Kanchan Mullick: সোশ্যাল মিডিয়ায় কাঞ্চন মল্লিক(Kanchan Mullick ) মানেই ক’টা’ক্ষ, ব্য’ঙ্গ আর নানা ধরনের মন্তব্য। স্ত্রীকে নিয়ে ছবি পোস্ট হোক কিংবা মেয়ের সঙ্গে কাটানো মুহূর্ত শেয়ার, প্রায় প্রতিবারই ট্রো’লে’র মুখে পড়তে হয় অভিনেতাকে। বিশেষ করে তৃতীয় বি’য়ে’র পর থেকে এই স’মা’লো’চ’না’র মাত্রা যেন আরও বেড়েছে। নেটদুনিয়ার এই ধারাবাহিক ক’টা’ক্ষ তাঁকে আদৌ প্রভাবিত করে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরেই সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের মনোভাব স্পষ্ট করলেন কাঞ্চন।

অভিনেতার কথায়, তিনি মনে করেন মানুষ তাঁকে ভা’লো’বা’সে’ন বলেই এত মন্তব্য করেন। কাঞ্চনের মতে, যারা ভা’লো কথা বলেন আর যারা খা’রা’প কথা বলেন। এই দুই পক্ষই কোনও না কোনওভাবে তাঁর প্রতি আগ্রহ দেখান। তিনি বলেন, যদি মানুষ তাঁকে গুরুত্বই না দিত, তাহলে কোনও মন্তব্যই করত না। এড়িয়ে যেত। কিন্তু বাস্তবে তা হয় না। তাই তিনি এই সব মন্তব্যকে ভা’লো’বা’সা’র’ই আরেক রূপ বলে মনে করেন।

কাঞ্চন স্পষ্ট করেন, তাঁর কাছে ভা’লো আর খা’রা’প মন্তব্যের মধ্যে খুব একটা ফারাক নেই। তিনি যেমন কৃ’ত’জ্ঞ তাঁদের প্রতি যারা প্রশংসা করেন, তেমনই কোনও রা’গ বা বি’র’ক্তি নেই স’মা’লো’চ’ক’দে’র প্রতিও। দিনের শে’ষে তাঁর একটাই চাওয়া, মানুষের মুখে হাসি। কেউ তাঁকে দেখে হাত নেড়ে হাসুক বা কেউ মুখ গোমড়া করে থাকুক, তিনি চান সবার মধ্যেই যেন একটু হলেও আনন্দ আসে। কারণ তিনি নিজেকে প্রথমে একজন কমেডিয়ান হিসেবেই দেখেন। তাঁর কাছে অভিনয়ের মূল উদ্দেশ্য মানুষের মন ভা’লো রাখা।

আরও পড়ুন:Hema Malini:“আমি কিন্তু হাসছি!”- জনরোষ, ‘গোমড়ামুখী’ কটাক্ষ আর ড্যামেজ কন্ট্রোলের মাঝে ভোটকেন্দ্রে হেমা মালিনী

সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের উপস্থিতি নিয়েও অকপট কাঞ্চন। তিনি বলেন, আজকাল এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে তিনি কোনও ছবি পোস্ট করলেই মানুষ লাফিয়ে পড়েন মন্তব্য করতে। থাইল্যান্ডে বেড়াতে গিয়ে সমুদ্র সৈকতে হাফ প্যান্ট পরে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ছবিও বা’দ যায়নি। সেই ছবিতে তাঁর পোশাক, পা সব নিয়েই মন্তব্য এসেছে। অভিনেতার কথায়, তিনি জানেন না কেউ ধুতি-পাঞ্জাবি পরে সাগরে নামতে যায় কিনা, অন্তত তাঁর জানা নেই। কিন্তু তাতেও মানুষের আগ্রহ কমে না। কেউ না কেউ, কিছু না কিছু বলবেই।

তৃতীয় বি’য়ে নিয়ে হওয়া স’মা’লো’চ’নাও কাঞ্চনের জীবনের একটি বড় অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই প্রসঙ্গে অভিনেতা বলেন, সমাজে এমন অনেক মানুষ আছেন যারা জীবনে অসংখ্য স’ম্প’র্ক, হা’নি’মু’ন বা ফু’ল’শ’য্যা’র অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছেন, কিন্তু তাঁদের নিয়ে কেউ কোনও প্রশ্ন তোলে না। অথচ তিনি প্রকাশ্যে তিনবার বি’য়ে করেছেন বলেই সব আলো এসে পড়েছে তাঁর ওপর। সবাই স’মা’লো’চ’না’য় ব্য’স্ত, কিন্তু তাঁর জীবনে কী পরিস্থিতি ছিল, কী কারণে এই সিদ্ধান্তগুলি নিতে হয়েছিল। সেই বাস্তবটা জানার আগ্রহ খুব কম মানুষেরই আছে। তাই তিনি এই সব কথা মাথায় নেন না বলেই জানান।

আরও পড়ুন:Rwitobroto Mukherjee:”পশ্চিমবঙ্গে এখন একমাত্র রাজনীতিতেই টাকা আছে, সরকারি হাসপাতালে ডাক্তার সেফ নয়, আমি পেশেন্ট হয়ে কী করে সেফ হবো?” -বর্তমান বাংলা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিলেন ঋতব্রত মুখার্জী

কাঞ্চনের কথায়, মানুষ যা খুশি বলতেই পারে, কারণ সোশ্যাল মিডিয়া সকলের জন্য উ’ন্মু’ক্ত একটি জায়গা। সেখানে মত প্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে। কিন্তু তিনি ব্যক্তিগতভাবে এসব মন্তব্যকে নিজের জীবনের ওপর প্রভাব ফেলতে দেন না। বরং তিনি নিজের কাজ, পরিবার আর দর্শকদের ভা’লো রাখার দিকেই মন দিতে চান।

এই প্রসঙ্গে কাঞ্চনের বক্তব্যে সায় দেন তাঁর স্ত্রী শ্রীময়ী(Sreemoyee Chattoraj)। তিনিও মনে করেন, শিল্পী হিসেবে তাঁদের একটা দায়িত্ব রয়েছে। দর্শকদের আনন্দ দেওয়াই তাঁদের মূল কাজ। দিনের শেষে দর্শক যদি একটু ভা’লো থাকেন, হাসতে পারেন, সেটাই তাঁদের সাফল্য। তাই ট্রো’ল বা ক’টা’ক্ষ’কে পাত্তা না দিয়ে তাঁরা সবসময় চেষ্টা করেন মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে।

সব মিলিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ার তীব্র স’মা’লো’চ’না, ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে লাগাতার আ’লো’চ’না সবকিছুর মধ্যেও কাঞ্চন মল্লিক(Kanchan Mullick) নিজের অবস্থানে অনড়। একজন কমেডিয়ান হিসেবে তিনি বিশ্বাস করেন, হাসিই তাঁর সবচেয়ে বড় অ’স্ত্র। আর সেই হাসি ছড়িয়ে দিতে পারলেই, ভা’লো হোক বা খা’রা’প সব মন্তব্যই তাঁর কাছে গ্রহণযোগ্য।

Leave a Comment