ডাক্তার বিতর্কে কাঞ্চনের ঢাল হয়ে উঠলেন শ্রীময়ী!
“শুধু শুধু চিকিৎসকের দুর্বব্যহার কেন সহ্য করব…”,ডাক্তারকে হুমকি দিয়েছেন কাঞ্চন! ভুয়ো খবর ছড়াতেই প্রতিবাদী শ্রীময়ী
বিতর্ক যেন পিছু ছাড়তে চাইছে না তৃণমূল বিধায়ক তথা অভিনেতা কাঞ্চন মল্লিক ও তাঁর স্ত্রী শ্রীময়ী চট্টরাজের। এবার নতুন করে বিতর্কের মুখে জড়িয়ে পড়লেন তাঁরা। সম্প্রতি শ্রীময়ীর ঠাকুমাকে নিয়ে হাসপাতালে গিয়েছিলেন কাঞ্চন মল্লিক। আর সেখানেই ঘটে যায় এক ঘটনা। ঝামেলায় জড়িয়ে পড়েন তারকা দম্পতি। ক্যালকাটা স্কুল অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিনে গিয়ে আউটডোরে থাকা সিনিয়র ডাক্তারের সঙ্গে দুর্বব্যহার করার অভিযোগ উঠেছে কাঞ্চন মল্লিকের নামে। শুধু তাই নয়,কাঞ্চন নাকি সেই ডাক্তারকে বদলি করিয়ে দেবার হুমকিও দেন।
এমনকি হাসপাতালে উপস্থিত সিনিয়র ও জুনিয়র ডাক্তাররাও মুখ খুলেছেন কাঞ্চন-শ্রীময়ীর নামে। এইসব ঘটনার মাঝে নিজেদের তরফের বক্তব্য সামনে আনলেন শ্রীময়ী। সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন অভিনেত্রী সঙ্গে ক্যাপশনে লিখেছেন,”সবকিছুতে নোংরা রাজনীতির রং লাগাবেন না প্লিজ।”
যেখানে তাঁকে বলতে শোনা যায়,”দিদা ওই হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন মে মাসে। তাই সেখানে আবারও চেকআপে নিয়ে যাই তাকে। চর্মরোগ বিভাগে দেখানোর পর ওখান থেকে বলল যেহেতু মেডিসিনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়েছে, তাই মেডিসিন বিভাগে গিয়ে দেখাতে। কারণ দিদার যেহেতু হাইসুগার রয়েছে,ইনস্যুলিন নেন,তাই আগের দেওয়া ওষুধগুলো চলবে কিনা, সেটা জিজ্ঞেস করতেই গিয়েছিলাম। বলা হল, তিনজন রোগী দেখে আমার দিদার চেকআপ করা হবে। দিদা তখন হুইলচেয়ারে বসে। মধ্যিখানে আরেকজন রোগী ঢুকে গেলেন। ছোট প্যাসেজ হওয়ায় আমরা দিদাকে বের করে নিয়ে যাই। অপেক্ষার পর দিদার রিপোর্টগুলো নিয়ে উনি দেখলেন। এবং দেখেই জিজ্ঞেস করলেন- এটা তো চর্মরোগের বিষয়, মেডিসিন বিভাগে কেন এসেছেন? চেকআপ তো হয়ে গিয়েছে। আমি আর দেখে কী করব! দিদাকে প্রথমে দেখতেই চাননি মেডিসিন বিভাগের এইচওডি। আমি তখন বললাম, আপনাকে রেফার করেছে, তাই এলাম। কাঞ্চন তখন বলল- স্যর, একটু যদি প্রেশারটা চেক করে দেন। এতেই ওই ডাক্তার রেগে গিয়ে বলেন,তাহলে আপনি ঠিক করে দিন, কী কী চেক করব? সুগার চেক করব না প্রেশার চেক করব! কাঞ্চন সরি বলে বিষয়টা সেখানেই মিটিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করল। তবে এখানেই মেটেনি বিষয়টা। ওই চিকিৎসকের বোধহয় কোনও রাগ ছিল আমাদের উপর। প্রথম থেকেই দুর্বব্যহার করে যাচ্ছিলেন। তারপর আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম শুধু দিদার আগের ওষুধগুলোই চলবে কিনা?এটাই বোধহয় আমার অপরাধ! উনি চিৎকার করে আমাকে বললেন,আপনি এমবিবিএস পাস করা ডাক্তার?তাহলে চেয়ারে বসুন।
টিকিট কেটে আর পাঁচজন সাধারণ মানুষের মতোই ডাক্তার দেখাতে গিয়েছিলেন তিনি ও কাঞ্চন তাঁদের ঠাকুমাকে নিয়ে। কোনও বিশেষ সুবিধা নেওয়ার থাকলে আমরা টিকিট কেটে, লাইনে দাঁড়িয়ে কেন ডাক্তার দেখাতাম? চেম্বারে যেতাম বা রাজনীতির প্রভাব খাটাতাম। বা দিদিকে সরকারি হাসপাতালে দশ দিন রেখে চিকিৎসাও করাতাম না। কিন্তু শুধু শুধু চিকিৎসকের দুর্বব্যহার কেন সহ্য করব।”
অভিনেত্রী আরও জানান,”একজন অন্য দলের,সজল ঘোষ মহাশয়কে বলব,আপনি সবকিছুতে না জেনে মন্তব্য করবেন না। সবকিছুকে রাজনীতির অঙ্গ করবেন না। রাজনীতির কাদা ছোড়াছুড়ি করবেন না। আগে সত্যতা যাচাই করে দুই পক্ষের কথাটা শুনুন। অসুস্থতা নিয়ে রাজনীতির রং লাগাবেন না। সবকিছু দিয়ে রাজনীতি হয়না। কোনো ভুল করেননি তিনি ও কাঞ্চন। মানুষের সাথে ব্যবহারটাই মানুষের পরিচয়। নিশ্চয়ই ক্ষমা চাইব যেখানে অন্যায় করা হয়। তাই ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। বরং, রাজনীতির রং দিয়ে জলঘোলা করার চেষ্টা করছে সেই ডাক্তার ও সেখানকার জুনিয়র ডাক্তাররা। আমাদের সঙ্গে এরকম ব্যবহার করলে, উনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে কেমন ব্যবহার করেন?”