Kaushik Ganguly:সমাজ কি এখনও পুরুষতান্ত্রিক! নারীদের কাজ কি শুধু রান্না করা? সমাজের একচোখো বিচার নিয়ে কী বললেন কৌশিক গাঙ্গুলী?

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now
Instagram Group Join Now

Kaushik Ganguly:তিনি পরিচালক, তিনি অভিনেতা কথা হচ্ছে পরিচালক কৌশিক গাঙ্গুলিকে নিয়ে। তাঁর পরিচালিত প্রত্যেকটা ছবি প্রায় প্রশংসিত। শুধু ভালো পরিচালক নন, একজন ভালো মনের মানুষও তিনি। স্ত্রী চূর্ণী গাঙ্গুলিও একজন অভিনেত্রী। সংসার সামলে কাজের জগতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। স্ত্রীর সবসময় পাশে থেকেছেন পরিচালক। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে স্ত্রীর সাথে সংসারের সব দায়িত্ব পালন করেছেন তিনিও। তাই সংসারের সব দায়িত্ব যে একজন মহিলার হওয়া উচিত সেই কথায় একেবারে বিশ্বাসী নন কৌশিক গাঙ্গুলি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এই প্রসঙ্গে নিজের মতামত জানান তিনি।

তাঁর মতে একে অপরের প্রতি বিশ্বাস, ভালোবাসা, সম্মান এগুলো কাউকে শিখিয়ে দিতে হয় না। কৌশিক গাঙ্গুলি বলেন, “যার ভাঙার ভাঙবে আর যার ভাঙার নয়, ভাঙবে না। এইগুলো শিখিয়ে কিছু হবে না। স্ত্রী বাজার করে নিয়ে ব্যাগ নিয়ে ফিরছে আর স্বামী বসে বসে খবরের কাগজ পড়ে পৃথিবী উদ্ধার করছে। এর থেকে ঘৃণ্য দৃশ্য আর কিছু হয় না। নারী-পুরুষ সমান অধিকার বলুক আর যাই বলুক না কেন। আমি খুব কড়া। স্ত্রী সারাদিন পরিশ্রম করে রান্না করছেন আর স্বামী বলছে একটা চা দাও, একটা কফি দাও। কারণ তিনি রোজগার করেন বলে। অফিসে গিয়ে তো আড্ডা মারে অর্ধেক সময়। বাড়িতে এসে এমন একটা ভাব করে যে আজ মাথা ছিঁড়ে যাচ্ছে, অফিসে এমন চাপ ছিল। কিছু ছিল না হয়ত চাপ। সারাক্ষণ হয়ত অফিসে খেলা দেখা হয়েছে বা গল্প হয়েছে। আমি বহু মানুষকে দেখেছি বাড়ি ফেরার সময় অফিস থেকে পাড়ার দোকানে মিষ্টি, আর অন্যান্য খাবার খেয়ে এসে বাড়িতে রাগারাগি করল আর বলল আমি আর কিছু কিছু খাব না। কিন্তু এদিকে পরিস্কার খেয়ে এসেছে। এটা খুবই বাজে বিষয়।” তাঁর কথা থেকে স্পষ্ট পুরুষতান্ত্রিক সমাজের ঘোর বিরোধী তিনি।

আরও পড়ুন:Kaushik Ganguly:”সারাক্ষণ ঠোঁট উচু করে ফোনে সেলফি তুলতেই ব্যস্ত,তাহলে মনের কথাটা বলবে কি করে!” বর্তমান প্রজন্মের সেলফি তোলার যে হিড়িক, তা নিয়ে সোজা সাপ্টা জবাব কৌশিক গাঙ্গুলীর

পরিচালক আরও জানান, “যেরকম পুরুষতান্ত্রিক সমাজে ছিল সেটা আস্তে আস্তে কমে এসেছে। আগের মতন পুরুষদের সেই দাপটটা আর নেই। পুরুষদের মধ্যে ভয় ঢুকে গেছে সেই দাপটটা আর দেখালে এখুনি বউ বাড়ি থেকে চলে যাবে। তাই সেই দাপটটা আসতে আসতে কমে যাওয়াতে এই সমস্ত জিনিসগুলোর মধ্যে ভারসাম্য আসছে। বুদ্ধিমান পুরুষ যারা তারা বুঝে গেছে যে কি করে ভারসাম্য রাখতে হয়। আমি ব্যক্তিগতভাবে বলব পুরুষতান্ত্রিক বা মহিলাদের সমান অধিকার এইসব কিছু করতে হবে না। ওইরকম এনজিওর মত কথা বলে লাভ নেই। সোজা কথা হচ্ছে, একজন পুরুষমানুষ বঞ্চিত হচ্ছেন যারা এটার মধ্যে নেই। যারা সংসারের এই আনন্দটা ভোগ করতে পারছেন না। যে রান্না করে খাওয়াচ্ছে এবং সবাই ভালো বলছে। রান্নাটা একটা শিল্প। কাজ নয়। আর আমরা যদি আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের বাড়ির কাজগুলোর মধ্যে যদি আনন্দ খুঁজে না পাই। তাহলে আমরা পৃথিবীতে কোনোদিন সুখ পাব না। যতই মাইনে বাড়ুক বা আর যাই কিছু হোক না কেন।” তাঁর মতে মহিলাদের পাশাপাশি বাড়ির কাজেও পুরুষদের সহযোগিতা করা উচিত।

Leave a Comment