Koel Mallick: টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক (Koel Mallick), এই নামেই তাঁকে চেনে সমগ্র ইন্ডাস্ট্রি এবং দর্শকরা। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি বাংলা ছবির এক উজ্জ্বল মুখ। কিন্তু যাঁকে সবাই ‘কোয়েল’ নামে জানে ও ভা’লো’বা’সে, সেই নামটি যে আসলে তাঁর অফিসিয়াল নাম নয় একথা অনেকেই হয়ত জানেন না। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজেই সেই নামের গল্প জানালেন তিনি, আর সেখানেই উঠে এল এক মজার ঘটনা, যা তাঁর ক্যারিয়ারের একেবারে শুরুর দিকের সঙ্গে জ’ড়ি’য়ে।
কোয়েল জানান, তাঁর বাড়ির নাম বা ডাকনাম ‘কোয়েল’ হলেও, তাঁর স্কুল এবং অফিসিয়াল ন’থি’প’ত্রে অন্য নাম লেখা আছে। ছোট থেকেই তাঁকে সবাই ‘কোয়েল’ নামেই ডাকলেও তাঁর আসল নাম ‘রুক্মিণী মল্লিক’। অভিনেত্রীর কথায়, “আমার স্কুলের নাম রুক্মিণী মল্লিক, আর বাড়িতে সবাই আমাকে কোয়েল বলেই ডাকেন।” অর্থাৎ পারিবারিক ও আনুষ্ঠানিক পরিচয়ের মধ্যে ছিল আলাদা দুটি নাম, তবে ক্যারিয়ারের শুরুতেই এক আ’ক’স্মি’ক ঘ’ট’না’র কারণে ‘কোয়েল’ নামটিই থেকে যায় তাঁর পরিচয়ের কে’ন্দ্র’বি’ন্দু’তে।
অভিনয়ে তাঁর যাত্রা শুরু হরনাথ চক্রবর্তী(Haranath Chakraborty)-র পরিচালনায় ‘নাটের গুরু’ (Nater Guru)ছবির হাত ধরে। এই ছবিই ছিল কোয়েলের প্রথম সিনেমা, এবং এখান থেকেই শুরু হয় তাঁর তারকা খ্যা’তি’র প’থ’চ’লা। কিন্তু এই ছবিই হয়ে ওঠে তাঁর নাম-পরিচয়ের মো’ড় ঘো’রা’নো’র বড় কারণ। কোয়েল জানান, পরিচালক হরনাথ চক্রবর্তী যাঁকে তিনি আ’দ’র করে ‘হরকাকু’ বলে ডাকেন, জানতেনই না যে তাঁর আরেকটি অফিসিয়াল নাম রয়েছে। তিনি স্বাভাবিকভাবেই ধরে নিয়েছিলেন, ‘কোয়েল’ নামটাই তাঁর আসল নাম।
অভিনেত্রী কোয়েলের ভাষায়, “হরকাকু জানতেন না যে আমার অন্য কোনো নাম আছে। যেহেতু কোয়েল নামটা শুনতে স্বাভাবিক ও সুন্দর, আর এটা তেমন কোনও ‘ডাকনাম’ টাইপের মনে হয়নি, তাই উনি ভেবেছিলেন এটাই আমার ফরম্যাল নাম।” সাধারণত ডাকনামগুলো একটু আলাদা ধরনের বা ঘরোয়া স্বা’দে’র হয়, কিন্তু ‘কোয়েল’ নামটি তু’ল’না’মূ’ল’ক’ভা’বে মা’র্জি’ত ও শো’ভ’ন ফলে পরিচালক একে ফর্মাল নাম বলেই ধরে নেন।
সবচেয়ে মজার বিষয় হল, ছবির ক্রেডিটে তাঁর নাম যুক্ত করার আগে তাঁকে কিছুই জিজ্ঞাসা করা হয়নি। পরিচালক নিজে থেকেই ‘কোয়েল’ নামটিই ব্যবহার করে দেন সিনেমার টাইটেল কার্ডে। একবার সেই নাম পর্দায় চলে আসার পর আর ফে’রা’নো যায়নি তা। কারণ ছবির জনপ্রিয়তার সঙ্গে সঙ্গে এই নামটাই জ’ড়ি’য়ে যায় তাঁর পর্দার ইমেজ ও পরিচয়ের সঙ্গে। কোয়েল জানান, “নামটা না জি’জ্ঞে’স করেই সিনেমায় কোয়েল নামটাই লেখা হয়েছিল, আর তারপর থেকেই সেটাই থেকে গেছে।”
অর্থাৎ, এক অর্থে পরিচালকের এই ছোট্ট ভু’ল’ই ব’দ’লে দেয় অভিনেত্রীর জনপরিচয়। যাঁকে আজ সমগ্র বাংলা সিনেমা ‘কোয়েল মল্লিক’ নামে জানে, তাঁর সরকারি নাম আসলে ‘রুক্মিণী মল্লিক’। কোয়েল আরও বলেন, “আমার আসল নাম রুক্মিণী। স্কুলে আমার নাম রুক্মিণী মল্লিকই ছিল।” তাঁর কথায়, যদি সিনেমায় তাঁর অফিসিয়াল নাম ব্যবহার করা হত, তাহলে আজ ইন্ডাস্ট্রিতে একই নামে দুইজন রুক্মিণীকে দেখা যেত কারণ বাংলা চলচ্চিত্রের আরেক জনপ্রিয় অভিনেত্রী রুক্মিণী মিত্র ও এখন প্রতিষ্ঠিত মুখ। যদিও ইন্ডাস্ট্রিতে একই নামে একাধিক শিল্পী থাকা নতুন কিছু নয়, তবুও নিয়তির খে’লা’য় এমনটাই ঘ’টে’নি কোয়েলের ক্ষে’ত্রে।
তাঁর মতে, ‘কোয়েল’ নামটি খুবই সহজ, প্রিয় এবং স্ম’র’ণ’যো’গ্য ফলে দর্শকরাও দ্রুত এই নামের সঙ্গেই আ’ত্মী’য়’তা তৈরি করে ফেলেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই নামই হয়ে ওঠে তাঁর তারকা-পরিচয়ের একমাত্র পরিচায়ক। ফলে অফিসিয়াল নাম কোথাও রয়ে গেলেও, ইন্ডাস্ট্রি ও দর্শকের কাছে তিনি এ’ক’চে’টি’য়াভাবে ‘কোয়েল মল্লিক’ বলেই প্রতিষ্ঠিত।
শুধু নামের গল্প নয়, বর্তমানে তাঁর ক’র্ম’জী’ব’নও সমানভাবে সক্রিয়। সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত ‘মিতিন মাসি: একটি খুনির সন্ধানে’ (Mitin: Ekti Khunir Sandhaney) ছবিটি বড়পর্দায় ভা’লো সা’ড়া ফেলেছে। তাঁর গো’য়ে’ন্দা চরিত্রটি দর্শকদের কাছে প্র’শং’সা কু’ড়ি’য়ে’ছে। এর আগে ‘স্বার্থপর’(Sharthopor) ছবির মাধ্যমে তিনি অভিনয়ে কা’ম’ব্যা’ক করেন এবং সেই ছবিও ভা’লো’বা’সা পায় দর্শকমহলে। ভবিষ্যত প্রকল্প নিয়েও আশাবাদী কোয়েল কথাবার্তা চলছে দেবের বিপরীতে সম্ভাব্য ‘খাদান ২’(Khadaan 2) ছবিতে তাঁর অভিনয়ের বিষয়ে।
নাম ব’দ’লে’র ইচ্ছে তাঁর কোনওদিনই ছিল না, বরং তিনি মনে করেন, এই নামটাই আজ তাঁর পরিচয়ের এক অ’বি’চ্ছে’দ্য অংশ। একদিকে বাড়ির স্নে’হমা’খা ডাকনাম, অন্যদিকে ইন্ডাস্ট্রির সু’প’রি’চি’ত ব্র্যান্ড, দুইয়ের মি’ল’নে’ই তৈরি হয়েছে অভিনেত্রীর অনন্য পরিচয়। তাই আজও তিনি হাসিমুখে স্বী’কা’র করেন, “এই নামটাই আমার সঙ্গে থেকে গেছে আর আমি খুব খুশি যে সবাই আমাকে কোয়েল বলেই চেনে।”