Manosi Sengupta:বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া স’র’গ’র’ম দেবলীনা নন্দীর আ/*/ হ/ত্যা/র ঘ’ট’না’কে কেন্দ্র করে। দেবলীনা নন্দীর মা’ন’সি’ক অবস্থা কেমন আছে? সেটা জানার থেকে তিনি কটা ঘুমের ও’ষু’ধ খেয়েছেন সেটা জানতেই আগ্রহী মানুষ। সমাজমাধ্যম খুললেই একটাই খবর এখন। যা দেখে রীতিমতো রে’গে আ’গু’ন অভিনেত্রী মানসী সেনগুপ্ত। মানসীর কথায় যেন জীবনটাই এখন কনটেন্টে। যার ফলে প্র’ভা’বি’ত হচ্ছে ছোট্ট ছোট্ট শিশুরা।
সম্প্রতি ফেসবুক লাইভে এসে নিজের ক্ষো’ভ প্রকাশ করলেন অভিনেত্রী। অভিনেত্রীকে বলতে শোনা যায়, “আমি কোনোদিন অ’প্র’য়ো’জ’নী’য় কোনো জিনিস নিয়ে লাইভ করি না। কিন্তু আজকে আমি বা’ধ্য হলাম একটা বিষয় নিয়ে কথা বলতে। কারণ আমার মনে হয়েছে যে এখন এই বিষয় নিয়ে কথা বলতে হবে। জানি অনেকে আমাকে জা’জ করবে। অনেকে বা’জে কথা বলবে যু’ক্তি দেখাবে। যারা যু’ক্তি দেখাবে তাদেরকে স্বাগত। কারণ আমি সত্যি জানতে চাই যদি কোনো জায়গায় ভু’ল হয়ে থাকি তো। যে বিষয়টা নিয়ে এখন কথা বলব সেটা নিয়ে এখন চারিদিকে স’র’গ’র’ম একটা ব্যাপার আর কি! আমি চারিদিকে হেডলাইন দেখছি যে ৭৮টা ঘুমের ও’ষু’ধ র’হ’স্য। এই যে দেবলীনা নন্দী ঘু’মে’র ও’ষু’ধ খেয়েছে, এই ব্যাপারটা নিয়ে এমন কেউ নেই যে জানে না। এখন আমার বিষয় হচ্ছে যে এটা নিয়ে আমি কেন লাইভ করছি? বিষয়টা তো কি হয়েছে, কি না হয়েছে বা ওর স্বামীর সাথে কি স’ম’স্যা রয়েছে, আমি ওই ভদ্রলোককে চিনি না, আপনার নামটাও আমার মনে নেই, আমি যা দেখেছি ফেসবুকেই দেখেছি, ব্যক্তিগতভাবেও চিনি না। আজ একজন সাধারণ মানুষ হয়ে এই ভিডিওটা করছি, আমরা যারা অভিনেতা-অভিনেত্রীরা আছি, যারা ইনফ্লুয়েন্সররা আছেন, তাঁরা তো প্রতিদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো না কোনো কনটেন্ট করেন। আমিও বিভিন্ন রকমের ভিডিও দিয়ে থাকি। তাই আমার মনে হয় আমার একটা দায়িত্ব থাকে বা আমাদের একটা দায়িত্ব থাকে, কারণ আমরা সারাক্ষণ সাধারণ মানুষ যখন স্ক্রোল(scroll) করেন সোশ্যাল মিডিয়াতে অনেক কিছু দেখে, অনেক কিছু দেখে তারা ইনফ্লুয়েন্স হয়, তাই জন্যই তাদেরকে ইনফ্লুয়েন্সার বলে সেটাই আমার মনে হয়। দেবলীনার জীবনে কি হয়েছে সেটা আমি জানি না, সেটা নিয়ে আমার বক্তব্য থাকতে পারে না। আজকে ওর ঘুমের ও’ষু’ধ খাওয়ার পর যেভাবে জিনিসটা চারিদিকে মানে ফেসবুক খুললেই ও ৭৮টা ঘুমের ও’ষু’ধ খেয়েছে। এটাকে এমনভাবে হাইলাইট করা হচ্ছে। এখন ওই ব্যাপারটা নিয়েই স’র’গ’র’ম যে কটা ঘুমের ও’ষু’ধ খেল, আরও কত কি! এবার আমার মেয়েও বড় হচ্ছে, অনেকের বাচ্চারাও সারাক্ষণ সোশ্যাল মিডিয়া দেখে, মানে তাদের কাছে কি বার্তা যাচ্ছে? কারোর সাথে কোন অ’শা’ন্তি হলে, ঝ’গ’ড়া হলে, কোনো কিছু অন্যায় হলে ঘুমের ও’ষু’ধ খেয়ে নাওয়াটা কি স’ম’স্যা’র সমাধান?
এবার অনেকেই বলতে পারেন আপনি কি করে জানলেন তার কি অবস্থা হয়েছিল যে, তাকে বা’ধ্য করা হয়েছে ঘুমের ও’ষু’ধ খেতে হয় তো! হতেই পারে আমি ওই পরিস্থিতির মধ্যে ছিলাম না। তাই আমি আগে থেকে কথাটা বলতে পারি না। কিন্তু আজকে এই জিনিসটাকে হাইলাইট করা কি ঠিক হচ্ছে যে এ কথাটা ঘুমের ও’ষু’ধ খেয়েছে? কতদিন ধরে ঘুমের ও’ষু’ধ’গুলো জমিয়েছে সে? আজকে তো এটাও বার্তা যাচ্ছে সমাজে যে কোনো স’ম’স্যা হলে আমরা আ’ই’নে’র কাছে যাব না, আমাদের দেশে কোন আ’ই’ন ব্য’ব’স্থা নেই, আমাদের যদি মা’ন’সি’ক কিছু স’ম’স্যা হয় আমরা ম’নো’বি’দে’র কাছে যাব না! সোজা ঘুমের ও’ষু’ধ খেয়ে নেব! এটাই কি!
আমি মানলাম যে ও মা’ন’সি’ক দিক থেকে ঠিক ছিল না, ও জানে না ও করে ফেলেছে, ঘু’মে’র ও’ষু’ধ খেয়ে ফেলেছে, ঠিক আছে! তারপরের দিন সে হাসপাতালে বসে তার বন্ধুরা, তারা ভ্লগ বানাতে পারে? তাকে তো কাউন্সেলিং করানো দরকার যে ঘুমের ও’ষু’ধ’টা খেয়ে ফেলেছে! বা জিনিসটার সমাধান করা দরকার বা পু’লি’শে’র কাছে যাওয়া দরকার, বা আ’ই’নে’র দ্বা’র’স্থ হওয়া দরকার। কিন্তু এই কাদা ছো’ড়া’ছু’ড়ি’টা কেন দেখছি? স’ম’স্যা’র স’মা’ধা’ন কিভাবে হবে কেন সেটা নিয়ে কথা হচ্ছে না? কেন এটা নিয়ে কথা হচ্ছে কতদিন ধরে জমিয়ে ঘুমের ও’ষু’ধ খেয়েছ? কেন এটা বলা হচ্ছে না যে যে তাহলে অ’ন্যা’য় করেছে, যে দো’ষী, তাহলে সেটা খুঁজে বের করা হোক, আমরা আ’ই’নে’র দ্বা’র’স্থ হই, যদি দেবলীনা আর মা’ন’সি’ক অবস্থা ঠিক না থাকে আমরা কা’উ’ন্সি’লিং করাই। এটা কেন জো’র পাচ্ছে না? এটা যেন জো’র বাঁচে যে সে কতদিন ধরে ঘুমের ও’ষু’ধ জ’মি’য়ে’ছে এবং কটা খেয়েছে? যে যেখানে যাচ্ছে যে যা কথা বলছে শুধু ৭৮টা ঘুমের ও’ষু’ধ নিয়ে কথা বলছে। এটা কি ঠিকঠাক বা’র্তা? আমি প্র’চ’ন্ড হ’তা’শ হয়ে এই ভিডিওটা করছি। কারণ আমদের জেনারেশনকে নিয়ে কি বলছি? কোনো একটা স’ম’স্যা হলে ঘুমের ও’ষু’ধ খেয়ে নিতে হবে, সেটা নিয়ে ভ্লগ করতে হবে! কনটেন্ট করতে হবে! আরে কনটেন্ট না বানিয়ে মেয়ে মানুষের সত্যি অ’সু’স্থ, তাকে যা ভাবে ভা’লো রাখা যায় সেটা করা উচিত। সে কি কনটেন্ট বানিয়ে ভা’লো থাকছে? যদি কেউ তার পাশে দাঁড়ায় বা কোনো বন্ধুরা দেখা করতে যায় ক্যামেরা ব’ন্ধ করে দেখা করা উচিত, তার সাথে পার্সোনালি কথা বলা উচিত বা তার কোথায় স’ম’স্যা হচ্ছে সেটা খুঁজে বার করা উচিত। তখন ক্যামেরাটা অন করে দাওয়াটা কেন? আমার এই প্রশ্নগুলোর উত্তর জানতে চাই সত্যি! যদি আপনাদের মনে হয় আমি ভু’ল বলছি, তাহলে সেটা বলুন।
আজকে আমি যদি নিজেই এই পরিস্থিতিতে থাকতাম, আমি যদি অ’সু’স্থ হয়ে হা’স’পা’তা’লে ভর্তি থাকতাম, আমার কাছে আমার বন্ধুরা এসেছে কারণ আমার তাদের দরকার সেইসময়। তাহলে কি আমার বন্ধুরা গিয়ে আগে ক্যামেরাটা অন করে দেবে? আর সেই ঘ’ট’না’টা, আমি কিভাবে ঘুমের ও’ষু’ধ খেয়েছি? কোন বন্ধুকে আগে ফোন করে বলেছি? তাকে আমি প্যাকেট পাঠিয়েছি, এই ঘ’ট’না’টা আমরা শুনব? না কি সেই সময় তার পাশে গিয়ে দাঁ’ড়া’ব! আমি ওই ভদ্রলোককে চিনি না। আমার চেনার কথাও নয়। আমি দেবলীনা কেউ চিনি না সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু ওকে কিছুবার দেখেছি। আমি এখানে কারোর হয়ে কথা বলছি না। আমার মনে হয় এই সি’চু’য়ে’শ’নে এটা করা উচিত। যদি দেবলীনা মা’ন’সি’ক’ভা’বে অ’সু’স্থ হয় তাহলে তাকে কা’উ’ন্সি’লিং করানো উচিত আর যদি তার উপর অ’ন্যা’য় হয়ে থাকে তাহলে আ’ই’নে’র দ্বা’র’স্থ হওয়া উচিত। যাদের সাথে স’ম’স্যা হয়েছে তাদের সাথে ব্যাপারটা মি’টি’য়ে নেওয়া উচিত। ক্যামেরাটা অন হচ্ছে কেন সব জায়গায়? এত ফু’টে’জ কিসের জন্য দরকার? এটা তো ফু’টে’জ পাওয়া হচ্ছে! আমি সত্যিই স’হ’ম’র্মি’তা জানাচ্ছি। একজন মেয়ে হয়ে আমি দেবলীনার পাশে দাঁড়াচ্ছি। ব্যাপারটা হচ্ছে এরপরে যে কা’ন্ড’গু’লো হচ্ছে। হা’জা’র একটা মিডিয়ার সামনে এই হয়েছে, ওই হয়েছে, সবাই বাইট(byte) দিচ্ছে। বন্ধুরা দেখা করতে গিয়ে কনটেন্ট বানাচ্ছে, এটা কেন?”
তিনি আরও জানান, “আমরা সবাই মিলে এক তরফা কথা শুনছি কেন আমরা দুতরফা কথা শুনছি না। তারা হয়ত ভাববে যে সোশ্যাল মিডিয়াতে এসে কিছু বলবেনা তারা হয়ত আ’ই’নে’র দ্বা’র’স্থ হবে! কিন্তু আমার মনে হচ্ছে যে আমরা কোথাও ভুল করছি না তো। আমি শুধু একজনের কথাই শুনছি, দুপক্ষের কথাই শোনা উচিত। আর আমরা কে শোনার? তারা যখন বি’য়ে করেছিল বা তারা যখন স’ম্প’র্কে এসেছিল আমাদেরকে জিজ্ঞাসা করে তো আসেনি? তাহলে আজকে যখন স’ম্প’র্ক’টা ভে’ঙ্গে যাচ্ছে তাহলে তারা কেন আমাদেরকে জানাচ্ছে? তাহলে তারা নিজেদের মধ্যে কেন রাখছেন না ব্যাপারটা? ওকে আমরা একজন কে সাপোর্ট করতে গিয়ে আর একজনকে সু/ই*/সা*/ই/ড করতে ঠে’লে দিচ্ছি না তো? আমরা তো সেই ভদ্রলোকের ঘ’ট’না’টা জানতেই চাইছি না। আর আমাদের জানার কথাও নয় আ’ই’ন আছে, পু’লি’শ আছে,তারা জেনে নেবে। আমরা লোকের ব্যক্তিগত জীবনে ঢু’ক’তে যাব কেন? কেউ সু/*/ই/*সা/*ই/ড করলে তাকে লাইভ কেন করতে হচ্ছে? সোশ্যাল মিডিয়া তো অন্য অনেক কাজেই ব্যবহার হয়। আমারও ম’নি’টা’ই’জে’শ’ন আছে, আমিও এখান থেকে টা’কা উ’পা’র্জ’ন করি। তাহলে আমি মা’ন’সি’ক’ভা’বে অ’সু’স্থ হলে, লাইভ করে সু/*ই/*সা/*ই/ড করব না, আর যদি আমি বেঁ’চে যাই বন্ধুদের থেকে লাইভও করব না। দয়া করে এগুলো ব’ন্ধ করুন। কারোরে জীবনের স’ম’স্যা হলে পু’লি’শ আছে, আ’দা’ল’ত আছে। আমরা জানতে চাই না তুমি কতগুলো ঘুমের ও’ষু’ধ খেয়েছ? কারণ এটা ভু’ল বার্তা যাচ্ছে।
আমার রা’গ হচ্ছে এই কারণেই এই ঘ’ট’না’টা’য় ভু’ল বা’র্তা ছড়িয়ে পড়ছে। আমার মেয়েও ব’ড় হচ্ছে। আমার মেয়ে কি দেখছে? আজকের দিনে কেউ তো চাইলেই আর বা’চ্চা’দে’র’কে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূ’রে রাখতে পারছে না। তাহলে তারা কি দেখছে? যদি মায়ের সাথে ঝা’মে’লা হয় একটু একটু করে ঘু’মে’র ও’ষু’ধ জমাব, আর খেয়ে নেব? আমি চাই না এরকম বা’র্তা কোনো সন্তানের প্রতি যাক বা কারোর প্রতি যাক। তাই আমার এত রা’গ।”