Nabanita Malakar:নিম ফুলের মধু ধারাবাহিকের ‘তিন্নি’র ভূমিকায় অভিনেত্রী নবনীতা মালাকারের অভিনয় মনে আছে। ধারাবাহিকে খলনায়িকার চরিত্রে অভিনয় করে সবার মন জয় করেছিলেন অভিনেত্রী। বহুদিন ধরেই ছোট পর্দায় চুটিয়ে কাজ করছেন তিনি। টেলিভিশন পর্দার অতি পরিচিত মুখ। ‘পুণ্যি পুকুর’, ‘মনসা’, ‘মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্য’, ‘মঙ্গলচণ্ডী’ সহ একাধিক ধারাবাহিকে অভিনয় করেছেন জলপাইগুড়ির মেয়ে থেকে নবনীতা মালাকার। জলপাইগুড়ি থেকে টালিগঞ্জের সফর পূরণ করতে কম ঝক্কি সামলাননি। পরিবারেও মুখোমুখি হয়েছেন অনেক ওঠাপড়ার। তবে সবসময় পরিবারকে পাশে পেয়েছেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি নাচেও পারদর্শী অভিনেত্রী। অভিনয় নয় নাচকেই জীবনের প্রথম পেশা হিসেবে বেছে নিতে চেয়েছিলেন অভিনেত্রী।
পরিবারের একমাত্র রোজগেরে নবনীতা। ছোটবেলায় অনেক আর্থিক সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। তাঁর কাঁধে রয়েছে পুরো পরিবারকে দেখভালের দায়িত্ব। তবে সময়ের সাথে সাথে নিজের জীবনকে শক্ত হাতে টেনে ধরে এগিয়ে চলেছেন তিনি। তবে টলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে অভিনেত্রী পা রেখেছিলেন অভিনেতা ভরত কলের হাত ধরে,এমনটাই জানান নবনীতা। একসময় ইন্ডাস্ট্রিতে র্যা’গিং’য়ে’র শি’কা”র হতে হয়েছিল তাঁকে। এমনটাই এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন তিনি।
নবনীতা জানান, “আমি রাজকুমারীর মতো মানুষ হয়েছি। মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে হলেও আমার কোনোদিন অভাব ছিল না জীবনে। মা-বাবার ছায়ার বাইরে বেরিয়ে এসে, জীবন মানে আসলে কি, সেটা আমি দেখেছি। এখানে এসে বুঝতে পারলাম যে,তুমি ইংরেজিতে কথা না বলতে পারলে তুমি অশিক্ষিত। ইয়ার্কি ঠিক আছে,কিন্তু ইয়ার্কিটা এমন না হয় যাতে মানুষ সেটাতে দুঃখ পায়। এবার সেই লিমিটটা নিজেদের শিক্ষার উপর। আমার সাথেও এমন অনেক ঘটনাই ঘটেছে। তখন খারাপ লাগত, কাঁদতাম। কিন্তু বুঝেছিলাম যে এই জায়গাগুলোকে নিজেকেই ঠিক করতে হবে।”
তবে সম্পর্ক নিয়ে যে অভিনেত্রীর একটা তিক্ত অভিজ্ঞতা আছে সেটা তাঁর কথার মধ্যে দিয়েই প্রকাশ পায়। অভিনেত্রী জানান, “মা-বাবা ছাড়া কেউ পাশে থাকে না। মানুষের চাহিদার কোনো সময়-সীমা থাকে না। আমি যেমন আমার সামনের মানুষটাকে ঠিক তেমনই ভাবি। আর আমার সমস্যাটা ঠিক ওখানেই। আমি সামনের মানুষটাকে যতটা বন্ধু হিসেবে ভাবি বা নিজের যতটা কাছের মানুষ ভাবছি, যতটা ওকে গুরুত্ব দিচ্ছি, ভাবছি যে ওর একমাত্র বন্ধু আমি। কিন্তু ব্যাপারটা ঠিক সেটা নয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটা বুঝেছি যে আমার হয়ত ও একমাত্র বন্ধু, কিন্তু ওর আমার মতো আরও দশটা বন্ধু আছে। তো যে থাকার সে এমনি থাকবে আর যে থাকার না হাজার সময় দাও বা যতই তার জন্য করো না কেন সে থাকবে না। সে বন্ধু হোক বা সম্পর্ক হোক বা অন্য কিছু।”
একসময় ‘দিদি নম্বর ওয়ান’-এর মঞ্চে এসে নিজের মনের মানুষের হদিশ দিয়েছিলেন অভিনেত্রী। মা-বাবা পছন্দ করেই ঠিক করেছিলেন তাঁর হবু বর সুমিত মিত্রকে। তখন তিনি জানিয়েছিলেন,”এত বছর ধরে একা-একা তো। মা-বাবা আর নিতে পারছে না। বলছে কিছু একটা করে আমাদের ছেড়ে বিদায় হ। মানুষটা খুব ভাল। ও হচ্ছে আমার খুব ভালো বন্ধু। ব্যাপারটা অ্যারেঞ্জড পুরোটাই। এখনও যদিও বিয়ের সময় বা তারিখ ঠিক হয়নি।” তবে সাম্প্রতিককালে তার কথা শুনে বোঝাই যাচ্ছে বন্ধুত হোক বা সম্পর্ক, দু’টোর প্রতি তাঁর কিছুটা বিশ্বাস হারিয়েছে। আপাতত নিজের মা-বাবা ও কাজের জগৎ নিয়েই খুশি তিনি।