Nabanita-Jeetu:টলিপাড়ায় চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে প্রায়ই উঠে আসেন অভিনেত্রী নবনীতা দাস(Nabanita Das)। কখনও তাঁর পোশাক বিতর্ক, কখনও ব্যক্তিগত জীবন নানা কারণেই শিরোনামে জায়গা করে নেন তিনি। কয়েক বছর আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিনেতা জিতু কমল(Jeetu Kamal)-এর সঙ্গে বিচ্ছেদের ঘোষণা করে আলোড়ন ফেলে দিয়েছিলেন নবনীতা। পরবর্তীতে তাঁদের আইনি ডিভোর্স সম্পন্ন হয়। বর্তমানে দু’জনেই নিজেদের ‘সিঙ্গল’ বলেই দাবি করেন এবং নিজ নিজ জীবনে এগিয়ে গিয়েছেন। তবে সাম্প্রতিক একটি ইঙ্গিত ঘিরে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে নবনীতা কি আবার সংসার পাতার স্বপ্ন দেখছেন?
অভিনয়ের পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ায় যথেষ্ট সক্রিয় নবনীতা। ব্যক্তিগত জীবনের ছোট ছোট মুহূর্ত অনুরাগীদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে ভালোবাসেন তিনি। সম্প্রতি তাঁর ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে পরপর দুটি পোস্ট নজর কেড়েছে নেটিজেনদের। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক শিশুকে মায়ের বুকে নিশ্চিন্তে ঘুমোতে। অন্যটিতে ফুটে ওঠে এক সুখী পরিবারের ছবি স্বামী, স্ত্রী এবং তাঁদের সন্তানকে ঘিরে এক উষ্ণ মুহূর্ত। এই দুটি পোস্টের উপরেই ইংরেজিতে লেখা ছিল একটি শব্দ “ম্যানিফেস্ট”(Manifest)। সাধারণ অর্থে যার মানে, নিজের মনের গভীর ইচ্ছেকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার আকাঙ্ক্ষা। সেই শব্দ ঘিরেই তৈরি হয়েছে জল্পনা তাহলে কি নবনীতাও এমন এক ছোট্ট পরিবারের স্বপ্ন দেখছেন?
নবনীতার পোস্ট ঘিরে কৌতূহল আরও বেড়েছে কারণ দীর্ঘদিন ধরেই তিনি ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সরাসরি কিছু বলেননি। বিচ্ছেদের পর থেকে নিজের কাজ এবং ব্যক্তিগত পরিসরকে আলাদা রেখেছেন তিনি। মাঝেমধ্যে তাঁর নতুন সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জন শোনা গেলেও, সে বিষয়ে কখনও স্পষ্ট মন্তব্য করেননি অভিনেত্রী। ফলে “ম্যানিফেস্ট” লেখা স্টোরিকে অনেকেই দেখছেন ভবিষ্যতের ইঙ্গিত হিসেবে।
কিছুদিন আগেই শারীরিক অ’সু’স্থ’তা’র কারণে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন নবনীতা। হাসপাতাল থেকে নিজের ছবি শেয়ার করলেও, ঠিক কী সমস্যার কারণে তাঁকে ভর্তি হতে হয়েছিল তা জানা যায়নি। সেই সময়ও তাঁর অনুরাগীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। বর্তমানে তিনি সুস্থ থাকলেও, অনেকদিন ধরেই লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশন থেকে দূরে রয়েছেন। একসময় ধারাবাহিকের প্রধান চরিত্রে নিয়মিত দেখা যেত তাঁকে। কিন্তু গত কয়েক মাসে টেলিভিশনের পর্দায় তাঁর উপস্থিতি কমেছে উল্লেখযোগ্যভাবে।
নবনীতার অভিনয় জীবনের কথা বলতে গেলে উল্লেখ করতেই হয় জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘সাধক বামাক্ষ্যাপা’-র কথা, যেখানে ‘মা তারা’ চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের মন জয় করেছিলেন তিনি। আবার অর্ধাঙ্গিনী ধারাবাহিকে অভিনয় করতে গিয়েই বাস্তবে জিতু কমলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে এবং পরবর্তীতে সেই সম্পর্ক বিয়েতে পরিণত হয়। এছাড়াও বিয়ের ফুল সিরিয়ালেও তাঁর অভিনয় নজর কেড়েছিল দর্শকদের।
একসময় ১৪ থেকে ১৮ ঘণ্টা টানা শুটিং ছিল তাঁর নিত্যদিনের রুটিন। তবে এখন আর সেই ব্যস্ততা নেই। ইন্ডাস্ট্রিতে তাঁর খুব বেশি বন্ধুবৃত্তও নেই বলেই জানা যায়। হাতে গোনা কয়েকজন ঘনিষ্ঠ মানুষের সঙ্গেই সময় কাটাতে পছন্দ করেন তিনি। অভিনয়ের দৌড় থেকে খানিকটা সরে এসে বর্তমানে ভিন্ন পথে হাঁটছেন নবনীতা।
সূত্রের খবর, বেঙ্গালুরুতে বন্ধুদের সঙ্গে মিলে একটি আইটি অফিস শুরু করেছেন তিনি। নিয়মিত সেখানে উপস্থিত না থাকলেও, প্রয়োজনমতো যাতায়াত করেন। বাকি সময় বাড়ি থেকেই কাজ সামলান। অর্থাৎ অভিনয়ের বাইরেও নিজের পেশাগত পরিসর তৈরি করেছেন অভিনেত্রী। তবে ভালো চিত্রনাট্য ও শক্তিশালী চরিত্র পেলে আবার অভিনয়ে ফিরতে আপত্তি নেই বলেই জানা গেছে।
জিতু কমলের সঙ্গে তাঁর ডিভোর্স হয়েছে প্রায় দেড় বছর আগে। বিচ্ছেদের পর দু’জনেই নিজেদের কাজের প্রতি বেশি মনোযোগী হয়েছেন। প্রকাশ্যে একে অপরকে নিয়ে তেমন মন্তব্যও করেননি। তবে সামাজিক মাধ্যমে নবনীতার সাম্প্রতিক পোস্ট যেন নতুন করে ব্যক্তিগত জীবনের সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে।
“ম্যানিফেস্ট” শব্দটি নিছকই একটি ট্রেন্ড হতে পারে, আবার তা হতে পারে ভবিষ্যতের পরিকল্পনারও ইঙ্গিত। পরিবার, সন্তান এবং সঙ্গীকে ঘিরে যে ছবিগুলি তিনি ভাগ করে নিয়েছেন, তা অনেকের কাছেই স্পষ্ট বার্তা বহন করছে। যদিও সরাসরি কিছু না বলায় বিষয়টি এখনো অনুমানের স্তরেই রয়ে গেছে।
এই মুহূর্তে নবনীতা নিজের কাজ, ব্যক্তিগত সময় এবং নতুন ব্যবসায়িক উদ্যোগ সব মিলিয়ে এক ভিন্ন জীবনযাপন করছেন। তবুও তাঁর সোশ্যাল মিডিয়ার ইঙ্গিত ঘিরে প্রশ্নটা থেকেই যাচ্ছে তাহলে কি নতুন করে সংসার পাতার প্রস্তুতি নিচ্ছেন জিতু কমলের প্রাক্তন স্ত্রী?
উত্তর সময়ই দেবে। তবে এতটুকু স্পষ্ট, নিজের জীবনের নতুন অধ্যায় লিখতে তিনি মানসিকভাবে প্রস্তুত। আর সেই অধ্যায়ে যদি একটি ছোট্ট পরিবারও জায়গা পায়, তাতে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।