Neel Bhattacharya: টলিপাড়ায় সম্পর্কের সমীকরণ বদলাতে সময় লাগে না। তার উপর যদি জড়িয়ে থাকেন জনপ্রিয় মুখ, তবে জল্পনার পারদ চড়তেই থাকে। এই মুহূর্তে ঠিক তেমনই আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন নীল ভট্টাচার্য(Neel Bhattacharya)এবং তৃণা সাহা(Trina Saha)। তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে বহুদিন ধরেই নানা গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে কখনো পরকীয়ার অভিযোগ, কখনও বা ‘চুক্তির বিয়ে’র ক’টা’ক্ষ। এরই মাঝে নীলের একটি ইনস্টাগ্রাম স্টোরি নতুন করে আগুনে ঘি ঢেলে দিল। সেখানে বড় করে লেখা- “ওয়ান লাস্ট টাইম (One Last Time)”! স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, তবে কি এবার সত্যিই কোনো বড় সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত?
তবে ঘটনাটির নেপথ্যে ব্যক্তিগত জীবনের কোনো নাটকীয় মোড় নেই। বরং বিষয়টি জড়িয়ে রয়েছে তাঁর কর্মজীবনের সঙ্গে। জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘ভোলে বাবা পার করেগা’-তে আর দেখা যাবে না নীলকে। ডা. শাক্য চট্টোপাধ্যায় চরিত্রে তিনি যে যাত্রা শুরু করেছিলেন, তা এবার শেষ হচ্ছে। হাতে সানগ্লাস নিয়ে একটি মিরর সেলফি পোস্ট করে নীল লেখেন, “সাইনিং অফ, ডা. শাক্য চট্টোপাধ্যায়. ওয়ান লাস্ট টাইম.” অর্থাৎ চরিত্রটির বিদায়ের কথা নিজেই জানিয়ে দিলেন তিনি।
জানা যাচ্ছে, ধারাবাহিকটির সম্প্রচারের সময় বদলানো হচ্ছে এবং নতুন কাস্ট নিয়েই গল্প এগোবে। ইতিমধ্যেই চ্যানেলের তরফে নতুন প্রোমো প্রকাশ্যে এসেছে। ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে রাত সাড়ে ১০টায় সম্প্রচার হবে সিরিয়ালটি। এতদিন বিকেল সাড়ে ৫টার স্লটে দেখানো হত এই মেগা। ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছিল যাত্রা, কিন্তু টিআরপি তালিকায় উল্লেখযোগ্য ফল করতে পারেনি এই জুটি। ফলে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত।
এই ঘোষণার সময়টাই অবশ্য অনেকের চোখে পড়েছে। কারণ গত কয়েক মাস ধরে নীল-তৃণার ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে চর্চা থামছেই না। ভক্তদের কাছে তাঁরা ‘তৃনীল’ নামেই জনপ্রিয়। ২০২১ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন দু’জনে। শুরু থেকেই তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে আগ্রহ ছিল দর্শকমহলে। তবে বিয়ের ছ’মাস কাটতে না কাটতেই অশান্তির গুঞ্জন ভেসে আসে। যদিও প্রকাশ্যে কখনোই সে বিষয়ে কিছু বলেননি তাঁরা।
২০২৫ সালের শেষের দিকে পরিস্থিতি আরও জটিল বলে মনে হয়, যখন সোশ্যাল মিডিয়ায় একে অপরকে আনফলো করেন নীল ও তৃণা। এই ঘটনা নজর এড়ায়নি অনুরাগীদের। অনেকে ধরে নেন, সম্পর্কের অবনতি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। আবার কেউ কেউ বলেন, ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকে বাড়াবাড়ি করে দেখা হচ্ছে। গত বছরও তাঁদের বিচ্ছেদের খবর ছড়িয়েছিল, কিন্তু তার মধ্যেই একাধিক পাবলিক ইভেন্টে পাশাপাশি দেখা গিয়েছে দু’জনকে। ফলে গুঞ্জন আরও ঘনীভূত হয়েছে সত্যিই কি দূরত্ব, নাকি সবটাই জল্পনা?
এদিকে পেশাগত জীবনে তৃণার সাফল্য চোখে পড়ার মতো। তাঁর ধারাবাহিক পরশুরাম আজকের নায়ক বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরেই বেঙ্গল টপার তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। সেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় রয়েছেন ইন্দ্রজিৎ বসু। অন্যদিকে নীলের সিরিয়াল টিআরপি দৌড়ে পিছিয়ে পড়েছিল। ফলে নায়কের শো ছাড়ার সিদ্ধান্তকে অনেকেই পেশাগত রদবদল হিসেবেই দেখছেন।
তবে ‘চুক্তির বিয়ে’ প্রসঙ্গও মাঝেমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় মাথা চাড়া দেয়। সমালোচকদের দাবি, তাঁদের সম্পর্ক নাকি শুধুই ইমেজ রক্ষার কৌশল। যদিও এই অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ কখনই সামনে আসেনি। বরং নীল-তৃণা বরাবরই ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে নীরব থেকেছেন। হয়ত সেই নীরবতাই জল্পনার জায়গা বাড়িয়েছে।
মাঝে শোনা গিয়েছিল, নীল দীর্ঘ সময় মুম্বইয়ে কাটাচ্ছেন। সেই সময় থেকেই দূরত্বের আলোচনা তুঙ্গে ওঠে। কিন্তু আবার কখনো দেখা গেছে, বিশেষ অনুষ্ঠানে একসঙ্গে হাজির হয়েছেন তাঁরা। ফলে ভাঙনের খবর নিশ্চিতভাবে বলা যায়নি। এই দোলাচলই এখনও চলছে।
‘ওয়ান লাস্ট টাইম’ পোস্টটি তাই প্রথমে অনেকের কাছেই সম্পর্কের ইতি টানার বার্তা বলে মনে হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে তা ছিল একটি চরিত্রের বিদায় ঘণ্টা। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক লাইনের পোস্ট কতটা বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে, তারই উদাহরণ যেন এই ঘটনা।
টলিপাড়ায় নতুন কাস্ট নিয়ে ধারাবাহিকের আগমন অস্বাভাবিক নয়। গল্পের চাহিদা, দর্শকের রুচি, টিআরপি(TRP) সব মিলিয়েই বদল আসে। সেই প্রেক্ষিতেই নীলের এই ‘সাইনিং অফ’। এখন দেখার, নতুন সময়ে এবং নতুন মুখে ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ কতটা দর্শক টানতে পারে।
অন্যদিকে, নীল-তৃণার সম্পর্কের সমীকরণ ভবিষ্যতে কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাও সময়ই বলবে। আপাতত তাঁদের তরফে ডিভোর্স নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নেই। বরং কাজের জগতে নিজেদের মতো করে এগিয়ে চলেছেন দু’জনেই।
একটি ইনস্টাগ্রাম স্টোরি ঘিরে যত জল্পনা, তার আসল কারণ ছিল একটি চরিত্রের শেষ অধ্যায়। তবু তার মধ্যেই ব্যক্তিগত জীবনের গুঞ্জন জুড়ে দিয়ে যে টলিপাড়া সরগরম হবে, তা বলাই বাহুল্য। এখন প্রশ্ন একটাই, ‘ওয়ান লাস্ট টাইম’ কি কেবল ডা. শাক্যের জন্য, নাকি ভবিষ্যতে আরও কোনো চমক অপেক্ষা করছে? সময়ই দেবে সেই উত্তর।