Noble Man:জামিন পেয়ে বাড়ি ফেরার পরই ফের নতুন অভিযোগে জড়ালেন বাংলাদেশি গায়ক মইনুল আহসান নোবেল(Mainul Ahsan Noble)। একের পর এক বিতর্কে জর্জরিত এই শিল্পীর বিরুদ্ধে আবারও মারধরের অভিযোগ তুললেন এক মহিলা। বাংলাদেশি এক সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে সেই অভিযোগের বিস্তারিত।
আপসের শর্তে জামিন পান নোবেল। আদালত চত্বরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “মানুষ মাত্রই ভুল করে। আমিও মানুষ। আবারও এরকম ভুল হতে পারে।” এই মন্তব্য ঘিরে তখনই বিতর্কের ঝড় ওঠে। অনেকে প্রশ্ন তোলেন, অনুশোচনার বদলে এমন মন্তব্য কেন? যদিও সেই সময় তিনি অনুরাগী ও শ্রোতাদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেন। তাঁর কথায়, “আমার সব দর্শক–শ্রোতা আমাকে ভাল করে বোঝেন। আমাকে ক্ষমা করে দেবেন।”
কিন্তু জামিন পাওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই পরিস্থিতি অন্য মোড় নেয়। বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অভিযোগকারিণী জানান, জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর বাড়ি ফিরে নোবেল নাকি আবারও তাঁর উপর শারীরিক নির্যাতন চালান। তাঁর দাবি, আদালত থেকে বেরিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য কান্নাকাটি করেছিলেন গায়ক। কিন্তু বাড়ি ফেরার পর আচরণে কোনও পরিবর্তন আসেনি।
ওই মহিলার বক্তব্য অনুযায়ী, “আমার হাত-পা ধরে কান্নাকাটি করে জামিন নিয়েছে। তার পরে বাড়ি ফিরে আবার আমাকে মারধর শুরু করেছে। কেন তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করেছি, সেই প্রশ্ন তুলে আমাকে মারধর করা হচ্ছে।” অভিযোগকারিণীর এই বক্তব্য নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।
তিনি আরও জানান, জামিন কীভাবে বাতিল করা যায়, সেই বিষয়ে আইনি পরামর্শ নিতে মা ও ছোট বোনকে সঙ্গে নিয়ে আদালতে গিয়েছিলেন। সেখানেই সংবাদমাধ্যমের সামনে নিজের অভিযোগ তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, প্রকাশ্যে যে চিত্র তুলে ধরা হচ্ছে, বাস্তবে তার সঙ্গে নোবেলের আচরণের মিল নেই।
উল্লেখ্য, আদালত প্রাঙ্গণেই সাংবাদিকেরা নোবেলকে প্রশ্ন করেন, তিনি কি অনুতপ্ত? উত্তরে গায়ক বলেন, ভুল মানুষের স্বভাবজাত। তিনিও তার ব্যতিক্রম নন। বরং তিনি স্বীকার করেন, ভবিষ্যতে আবারও এমন ভুল হতে পারে। তাঁর এই মন্তব্য অনেকের কাছে বিস্ময়কর বলে মনে হয়। সমালোচকদের একাংশের মতে, এমন মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
এদিন আদালত চত্বরে উপস্থিত কয়েক জনের অনুরোধে গানও শোনান নোবেল। দরাজ কণ্ঠে তিনি গেয়ে ওঠেন ‘মেহেরবান’। সেই মুহূর্তে অনুরাগীদের একাংশের উচ্ছ্বাস নজরে পড়লেও, অভিযোগকারিণীর বক্তব্যে উঠে আসে ভিন্ন ছবি। তাঁর দাবি, সামনে যে সংযত ও অনুতপ্ত মানুষটিকে দেখা যাচ্ছে, ঘরের ভিতরে তাঁর আচরণ সম্পূর্ণ আলাদা।
এই ঘটনার জেরে ফের প্রশ্নের মুখে পড়েছেন গায়ক। আপসের শর্তে জামিন পাওয়ার পর এমন অভিযোগ ওঠায় আইনি জটিলতা বাড়তে পারে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ। যদিও এ বিষয়ে নোবেলের তরফে নতুন করে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমেও শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। কেউ কেউ গায়কের মন্তব্যকে দায়িত্বজ্ঞানহীন বলছেন, আবার কেউ মনে করছেন, আইনি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো উচিত নয়। তবে অভিযোগকারিণীর বক্তব্য পরিস্থিতিকে নিঃসন্দেহে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।
জামিনের সময় নোবেল যে অনুশোচনার সুর তুলেছিলেন, তা নিয়েও এখন প্রশ্ন উঠছে। অভিযোগকারিণীর কথায়, আদালতে তিনি কান্নাকাটি করে সহানুভূতি আদায় করেছেন, কিন্তু বাড়ি ফিরে আচরণে কোনও পরিবর্তন হয়নি। তাঁর দাবি, মামলা করার কারণ জানতে চেয়ে তাঁকে হেনস্থা ও মারধর করা হয়েছে।
এই নতুন অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা নিঃসন্দেহে বড় আইনি প্রভাব ফেলতে পারে। আপসের ভিত্তিতে জামিন পাওয়ার পর পুনরায় একই ধরনের অভিযোগ ওঠা বিচার প্রক্রিয়াকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন আইনজীবীদের একাংশ। যদিও বিষয়টি এখন তদন্ত সাপেক্ষ।
সব মিলিয়ে, জামিনের পরও থামছে না বিতর্ক। প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা, গান পরিবেশন এবং অনুশোচনার মন্তব্য সবকিছুর মাঝেই আবারও মারধরের অভিযোগ সামনে আসায় নতুন করে চাপে পড়েছেন মইনুল আহসান নোবেল। সামনে আইনি প্রক্রিয়া কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার।