Paayel Sarkar: ব’য়’স যে কেবলমাত্র একটি সং’খ্যা। এই কথাটা বহুবার শোনা গেলেও, বি’নো’দ’ন দু’নি’য়া’য় ব’য়’স নিয়ে আ’লো’চ’না কখনও থা’মে না। বিশেষ করে নায়িকাদের ক্ষে’ত্রে। অনেকেই ব’য়’স আ’ড়া’ল করতে প’ছ’ন্দ করলেও, তথ্য বলছে আগামী মাসেই ৪২ বছরে পা দিতে চ’লে’ছে’ন অভিনেত্রী পায়েল সরকার(Payel Sarkar)। এক সময় যিনি ছিলেন বাংলা বা’ণি’জ্যি’ক ছবির অন্যতম ভ’র’সা’র মু’খ। দেব(Dev), সোহম(Soham Chakraborty), আবির(Abir Chatterjee)-সহ একাধিক জনপ্রিয় তারকার সঙ্গে জুটি বেঁ’ধে পরপর হি’ট ছবি উ’প’হা’র দিয়েছেন তিনি। যদিও সাম্প্রতিক কয়েক বছরে পায়েলের কে’রি’য়া’র খা’নি’ক’টা অ’নি’শ্চ’য়’তা’র মধ্য দিয়ে গিয়েছে। তবু সম্প্রতি ‘দ্য অ্যাকাদেমি অফ ফাইন আর্টস’(The Academy of Fine Arts) ছবিতে তাঁর সা’হ’সী উ’প’স্থি’তি আবারও ন’জ’র কে’ড়ে’ছে দর্শকের।
ইন্ডাস্ট্রিতে যখন একের পর এক অভিনেত্রীর বি’য়ে নিয়ে আ’লো’চ’না, ঠিক তখনই প্র’শ্ন উঠছে কেন এখনও অ’বি’বা’হি’ত পায়েল সরকার? সদ্য তনুশ্রী চক্রবর্তী(Tanusree Chakraborty)-র বি’য়ে হওয়ায় সেই আ’লো’চ’না’ও যেন আরও জো’রা’লো হয়েছে। ব’য়’স, কে’রি’য়া’র, প্রে’ম সবদিক থেকেই পায়েল যেন আ’লা’দা এক জায়গায় দাঁ’ড়ি’য়ে। বহুদিন ধরেই তাঁর ব্যক্তিগত জী’ব’ন নিয়ে কৌ’তূ’হ’লে’র শে’ষ নেই।
পায়েলের প্রে’ম জীবন নিয়ে কথা উ’ঠ’লে’ই প্রথমেই আসে পরিচালক-অভিনেতা রাজ চক্রবর্তী(Raj Chakrabarty)-র নাম। রাজ-মিমি(Mimi Chakraborty)-শুভশ্রী(Subhashree Ganguly)-কে ঘিরে এক সময় যে ত্রি’কো’ণ প্রে’মে’র গু’ঞ্জ’ন তো’ল’পা’ড় ফে’লে ছিল টলিপাড়ায়, তার আগেই রাজের জীবনে জা’য়’গা করে নিয়েছিলেন পায়েল। এমনটাই ইন্ডাস্ট্রির অন্দরমহলের দাবি। ‘প্রে’ম আমার’(Prem Aamar), ‘লে ছক্কা’(Le Chakka), ‘বোঝে না সে বোঝে না’(Bojhena Shey Bojhena)-র মতো ছবিতে তাঁদের অনস্ক্রিন র’সা’য়’ন ছিল চোখে প’ড়া’র মতো। বাস্তব জীবনেও সেই স’ম্প’র্ক যে গ’ভী’র ছিল, তা অ’স্বী’কা’র করেননি বহু ঘ’নি’ষ্ঠ’জ’ন। যদিও পায়েল কখনও প্র’কা’শ্যে রাজের সঙ্গে তাঁর স’ম্প’র্ক স্বী’কা’র করেননি। তবু এই প্রে’ম টলিপাড়ার ‘ও’পে’ন সি’ক্রে’ট’ হিসেবেই পরিচিত ছিল।
শেষ পর্যন্ত সেই স’ম্প’র্ক ভে’ঙে যায়। স’ম্প’র্ক ভা’ঙা’র পর পায়েল ঘ’নি’ষ্ঠম’হ’লে জানিয়েছিলেন, দু’জনের জী’ব’ন’বো’ধ ও ভা’ব’না’র পা’র্থ’ক্যে’র কারণেই এই প্রে’মে’র ভ’বি’ষ্য’ৎ ছিল না। সেই স’ম্প’র্ক পূ’র্ণ’তা পাওয়ার ছিল না বলেই মনে করেছিলেন তিনি। এরপর রাজ নিজের জীবনে এ’গি’য়ে যান, আর পায়েল থেকে যান একা অ’ন্ত’ত প্র’কা’শ্যে।
পায়েলের নাম জ’ড়ি’য়ে’ছে আরও এক পরিচালকের সঙ্গে। ‘য’মে’র রাজা দিল বর’ (Jomer Raja Dilo Bor) খ্যাত পরিচালক আবির সেনগুপ্ত(Abir Sengupta)-র সঙ্গে তাঁর ঘ’নি’ষ্ঠ’তা নিয়ে কা’না’ঘু’ষো শোনা গিয়েছিল। কিন্তু সেই স’ম্প’র্ক’ও দী’র্ঘ’স্থা’য়ী হয়নি। বারবার ভা’লো’বা’সা এলেও, কোনও স’ম্প’র্ক’ই শে’ষ পর্যন্ত বি’য়ে’র জায়গায় পৌঁছায়নি।
তবে পায়েল নিজেই একবার জনপ্রিয় টেলিভিশন শো ‘দাদাগিরি’(Dadagiri)-র মঞ্চে নিজের সি’ঙ্গ’ল থাকার কারণ নিয়ে খো’লা’মে’লা কথা বলেছিলেন। সঞ্চালক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়(Sourav Ganguly)-এর সামনে তিনি জানান, বহু মানুষ তাঁকে প্র’শ্ন করেন কেন এখনও তিনি সি’ঙ্গ’ল। উত্তরে পায়েল বলেন, বাঙালি পরিবারে মেয়েদের বাবারা ভী’ষ’ণ’ই প’জে’সি’ভ হন। সেই কথার মাঝেই সৌরভ ম’জা করে প্র’শ্ন ছু’ড়ে দেন যে তাহলে কি বাবা-মায়ের কারণেই তিনি এখনও এ’কা? পায়েল অ’ক’প’টে স’ম্ম’তি জানিয়ে বলেন, নিজের ম’নে’র মতো মানুষ পাওয়া যতটা ক’ঠি’ন, তার চেয়েও ক’ঠি’ন বাবা-মায়ের ম’নে’র মতো মানুষ খুঁ’জে পাওয়া। তাঁর জীবনে সেটাই সবচেয়ে বড় বা’ধা হয়ে দাঁ’ড়ি’য়ে’ছে।
এই প্রসঙ্গেই পায়েল সৌরভের মেয়ে সানা(Sana Ganguly)-র উদাহরণ টে’নে আনেন। তিনি বলেন, ধরুন সানা বড় হয়ে আপনার সামনে এসে জানাল সে কাউকে ভা’লো’বা’সে তখন আপনার পৃ’থি’বী’টা হঠাৎ করেই ব’দ’লে যাবে। এই ম’ন্ত’ব্যে সৌরভ কিন্তু একেবারেই বি’চ’লি’ত হননি। পা’ল্টা জানিয়ে দেন, বি’দে’শে ক’র্ম’র’ত সানা তাঁকে তেমন পা’ত্তা’ই দেয় না। তবে মেয়ের প্রে’মি’কে’র ক্ষে’ত্রে তিনি দশটি প্র’শ্ন করবেন ঠিকই, কিন্তু আ’প’ত্তি থাকবে না। একইসঙ্গে স্পষ্ট করে দেন, তাঁর নিজের জগৎ কোনওভাবেই ব’দ’লে যাবে না।
এই কথোপকথন থেকেই স্পষ্ট পায়েলের জীবনে প্রে’ম এসেছে, অ’নু’ভূ’তি এসেছে, কিন্তু পরিবার আর স’মা’জে’র নানা শ’র্তে’র সঙ্গে সেই স’ম্প’র্ক’গু’লো খা’প খা’ই’য়ে নিতে পারেনি। তিনি ভা’লো’বে’সে’ছে’ন, স’ম্প’র্ক গ’ড়ে’ছে’ন, আবার সেখান থেকে বে’রি’য়ে’ও এসেছেন। কিন্তু কোনও স’ম্প’র্ক’ই শে’ষ পর্যন্ত জীবনের স্থা’য়ী ঠি’কা’না হয়ে ওঠেনি।
৪২ বছর বয়সে দাঁড়িয়েও পায়েল সরকার এখনও বি’য়ে নিয়ে কোনও তা’ড়া’হু’ড়ো দেখাননি। তিনি আদৌ জী’ব’নে থি’তু হবেন কি না, কবে হবেন সেই প্রশ্নের উত্তর একমাত্র তিনিই জানেন। আপাতত অ’তী’তে’র স’ম্প’র্ক, বর্তমানের এ’কা’কি’ত্ব আর ভ’বি’ষ্য’তে’র অ’জা’না পথ সব মিলিয়েই পায়েল সরকার আজও টলিপাড়ার অন্যতম আ’লো’চি’ত নাম।