Nussrat Jahan:কেউ বলছে “ঠাকুরের মুখ ব্লার করে সামনে ছবি কেন?” আবার কেউ করছে ধ’র্ম নিয়ে প্রশ্ন – সরস্বতী পুজোর ছবি পোস্ট করতেই প্রশ্নবানে বি’দ্ধ নুসরত

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now
Instagram Group Join Now

Nussrat Jahan:ট্রো’লিং আর ক’টা’ক্ষ, এই দু’টি শব্দ যেন নুসরত জাহান(Nussrat Jahan)-এর নামের সঙ্গেই ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় নায়িকা কিছু পোস্ট করলেই নেটিজেনদের একাংশ যে তাঁকে নিশানা করবেন, তা আজ আর নতুন কিছু নয়। তবে এই সমস্ত আ’ক্র’ম’ণ, কটূক্তি কিংবা ব্যক্তিগত মন্তব্যকে পাত্তা দিতে একেবারেই রাজি নন নুসরত। নিজের মতো করে বাঁচতেই ভালোবাসেন তিনি, আর সেই স্বাধীন জীবনযাপনই বারবার তাঁকে বিতর্কের কেন্দ্রে এনে ফেলে।

সাম্প্রতিক সরস্বতী পুজোয় তেমনই এক ঘটনায় ফের চর্চায় উঠে এলেন নুসরত জাহান। বন্ধু শ্রেয়া পান্ডে (Shrreya Pande)-এর বাড়িতে আয়োজন করা হয়েছিল জমকালো সরস্বতী পুজোর। প্রতি বছরের মতো এই বছরও সেখানে হাজির ছিলেন টলিপাড়ার জনপ্রিয় জুটি যশ দাশগুপ্ত (Yash Dasgupta )ও নুসরত জাহান। শুধু তাই নয়, সঙ্গে ছিল তাঁদের ছেলে ঈশানও। পরিবার নিয়ে পুজোর আনন্দে মেতে ওঠা এই মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দি হওয়াই স্বাভাবিক।

সরস্বতী পুজো মানেই হলুদ রঙের আবহ। সেই নিয়ম মেনেই যশ-নুসরত ও ছোট্ট ঈশান তিনজনেই বেছে নিয়েছিলেন হলুদ রঙের পোশাক। নুসরত পরেছিলেন হলুন রঙের শাড়ি, যেখানে তাঁকে বেশ মিষ্টি ও মানানসই দেখাচ্ছিল। পুজোর সামনে দাঁড়িয়ে, বসে কিংবা ছেলেকে নিয়ে একাধিক ছবি তুলেছিলেন তাঁরা। পরিবারিক আনন্দের সেই মুহূর্তগুলিই পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেন নুসরত।

কিন্তু সেখান থেকেই শুরু হয় বিতর্ক। ছবিগুলিতে লক্ষ্য করা যায়, সরস্বতী প্রতিমার মুখ ঝাপসা করা। পাশাপাশি ঠাকুরকে তুলনামূলকভাবে পিছনে রেখে সামনের সারিতে বসে ছবি তোলার বিষয়টিও চোখে পড়ে অনেকের। আর এই দু’টি কারণেই নুসরতের পোস্ট ঘিরে শুরু হয় প্রবল ট্রো’লিং।

আরও পড়ুন:Raj Chakrabarty:‘হোক কলরব’ মুক্তির পর বিতর্কে রাজ চক্রবর্তী -“বিশ্ববিদ্যালয় কি অ’প’রা’ধে’র আঁতুড়ঘর?” মন্তব্য ঘিরে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনের আইনি নোটিশ

সোশ্যাল মিডিয়ায় মুহূর্তের মধ্যেই ক’টা’ক্ষে’র ঝড় ওঠে। শুধু একটি সম্প্রদায় নয়, হিন্দু ও মুসলিম দুই তরফ থেকেই নুসরতকে আক্রমণের মুখে পড়তে হয়। একদিকে নায়িকার ধর্মীয় পরিচয় টেনে তাঁকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়, অন্যদিকে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের একাংশ তাঁর আচরণকে অসম্মানজনক বলে মন্তব্য করেন। কারও মন্তব্য ছিল চরম কুরুচিকর, কারও আবার ক’টা’ক্ষে ভরা।

কেউ লিখেছেন, “তুই ম’র’লে কী করব, আল্লাহই ভালো জানে।” আবার কেউ মন্তব্য করেন, “ছিঃ, লজ্জা হওয়া উচিত।” কেউ কেউ সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, “যখন ঠাকুরের মুখ ব্লার করবেন, তখন ওনার সামনে ছবি তুললেন কেন?” কারও মন্তব্য, “তুমি না মুসলিম?” আবার কেউ লিখেছেন, “বোন, তুমি আসলে কোন ধর্মের?” এমনকি অনেকে দাবি করেন, “ঠাকুরের পিছনে বসে ছবি তোলা যায় না, সব সময় এটাই করে।”

আরও পড়ুন:Mimi Chakraborty:”…অত প্রমোশন করে কোনও লাভ নেই ,দর্শকদের যেটা দেখার, সেটা তাঁরা দেখবেন…” – বাংলা ছবির অতিরিক্ত প্রচার সংস্কৃতির বি’রু’দ্ধে সরব মিমি চক্রবর্তী

এই সমস্ত মন্তব্যে সোশ্যাল মিডিয়া কার্যত উত্তাল হয়ে ওঠে। কিন্তু লক্ষণীয় বিষয় হল, এত কিছুর পরেও নুসরত জাহান কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি। কোনও মন্তব্যের উত্তর নয়, কোনও ব্যাখ্যা নয়। নীরব থেকেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট রেখেছেন তিনি।

এই ঘটনা অবশ্য নুসরতের ক্ষেত্রে নতুন নয়। এর আগেও একাধিকবার ধর্মীয় উৎসব ঘিরে তাঁকে ট্রোলের মুখে পড়তে হয়েছে। জন্মাষ্টমীতে অংশ নেওয়া, দুর্গাপুজোর দশমীতে সিঁদুর খেলা, অষ্টমীর অঞ্জলি কিংবা সরস্বতী পুজোয় ভোগ খাওয়া, প্রতিটি ক্ষেত্রেই নায়িকার ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও উৎসবে অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নেটিজেনদের একাংশ।

আরও পড়ুন:N.K. Salil: “সিনেমার পাশে দাঁড়াও বলে গলা ফাটাবেন না..আগে দর্শকের পকেটের টাকাটার হিসাব দিন”…“দেবের মুখে এক অদ্ভুত মায়া আছে”- এন কে সলিলের বিস্ফোরক মন্তব্যে বাংলা সিনেমা, নির্মাতা ও তারকাদের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা

নুসরত মুসলিম হলেও তিনি বরাবরই বলে এসেছেন, সব ধর্মের উৎসবকেই তিনি সম্মান করেন। নিষ্ঠার সঙ্গে যেমন রোজা রেখে ঈদ পালন করেন, তেমনই তাঁকে দেখা যায় দুর্গাপুজোয় অঞ্জলি দিতে কিংবা সরস্বতী পুজোর আনন্দে সামিল হতে। তাঁর কাছে ধর্ম মানে বিভাজন নয়, বরং মিলনের জায়গা। আর সেই দর্শন থেকেই তিনি নিজের জীবনে সব উৎসবকেই আপন করে নেন।

তবে বাস্তবটা হল, সোশ্যাল মিডিয়ায় এই উদার মানসিকতার জায়গাটুকু সবসময় জায়গা পায় না। বরং ব্যক্তিগত বিশ্বাস, ধর্মীয় পরিচয় আর আচরণকে কেন্দ্র করেই তৈরি হয় বিতর্ক। নুসরত জাহান তার অন্যতম উদাহরণ। তবু এই সমস্ত ট্রো’লিং তাঁকে স্পর্শ করে না বলেই দাবি নায়িকার ঘনিষ্ঠমহলের।

আরও পড়ুন:Ankita Mallick:“যা হচ্ছে, ভাল হচ্ছে”…‘সব ঠিক থাকলে এত ধোঁয়াশা কেন?’ তাহলে কি মহুয়ার বায়োপিক ও দেবের ছবি থেকে বাদ পড়ছেন অঙ্কিতা? নীরবতাই কি সবচেয়ে বড় ইঙ্গিত?

এই মুহূর্তে বড়পর্দায় যশ বা নুসরত কাউকেই দেখা যাচ্ছে না। তবে কাজ থেকে যে তাঁরা দূরে, তা নয়। দু’জনের নিজস্ব প্রযোজনা সংস্থা রয়েছে, এবং খুব শীঘ্রই নতুন কোনও প্রজেক্ট নিয়ে আসার পরিকল্পনাও চলছে বলে জানা যাচ্ছে। ব্যক্তিগত জীবন হোক বা পেশাগত ক্ষেত্র সব মিলিয়ে চর্চায় থাকতেই জানেন যশ-নুসরত।

তবে প্রশ্ন থেকেই যায় ধর্মীয় উৎসবের মুহূর্ত ভাগ করে নেওয়াই কি অপরাধ? নাকি সমস্যাটা আসলে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে? নুসরত জাহানের সরস্বতী পুজোর ছবি ঘিরে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক ফের একবার সেই প্রশ্নই তুলে ধরল।

Leave a Comment