Ankush-Oindrila:টলিপাড়ার জনপ্রিয় জুটি অঙ্কুশ হাজরা (Ankush Hazra) ও ঐন্দ্রিলা সেন (Oindrila Sen) এর সম্পর্ক নিয়ে বহুদিন ধরেই আ’লো’চ’না চলেছে। ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে কাজ সব ক্ষেত্রেই দু’জনকে দেখা যায় পাশাপাশি হাঁটতে। একসঙ্গে একাধিক ছবিতে অভিনয় করে তাঁরা দর্শকের মনও জিতেছেন। খুব শিগগিরই মুক্তি পেতে চলেছে তাঁদের নতুন ছবি ‘নারী চরিত্র বেজায় জটিল’( Nari Choritra Bejay Jatil)। তার আগেই প্রকাশ্যে এল এমন এক ভিডিও, যা ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক চ’র্চা শুরু হয়েছে।
ভিডিয়োয় দেখা যায়, খোলা রাস্তায় দাঁড়িয়ে অঙ্কুশের গালে একের পর এক চু’মু দিচ্ছেন ঐন্দ্রিলা। আনন্দে উচ্ছ্বসিত নায়িকার সেই মুহূর্ত যেন ধরা পড়েছে হুবহু ক্যামেরায়। পূর্ব ভারতের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন স্ক্রিনে তাঁদের নতুন ছবির টিজার জায়গা পাওয়ার আনন্দেই নাকি এমন অকপট আবেগপ্রকাশ। টলিউড অনলাইনের একটি ভিডিয়ো ফুটেজে ধরা পড়ে এই পুরো ঘটনা।
নেটিজেনরা স্বাভাবিকভাবেই এই ক্লিপ সামনে আসতেই মন্তব্যে ভরিয়ে তুলেছেন সোশ্যাল মিডিয়া। কেউ কেউ মজা করে লিখেছেন – “আজ তো অঙ্কুশদার সত্যিই ভাগ্য খুলে গেল!”
আরেকজন লিখেছেন, “ঐন্দ্রিলার মুখে এতখানি খুশি দেখে বোঝাই যায়, টিজারটা তাঁর কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ।” বিশেষ একটি মন্তব্যে রসিকতা করে এমনও বলা হয়েছে “খুশিতে দশটা চুমু খেয়ে নিলেন!”
অঙ্কুশ ও ঐন্দ্রিলার দীর্ঘ দিনের সম্পর্কের কথা নতুন করে বলার নেই। ছোটপর্দা দিয়ে নিজের যাত্রা শুরু করেছিলেন ঐন্দ্রিলা সেন। ধীরে ধীরে তাঁর অভিনয় দক্ষতা তাঁকে পৌঁছে দেয় বড়পর্দায়। অন্যদিকে শুরু থেকেই সিনে-দুনিয়ায় নিজের জায়গা পাকা করেছেন অঙ্কুশ হাজরা। অভিনয়, নাচ, জনপ্রিয়তা সব মিলিয়ে তিনি টলিউডের প্রথম সারির তারকাদের একজন। দম্পতি না হলেও তাঁদের রসায়ন যে আলাদা মাত্রা যোগ করে প্রতিটি চরিত্রে, তা বহু দর্শকই স্বীকার করেন।
তাঁদের নতুন ছবি ‘নারী চরিত্র বেজায় জটিল’র টিজার প্রকাশের পর থেকেই ছবিটি নিয়ে কৌতূহল তুঙ্গে। টিজারের শুরুতেই দেখা যায়, গঙ্গার ঘাটে দাঁড়িয়ে অঙ্কুশ অভিনীত চরিত্রটি নারীদের স্বভাব-চরিত্রকে সহজ ও সরল করে দেওয়ার জন্য প্রার্থনা করছে। পাশে থাকা বন্ধুর মন্তব্য গঙ্গা নিজেই তো নারী, তাহলে তিনি কীভাবে এমন পরিবর্তন করবেন? এই কথার মাঝেই দৃশ্যে হাজির হন মা কালী, এবং অঙ্কুশকে কয়েকটি চড় মারেন যা একদিকে মজাদার, অন্যদিকে প্রতীকী ইঙ্গিতও বহন করে।
ক্রমে টিজার যত এগোয়, ততই স্পষ্ট হয়ে ওঠে গল্পের আসল টানাপোড়েন। এখানে অঙ্কুশকে দেখা যায় একজন ইভেন্ট ম্যানেজারের ভূমিকায়, যিনি বিয়ের নানা দায়িত্ব নিখুঁতভাবে সামলান। কিন্তু দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সবচেয়ে বড় চ্যা’লে’ঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় মেয়েদের ইচ্ছা ও মতের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা। কেউ বলেন, তিনি গলদা চিংড়ি খাবেন না; কেউ আবার জানান, সাদা শাড়ি পরে বিয়েতে বসবেন। প্রত্যেকের আলাদা প্রত্যাশা, আলাদা ভাবনা সব সামলাতে গিয়ে প্রায় দম বেরিয়ে যায় তাঁর।
এই নিরন্তর চাপের মধ্যে একসময় চরিত্রটি ক্লান্ত হয়ে পড়ে, মানসিকভাবে বি’প’র্য’স্ত হয়ে ওঠে। এমনই এক সময় জীবনে আসে ঐন্দ্রিলা সেনের চরিত্রটি। সেখান থেকেই শুরু হয় প্রেমের গল্প। কিন্তু স্রেফ প্রেম নয় এখানেই তৈরি হয় টানাপোড়েন। কারণ ঐন্দ্রিলার চরিত্রটি মোটেই অঙ্কুশকে সহজভাবে গ্রহণ করে না। বরং তাঁকে একেবারেই পছন্দ করেন না তিনি। এরপর কীভাবে বদলায় তাঁদের সমীকরণ, প্রে’ম কি সত্যিই জায়গা করে নেয়? না কি জটিলতাই শেষ কথা বলে যায়? সেই সব প্রশ্নের উত্তর মিলবে ৯ জানুয়ারি, যখন মুক্তি পাবে ছবিটি।
এই ছবির মাধ্যমে যেন আবারও সামনে আসছে ‘নারী চরিত্র’ নিয়ে সমাজের বহুল প্রচলিত ধারণা ও পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গি। একই সঙ্গে হাস্যরসের মোড়কে উঠছে সম্পর্ক, প্রত্যাশা, আবেগ আর ভুলবোঝাবুঝির গল্প। টিজারেই বোঝা যাচ্ছে, ছবিটি হবে বেশ হালকা মেজাজের, কিন্তু তার ভেতরে লুকিয়ে থাকবে তী’ক্ষ্ণ সামাজিক ইঙ্গিতও।
অন্যদিকে, বাস্তব জীবনের সেই উচ্ছ্বসিত ভিডিও যেন ছবির টিজারের উত্তেজনাকে আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। বড় বিজ্ঞাপন স্ক্রিনে নিজেদের কাজের স্বীকৃতি দেখতে পাওয়া যেকোনও শিল্পীর কাছেই তা বিশেষ অনুভূতির। সম্ভবত সেই আবেগের বি’স্ফো’র’ণ’ই ধরা দিয়েছে ঐন্দ্রিলার চু’ম্ব’নে ভরা সেই আনন্দ মুহূর্তে। আর ঠিক সেটাই এখন সোশ্যাল মিডিয়ার নতুন আ’লো’চ’না’র কেন্দ্র।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ছবি মুক্তির আগেই অঙ্কুশ–ঐন্দ্রিলা জুটি আবারও উঠে এসেছেন আ’লো’চ’না’র কেন্দ্রে। এখন দেখার, বড়পর্দায় তাঁদের এই নতুন গল্প দর্শকের মন কতটা জয় করতে পারে।