Tanaya-Suchetak:পর্দায় বিষাক্ত খলনায়িকা, বাস্তবে ‘সবচেয়ে দয়ালু মানুষ’! জন্মদিনে তনয়াকে নিয়ে বিস্ফোরক আবেগঘন পোস্ট প্রেমিক সুচেতকের

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now
Instagram Group Join Now

Tanaya-Suchetak:ছোটপর্দার পরিচিত মুখ তনয়া মুখোপাধ্যায়। বর্তমানে জনপ্রিয় মেগা সিরিয়াল ‘লক্ষ্মীঝাঁপি'(Lokkhi Jhnapi)-তে ‘ইনকা’ চরিত্রে অভিনয় করছেন তিনি। পর্দায় তাঁর চরিত্রটি দর্শকদের কাছে একেবারে দুঁদে খলনায়িকা হিসেবে পরিচিত। তবে বাস্তব জীবনে এই অভিনেত্রী যে একেবারেই অন্যরকম মানুষ, তা আবারও সামনে এল তাঁর জন্মদিনের দিনে। বিশেষ এই দিনে প্রেমিক সুচেতক কর(Suchetak Kar) সোশ্যাল মিডিয়ায় আবেগঘন বার্তা লিখে অভিনেত্রীকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান। সেই পোস্টেই তনয়ার ব্যক্তিত্ব, সংগ্রাম আর সাফল্যের গল্প তুলে ধরেন তিনি।

গতকাল নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে তনয়া(Tanaya Mukherjee)-র বেশ কয়েকটি ছবি পোস্ট করেন সুচেতক। ছবিগুলোর সঙ্গে দীর্ঘ একটি ক্যাপশন লিখে তিনি জানান, পর্দায় নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করলেও বাস্তবে তনয়া তাঁর দেখা সবচেয়ে দয়ালু মানুষদের একজন। জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি লেখেন, “জন্মদিনের শুভেচ্ছা সেই নারীকে, যিনি পর্দায় ‘খলনায়ক’ চরিত্রে এত অসাধারণভাবে অভিনয় করেন, কিন্তু বাস্তব জীবনে আমার দেখা সবচেয়ে দয়ালু মানুষ।”
পোস্টে সুচেতক আরও উল্লেখ করেন, নেতিবাচক চরিত্রে বিশ্বাসযোগ্যভাবে অভিনয় করা মোটেও সহজ কাজ নয়। এর জন্য আলাদা ধরনের প্রতিভা এবং মানসিক দৃঢ়তা প্রয়োজন। তাঁর কথায়, “নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করতে অসাধারণ প্রতিভা লাগে, আবার সেই সঙ্গে ইতিবাচক মানসিকতাও প্রয়োজন হয়। এই দুই গুণই তোমাকে একজন দক্ষ অভিনেত্রী হিসেবে গড়ে তুলেছে।”

তিনি আরও বলেন, যারা তনয়ার অভিনীত চরিত্রগুলো সম্পর্কে জানেন, তারা তাঁর অভিনয়ের ভক্ত। কিন্তু বাস্তবে তনয়া তাঁর চরিত্রগুলোর সম্পূর্ণ বিপরীত একজন মানুষ। অভিনয়ের পাশাপাশি তনয়ার জীবনের সংগ্রাম নিয়েও পোস্টে কথা বলেন সুচেতক। তিনি জানান, ফ্যাশন জগতে কেরিয়ার সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা থাকা সত্ত্বেও তনয়া নিজের মন থেকে অভিনয়কে গ্রহণ করেছেন এবং সেই পথেই এগিয়ে চলেছেন।
সুচেতকের কথায়, তনয়ার পথ মোটেও সহজ ছিল না। জীবনের শুরু থেকেই নানা কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে। শৈশবের নানা প্রতিকূলতা থেকে শুরু করে কর্মজীবনের নানা বাধা সবকিছুর মধ্যেও তিনি কখনও পিছিয়ে যাননি। বরং ধৈর্য, অধ্যবসায় এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের লক্ষ্য পূরণের পথে এগিয়ে গেছেন।

পোস্টে তিনি আরও লেখেন, “তর্ক করার বদলে তুমি সবসময় মনোযোগ দিয়ে কাজ করেছ এবং কঠোর পরিশ্রম করেছ। তোমার পথটা সহজ ছিল না কঠিন শৈশব থেকে শুরু করে কেরিয়ারের নানা বাধা। তবুও তুমি কখনও দ্বিধাগ্রস্ত হওনি।”
সুচেতক আরও জানান, নিজের পরিবারের দায়িত্বও তনয়া খুব অল্প বয়স থেকেই কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন। পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি সব দায়িত্ব পালন করেছেন, অথচ কখনও নিজের কৃতিত্ব নিয়ে বড়াই করেননি। তাঁর কথায়, “তুমি তোমার পরিবারের পূর্ণ দায়িত্ব নিয়েছিলে এবং কখনও তার কৃতিত্ব দাবি করোনি। সবসময় নিঃশব্দে সবার পাশে থেকেছ।”

আরও পড়ুন:Iman Chakraborty:”চটি চেটে বঙ্গবিভূষণ? শুধু ইমনকেই নিয়ে এত আক্রমণ কেন?… আনসোশ্যাল লোকেদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ছাড়বে কেন?” – কুরুচিকর ট্রোলের ঝড়ের পর মমতার পরামর্শে সোশ্যাল মিডিয়ায় ফিরছেন ইমন—”দিদির কথা শিরোধার্য”

তনয়ার ব্যক্তিত্বের প্রশংসা করতে গিয়ে তিনি আরও লেখেন, “তুমি একজন বিরল মেয়ে। তোমার সাফল্য অনেক কিছুই বলে দেয়। তুমি অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি পরিশ্রম করো এবং আমি জানি, তুমি এখনই তোমার যাত্রার শুরুতে আছ।”
ভবিষ্যৎ নিয়েও আশাবাদী সুচেতক। পোস্টে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে ভবিষ্যতে তাঁরা একসঙ্গে বিশ্বভ্রমণে যাবেন। তিনি লেখেন, “আমি কথা দিচ্ছি, আমরা একসঙ্গে ওয়ার্ল্ড ট্রিপে যাব এবং সেই সময় আমি সবসময় তোমার পাশে থাকব, যাতে তুমি অবশেষে টেনশনমুক্ত হয়ে সত্যিকারের সুখ উপভোগ করতে পারো।”
পোস্টের শেষে তিনি আরও লেখেন, “আমার নির্ভরযোগ্য সঙ্গীকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা। আমি তোমাকে ভালোবাসি। তোমার প্রতিভা আরও উজ্জ্বলভাবে ফুটে উঠবে তা দেখার জন্য আমি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।”

প্রসঙ্গত, ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বরাবরই খোলামেলা স্বভাবের তনয়া। সম্পর্কের বিষয়ে লুকোছাপা করতে তিনি পছন্দ করেন না। প্রেমিক সুচেতকের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কথাও তিনি প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন আগেই। তবে তাঁদের সম্পর্কটি লং-ডিসট্যান্স হওয়ায় একসঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ খুব বেশি হয় না।
সুচেতক পেশায় একজন নৃত্যশিল্পী। তিনি কানাডার একটি ডান্স স্টুডিয়ো Dance Lounge Markham-এর সঙ্গে যুক্ত। বিশেষ করে ল্যাটিন আমেরিকান ডান্স স্টাইলে তাঁর দক্ষতা রয়েছে। নাচের বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও পারফরম্যান্সের কারণে তাঁকে প্রায়ই বিভিন্ন দেশে ঘুরে বেড়াতে হয়। ফলে ব্যস্ততার কারণে দু’জনের দেখা হওয়া অনেক সময়ই সম্ভব হয় না।

আরও পড়ুন:Koel Mallick:নায়িকা থেকে নীতি নির্ধারক? রাজ্যসভা প্রার্থী কোয়েলকে ঘিরে তোলপাড়, “কোয়েল এই দায়িত্বটাও খুব সিরিয়াসলি…পুরোপুরি পলিটিক্সে চলে আসে তাহলে…” এবার মুখ খুললেন শতাব্দী ও চিরঞ্জিত

তবে সময় পেলেই একসঙ্গে সময় কাটাতে ভালোবাসেন এই জুটি। সুযোগ মিললেই সমুদ্রের ধারে ছুটি কাটাতে যান তাঁরা। ব্যস্ত জীবনের ফাঁকেই নিজেদের সম্পর্ককে সময় দেওয়ার চেষ্টা করেন দু’জনেই।
পর্দায় নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করলেও বাস্তব জীবনে তনয়ার এই সংবেদনশীল ও দায়িত্বশীল দিকটি আবারও সামনে এল তাঁর জন্মদিনের দিনে। প্রেমিকের আবেগঘন বার্তা যেন নতুন করে তুলে ধরল পর্দার চরিত্র আর বাস্তব জীবনের মানুষটি কতটা আলাদা।

Leave a Comment