Pallavi Sharma: “তারকাখ্যাতি নয়, নিজের শান্তিই আসল! অন্যকে খুশি রাখার জন্য নিজের চরিত্র বা মানসিক অবস্থাকে বদলে ফেলতে রাজি.. ” — ভিড়ের দৌড়ে না নামার স্পষ্ট বার্তা পল্লবী শর্মার

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now
Instagram Group Join Now

Pallavi Sharma: গ্ল্যামার জগতের ঝলমলে আলো আর সাফল্যের নিরন্তর প্রতিযোগিতার মাঝেই একেবারে আলাদা সুরে কথা বললেন টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী পল্লবী শর্মা(Pallavi Sharma)। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনদর্শন নিয়ে অকপট মন্তব্য করে তিনি বুঝিয়ে দিলেন, তাঁর কাছে খ্যাতি বা ক্যারিয়ারের চূড়ান্ত সাফল্যের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ মানসিক শান্তি ও ব্যক্তিগত স্বস্তি। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট অন্যদের মতো ছুটে চলার মানসিকতায় তিনি বিশ্বাসী নন।

পল্লবীর কথায়, বর্তমান সময়ে মানুষের জীবন এমন এক অদৃশ্য প্রতিযোগিতার মধ্যে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে যেখানে থেমে ভাবার অবকাশ খুব কমই থাকে। সবাই যেন কোনও না কোনও লক্ষ্যের পেছনে দৌড়চ্ছে, কিন্তু সেই লক্ষ্য আসলে নিজের কিনা তা নিয়ে অনেকেই ভাবেন না। সমাজের চাপ, পেশাগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা কিংবা চারপাশের প্রত্যাশা সব মিলিয়ে মানুষ এমন এক গতিতে ছুটে চলেছে, যেখানে নিজের ইচ্ছা-অনিচ্ছা বোঝার সুযোগই মিলছে না। তাঁর মতে, অনেকেই কেবল এই কারণে দৌড়চ্ছেন যে অন্যরা দৌড়চ্ছে, যেন থেমে যাওয়াটাই অপরাধ।

এই মনোভাবের সঙ্গে নিজেকে কখনও মেলাতে পারেননি অভিনেত্রী। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁর কাছে জীবনের আসল মূল্যবোধ হল নিজের ভালো থাকা। ক্যারিয়ার গ্রাফ কতটা উপরে উঠল, কতটা জনপ্রিয়তা মিলল কিংবা কতটা আলোচনায় থাকলেন এসবের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্ব দেন নিজের মানসিক প্রশান্তিকে। তাঁর বিশ্বাস, যদি একজন মানুষ নিজের ভালো থাকার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেন, তাহলে জীবনের অনেক জটিলতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সহজ হয়ে যায়। কারণ, অস্থির মন নিয়ে কোনও অর্জনই স্থায়ী তৃপ্তি দিতে পারে না।

ব্যক্তিগত জীবনের প্রসঙ্গে পল্লবী আরও জানান, খুব অল্প বয়সেই তাঁকে জীবনের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। ছোটবেলাতেই বাবা-মাকে হারানোর গভীর শোক তাঁকে সময়ের আগেই পরিণত করে তোলে। এই অভিজ্ঞতা তাঁর ভাবনাচিন্তাকে আমূল বদলে দেয়। তিনি বুঝতে শেখেন, জীবনে কী সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ আর কী শুধুই ক্ষণস্থায়ী মোহ। সেই থেকেই হয়তো নিজের ইচ্ছা ও প্রয়োজন সম্পর্কে তিনি অনেক বেশি সচেতন।

আরও পড়ুন:Rudranil Ghosh:”সাধারণ মানুষের চাল, ডাল, চাকরি যাঁরা চুরি করলেন তিনি তাঁদের প্রতিনিধি? তৃণমূলের পাঁক মাখার যোগ্য নন কোয়েল”… “কোয়েলকে ‘চটিচাটা’ বলা হচ্ছে, এটা দেখতে খারাপ লাগছে” – তৃণমূল যোগে হতাশ রুদ্রনীল

অভিনেত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, কোন কাজ তাঁকে মানসিক শান্তি দেয় এবং কোন পরিস্থিতি তাঁর মনকে ভারী করে তোলে এ বিষয়ে তিনি সবসময় সতর্ক থাকেন। জীবনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় তিনি এই বিষয়গুলোকেই প্রাধান্য দেন। বাহ্যিক সাফল্যের মোহে নিজের স্বস্তিকে বিসর্জন দিতে তিনি নারাজ। তাঁর কাছে সত্যিকারের সাফল্য মানে এমন এক জীবন, যেখানে অন্তরের শান্তি অটুট থাকে।

পল্লবীর এই স্পষ্টভাষী স্বভাবের জন্য অনেকেই তাঁকে ‘মুডি’ বলে মনে করেন এ কথাও তিনি এড়িয়ে যাননি। তবে এ নিয়ে তাঁর কোনও অস্বস্তি নেই। বরং তিনি মনে করেন, প্রত্যেক মানুষেরই নিজের মতো করে বাঁচার অধিকার রয়েছে। অন্যের প্রত্যাশা পূরণ করতে গিয়ে যদি নিজের স্বাভাবিক সত্তাকে বদলে ফেলতে হয়, তাহলে সেই জীবন কোনওভাবেই স্বস্তিদায়ক হতে পারে না। তাই অন্যদের খুশি রাখার জন্য নিজের চরিত্র বা মানসিক অবস্থাকে বদলে ফেলতে তিনি রাজি নন।

তিনি আরও বলেন, অনেক মানুষ একা থাকার ভয় থেকেই সবসময় সবার মন জুগিয়ে চলার চেষ্টা করেন। তাঁদের ধারণা, এতে একাকিত্ব কমবে এবং সম্পর্ক টিকে থাকবে। কিন্তু পল্লবীর দৃষ্টিভঙ্গি সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাঁর মতে, একা সময় কাটাতে পারা মানেই অসামাজিক হওয়া নয়। বরং নিজেকে বোঝার জন্য এবং নিজের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করার জন্য একাকিত্ব প্রয়োজনীয়।

আরও পড়ুন:Dipsita-Saayoni:”আমি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দিচ্ছি, তাই আমি স্থায়ী চাকরি আর দেব না, ভাতা দিয়ে ভবিষ্যৎ ঢাকে না..মাসিক ভাতা দিয়ে বেকারত্বের যন্ত্রণা কমানো সম্ভব?” — এবার রাজ্য নীতিতে তোপ দীপ্সিতা ধরের

অভিনেত্রীর বিশ্বাস, জীবনে একটি ব্যক্তিগত পরিসর বা ‘নিজস্ব স্পেস’ থাকা অত্যন্ত জরুরি। এই পরিসর মানুষকে মানসিকভাবে সুস্থ রাখে এবং নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করার সুযোগ দেয়। তিনি নিজের জীবনেও সেই ব্যক্তিগত স্পেস বজায় রাখার চেষ্টা করেন। কাজের ব্যস্ততা, পেশাগত দায়িত্ব কিংবা সামাজিক যোগাযোগ সবকিছুর মাঝেও নিজের জন্য কিছুটা সময় আলাদা করে রাখাকে তিনি গুরুত্ব দেন।

আরও পড়ুন:Udit Narayan:চিকিৎসার আড়ালে ষড়যন্ত্র?- প্রথম স্ত্রীর বিস্ফোরক অভিযোগে ফের বিতর্কে উদিত নারায়ণ

পল্লবীর বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে আত্ম-অন্বেষণের প্রসঙ্গ। তিনি মনে করেন, নিজের সঙ্গে সময় কাটানো এবং নিজের মনকে বোঝার চেষ্টাই মানুষকে প্রকৃত শান্তির দিকে নিয়ে যায়। বাইরে যতই সাফল্য থাকুক না কেন, যদি ভেতরে অস্থিরতা থাকে তবে সেই সাফল্যের কোনও মূল্য নেই। তাই নিজের ভেতরের কণ্ঠস্বরকে গুরুত্ব দেওয়াই তাঁর জীবনের মূলমন্ত্র।

গ্ল্যামার দুনিয়ায় যেখানে আলোচনায় থাকা, জনপ্রিয়তার শীর্ষে ওঠা এবং সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় উপস্থিতি প্রায় বাধ্যতামূলক হয়ে উঠেছে, সেখানে পল্লবী শর্মার এই দৃষ্টিভঙ্গি নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রমী। তিনি যেন মনে করিয়ে দিলেন, খ্যাতি ক্ষণস্থায়ী হতে পারে, কিন্তু মানসিক শান্তি ও আত্মসম্মান দীর্ঘস্থায়ী। জীবনের দৌড়ে সামিল হওয়ার আগে নিজের লক্ষ্যটা ঠিক কী, সেটাই ভেবে নেওয়া জরুরি।

সব মিলিয়ে তাঁর বক্তব্য একটাই নিজের ভালো থাকাই আসল সাফল্য। আর সেই ভালো থাকার সংজ্ঞা প্রত্যেক মানুষের কাছে আলাদা হতে পারে। কিন্তু সমাজের চাপে নয়, নিজের অন্তরের নির্দেশেই জীবন চালানো উচিত। খ্যাতির মোহ নয়, আত্মশান্তির পথেই তিনি অটল এ কথা স্পষ্ট করেই জানিয়ে দিলেন পল্লবী শর্মা।

Leave a Comment