Parambrata Chattopadhay: ভারত–পাকিস্তান(IndVsPak) ক্রিকেট ম্যাচ মানেই এক সময় ছিল স্নায়ুচাপ, উত্তেজনা আর রুদ্ধশ্বাস ল’ড়া’ই’য়ে’র প্রতিশব্দ। স্টেডিয়ামে উপস্থিত দর্শক থেকে শুরু করে টিভির সামনে বসে থাকা কোটি কোটি মানুষ সকলেই অপেক্ষায় থাকতেন এক মহারণের। কিন্তু সময় বদলেছে। সেই চিরচেনা আবেগ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার ধার আজ অনেকটাই ফিকে অন্তত এমনটাই মনে করছেন অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়(Parambrata Chattopadhay)। সাম্প্রতিক ভারত–পাক ম্যাচ ঘিরে তাঁর এক মন্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন করে আলোচনা উসকে দিয়েছে।
বর্তমানে ভারত–পাক ম্যাচকে এখনও ‘সর্বকালের সেরা রাইভালরি’ হিসেবে তুলে ধরা হলেও, সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের দিকে তাকালে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন আদৌ কি সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতার ধার অবশিষ্ট আছে? বিগত কয়েকটি ম্যাচে ফলাফল প্রায় একইরকম। ভারত ধারাবাহিকভাবে জয় তুলে নিচ্ছে, আর লড়াইটা যেন মাঝপথেই থেমে যাচ্ছে। মাঠে উত্তেজনার মুহূর্ত, পাল্টা আ’ক্র’ম’ণ বা ম্যাচ ঘোরানোর মতো নাটকীয়তা সেগুলোর অভাব চোখে পড়ছে স্পষ্টভাবেই।
অনেকের মতে, অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে হওয়া সেই স্মরণীয় ম্যাচে বিরাট কোহলি-র দুরন্ত ইনিংসের পর থেকেই যেন ভারত–পাক লড়াইয়ের রোমাঞ্চ এক অন্য মোড় নিয়েছে। সেই টানটান উত্তেজনার পরবর্তী ম্যাচগুলোতে আর সমান তালে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি পাকিস্তান। ফলত, ম্যাচ শুরুর আগেই যেন ফলাফল অনুমান করে নেওয়া যায় এমন ধারণা ক্রমশ জোরালো হয়েছে দর্শকমহলে।
এই প্রেক্ষাপটেই পরমব্রতের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টটি নজর কেড়েছে। তাঁর বক্তব্যে সরাসরি কারও নাম না থাকলেও, ইঙ্গিত স্পষ্ট। অভিনেতা লিখেছেন, যখন বিভিন্ন ডেলিভারি অ্যাপ ভারত–পাক জয় উদযাপনের নামে বিশেষ অফার বা কেনাকাটার আহ্বান জানায়, তখন তাঁদের ক্রিয়েটিভ বা অ্যালগরিদম টিমকে মনে করিয়ে দিতে ইচ্ছে করে এই জয় আর নতুন কিছু নয়। তাঁর মতে, বিষয়টি এখন এতটাই নিয়মিত যে আলাদা করে উদযাপনের আবেদন অনেকটাই অর্থহীন হয়ে পড়েছে।
পরমব্রতের কথায়, ভারত–পাক ক্রিকেট লড়াই আর আগের মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নেই। বরং তা একপাক্ষিক এবং ক্রমশ একঘেয়ে হয়ে উঠছে। তাঁর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ফলাফল যেন আগেভাগেই জানা থাকে আর সেই পূর্বনির্ধারিত পরিণতির পুনরাবৃত্তি দেখে উচ্ছ্বাসও আগের মতো তীব্র হয় না। এই বক্তব্য অনেকের কাছে সাহসী ও স্পষ্টভাষী মনে হলেও, অন্য অংশের দর্শকরা একে অতিরঞ্জন বলেও মনে করছেন।
ভারত–পাক ম্যাচ মানেই এখনও দুই দেশের দর্শকদের আবেগের বিস্ফোরণ। পাকিস্তানের সমর্থকরাও প্রতিবার আশায় বুক বাঁধেন। যদিও সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান তাঁদের পক্ষে কথা বলে না, তবুও আশার প্রদীপ নেভে না সহজে। কিন্তু মাঠের ফলাফল বারবার একই দিকে ঝুঁকলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে এই লড়াই কি আর সত্যিই সমানে সমান?
ভারতের দিক থেকে দেখলে ধারাবাহিক সাফল্য নিঃসন্দেহে গর্বের বিষয়। কিন্তু প্রতিপক্ষ যদি ধারাবাহিকভাবে পিছিয়ে পড়ে, তাহলে সেই জয়ের রোমাঞ্চ কি একই থাকে? অনেক ক্রিকেটপ্রেমীর মনেই এই দ্বন্দ্ব কাজ করছে। জয় যতই আনন্দের হোক, প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়া খেলায় নাটকীয়তা থাকে না এমন মতও শোনা যাচ্ছে।
পরমব্রতের মন্তব্যে মূলত সেই একঘেয়েমির কথাই উঠে এসেছে। তাঁর পোস্টে কোথাও উত্তেজক ভাষা না থাকলেও, বক্তব্যের সরলতা এবং সোজাসাপ্টা ভঙ্গিই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। “এটা আর নতুন কিছু নয়”, এই লাইনেই যেন ধরা পড়েছে তাঁর বিরক্তি। নিয়মিত জয়ের পুনরাবৃত্তিকে তিনি দেখছেন একঘেয়ে অভ্যাস হিসেবে, যা আর আলাদা করে সেলিব্রেশনের দাবি রাখে না।
সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর এই পোস্ট ঘিরে মতভেদও তৈরি হয়েছে। কেউ বলছেন, একজন ক্রীড়াপ্রেমীর নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ এটি। আবার কারও মতে, ভারত–পাক ম্যাচের আবেগ শুধুমাত্র ফলাফলের ওপর নির্ভর করে না; ইতিহাস, রাজনীতি ও সামাজিক প্রেক্ষাপট মিলিয়েই তৈরি হয় এই বিশেষ উত্তেজনা। ফলে একে শুধুমাত্র সাম্প্রতিক স্কোরবোর্ডের নিরিখে বিচার করা ঠিক নয়।
তবে এটুকু স্পষ্ট, ভারত–পাক ক্রিকেট নিয়ে আলোচনা থামার নয়। জয়ের ধারাবাহিকতা যেমন সমর্থকদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায়, তেমনই প্রতিপক্ষের দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। আর এই বাস্তবতার মাঝেই পরমব্রতের মতো জনপরিচিত ব্যক্তিত্বের মন্তব্য নতুন মাত্রা যোগ করে বিতর্কে।
সব মিলিয়ে, তাঁর ক’টা’ক্ষ একদিকে যেমন একঘেয়ে ফলাফলের দিকে আঙুল তুলেছে, তেমনই অন্যদিকে ভারত–পাক রাইভালরির বর্তমান অবস্থান নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে ক্রিকেটপ্রেমীদের। আবেগ কি আগের মতোই তীব্র, নাকি ফলাফলের পূর্বাভাসই এখন ম্যাচের আসল চিত্র? প্রশ্নটা আপাতত খোলা রইল।