Pinky Banerjee:“স্ত্রী সক্ষম হলে অ্যালিমনি কেন? সন্তান দুজনের, দায়িত্বও দুজনের” – স্বাবলম্বী নারীদের খোরপোশ নিয়ে প্রশ্ন তুললেন পিঙ্কি

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now
Instagram Group Join Now

Pinky Banerjee:সম্পর্কের ভাঙন মানেই একরাশ তিক্ততা, কোর্ট-কাচারি আর শেষ না হওয়া আইনি লড়াই। আর এই লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই থাকে ‘অ্যালিমনি’ বা খোরপোশ। কিন্তু বর্তমান যুগে দাঁড়িয়ে যেখানে নারীরা পুরুষদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছেন, সেখানে বিচ্ছেদের পর প্রাক্তন স্বামীর কাছ থেকে টাকা নেওয়াটা কি একান্তই প্রাসঙ্গিক? নাকি এটি কেবলই একটি সেকেলে প্রথা? সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এই জ্বলন্ত ইস্যুতেই নিজের স্পষ্ট ও কড়া মতামত পেশ করে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী পিঙ্কি ব্যানার্জী(Pinky Banerjee)।
বিচ্ছেদ পরবর্তী জীবন এবং খোরপোশ সংক্রান্ত নতুন আইনি বিতর্ক নিয়ে তার এই বক্তব্য সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। কেউ তাকে ‘আধুনিক মনস্ক’ বলে সমর্থন করছেন, আবার কেউ প্রশ্ন তুলছেন সামাজিক বাস্তবতা নিয়ে।

সাক্ষাৎকারে পিঙ্কি ব্যানার্জীর সবচেয়ে আলোচিত এবং বিতর্কিত পয়েন্টটি ছিল স্বাবলম্বী নারীদের খোরপোশ পাওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে। তিনি কোনো রাখঢাক না করেই বলেন, “স্ত্রী নিজে যদি সক্ষম হয়, তবে তাকে অ্যালিমনি দেওয়াটা বাধ্যবাধকতা নয়।” তার এই একলাইনের বক্তব্যের গভীরে রয়েছে এক বিরাট সামাজিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত।
তিনি মনে করেন, যদি একজন নারী তার নিজের ভরণপোষণ করার ক্ষমতা রাখেন, তবে বিচ্ছেদের পর আর্থিক সুবিধার জন্য অন্যের ওপর নির্ভরশীল হওয়া তার ব্যক্তিত্ত্বের সঙ্গে খাপ খায় না। আধুনিক আইনের এই পরিবর্তনের পক্ষে সওয়াল করে তিনি বলেন, “এই আইনটার ভালো-খারাপ দুই দিকই আছে, তবে আমি এটার পক্ষেই যাব।” তার মতে, আইনি লড়াইয়ে অনেক সময় অনেক প্রমাণ দাখিল করতে হয়, কিন্তু যদি একজন নারী আর্থিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হন, তবে আদালতের উচিত নয় স্বামীকে জোর করা তাকে টাকা দেওয়ার জন্য।

পিঙ্কি ব্যানার্জী তার বক্তব্যে স্ত্রী এবং সন্তানের অধিকারের মধ্যে একটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য টেনেছেন। তিনি মনে করেন, স্ত্রীর খোরপোশ বন্ধ হলেও সন্তানের প্রতি বাবার আর্থিক এবং মানসিক দায়িত্ব কোনোভাবেই শেষ হয়ে যেতে পারে না।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, “অ্যালিমনি দেওয়ার ক্ষেত্রে কোর্ট তাকে নাও দিতে পারে (যদি স্ত্রী সক্ষম হন), কিন্তু বাচ্চার জন্য কিন্তু সেটার জন্য সে এখনো ক্লেইম করতে পারে।” এখানে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, বাবার থেকে নেওয়া টাকাটা স্ত্রীর ব্যক্তিগত বিলাসিতার জন্য নয়, বরং সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য হওয়া উচিত। তার এই যুক্তিতে অনেকেই একমত হয়েছেন। তিনি বলেন, “সন্তান তো দুজনের জন্যই হয়।” তাই একজন মা স্বাবলম্বী হলেও সন্তানের ভরণপোষণে বাবার সমান অংশগ্রহণ থাকা জরুরি।

আরও পড়ুন:Raja Goswami: “ফলোয়ারের নে’শা’য় সম্পর্কও বি’ক্রি?মানুষ হয়ত নিজের মা-বাবাকেও ফলোয়ার দিয়ে বিচার করবে”—বিস্ফোরক মন্তব্যে সরব রাজা গোস্বামী, “মা-বাবাকে টেনে কথা বলে, সে আপনার থেকে বয়সে বড় হলেও আচরণে ছোট হয়ে যায়।”- পাল্টা ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট অনন্যা গুহর

বর্তমান আইনি কাঠামো এবং সামাজিক প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, বিচ্ছেদের পর অনেক বাবা-ই সন্তানের দায়িত্ব নিতে চান না বা কেবল অর্থ দিয়েই দায় সারতে চান। পিঙ্কি ব্যানার্জী এই মানসিকতার পরিবর্তন চান। তিনি সাক্ষাৎকারে বলেন, “বউকে কিছু বউ যদি সক্ষম হয় তাকে অ্যালিমনি নাও দিতে পারেন, কিন্তু বাচ্চার দায়িত্ব কিন্তু কিছুটা অংশ যাতে বাবা নেয় বা মা-বাবা উভয় মিলে নেয়।”
এই ‘যৌথ দায়িত্ব’ বা ‘Shared Responsibility’-র বিষয়টি তিনি বারবার তুলে ধরেছেন। তার মতে, বিচ্ছেদ দম্পতির মধ্যে হতে পারে, কিন্তু সন্তানের সঙ্গে মা বা বাবার সম্পর্ক কখনও বিচ্ছিন্ন হয় না। তাই সন্তানের খরচ বহন করা কোনো অনুগ্রহ নয়, বরং এটি একটি নৈতিক ও আইনি কর্তব্য।

পিঙ্কি ব্যানার্জীর এই সাক্ষাৎকারটি কেবল একটি ব্যক্তিগত মতামত নয়, বরং এটি বর্তমান সময়ের একটি দর্পণ। তিনি নারী স্বাধীনতার এক নতুন সংজ্ঞা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন যেখানে ‘অধিকার’ মানে কেবল টাকা পাওয়া নয়, বরং নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকা। তবে সন্তানের ক্ষেত্রে তার আপসহীন অবস্থান প্রমাণ করে যে, মা হিসেবে তিনি দায়িত্ববোধকে সবকিছুর উপরে রাখেন।
সব মিলিয়ে, পিঙ্কি ব্যানার্জীর এই “সন্তান দুজনের কাছেই সমান, বউ সক্ষম হলে অ্যালিমনি কেন?” শীর্ষক বক্তব্যটি আগামী দিনে বিবাহবিচ্ছেদ এবং পারিবারিক আইনের বিতর্কে এক নতুন মাত্রা যোগ করল।

Leave a Comment