Pinky Banerjee:“বিয়েটা আল্টিমেট নয়”- বাবার তৃতীয় বিয়ের মাঝেই ছেলেকে কোন পাঠ দিতে চান পিঙ্কি? ওশকে নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেত্রী

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now
Instagram Group Join Now

Pinky Banerjee:“টলিউডে বহুল আলোচিত বিচ্ছেদের তালিকায় অন্যতম ছিল কাঞ্চন মল্লিক (Kanchan Mullick)ও পিঙ্কি বন্দ্যোপাধ্যায়(Pinky Banerjee)-এর ডিভোর্স। দীর্ঘদিনের দাম্পত্য ভাঙন, পরপর অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ, আইনি টানাপোড়েন সব মিলিয়ে তাঁদের আলাদা হওয়ার ঘটনা একসময় বিনোদন দুনিয়ার শিরোনামে জায়গা করে নিয়েছিল। সেই সম্পর্কের ওঠানামার মাঝেই বড় হয়েছে তাঁদের ছেলে ওশ(Osh Mullick)। বর্তমানে তার বয়স ১১। বাবার নতুন সংসার, মায়ের একার লড়াই এই সব কিছুর সাক্ষী থেকেও ভালোবাসা ও বিয়ে নিয়ে ছেলেকে কী শিক্ষা দিতে চান পিঙ্কি? সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে সেই প্রসঙ্গেই খোলামেলা কথা বললেন তিনি।

কাঞ্চন মল্লিক ও পিঙ্কির দাম্পত্য ভাঙনের খবর প্রথম প্রকাশ্যে আসে ২০২১ সালে, করোনা লকডাউনের সময়। সেই সময় স্বামী-স্ত্রীর বিবাদ গড়িয়েছিল থানা পর্যন্ত। দায়ের হয়েছিল এফআইআর। প্রকাশ্যে অভিযোগ তুলে পিঙ্কিই প্রথম জানান, কাঞ্চন মল্লিক শ্রীময়ী চট্টোরাজ(Sreemoyee Chattoraj)-এর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন। পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল আকার নেয়। এরপর ছেলে ওশকে নিয়ে আলাদা হয়ে যান পিঙ্কি। বহু টানাপোড়েনের পর আইনি বিচ্ছেদ সম্পন্ন হয় তাঁদের।

ডিভোর্সের সময় খোরপোশ নিয়েও বেশ আলোচনা হয়। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ছেলে ওশের দেখভাল ও স্ত্রীর ভরণপোষণের জন্য ৫৬ লক্ষ টাকা দিতে হয় কাঞ্চন মল্লিককে। টলিউডের অন্দরে এই অঙ্ক নিয়েও কম চর্চা হয়নি। তবে বিচ্ছেদের পর ওশের কাস্টেডি থাকে পিঙ্কির কাছেই। ছেলে এখন মায়ের সঙ্গেই বড় হচ্ছে।

পিঙ্কির অভিযোগ, বিচ্ছেদের পর থেকে ছেলের কোনও খোঁজখবর নেন না কাঞ্চন। তাঁর কথায়, বাবার সঙ্গে যোগাযোগ রাখার বিষয়ে ওশেরও বিশেষ আগ্রহ নেই। এমনকি বাবাকে নিজের জীবনে আর জায়গা দিতেও সে রাজি নয় বলেই দাবি করেন পিঙ্কি। যদিও কাঞ্চনের নতুন সংসার নিয়ে ছেলের মনে কোনও তিক্ততা নেই এমনটাই বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন:Sayak-Rahul:“মেয়েলি ছেলে’ বলে অনেকেই বলছেন, ম’ট’নে’র কি’মা আর গ’রু’র পিসের তফাৎ বোঝেন না? হি’ন্দু হয়ে নয়, এরা সবটা করছে টা’কা’র জন্য!”—সায়ক চক্রবর্তীর ‘বি’ফ’ কা’ণ্ডে ধ’র্মী’য় রাজনীতির পর্দাফাঁস করলেন রাহুল

এদিকে, কাঞ্চন মল্লিক তৃতীয়বার বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন এবং শ্রীময়ীর সঙ্গে নতুন করে সংসার শুরু করেছেন। ব্যক্তিগত জীবনের এই পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে আবারও চর্চায় উঠে এসেছে তাঁর নাম। সেই প্রেক্ষিতেই অনেকেই জানতে চেয়েছেন বাবা-মায়ের সম্পর্কের ভাঙন কাছ থেকে দেখা একটি শিশুকে ভালোবাসা ও বিয়ে সম্পর্কে কীভাবে গড়ে তুলছেন পিঙ্কি?

এই প্রশ্নের উত্তরে পিঙ্কির অবস্থান স্পষ্ট। নিজের দাম্পত্য জীবন ভাঙলেও তিনি ভালোবাসার উপর আস্থা হারাননি। বরং তাঁর বক্তব্য, “বিয়েটা আল্টিমেট নয়।” অর্থাৎ জীবনের চূড়ান্ত গন্তব্য বা একমাত্র লক্ষ্য হিসেবে বিয়েকে দেখেন না তিনি। তাঁর মতে, সম্পর্কের আসল ভিত্তি হওয়া উচিত বিশ্বাস ও বোঝাপড়া। শুধুমাত্র সামাজিক স্বীকৃতির জন্য বা চাপের মুখে পড়ে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।

আরও পড়ুন:Pinky Banerjee:“ছেলে বড়লোক নাহলেও চলবে, অমানুষ হলে নয়”, “জীবনটা ছক্কা-পাঞ্জার ভূত, ব্যর্থতাই আসল গুরু!”— একফ্রেমে তিন প্রজন্ম, পিঙ্কি ব্যানার্জি ও ছেলে ওশের কথায় নেটদুনিয়া তোলপাড়

পিঙ্কি আরও জানান, ‘লিভ ইন’ সম্পর্কের উপরেও তাঁর সম্পূর্ণ ভরসা রয়েছে। তাঁর বিশ্বাস, একসঙ্গে একই ছাদের নীচে থেকে সম্পর্ককে যাচাই করে নেওয়া গেলে তবেই বোঝা যায়, সেই মানুষটির সঙ্গে সারাজীবন কাটানো সম্ভব কি না। বিয়ের আগে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও মানসিক সামঞ্জস্যকে তিনি বেশি গুরুত্ব দেন। তাঁর মতে, সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার মূল চাবিকাঠি হল পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আস্থা।

ছেলে ওশকে নিয়েও তাঁর ভাবনা একই। বড় হয়ে যেন সে নিজের সিদ্ধান্ত নিজেই নিতে পারে সেটাই চান পিঙ্কি। বিয়ে করতেই হবে, এমন কোনও বাধ্যবাধকতায় তিনি বিশ্বাসী নন। তাঁর মতে, ছেলে হোক বা মেয়ে সবার আগে প্রয়োজন নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা। আর্থিক ও সামাজিকভাবে স্বনির্ভর না হয়ে শুধুমাত্র সমাজের চাপে বিয়ের পথে হাঁটা উচিত নয়।

আরও পড়ুন:Avinaba Biswas: “যত নোং’রা, কদর্য কথা হোক, আমাকে থাকতে হবে পরিষ্কার!” শিশুশিল্পী অভিনবের পোস্ট ঘিরে ফের তৃণাকে কেন্দ্র করে বিতর্ক

পিঙ্কি জানান, এই শিক্ষা তিনি তাঁর নিজের পরিবার থেকেই পেয়েছেন। তাঁকে কখনও বিয়ের জন্য চাপ দেওয়া হয়নি। সেই কারণেই তিনিও চান না, তাঁর ছেলের উপর ভবিষ্যতে কোনও রকম সামাজিক চাপ তৈরি হোক। জীবনে ভালোবাসা আসতেই পারে, আবার নাও আসতে পারে। কিন্তু নিজের আত্মসম্মান ও স্বনির্ভরতা যেন সব সময় অটুট থাকে, সেটাই তাঁর মূল বার্তা।

বাবা-মায়ের সম্পর্কে টানাপোড়েনের সাক্ষী থাকা একটি শিশুর মানসিক গঠন নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে। তবে পিঙ্কির কথায়, ওশ খুব সংবেদনশীল হলেও পরিস্থিতি বুঝতে শিখেছে। বাবার নতুন জীবনের জন্য তার মনে কোনও ক্ষোভ নেই। কিন্তু নিজের মানসিক স্বস্তির জায়গা থেকে সে মায়ের সঙ্গেই থাকতে স্বচ্ছন্দ।

টলিউডের চর্চিত এই ডিভোর্সের পর সময় অনেকটাই বদলেছে। কাঞ্চন নিজের নতুন সংসারে ব্যস্ত, অন্যদিকে পিঙ্কি একা হাতে ছেলেকে বড় করছেন। অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা সত্ত্বেও তিনি ভালোবাসাকে অস্বীকার করছেন না। বরং সম্পর্ককে দেখছেন আরও বাস্তব দৃষ্টিভঙ্গি থেকে।

সব মিলিয়ে পিঙ্কির বার্তা স্পষ্ট বিয়ে জীবনকে সম্পূর্ণ করে না, মানুষ নিজেই নিজেকে সম্পূর্ণ করে। সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে আইনি স্বীকৃতির চেয়ে বেশি প্রয়োজন বিশ্বাস, বোঝাপড়া ও সম্মান। সেই মূল্যবোধ নিয়েই বড় হোক ওশ, এমনটাই চান অভিনেত্রী। ব্যক্তিগত ঝড়ঝাপটার মাঝেও তাই ছেলের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতেই এখন তাঁর মূল লক্ষ্য।

Leave a Comment