Dev-Subhashree:২৫ ডিসেম্বর অভিনেতা ও সাংসদ দেবের (Dev) জন্য এক বিশেষ দিন। জন্মদিনের আবেগ, নতুন ছবি ‘প্রজাপতি ২’-এর মুক্তি, আর বাংলা সিনেমার ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি সব মিলিয়ে দিনটি হয়ে উঠেছে আরও তাৎপর্যপূর্ণ। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে দেব যেমন বলেছেন, এই যাত্রা কেবল তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্যের নয়; বরং বাংলা চলচ্চিত্রের সম্মান, টিকে থাকা এবং উন্নয়নের সং’গ্রা’ম।
দেবের কথায় উঠে আসে বাংলা ইন্ডাস্ট্রির বর্তমান বাস্তবতা, অগ্রগতি, দর্শকদের ভূমিকা এবং ভবিষ্যতের বড় বাজেটের সিনেমা নিয়ে তাঁর প্রতিশ্রুতি। হিন্দি ছবির প্রবল দাপটের মধ্যেও বাংলা সিনেমা যে দৃ’ঢ়’ভা’বে দাঁড়িয়ে আছে সে গর্ব বারবার ছুঁয়ে যায় তাঁর বক্তব্যের সুরে।
দেব জানান, বাংলা ছবি এখন আর কেবল আঞ্চলিক পরিমণ্ডলে আটকে নেই; জাতীয় স্তরেও তার উপস্থিতি স্পষ্ট হচ্ছে। তিনি বলেন, “ল’ড়া’ই’টা আরও ভালো বাংলা ছবি বানানোর। বাংলা ছবি এখন পর্যন্ত ১৭০টির বেশি হাউসফুল হয়েছে।”
তাঁর মতে, আজ বাংলা ছবির সাফল্য বম্বে বা ন্যাশনাল লেভেলেও অনুভূত হচ্ছে – “বোম্বে বা ন্যাশনাল লেভেলে অন্তত এটা বুঝতে পারল যে আজ একটা বাংলা ছবি রিলিজ হয়েছে যা ভালো কালেকশন দিচ্ছে।”
দেবের মতে, এই ল’ড়া’ই কারও বি’রু’দ্ধে নয় এটি গোটা ইন্ডাস্ট্রির সম্মানের প্রশ্ন।
তিনি স্পষ্টভাবে বলেন – “আমি নিজেদের মধ্যে ল’ড়া’ই করতে চাই না… আমি ল’ড়া’ই করতে চাই যেকোনো ভাষার ছবির সাথে আমাদের বাংলা ইন্ডাস্ট্রির হয়ে।”
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলা ছবির শো কম পাওয়া নিয়ে ক্ষো’ভ, আ’ক্ষে’প তাঁর কণ্ঠেও ধরা পড়ে।
তবুও তিনি আশার সুর শোনান – “ভালো হওয়া সত্ত্বেও, ব্যাক টু ব্যাক হিট দেওয়া সত্ত্বেও শো না পাওয়া সেই আ’ক্ষে’প তো থাকেই। তবে আমরা ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছি, ল’ড়’তে পেরেছি।”
দেবের মতে, সিনেমা ভালো হলে ভাষা কোনো বাধা নয় “বাংলা ভাষাটা যে এখনও যেকোনো ভাষার ছবিকে আটকাতে পারে, যদি সিনেমা ভালো হয় এবং দর্শক থাকে।”
আবার সাক্ষাৎকারে দেব নিজের সাফল্যের পেছনে দর্শকদের নিঃশর্ত ভা’লো’বা’সা’কে’ই সবচেয়ে বড় শ’ক্তি হিসেবে মানেন বলে জানান ।কৃতজ্ঞ কণ্ঠে তিনি বলেন – “আজকে আমার জন্মদিন, আমার কাছে স্পেশাল দিন কিন্তু এই স্পেশাল দিনটা স্পেশাল হত না যদি ওনারা আমাকে ‘দেব’ তৈরি না করতেন।”এছাড়াও তিনি স্বীকার করেন “অসংখ্য মানুষ আছেন যারা হয়ত সরাসরি কিছু বলেন না কিন্তু গোপনে আমার জন্য প্রার্থনা করেন।” তাঁর ইচ্ছা- জন্মদিন যেন সিনেমাহলেই কাটুক, দর্শকের মাঝেই কাটুক। তিনি বলেন – “আমি চাই সারাজীবন যেন জন্মদিন এইভাবেই কাটুক সিনেমার মধ্যে, সিনেমার দর্শকদের সাথে।”
এই ছবিকে কেবল একটি প্রজেক্ট নয়, আবেগের কাজ বলে মনে করেন দেব।তিনি বলেন – “প্রজাপতি আমাদের কাছে একটা আবেগ। দু-বছর ধরে একটা স্ক্রিপ্টের সাথে থাকা… যত সময় বাড়ে, তার সাথে আবেগও বাড়ে।”
আর মুক্তির পর দর্শকের ভালোবাসাই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় পুরস্কার – “আজকে আমাদের দু-বছরের পরিশ্রমের জবাব দর্শক দিচ্ছে হাততালি দিয়ে, হাউসফুল করে দিয়ে।”
দেব স্পষ্ট জানিয়ে দেন –
শুধু ছোট বাজেটের সফলতা দিয়ে ইন্ডাস্ট্রি বড় হয় না।
তিনি বলেন – “এক কোটি-দুই কোটির ছবি করলে আমরা হয়ত বড় হব, কিন্তু ইন্ডাস্ট্রি কোনোদিনও বড় হতে পারবে না।”
নিজের সাম্প্রতিক ও আসন্ন ছবির বাজেট প্রসঙ্গেও উল্লেখ করেন। “খাদান (Khadaan), রঘু ডাকাত (Raghu Dakat), প্রজাপতি ২ ( prajapoti 2) সবকটা সাত-আট কোটি টা’কা’র ছবি।”
হিন্দি সিনেমার ৩০০–৪০০ কোটির ছবির সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রসঙ্গে তাঁর দৃঢ় বক্তব্য তাঁর – “আমাকে তো পাঙ্গা নিতে হচ্ছে যেকোনো বড় ৩০০ – ৪০০ কোটির ছবির সাথে… আমাদের ইন্ডাস্ট্রির সবচেয়ে বড় বাজেটের ছবি হয়ে আমি কেন দাবি করতে পারব না?”
বাস্তব জীবনের নায়ক নিয়ে স্বপ্নের প্রজেক্ট “ অ্যা’ম্বু’লে’ন্স দাদা” (Ambulance Dada ) এই ছবি নিয়ে দেবের আবেগ অনন্য “ ‘অ্যা’ম্বু’লে’ন্স দাদা’ আমার খুবই স্পেশাল একটা সাবজেক্ট… আমি এক্সপেক্ট করিনি এই ছবিটা আমার কাছে আসবে।” তিনি বিশ্বাস করেন- “এই ছবিটা দিয়ে আমি প্রমাণ করব যে বাংলাও রিয়েল লাইফ হিরোদের নিয়ে ভালো ছবি বানাতে পারে।”
করিমূল হকের (Karimul Haque) জীবনের গল্পকে বড়পর্দায় তুলে ধরছেন দেব। এটি তাঁর কাছে কেবল সিনেমা নয় সম্মানের বিষয়। করিমূল হক দেবের ব্যাপারে জানান – “মেগাস্টার-সুপারস্টার সবকিছু ছাড়িয়ে মানুষ হিসেবে খুব ভালো… এটাই বোধহয় বড়।”
পরিচালকের দীর্ঘ প্রস্তুতির কথাও জানান তিনি- “চিত্রনাট্য নিয়ে লিখে রেখেছিলেন সাত-আট বছর আগে… ওঁনারা বলেছিলেন বাংলা থেকে কেউ করলে দেবকে বল।”
দেব গর্বের সঙ্গে বলেন- “৭০০০ -এর বেশি মানুষকে উদ্ধার করা একজন মানুষের গল্প… ইটস নট অল অ্যাবাউট মানি, ইটস দ্য গর্বের ব্যাপার।”
এরই মাঝে সাম্প্রতিক সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ছবিতে দেখা যায়, যে দেব কথা বলছেন অভিনেত্রী শুভশ্রী গাঙ্গুলীর (Subhashree Ganguly) সঙ্গে। ছবিটি ঘিরে যখন নানা জল্পনা ও ব্যাখ্যা ছড়িয়ে পড়ে, তখন তা নিয়ে কোনো আবেগতাড়িত প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে বরং অত্যন্ত পরিণত এবং সংযত অবস্থান নেন দেব।
তিনি নিজেই স্পষ্টভাবে বলেন- “আমিই নিজে গিয়ে কথা বললাম যে কি হল ম্যাডাম? এত ইনোসেন্ট কথা বলছেন কেন আপনি বাজারে?” এরপর তিনি যোগ করেন –“আই থিঙ্ক উই গট ইট সর্টেড। আমরা দুজনেই ম্যাচিওরড।”
দেবের বক্তব্যে বোঝা যায়, তিনি ব্যক্তিগত সম্পর্কের অতীত প্রসঙ্গ নয়,বরং পারস্পরিক সম্মান ও প্রাপ্তবয়স্ক মানসিকতার দিকটিই বড় করে দেখাতে চান।তাঁর পরিণত মন্তব্যে ফুটে ওঠে শুভেচ্ছার মনোভাব “আমি চাই ওঁর যাত্রা শুভ হোক। আমি যার সাথে আছি, আমাদের যাত্রাও শুভ হোক।”এই বক্তব্য কেবল একটি ভাইরাল ঘটনার প্রতিক্রিয়া নয়; বরং দেবের শিল্পীসত্তা, ব্যক্তিগত পরিপক্বতা এবং জীবনদর্শনের প্রতিফলন।
সাক্ষাৎকারের শেষভাগে দেবের ভাষায় ফুটে ওঠে এক দৃঢ় প্রতিশ্রুতি – “শপথ এটাই যে ল’ড়া’ই’টা আরও ভালো বাংলা ছবি বানাব।”
দেবের কাছে সিনেমা কেবল কাজ নয় এটি তাঁর পরিচয়, আবেগ, এবং ইন্ডাস্ট্রির ভবিষ্যতের ল’ড়া’ই।