Swastika Mukherjee:“প্রেমের স্লট ‘অলওয়েজ ফাস্ট ফিলিং’! পুরুষের পৃথিবীতে ঢুকতে গেলে পুরুষের মতো সাজতে হবে কেন? সব মা একরকম হয় না” — ‘প্রোমোটার বৌদি’ প্রচারে অকপট স্বস্তিকা

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now
Instagram Group Join Now

Swastika Mukherjee:২৭ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পাচ্ছে ‘প্রোমোটার বৌদি’(Promoter Boudi)। তার আগে ছবির প্রচারে এসে একাধিক বিষয়ে খোলামেলা কথা বললেন স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়(Swastika Mukherjee)। পুরুষ-প্রধান পেশায় নারীচরিত্র, ক্লিশে ভাঙা, প্ল্যান বি না রাখা থেকে প্রেম সব নিয়েই সোজাসাপ্টা মন্তব্য অভিনেত্রীর।

পরপর দু’টি ছবিতে পুরুষচালিত পেশায় অভিনয় প্রসঙ্গে স্বস্তিকার স্পষ্ট বক্তব্য, “আমার এই রোল শিফটটা খুব ভালো লাগছে। গ্যাংলিডার হোক বা প্রোমোটার এগুলো সবই পুরুষচালিত পেশা। সেখানে একজন মহিলাকে দেখানো মানেই ব্যতিক্রম।”
তিনি আরও বলেন, “এই দুটো কাজ করতে গিয়ে এমন অনেক ব্যতিক্রমী মহিলাদের সঙ্গে আমার পরিচয় হল মহিলা বাস ড্রাইভার, মহিলা ফায়ার ফাইটার, মহিলা ডোম। আমাদের শহরেও হয়তো একজন বা দু’জন মহিলা প্রোমোটার আছেন। এই কাজটা করতে না এলে জানতেই পারতাম না।”

স্বস্তিকার মতে, এই ধরনের গল্প সফল হলে ইন্ডাস্ট্রির মানসিকতাও বদলাবে। তাঁর কথায়, “গতানুগতিক ছবির বাইরে গিয়ে যদি এই ধরনের ছবি ব্যবসা করে, তাহলে আরও ব্যতিক্রমী কাজ করার সাহস তৈরি হবে। না হলে কেবল ট্রেন্ড ফলো করেই কাজ হবে।”
প্রোমোটার শব্দের সঙ্গে দুর্নীতি ও তোলাবাজির যে ধারণা জড়িয়ে আছে, তা নিয়েও মুখ খুললেন তিনি। “হ্যাঁ, প্রোমোটার মানেই তোলাবাজ, দুর্নীতিগ্রস্ত এমনটাই মনে হয়। ছবিতে রনিদার চরিত্রটা পুরোপুরি সেই ভিলেনের জায়গায়। কিন্তু আমি উল্টোদিকে আছি,” বলেন স্বস্তিকা।

নিজের চরিত্র ‘শান্তি’ সম্পর্কে তাঁর ব্যাখ্যা, “অর্থ উপার্জন একটা জায়গা বটেই, কিন্তু সে মানুষকে আগলে রাখতে চায়। মানুষের সারাজীবনের সঞ্চয় যেন নষ্ট না হয়, সেটা রুখতে চায়।”
তিনি আরও যোগ করেন, “পুরুষ শাসিত পেশায় সে একা একজন মহিলা। তাই লড়াইটাও কঠিন।”
সিনেমায় শক্তিশালী নারীচরিত্র দেখাতে গিয়ে পোশাকের মাধ্যমে পুরুষালি ইমেজ চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিনেত্রী। “মহিলাদের যখনই অ্যাকশন দৃশ্যে দেখি, তখনই দেখি তারা প্যান্ট বা লেদার জ্যাকেট পরে রয়েছে। কেন? পুরুষের পৃথিবীতে ঢুকতে গেলে পুরুষের মতো সাজতে হবে কেন?” প্রশ্ন তাঁর।
‘প্রোমোটার বৌদি’-তে তাঁর চরিত্র শাখা-সিঁদুর পরেই ব্যবসা সামলায়। স্বস্তিকার কথায়, “সিনেমায় কোনও মহিলা তথাকথিত ‘পৌরুষচিত’ কাজ করলে তাকে জিনস-শার্ট পরিয়ে দেওয়া হয়। এখানে সেটা করা হয়নি। এইভাবে স্টিরিওটাইপ ভাঙা যায়।” মজা করেই বলেন, “রেলা মারতে হলে তো আমিই আছি!”

আরও পড়ুন:Tonni Laha Roy: “জানতাম না, জেনে নিলাম”…কন্ট্রাক্টে থেকেও বাদ! দর্শকদের প্রিয় ‘মীরা’ হঠাৎ উধাও! “লয়্যালটির দাম নেই? দর্শকরা চাইলেই কোনো সিরিয়ালে কাউকে যেমন বাদ দিতে পারে, তেমনই আবার ফিরিয়েও আনতে পারে” – ‘মীরা’ চরিত্রটি বিদায়ে মুখ খুললেন তন্বী

বর্তমানে অনেকেই অভিনয়ের পাশাপাশি বিকল্প আয়ের রাস্তা খোঁজেন। কিন্তু স্বস্তিকার স্পষ্ট জবাব, “আমার কোনও প্ল্যান বি নেই। ‘অপশন’ শব্দটাই আমার বিরক্তিকর লাগে।”
তিনি বলেন, “আমি একটা বিষয়ই মাথায় নিই, সেটাই মন দিয়ে করতে চাই। অভিনয় করে তো পঁচিশ বছর কাটিয়ে ফেললাম।”
ব্যবসা করার প্রসঙ্গে সোজাসাপ্টা স্বীকারোক্তি, “আমার দ্বারা ব্যবসা কোনওদিনই হবে না। সিএ আজকে যা বোঝায়, পরদিন আবার একই প্রশ্ন করি। কিছু মাথায় রাখতে পারি না।”
টাইপকাস্টিং প্রসঙ্গে তিনি জানান, এমন কোনও চরিত্র নেই যা আর করবেন না। “আমার মাতৃত্বের বয়সের তিন গুণ ‘মা’-এর চরিত্রে অভিনয় করেছি। তবু মনে হয় না যে মা চরিত্র করব না। সব মা তো একরকম হয় না।”

তবে কিছু অপূর্ণ ইচ্ছে রয়ে গেছে। “সিরিয়াল কিলার করিনি, নার্স করিনি, জেলের কয়েদি করিনি, স্কুল টিচার করিনি, পুলিশের চরিত্র করিনি অনেক কিছুই বাকি আছে,” জানান তিনি।
দোলের আবহে জীবনের রং নিয়ে প্রশ্নে স্বস্তিকার উত্তর, “আমার জীবনে সবসময়ই রামধনুর সাত রং থাকে। কালো, ধূসর রং আমার পছন্দ না।”
আর প্রেম? এখানেই সবচেয়ে চর্চিত মন্তব্য। “প্রেমের রং বোধহয় লাল। লাল লিপস্টিক পরতে ভালোবাসি, লাল গোলাপ খুব পছন্দের,” বলেন তিনি।
হাসতে হাসতেই যোগ করেন, “আমার জীবনে সবসময়ই প্রেম থাকে। আমি কোনও স্লট ফাঁকা রাখি না। অল স্লটস আর অলওয়েজ ফুল। প্রেমের সিট ‘অলওয়েজ ফাস্ট ফিলিং’।”

আরও পড়ুন:Soham Chakraborty:“৬৮ লক্ষের ঋণ, ২৫ লক্ষ ফেরত, বাকি টা’কা কোথায়?”- হাইকোর্টে টেনে নিয়ে যাওয়া হল TMC বিধায়ক-অভিনেতা সোহম চক্রবর্তীকে

যদি তাঁকে ইন্ডাস্ট্রিতে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়, কী প্রোমোট করবেন? স্বস্তিকার সংক্ষিপ্ত উত্তর, “ইন্ডিপেনডেন্ট ভাবে ছবি হওয়া দরকার।”
‘প্রোমোটার বৌদি’-র প্রচারে এসে তাই শুধু ছবির গল্প নয়, নারীচরিত্রের নতুন ভাষা, ইন্ডাস্ট্রির ধারা ও ব্যক্তিজীবনের দর্শন সবকিছু নিয়েই অকপট স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়। আর তাঁর স্পষ্ট বার্তা সাহসী গল্প বললে দর্শক গ্রহণ করবেই।

Leave a Comment