Ranojoy-Shyamoupti: বসন্তের হাওয়ায় যখন চারিদিক রঙিন, তখন টলিপাড়ার প্রিয় নবদম্পতি রণজয় বিষ্ণু(Ranojoy Bishnu) ও শ্যামৌপ্তি মুদলি(Shyamoupti Mudly) নিজেদের প্রথম দোলকে ঘিরে শেয়ার করলেন একগুচ্ছ ব্যক্তিগত অনুভূতি, পছন্দ-অপছন্দ আর সম্পর্কের মিষ্টি রসায়ন। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তাঁরা যেমন ভালোবাসার কথা বলেছেন, তেমনই তুলে ধরেছেন সচেতনতার বার্তাও বিশেষ করে দোল উৎসবে কৃত্রিম রং ব্যবহার এবং পশুদের ওপর রং প্রয়োগের বিরোধিতা করে।
বিয়ের পর এটাই তাঁদের প্রথম দোল স্বাভাবিকভাবেই উৎসব নিয়ে উচ্ছ্বাস একটু বেশি। রণজয় সরাসরি জানান, “বিয়ে হওয়ার পর থেকে এখনও বাড়ি যাওয়া হয়নি, এবার বাড়ি যাব।” কথার মধ্যেই স্পষ্ট, এবারের দোল শুধু রঙের উৎসব নয়, পারিবারিক পুনর্মিলনেরও বিশেষ মুহূর্ত। নতুন সংসার, নতুন দায়িত্ব সবকিছুর মাঝে নিজেদের মতো করে সময় কাটানোর পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁদের।
তবে দোল মানেই যে রঙের উন্মাদনা এই ধারণা থেকে খানিকটা দূরেই থাকতে চান এই তারকা জুটি। শ্যামৌপ্তি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “খুব একটা ক্রেজি ওয়ে-তে রং খেলি না, গালে একটু আবির ব্যস!” অর্থাৎ তাঁদের দোল সীমিত, সংযত, আর মূলত আবিরেই সীমাবদ্ধ। রণজয়ও একই সুরে যোগ করেন, “রং বলতে আমি আবিরই বুঝি।” চড়া, কৃত্রিম, রাসায়নিক রঙে মাখামাখি তাঁদের পছন্দ নয়।
কৃত্রিম রং নিয়ে রণজয়ের বক্তব্য ছিল আরও কড়া। তিনি বলেন, “মানুষ আবিরের সাথে যেসব রং মেশায় তা এক প্রকারের দুষ্কর্ম।” তাঁর এই মন্তব্যে স্পষ্ট ক্ষো’ভ ধরা পড়ে। উৎসবের আনন্দের নামে ত্বক ও পরিবেশের ক্ষতি হোক এটা তিনি কোনওভাবেই সমর্থন করেন না। তাঁর মতে, রঙের উৎসব হোক নির্মল, নিরাপদ এবং স্বাস্থ্যকর।
শৈশবের দোলের স্মৃতি টানতে গিয়ে শ্যামৌপ্তি জানান, “আমি ভীষণ শান্তশিষ্ট মেয়ে ছিলাম, ওরকম সিলভার, লাল, নীল, হলুদ রং মেখে ঘুরে বেড়াতাম না।” ছোটবেলা থেকেই তাঁর দোল ছিল পরিমিত, সংযত। রণজয়ও স্বীকার করেন, তিনি মূলত আবির দিয়েই দোল খেলতেন। দুজনের কথাতেই উঠে আসে একধরনের সরলতা, যা আজও তাঁদের উৎসব-ভাবনায় প্রভাব ফেলে।
রণজয়ের প্রিয় রং নিয়েও মজার মুহূর্ত তৈরি হয়। হাসতে হাসতেই তিনি বলেন, “সাদা আমার খুব পছন্দের।” বসন্তের বহুরঙা আবহে সাদার প্রতি তাঁর এই অনুরাগ যেন খানিকটা আলাদা ভাবনার ইঙ্গিত দেয় নির্মলতা, স্বচ্ছতা আর শান্তির রং।
ভ্রমণ প্রসঙ্গে প্রশ্ন উঠতেই রণজয় জানতে চান পাহাড় না সমুদ্র? এক মুহূর্ত দেরি না করে শ্যামৌপ্তির উত্তর, “পাহাড়, পাহাড়।” স্পষ্ট, প্রকৃতির নির্জনতা আর পাহাড়ের শান্ত পরিবেশই তাঁদের বেশি টানে। কাজের ব্যস্ততার ফাঁকে সুযোগ পেলেই পাহাড়ের কোলে কিছুটা সময় কাটাতে চান এই দম্পতি।
তবে পুরো সাক্ষাৎকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং আবেগঘন অংশ ছিল পশুপ্রেম নিয়ে রণজয়ের বক্তব্য। দোলের সময় অনেকেই কুকুর-বিড়ালের গায়ে রং লাগিয়ে দেন এই প্রসঙ্গ উঠতেই তাঁর কণ্ঠে স্পষ্ট ক্ষো’ভ। তিনি বলেন, “কুকুর বিড়ালের গায়ে যেসব মানুষ রং দেয়, ওদের তো খেলার কোনো ইন্টারেস্ট নেই! আমরা আমাদের আনন্দের জন্য যা করছি, তাতে ওদের খুব কষ্ট হয়। এসব দেখে আমার সত্যিই খুব রাগ হয়। ওদের ওদের মতো থাকতে দিন।” তাঁর কথায় ছিল প্রতিবাদ, ছিল দায়বদ্ধতার বার্তা।
শ্যামৌপ্তিও এই বিষয়ে একমত। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, “নিজে আনন্দ করো কারোর ক্ষ’তি না করে।” উৎসব মানে শুধু নিজের আনন্দ নয়, অন্যের স্বস্তি ও নিরাপত্তার দিকেও খেয়াল রাখা এই বার্তাই দিতে চেয়েছেন তাঁরা। বিশেষ করে প্রাণীদের সুরক্ষার বিষয়ে তাঁদের এই স্পষ্ট অবস্থান ইতিমধ্যেই নেটপাড়ায় প্রশংসিত।
এরপর আসে একে অপরকে নিয়ে মিষ্টি খুনসুটির পালা। শ্যামৌপ্তির লুক নিয়ে মন্তব্য করতে বলা হলে রণজয় একটুও দেরি না করে পূর্ণ নম্বর দেন। হাসিমুখে তিনি বলেন, “ওকে অপূর্ব সুন্দর লাগছে দেখতে… একদম নতুন মিষ্টি বউ।” তাঁর চোখে স্ত্রী যেন বসন্তের সবচেয়ে উজ্জ্বল রং।
স্বামীর মুখে এমন প্রশংসা শুনে শ্যামৌপ্তি লজ্জায় রাঙা না হয়ে বরং নিজের স্বভাবসিদ্ধ রসিকতায় জবাব দেন। তিনি বলেন, “অ্যাজ ইউজুয়াল… আমি ওকে কী বলব নতুন বর? ছেলেদের কি আলাদা করে কিছু মনে হয়? যেমন হ্যান্ডসাম লাগার তেমনই লাগছে।” তাঁর কথায় যেমন মজা, তেমনই সম্পর্কের সহজ স্বাচ্ছন্দ্য।
সাংবাদিক যখন মন্তব্য করেন যে ছেলেরাও প্রশংসা পাওয়ার দাবিদার, তখন রণজয় মজা করে বলেন, তিনি এই “ডিজার্ভ করার লড়াইয়ে” নেই। অর্থাৎ, প্রশংসা পাওয়ার জন্য আলাদা করে প্রতিযোগিতায় নামতে চান না তিনি। তবে শ্যামৌপ্তি এখানেও থামেননি। স্বামীর প্রতি নিজের ভালোবাসা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমি তো সবসময়ই ওকে কমপ্লিমেন্ট দিই, আলাদা করে আর নতুন কিছু বলার নেই। ওঁ তো বরাবরের মতোই হট আর হ্যান্ডসাম!”
এই একের পর এক মন্তব্যে স্পষ্ট হয়ে ওঠে তাঁদের সম্পর্কের সমীকরণ খোলামেলা, নির্ভার, সম্মান ও ভালোবাসায় ভরপুর। বিয়ের পর সংসারের দায়িত্ব ভাগাভাগি থেকে শুরু করে উৎসবের পরিকল্পনা সবকিছুতেই রয়েছে পারস্পরিক বোঝাপড়া। যদিও সংসারের খুঁটিনাটি নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি তাঁরা, তবু কথাবার্তার মধ্যেই ধরা পড়ে একসঙ্গে পথ চলার আত্মবিশ্বাস।
দোলের মতো উৎসবকে ঘিরে তাঁদের ভাবনা যে শুধুই রোমান্টিকতায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং সামাজিক দায়িত্ববোধও রয়েছে এটাই এই সাক্ষাৎকারের বিশেষ দিক। কৃত্রিম রং বর্জন, প্রাণীদের সুরক্ষা, সংযত উদ্যাপন এই বার্তাগুলি বর্তমান সময়ে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। জনপ্রিয় মুখ হিসেবে তাঁদের বক্তব্য অনেকের মধ্যেই সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে পারে বলেই মনে করছেন অনুরাগীরা।
নেটদুনিয়ায় ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে তাঁদের এই সাক্ষাৎকারের অংশবিশেষ। ভক্তদের মতে, এই জুটির সবচেয়ে বড় শক্তি তাঁদের স্বাভাবিকতা। অতিরিক্ত নাটকীয়তা নয়, বরং সহজ-সরল ভালোবাসাই তাঁদের আলাদা করে দেয়। বসন্তের রঙিন আবহে তাঁদের সাবলীল রসায়ন যেন আরও একবার প্রমাণ করল সম্পর্কের আসল রং থাকে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বোঝাপড়ায়।
সব মিলিয়ে, প্রথম দোলকে ঘিরে রণজয় বিষ্ণু ও শ্যামৌপ্তি মুদলি যে বার্তা দিলেন, তা শুধু প্রেমের গল্প নয়, সেখানে রয়েছে দায়িত্বশীলতার স্পষ্ট ছাপ। বসন্তের এই উৎসবে তাঁদের কণ্ঠে শোনা গেল একটাই সুর রং খেলুন, কিন্তু তা যেন নির্মল হয়, আনন্দ করুন, কিন্তু কারও কষ্টের বিনিময়ে নয়। আর সেই সঙ্গেই চলুক ভালোবাসার মিষ্টি খুনসুটি, যা তাঁদের সম্পর্ককে করে তুলেছে আরও রঙিন।