Rudranil Ghosh:”সাধারণ মানুষের চাল, ডাল, চাকরি যাঁরা চুরি করলেন তিনি তাঁদের প্রতিনিধি? তৃণমূলের পাঁক মাখার যোগ্য নন কোয়েল”… “কোয়েলকে ‘চটিচাটা’ বলা হচ্ছে, এটা দেখতে খারাপ লাগছে” – তৃণমূল যোগে হতাশ রুদ্রনীল

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now
Instagram Group Join Now

Rudranil Ghosh: রাজ্যসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিকমহলে বড় চমক এনে দিল শাসকদল। আসন্ন ১৬ মার্চ দেশের মোট ১০টি রাজ্যের ৩৭টি রাজ্যসভা আসনে ভোট গ্রহণ হবে। তার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের পাঁচটি আসনও রয়েছে। কিছুদিন আগে নির্বাচন কমিশনের তরফে আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি হতেই রাজনৈতিক অন্দরে জোর জল্পনা শুরু হয়। সেই জল্পনায় আরও আ’গু’ন জ্বা’লি’য়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(Mamata Banerjee )-এর নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যসভা প্রার্থী হিসেবে বেছে নেয় জনপ্রিয় অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক(Koel Mallick)-কে।

এই সিদ্ধান্ত সামনে আসার পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ অভিনন্দন জানিয়েছেন, আবার অনেকেই হতাশা ও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতেই বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন বিজেপি নেতা ও অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ(Rudranil Ghosh)। একটি সাক্ষাৎকারে তিনি তাঁর ব্যক্তিগত মত প্রকাশ করেন এবং জানান, গোটা ঘটনাপ্রবাহ তাঁকে ব্যথিত করেছে।

রুদ্রনীলের কথায়, একজন মানুষের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত একান্তই ব্যক্তিগত। তবে সামাজিক মাধ্যমে যে ধরনের প্রতিক্রিয়া চোখে পড়ছে, তা তাঁকে অস্বস্তিতে ফেলেছে। তাঁর মতে, এতদিন সাধারণ মানুষ কোয়েলকে ভালোবাসা ও সম্মানের জায়গায় রেখেছিলেন। সেই ভাবমূর্তিতে যেন আচমকা ছায়া পড়েছে। তিনি বলেন, কোয়েল মল্লিক এমন একজন অভিনেত্রী যাঁকে বড় হতে কারও সাহায্যের কাছে হাত পাততে হয়নি। ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের অবস্থান তিনি নিজেই তৈরি করেছেন। তাঁর কথায়, “এটা একটা মানুষের ব্যক্তিগত ব্যাপার। কিন্তু সমাজমাধ্যমে নানা মানুষের কথা থেকে একটা জিনিস বেরিয়ে আসছে যে, সকলে যে কোয়েলকে ভালোবাসতেন, কোথাও গিয়ে সম্মানও করতেন সেটাতে কালি লেগে গেল তৃণমূলের। কোয়েল মল্লিককে বড় হবার জন্য কোনও জায়গায় সাহায্য প্রার্থনা করতে হয়নি..”।

অভিনেত্রীর পারিবারিক পরিচয় প্রসঙ্গে রুদ্রনীল উল্লেখ করেন, তাঁর বাবা রঞ্জিত মল্লিক টলিউডের এক শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব। ফলে প্রথম দিকে পরিচিতি পাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু সুবিধা হয়ে থাকতে পারে, তবে শুধু পরিচয় থাকলেই দীর্ঘদিন জনপ্রিয় থাকা যায় না এ কথা স্পষ্ট করেন তিনি। দর্শকের ভালোবাসা অর্জন করতে হলে নিজস্ব যোগ্যতা প্রমাণ করতে হয়। সেই জায়গাতেই কোয়েল নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন বলে মত রুদ্রনীলের। তাঁর কথায়,” তাঁর বাবা রঞ্জিত মল্লিক আমাদের শ্রদ্ধেয়। তার জন্য হয়তো টলিউডে এন্ট্রি পেতে, বা পরিচয় পেতে কোয়েলের সুবিধা হয়েছিল। কিন্তু এন্ট্রি পেলেই তো হয় না। মানুষের ভালোবাসা নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করে পেতে হয়।”

তিনি আরও বলেন, একসময় ইন্ডাস্ট্রির প্রথম সারির অভিনেত্রীদের মধ্যে কোয়েল নিজের জায়গা করে নিয়েছিলেন। তাঁর ব্যবহার, সংযত জীবনযাপন এবং বিতর্ক এড়িয়ে চলার স্বভাব তাঁকে আলাদা মর্যাদা দিয়েছিল। কিন্তু এখন সামাজিক মাধ্যম খুললেই যে মন্তব্যগুলির মুখোমুখি হতে হচ্ছে, তা দেখলে তাঁর খারাপ লাগে। বিশেষ করে কোয়েলকে উদ্দেশ করে কটূক্তি বা অবমাননাকর শব্দ ব্যবহার করা হচ্ছে যা তিনি সমর্থন করেন না।তাঁর কথায়, “স্যোশাল মিডিয়া খুললেই নানা মানুষের যে মন্তব্য সব জায়গায় দেখতে পাওয়া যাচ্ছে, তা আমারও চোখে পড়েছে। আমায় ব্যাথা দিয়েছে। এত নেগেটিভ কমেন্ট কোয়েল মল্লিকের বিষয়ে আমাদের পড়তে বা দেখতে, বা শুনতে ভালো লাগছে না।”

আরও পড়ুন:Tanusree Goswami:”আমি জীবনের একটা কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি…” – কঠিন সময়ে ভেঙে পড়লেন তনুশ্রী? হঠাৎ সোশ্যাল মিডিয়া ছাড়ার ঘোষণা, পরিবারের জন্য প্রার্থনার আবেদন নায়িকার

রুদ্রনীল জানান, তিনি জানেন না কোন কারণবশত কোয়েল এই রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, ঈশ্বর অভিনেত্রীকে জীবনে অনেক কিছু দিয়েছেন খ্যাতি, সম্মান, প্রতিষ্ঠা। নতুন করে পাওয়ার কিছু বাকি ছিল না বলেই তাঁর মনে হয়। বরং পশ্চিমবঙ্গের মানুষই তাঁকে অগাধ ভালোবাসা, ভরসা ও শ্রদ্ধায় ভরিয়ে দিয়েছেন। সেই সাধারণ মানুষের মধ্যেই অনেকেই এখন প্রশ্ন তুলছেন যাঁদের বিরুদ্ধে চাল-ডাল-চাকরি দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, তাঁদের প্রতিনিধিত্ব করতে কেন গেলেন কোয়েল? তাঁর কথায়, “পশ্চিমবঙ্গের মানুষ তাঁকে ভালোবাসা, ভরসা, শ্রদ্ধা বিশ্বাসে ভরিয়ে দিয়েছেন, সেই সাধারণ মানুষের চাল, ডাল, চাকরি যাঁরা চুরি করলেন তিনি তাঁদের কেন প্রতিনিধি হলেন?

তাঁর কথায়, ঠিক কী দায়ে পড়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হল, তা তিনি বুঝতে পারছেন না। দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে গড়ে তোলা সুনাম কি এভাবে ঝুঁকির মুখে ফেলা উচিত ছিল? যদিও তিনি স্পষ্ট করেন, ব্যক্তিগত আক্রমণ করার কোনও ইচ্ছে তাঁর নেই। তিনি কোয়েল সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করতে চান না। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি তাঁকে হতাশ করেছে।তাঁর কথায়,”কী এমন দায়ে পড়ল? যে কারণে তাঁর এত কষ্ট করে করা সুনাম নিজেই সেটা ঝাপসা করার চেষ্টায় কেন গেলেন? সেটা আমাকে ব্যাথা দিয়েছে। আমি তাঁর সম্বন্ধে কোনও নেগেটিভ কথা বলতে চাই না।”

আরও পড়ুন:Swastika Dutta:”আমি ভালো অভিনেত্রী নই…চেষ্টা করব পরেরবার থেকে অভিনয় করার”, “নিজেকে বড় প্রমাণ করার চেষ্টা কেন?” – ট্রোলের জবাবে হাসিমুখে স্বীকারোক্তি, ভাইরাল মন্তব্যে তোলপাড় নেটদুনিয়া

রুদ্রনীলের আরও বক্তব্য, যদি কোয়েল তৃণমূলের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত না করতেন, অথবা রাজনৈতিক অঙ্গনে না নামতেন, তাহলে হয়তো সাধারণ মানুষের মধ্যে এই ধরনের হতাশা তৈরি হত না। তাঁর মতে, নিজের আভিজাত্য, ব্যক্তিত্ব এবং সৌন্দর্য বজায় রেখে দূরত্বে থাকলে অভিনেত্রীর ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ থাকত।তাঁর কথায়, “এটাই বলবো যাঁরা পশ্চিমবঙ্গের এত বড় ক্ষতি করছেন, তাঁদের পক্ষে যদি কোয়েল মল্লিক না যেতেন বা কোথাও তিনি না যেতেন, নিজের যে আভিজাত্য বা সৌন্দর্য্য, নিজের যে ব্যবহার সেটাকে নিয়ে থাকতেন তাহলে কোনও মানুষ তাহলে সাধারণ মানুষ এইভাবে দুঃখ প্রকাশ করতেন না।”
এখন যেভাবে তাঁকে নিয়ে ‘চটিচাটা’ শব্দ ব্যবহার করা হচ্ছে, তা তাঁর কাছে অত্যন্ত অস্বস্তিকর।তাঁর কথায়, “কোয়েল মল্লিকে যে ‘চটিচাটা’ শব্দটা বলা হচ্ছে, এটা আমার দেখতে খারাপ লাগছে। আমি জানি না কোয়েল শেষ পর্যন্ত কি সিদ্ধান্ত নেবেন।”
তিনি এও প্রশ্ন তোলেন, “তৃণমূলে পাঁক তাঁর গায়ে মাখাটা কি তাঁর যোগ্যতা? মনে হয় না।”

তিনি আরও বলেন, কোনও ব্যক্তিকে এইভাবে অবমাননা করা শোভন নয়। যদিও তিনি এটাও স্বীকার করেন যে, আলোয় থাকবেন না আলোছায়ায়, এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত। কে কোন রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করবেন, সেটাও তাঁর নিজস্ব অধিকার। তবু তাঁর মতে, এই সিদ্ধান্ত না নিলে হয়তো পরিস্থিতি অন্যরকম হতে পারত।তাঁর কথায়, “প্রতিটা মানুষের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত তাঁরা আলোয় থাকবেন, না আলোছায়ায় থাকবেন না অন্ধকারে থাকবেন? তাঁর ব্যক্তিগত ইচ্ছা। এমনটা না হলে বোধ ভালো হত। বাকিটা তাঁর ব্যাপার।”

রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই কোয়েল মল্লিকের রাজ্যসভা প্রার্থিতা নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকে এটিকে তৃণমূলের কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, যেখানে জনপ্রিয় মুখকে সামনে এনে ভোটের বার্তা দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে বিরোধীরা প্রশ্ন তুলছেন, রাজনীতিতে প্রবেশের আগে কি জনমত বিবেচনা করা উচিত ছিল না?
এখন দেখার বিষয়, কোয়েল মল্লিক শেষ পর্যন্ত কী অবস্থান নেন এবং এই বিতর্ক কোন দিকে গড়ায়। আপাতত তাঁর রাজনৈতিক অভিষেককে ঘিরে উত্তাপ বাড়ছেই। তবে রুদ্রনীলের বক্তব্য স্পষ্ট তিনি কোয়েলের সিদ্ধান্তে হতাশ হলেও ব্যক্তিগত আক্রমণকে সমর্থন করেন না। তাঁর চোখে, সম্মান ও জনপ্রিয়তার জায়গা থেকে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রবেশ করা এক বড় ঝুঁকি, যার ফলাফল সময়ই বলবে।

Leave a Comment