Saheb-Susmita:ভালোবাসার মাস, ফেব্রুয়ারি। আর সেই আবহে-ই দর্শকের কৌতূহলের কেন্দ্রে আবারও উঠে এলেন ছোটপর্দার জনপ্রিয় জুটি সাহেব ভট্টাচার্য(Saheb Bhattacharya) ও সুস্মিতা দে(Susmita Dey)। ‘কথা’(Kothha) ধারাবাহিকের পর্দার রসায়ন যে বাস্তবেও কোনও বিশেষ সমীকরণের ইঙ্গিত দেয় কি না, তা নিয়েই বহুদিন ধরে চর্চা চলছে অনুরাগীদের মধ্যে। ভ্যালেন্টাইনস ডে সামনে আসতেই সেই জল্পনা যেন নতুন করে ডানা মেলেছে। বিশেষ দিনে কী পরিকল্পনা? একে-অপরকে কি কোনও ‘কথা’ দেবেন? সম্পর্ক কি বন্ধুত্বের সীমা ছাড়িয়েছে? নানা প্রশ্নের মাঝেই মুখ খুললেন দুই তারকা।
ছোটপর্দার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘কথা’-র সূত্রেই তাঁদের জুটি দর্শকের কাছে অত্যন্ত প্রিয় হয়ে ওঠে। ধারাবাহিক শেষ হয়ে গেলেও সাহেব-সুস্মিতার অনস্ক্রিন কেমিস্ট্রি নিয়ে আলোচনা থামেনি। বরং সময়ের সঙ্গে সেই কৌতূহল যেন আরও বেড়েছে। ভালোবাসার বিশেষ দিনে তাঁদের পরিকল্পনা কী এই প্রশ্ন উঠতেই প্রথমে খানিক মজা করেই উত্তর দেন সাহেব। তাঁর কথায়, “আমরা কি এখনও এই দিনটা অতিক্রম করে যাইনি! এখনও পর্যন্ত সেরকম কোনও আলাদা পরিকল্পনা নেই। কাজের প্ল্যানই আছে। অন্য বছর যে খুব ধুমধাম করে ভ্যালেন্টাইনস ডে উদযাপন করি, তেমন নয়। আমার কাছে এটা আর পাঁচটা দিনের মতোই।”
তবে এতকিছুর পরেও তাঁদের জুটি যে দর্শকের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে, তা অস্বীকার করেননি অভিনেতা। বরং সেই চর্চাকেই ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখছেন তিনি। সাহেবের মতে, “যতদিন চর্চা চলছে ততদিন ভালো। অনেকেই বলেছিল, শো শেষ হয়ে গেলে হয়তো মানুষ আমাদের ভুলে যাবে। কিন্তু কাজের মাধ্যমে আমরা যে জায়গাটা ধরে রাখতে পেরেছি, সেটা বড় পাওনা। দর্শকের ভালোবাসাই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”
ভালোবাসা কি নির্দিষ্ট কোনও দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ? এই প্রসঙ্গে দু’জনের মত প্রায় এক। তাঁদের মতে, ভালোবাসা উদযাপনের জন্য আলাদা কোনও দিনের প্রয়োজন হয় না। বছরের প্রতিটি দিনই সম্পর্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে ফেব্রুয়ারিতে এমন একটি বিশেষ দিন থাকলে সেটাকে ঘিরে ছোটখাটো উদযাপন করায় দোষ নেই এমনই মত তাঁদের।
কিন্তু যে প্রশ্নটি ঘুরেফিরে বারবার উঠে আসে, সেটাই কি এড়ানো সম্ভব? বিশেষ সম্পর্ক কি রয়েছে তাঁদের মধ্যে? জল্পনার কেন্দ্রে থাকা এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে স্পষ্ট সুরেই বলেন সাহেব, “না, তেমন কিছু নয়। বন্ধুত্ব আছে। আমরা ভেরি কমপ্যাটিবল কো-অ্যাক্টরস। নিশ্চয়ই আমাদের একটা বন্ডিং রয়েছে। তবে ‘মোর দ্যান ফ্রেন্ডস’ নয়।” তাঁর এই মন্তব্যেই অনেকটা পরিষ্কার হয়ে যায় তাঁদের ব্যক্তিগত সমীকরণ। কাজের সূত্রে তৈরি হওয়া বোঝাপড়া ও বন্ধুত্বকেই তিনি প্রাধান্য দিয়েছেন।
টেলিভিশনের পর্দা ছাড়িয়েও তাঁদের একসঙ্গে কাজ করা চলছে। বর্তমানে তাঁরা ‘সিরাজ এবং’ নাটকে একসঙ্গে অভিনয় করছেন। ফলে পেশাদার সম্পর্কের সূত্র ধরে তাঁদের যোগাযোগ ও বোঝাপড়া স্বাভাবিকভাবেই বজায় রয়েছে। উল্লেখ্য, সাহেব ভট্টাচার্য((Saheb Bhattacharya) আগেও থিয়েটারের মঞ্চে কাজ করেছেন। ‘বেহালা বাতায়ন’(Behala Batayan) দলের প্রযোজনায় তিনি কাজ করেছেন। পরিচালক কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়(Kamaleswar Mukherjee)-এর পরিচালনায় তিনি ও সোহিনী সরকার(Sohini Sarkar) জুটি বেঁধেছিলেন একটি প্রযোজনায়। পরবর্তীতে সাহেব, দেবলীনা কুমার(Devlina Kumar) ও ইন্দ্রাশিস রায়(Indrasish Roy)-কে নিয়ে ‘যদি একবার’ নামে আরেকটি নাটকও মঞ্চস্থ হয়। অর্থাৎ থিয়েটার তাঁর কাছে নতুন কিছু নয়।
অন্যদিকে সুস্মিতা দে-ও ব্যস্ত নিজের কাজ নিয়ে। ভ্যালেন্টাইনস ডে-তেও তাঁর বিশেষ কোনও ছুটি নেই। বরং শুটিং ফ্লোরই তাঁর দিন কাটানোর জায়গা। হাসতে হাসতেই অভিনেত্রীর মন্তব্য, “শুটিংই আমার প্রথম প্রেম।” বর্তমানে তিনি সিকিমে একটি ওয়েব সিরিজের শুটিংয়ে রয়েছেন। এই প্রজেক্টের মাধ্যমেই তাঁর ওয়েব দুনিয়ায় অভিষেক হতে চলেছে। টেলিভিশনের পর এবার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পা রাখা অভিনেত্রীর কেরিয়ারে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
ভালোবাসা নিয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিও যথেষ্ট বাস্তববাদী। সুস্মিতার মতে, “ভালোবাসা উদযাপন করার কোনও নির্দিষ্ট দিন হয় না। প্রতিদিনই ভালোবাসা প্রকাশ করা যায়। তবে ফেব্রুয়ারিতে যদি একটা দিন থাকে, সেটাকে কেন্দ্র করে সেলিব্রেট করা যেতেই পারে। আমার কাছে এটা খুব বড় কিছু নয়। একটা কাপল একসঙ্গে বসে সিনেমা দেখতে পারে, কফি খেতে পারে ওটাই সেলিব্রেশন।” অর্থাৎ তাঁর কাছে ভালোবাসা মানে বড় আয়োজন নয়, বরং ছোট ছোট মুহূর্ত ভাগ করে নেওয়া।
ধারাবাহিক শেষ হওয়ার চার-পাঁচ মাস পরেও তাঁদের জুটিকে নিয়ে দর্শকের আগ্রহ অব্যাহত। ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে কৌতূহলও কমেনি। এই প্রসঙ্গে সুস্মিতা বেশ খোলামেলাভাবেই জানান, “ভালোই লাগে। এটাই তো দর্শকের ভালোবাসা। তাঁরা এখনও আমাদের মনে রেখেছেন, ভালোবাসছেন এটাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।” জনপ্রিয়তার এই ধারাবাহিকতা যে তাঁদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ, তা তাঁদের কথাতেই স্পষ্ট।
তাহলে তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয় কোন বিষয় নিয়ে? ব্যক্তিগত নাকি পেশাগত? সুস্মিতার উত্তর, “শুটিং নিয়ে, কাজ নিয়ে বেশি কথা হয়।” অর্থাৎ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে কাজই। পেশাদারিত্বই তাঁদের সম্পর্কের প্রধান ভিত্তি এমনটাই ইঙ্গিত মিলেছে তাঁদের বক্তব্যে।
ভ্যালেন্টাইনস ডে-কে ঘিরে যতই জল্পনা চলুক, সাহেব ও সুস্মিতা দু’জনেই স্পষ্ট করেছেন তাঁদের সম্পর্ক বন্ধুত্ব ও পেশাদার বোঝাপড়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। অনস্ক্রিন কেমিস্ট্রি দর্শকের মনে দাগ কেটেছে ঠিকই, কিন্তু বাস্তবে সেই রসায়ন ‘মোর দ্যান ফ্রেন্ডস’ নয়। তবুও তাঁদের জুটিকে ঘিরে দর্শকের আগ্রহ ও ভালোবাসা যে অটুট, সেটাই এই মুহূর্তে তাঁদের সবচেয়ে বড় সাফল্য।
কাজের ব্যস্ততা, নতুন প্রজেক্ট, থিয়েটার ও ওয়েব সব মিলিয়ে দু’জনেই এখন নিজেদের কেরিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে রয়েছেন। আর সম্পর্কের প্রশ্নে? উত্তরটা তাঁরা নিজেরাই দিয়েছেন বন্ধুত্ব আছে, বোঝাপড়া আছে, কিন্তু তার বেশি কিছু নয়। তবু ভালোবাসার মরশুমে এই জুটিকে ঘিরে আলোচনা যে থামবে না, তা বলাইবাহুল্য।