Sanjay Dutt: বলিউডে এক সময় পরপর একের পর এক হিট ছবি উপহার দিয়েছেন সঞ্জয় দত্ত(Sanjay Dutt)। আ’ক’র্ষ’ণী’য় ব্যক্তিত্ব, তারকার আভা, জনপ্রিয়তা সবকিছুর মাঝেই তিনি ছিলেন মানুষের কাছে এক পরিচিত মুখ। বর্তমানে ‘ধুরন্ধর’ (Dhurandhar) ছবিতে পুলিশ সুপার চৌধুরী আসলামের চরিত্রে তাঁর অভিনয় ফের আ’লো’চ’না’য় এসেছে। পর্দার চরিত্রের বা’ই’রে বা’স্ত’ব জী’ব’নে’র সঞ্জয়ও ছিলেন এক ভি’ন্ন রূপের মানুষ পা’পা’রা’ৎ’জি’দে’র সঙ্গে মিশতেন খো’লা’মে’লাভাবে, আ’প্যা’য়’ন করতেন, এমনকি কেউ বি’প’দে প’ড়’লে সাহায্যের হাতও বা’ড়ি’য়ে দিতেন। কিন্তু তাঁর জীবনে একসময় নেমে এসেছিল প্র’তি’ব’ন্ধ’ক’তা আর তী’ব্র মা’ন’সি’ক য’ন্ত্র’ণা’র এক অধ্যায় কা’রা’বা’স। সেই সময়টা কতটা ক’ঠি’ন ছিল, তা পরে স্মৃ’তি’চা’র’ণ করতে গিয়ে নিজেই বারবার আ’বে’গ’তা’ড়ি’ত হয়ে পড়েছিলেন তিনি।
১৯৯৩ সালের মুম্বই বি’স্ফো’র’ণ মা’ম’লা’র ত’দ’ন্তে সঞ্জয় দত্তের বাড়ি থেকে একটি একে-৫৬ (AK-56) রা’ই’ফে’ল উ’দ্ধা’র হয়। এই ঘটনার জে’রে তাঁকে পাঁচ বছরের কা’রা’বা’স করতে হয়। জেল থেকে মু’ক্তি পাওয়ার পরে তিনি সংবাদমাধ্যমের সামনে যে অ’ভি’জ্ঞ’তা’র কথা তুলে ধরেন, তা ছিল বি’স্ম’য়’ক’র ও বে’দ’না’দা’য়’ক। অভিনেতার কথায়, কা’রা’গা’রে’র দিনগুলি তাঁর জীবনের সবচেয়ে ক’ষ্ট’ক’র সময়। সেখানে যে ধরনের খা’দ্য দেওয়া হত, তা তিনি মানুষের উ’প’যো’গী বলেই মনে করেননি। এমনকি তাঁর ভাষায় এমন খাবার ‘গা’ধা’ও খাবে না’। প্রতিদিনের শুরু যেন হত অ’স’হা’য় কা’ন্না আর আ’ত্ম’স’ম’র্প’ণে’র অ’নু’ভূ’তি নিয়ে।
সঞ্জয় দত্ত (Sanjay Dutt) জানান, নি’রা’প’ত্তা’গ’ত কারণে তাঁকে দী’র্ঘ সময় ধরে একপ্রকার এ’কা’কী সে’লে রাখা হয়েছিল। প্রায় এক বছর ধরে তাঁর খাদ্য তালিকায় ছিল মূলত ছোলার ডাল। সঙ্গে দেওয়া হত রাজগিরা নামের এক ধরনের ডালজাতীয় খাবার যা, তাঁর দাবি অনুযায়ী, সাধারণত গরু-ছাগলের জন্য ব্যবহৃত হয়। কিন্তু বেঁ’চে থাকার জন্য, শ’রী’রে ন্যূনতম প্রোটিন বজায় রাখার জন্য, বা’ধ্য হয়েই তাঁকে সেগুলো খেতে হত। শুধু তাই নয়, তিনি অ’ভি’যো’গ করেছিলেন খাবারের মধ্যে পো’কা’মা’ক’ড় পর্যন্ত থাকত, তবু সেই অবস্থাতেই তা গ্রহণ করা ছা’ড়া আর কোনও উপায় ছিল না তাঁর।
ও’জ’ন নিয়েও সামনে আসে চ’ম’ক’প্র’দ তথ্য। তিনি বলেন, কা’রা’গা’রে যাওয়ার সময় তাঁর ও’জ’ন ছিল প্রায় ১০০ কেজি। কিন্তু মু’ক্তি পাওয়ার সময় ও’জ’ন নেমে দাঁ’ড়া’য় মাত্র ৪০ কেজিতে। এই শা’রী’রি’ক পরিবর্তনই যেন প্রমাণ দেয় কা’রা’জীবনে তিনি কতটা ক’ষ্ট ও অ’পু’ষ্টি’র মধ্যে ছিলেন।
পরবর্তী এক সাক্ষাৎকারে সঞ্জয় দত্ত ভারতীয় কা’রা-ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অ’ভি’ম’ত, এখনও অনেক জায়গায় ব্রিটিশ আ’ম’লে’র পু’রা’নো নি’য়’মকা’নু’ন’ই কা’র্য’ক’র রয়েছে। ব’ন্দি’দে’র উপর শা’স’নে’র ধরন এমন ছিল যে, মনে হত কা’রা’র’ক্ষী’রা যেন সবসময় ব’ন্দি’দে’র মাথার ওপর বসে আছেন। তিনি প’রি’ষ্কা’রভা’বে জানান কোনও ‘ভিআইপি সুবিধা’ তিনি পাননি। বরং, তাঁর দাবি অনুযায়ী, সাধারণ ব’ন্দি’দে’র তুলনায় তাঁর সঙ্গে আরও ক’ঠো’র আ’চ’র’ণ করা হয়েছিল।
এই সময়টাকে স্ম’র’ণ করতে গিয়ে অভিনেতা জানিয়েছিলেন, প্রতিটি দিন ছিল মা’ন’সি’ক’ভা’বে ভা’ঙ’ন ধ’রা’নো’র মতো। একদিকে ছিল ক’ঠো’র শৃ’ঙ্খ’লা ও সী’মা’ব’দ্ধ’তা, অন্যদিকে অ’স্বা’স্থ্য’ক’র পরিবেশ ও অ’মা’ন’বি’ক খা’দ্য’ব্য’ব’স্থা। তবু তিনি সেই প’রি’স্থি’তি’তে নিজেকে বাঁ’চি’য়ে রেখেছিলেন কেবল একটাই ভেবে তাঁকে টি’কে থাকতে হবে, জীবনে এখনও অনেক পথ বাকি।
সঞ্জয় দত্তের এই অভিজ্ঞতা শুধু কোনও তারকার ব্যক্তিগত কাহিনি নয় এটি ভারতের কা’রা-প’রি’কা’ঠা’মো, ব’ন্দি’দে’র জীবনযাপন, এবং মা’ন’বি’ক ম’র্যা’দা’র প্রশ্নকেও সামনে এনে দেয়। তাঁর বর্ণনায় উঠে এসেছে শা’রী’রি’ক ও মা’ন’সি’ক য’ন্ত্র’ণা, কিন্তু সেই সঙ্গে এক ধরনের দৃ’ঢ়’তা ও বেঁ’চে ফে’রা’র ইচ্ছাও। দীর্ঘ কা’রা’বা’স কা’টি’য়ে বাইরে বেরিয়ে এসে তিনি আবারও কাজে ফিরেছেন, সিনেমায় উপস্থিত হয়েছেন নতুন শ’ক্তি নিয়ে। কিন্তু কা’রা’গা’রে’র সেই অ’ন্ধ’কা’র অ’ধ্যা’য় তাঁর জীবনের স্মৃ’তি’তে রয়ে গেছে এক স্থা’য়ী ছা’প হয়ে যেন মনে করিয়ে দেয়, খ্যা’তি বা সা’ফ’ল্যে’র আ’ড়া’লে লু’কি’য়ে থাকতে পারে কতটা ক’ঠি’ন বা’স্ত’ব’তা’র গল্প।