Saptarshi Maulik:অন্যতম জনপ্রিয় বাংলা নাটকের দল ‘নান্দীকার’-এর একনিষ্ঠ কর্মী সপ্তর্ষি মৌলিক। মঞ্চে অভিনয় করেই দর্শকের নজরে এসেছেন তিনি। সেই থেকে সিনেমায় এবং ওয়েব সিরিজে কাজ করেছেন। তারপর লীন গাঙ্গুলীও কাস্ট করেন তাঁকে। ‘শ্রীময়ী’ ধারাবাহিকে ইন্দ্রাণী হালদারের ছোট ছেলে ‘ডিঙ্কা’র চরিত্রে অভিয়ন করে লাইমলাইট ছিনিয়ে নিয়েছিলেন সপ্তর্ষি। সেই ধারাবাহিক শেষ হওয়ার পর সুযোগ পান ‘এক্কা দোক্কা’ ধারাবাহিকে নায়কের চরিত্রে।
নিজের থেকে ১৪ বছরের বড় অভিনেত্রী সোহিনী সেনগুপ্তকে বিয়ে করেছিলেন সপ্তর্ষি। নিজের চাইতে অনেক বছরের বড় মেয়েকে বিয়ে করায় হাজারও নানান প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় তাঁদেরকে। কম কটাক্ষের শি’কা’র হননি তাঁরা। কিন্তু ভালোবাসা দিয়ে সবকিছুকে আগলে নিয়েছেন সপ্তর্ষি। বর্তমানে ‘গৃহপ্রবেশ’ ধারাবাহিকে অভিনয় করছেন অভিনেতা। কখনও নায়ক তো কখনও খলনায়ক প্রত্যেকটি চরিত্রকেই নিজের দক্ষতা দিয়ে আপন করে নিয়েছেন তিনি।
তবে অভিনেতা সপ্তর্ষি মৌলিকের জীবন খুব সোজা ছিল না। একটা সময় ছিল যখন অভিনেতা পুরোপুরিভাবে নে’শা’য় আচ্ছন্ন ছিলেন। এমন কোনো নে’শা বাদ নেই যে তিনি করতেন না। সেই কঠিন সময়ের কথা মনে পড়লে আজও কেঁ’পে ওঠেন অভিনেতা। এক সাক্ষাৎকারে অভিনেতা জানান, ” একসময় আমি সমস্ত ধরনের ড্রা’গ’স যা যা হয়, সমস্ত নে’শা করেছিলাম। চার পাঁচ বছর ধরে সব ধরনের নে’শা করেছিলাম। এরকমও হয়েছে পাঁচ থেকে ছয় ধরনের নে’শা একসাথে করেছি। নে’শা’র একটা সবথেকে খা’রা’প জিনিস হচ্ছে তুমি যখন নে’শা করবে তুমি ঠিক বন্ধু জুটিয়ে নেবে, যারা নে’শা করে। তারা কিন্তু তোমার বন্ধু নয়, ওই নে’শা’র সময় ওই জায়গার বন্ধুত্ব। তখন আমার শ’রী’রে কিছু ছিল না। হাত-পা মনে হত ছিঁ’ড়ে যাচ্ছে। ব’মি হয়ে যেত, প’টি হয়ে যেত, নিজের উপর কোন নিয়ন্ত্রণ ছিল না। জীবনের ভারসাম্যটাই হারিয়ে গিয়েছিল। আমার একটা স্বভাব আছে যে, আমি যখন যেটা করি একদম চূড়ান্ত পর্যায়ে করি আর যখন সেটা ছেড়ে দি, সেটার দিকে আর ঘুরে তাকাই না।”
এখন অবশ্য তিনি এসব থেকে পুরোপুরি দূরে নিজের কাজ ও সংসার নিয়ে ব্যস্ত তিনি। কখনওই কোনো বাধা নিয়মে আবদ্ধ থাকতে চান না সপ্তর্ষি ও সোহিনী। সমাজের নিয়ম অনুযায়ী বিয়ের পর পরিবার গড়ার কোনও বাধ্যবাধকতাকে তাঁরা কখনই চোখে দেখেননি। কিন্তু তাঁদের সন্তান আছে। জানেন কি তাঁর নাম বা কোথায় থাকে সে? সম্প্রতি এই বিষয়ে সপ্তর্ষি জানিয়েছেন, তাঁদের আদরের সন্তানের নাম ‘বাবু’। আসলে একেবারেই মানব শিশু নয়, বরং একটি শিম্পাঞ্জি। সোহিনী আর সপ্তর্ষি একটি শিম্পাঞ্জিকেই দত্তক নিয়েছেন।
সপ্তর্ষির কথায়, ” বাবু, যে শিম্পাঞ্জি, তাঁর ঠিকানা হচ্ছে আলিপুর চিড়িয়াখানায়। তার যত্নের দায়িত্ব নিয়েছি। বছরের পর বছর ধরে সেখানে তাঁর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য অ’র্থ দিয়ে থাকি। অফিসিয়ালি আমরা ওর দত্তক নেওয়া বাবা-মা।”