Sayak-Rahul: বাংলার বিনোদন জগতে রাহুল অরুণোদয় ব্যানার্জী(Rahul Arunoday Banerjee) বরাবরই ঠোঁটকাটা হিসেবে পরিচিত। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়া সেনসেশন সায়ক চক্রবর্তী(Sayak Chakraborty)-কে কেন্দ্র করে যে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল, তাতে নতুন ঘি ঢাললেন রাহুল। তাঁর সাম্প্রতিক ভিডিওতে তিনি সায়কের কন্টেন্ট তৈরির নীতি থেকে শুরু করে রাজনৈতিক যোগসূত্র সবটা নিয়েই কাটাছেঁড়া করেছেন।
সায়কে নিয়ে করা ভিডিওতে তাঁর বিশেষ ধরণের অঙ্গভঙ্গি বা ‘এফেমিনেট’ আচরণ নিয়ে অনেকেই সমালোচনা করেছেন। অনেকেই তাঁকে ‘মেয়েলি ছেলে’ বলেছেন। রাহুল এই প্রসঙ্গে বলেন, “কেউ এফেমিনেট হওয়াটা তার প্রতিভার স্বাক্ষর বহন করে না।” তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, লিঙ্গগত আচরণ বা বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য দিয়ে কাউকে শিল্পী বিচার করা ভুল। উদাহরণ হিসেবে তিনি প্রয়াত কিংবদন্তি ঋতুপর্ণ ঘোষ (Rituparno Ghosh)এবং বর্তমানের বিশিষ্ট ইন্টারডিসিপ্লিনারি আর্টিস্ট সুজয় প্রসাদ চট্টোপাধ্যায়(Sujoy Prasad Chatterjee)-এর নাম উল্লেখ করেন। রাহুলের মতে, প্রতিভা থাকে কাজে, কেবল আচরণে নয়।
অনেকেই সায়কের পারিবারিক ব্লগ নিয়ে নাক সিঁটকান। তবে রাহুল এখানে কিছুটা উদার। তাঁর মতে, বিনোদন কী হবে তা ঠিক করার মালিক কেউ নন। কেউ যদি নিজের বাড়ির দৈনন্দিন জীবন দেখিয়ে মানুষকে আনন্দ দিতে পারেন এবং লক্ষ লক্ষ মানুষ যদি তা পছন্দ করেন, তবে তাতে আপত্তির কিছু নেই। কিন্তু রাহুলের আসল আপত্তি লুকিয়ে আছে অন্য জায়গায়।
রাহুলের প্রধান অভিযোগ হল, সায়ক এমন ব্যক্তিদের নিয়ে ভিডিও করেন যারা আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া। অভিনেতা বলেন, “আমার কথা হচ্ছে সেই প্রতিভাটাকে বাজারিকরণ করে দেওয়া এবং ভিডিও করা এবং মানুষটাকে এক্সপোজ করে দেওয়া যিনি আর্থিকভাবে পিছিয়ে, এটা নিয়েই আমার আপত্তি।” প্রতিভা বা দারিদ্র্যকে পুঁজি করে ভিউ বাড়ানোকে তিনি কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন।
বির্তকের মূলে ছিল পার্ক স্ট্রিটের বিখ্যাত ‘অলি পাব’। সায়ক দাবি করেছিলেন, তিনি সেখানে ‘মাটন স্টেক’ অর্ডার করে ‘বিফ’ পেয়েছেন। রাহুল নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে জানান, অলি পাবে যে মাটন স্টেক পাওয়া যায় তা মূলত ‘হ্যামবারগার স্টেক’। যেহেতু মটনের অত বড় আস্ত স্টেকের পিস হওয়া কঠিন, তাই মাংস কিমা করে সেই স্টেক বানানো হয়। রাহুলের প্রশ্ন, একজন ফুড ব্লগার হয়েও সায়ক কি কিমা আর আস্ত মাংসের পিসের তফাৎ বোঝেন না? তিনি কি সত্যিই মটন আর বিফ আলাদা করতে পারেন না? তাঁর কথায়,”অলি পাবে মটন স্টেক পাওয়া যায় যেটা হ্যামবারগার স্টেক। মটনের অত বড় স্টেকের পিস হয় না, ফলে সেটাকে কিমা করে একটা স্টেক বানানো হয়। আমি মটন বা গরুর পার্থক্যও বুঝলাম না? আমি মটনের পিস খাচ্ছি না তার কিমা খাচ্ছি সেটা বুঝব না?” রাহুলের ইঙ্গিত স্পষ্ট, সায়ক যা বলছেন তা প্রযুক্তিগতভাবে অসম্ভব বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভুল।
এই গোটা ঘটনার পেছনে একটি গভীর রাজনৈতিক সমীকরণ দেখছেন রাহুল। তিনি ডিজে অরুণ(Arun Naskar), সুকান্ত(Sukanta Kundu) এবং অনন্যা(Ananya Guha)-র নাম উল্লেখ করে জানান যে, এদের সাথে বিজেপির যোগসূত্র রয়েছে। রাহুল দাবি করেন, অনন্যা এবং সুকান্ত প্রথমে মিম পোস্ট করে সায়ককে সমর্থন দিলেও পরে জনরোষের ভয়ে পিছিয়ে আসেন।
সবচেয়ে বিস্ফোরক মন্তব্যটি ছিল অনন্যার দিদি অলকানন্দা(Alokananda Guha)-কে নিয়ে। অলকানন্দা একটি ভিডিওতে দাবি করেছিলেন যে, তাঁর স্কুল জীবনে বন্ধুরা মজা করে খাসির মাংস বলে গরুর মাংস খাইয়ে দিত। এর জবাবে রাহুল বলেন, “আমি অলকানন্দাকে চ্যালেঞ্জ করছি, ওঁ যদি ওর একজন সহপাঠীকেও দেখাতে পারে যে এই দাবির প্রমাণ দিচ্ছে, তবে আমি নিজের নাম বদলে ফেলব।” রাহুল আরও যোগ করেন যে, তিনি ওই পরিবারকে ভালো করে চেনেন এবং অলকানন্দার শ্বশুর আজীবন আরএসএস (RSS)-এর সাথে যুক্ত ছিলেন।
ভিডিওর শেষে রাহুল সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে বলেন, সায়কের এই কর্মকাণ্ডকে যারা হিন্দু ধর্মের রক্ষাকবচ হিসেবে দেখছেন, তারা ভুল করছেন। রাহুলের দাবি, “আপনারা যারা ভাবছেন ওঁ হিন্দু হয়ে এটা করছে, আপনাদের ভুল বোঝানো হচ্ছে। এরা সবটাই করছে টাকার জন্য।” তিনি মনে করেন, ধর্মীয় আবেগকে উস্কে দিয়ে ভিউ এবং অর্থ উপার্জনই এদের আসল লক্ষ্য।
রাহুল অরুণোদয় ব্যানার্জীর এই ধারালো মন্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন করে তর্কের ঝড় তুলেছে। একদিকে সায়কের অনুগামীরা, অন্যদিকে রাহুলের যুক্তিবাদী অবস্থান, টলিউড থেকে ডিজিটাল জগত এখন দুই শিবিরে বিভক্ত।