Sayak Chakraborty:বি”ফ বিতর্কের ঝড় পেরিয়ে দোলের রঙে সায়কের প্রত্যাবর্তন, “রাঙিয়ে দিয়ে যাও, অনেক দিন পর…” – কী বার্তা দিলেন ভক্তদের?

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now
Instagram Group Join Now

Sayak Chakraborty:বেশ কিছুদিন ধরেই সামাজিক মাধ্যমে নীরব ছিলেন অভিনেতা ও ভ্লগার সায়ক চক্রবর্তী(Sayak Chakraborty)। একসময় টলিপাড়ার পরিচিত মুখ হিসেবে যাঁকে নিয়মিত দেখা যেত, সেই সায়ক হঠাৎ করেই যেন আড়ালে চলে গিয়েছিলেন। তবে পুরোপুরি অদৃশ্য হননি। মাঝেমধ্যে তাঁর ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইলে ভেসে উঠেছে প্রকৃতির ছবি আকাশ, গাছপালা, নির্জন দৃশ্য। যেন শব্দহীন এক বিরতি। এরপর ধীরে ধীরে বন্ধুদের ভিডিওতে তাঁর উপস্থিতি নজরে আসে বিশেষ করে অন্যন্যা গুহ(Ananya Guha), সুকান্ত কুন্ডু(Sukanta Kundu) এবং প্রেরণা ভট্টাচার্য(Prarona Bhattacharjee)-র কনটেন্টে। আর অবশেষে দোলের দিনে নিজেই ধরা দিলেন ক্যামেরার সামনে, রঙে রঙিন এক নতুন উপস্থিতিতে।

কিছুদিন আগেই তাঁকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল তীব্র বিতর্ক। অভিযোগ, পার্ক স্ট্রিটের এক নামী রেস্তোরাঁয় তিনি মটন স্টেক অর্ডার করেছিলেন। কিন্তু তাঁর দাবি, পরিবেশন করা হয় বিফ স্টেক। না বুঝেই সেই খাবার খেয়ে ফেলেন তিনি। পরে বিষয়টি জানতে পেরে তা নিয়ে ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করেন। সেখানেই ওয়েটারের ধর্মীয় পরিচয় প্রসঙ্গে মন্তব্য করেন এবং বলেন, “আমি ব্রাহ্মণ, আপনি আমাকে গো মাতা খাওয়ালেন”। এই মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয় প্রবল সমালোচনা। সোশ্যাল মিডিয়ায় নেটিজেনদের একাংশ তাঁর বক্তব্যকে কটাক্ষ করে এবং তাঁকে ট্রোলের মুখে পড়তে হয়। মুহূর্তের মধ্যে বিষয়টি ভাইরাল হয়ে ওঠে, তৈরি হয় মতভেদের ঝড়।

এই ঘটনার পর থেকেই সামাজিক মাধ্যম থেকে খানিকটা দূরে সরে যান সায়ক। নিয়মিত ভিডিও বা লাইভ দেখা যায়নি। তাঁর ফলোয়ারদের অনেকেই তখন প্রশ্ন তুলেছিলেন এ কি সাময়িক বিরতি, না কি দীর্ঘ নীরবতা? যদিও মাঝে কয়েকটি ছবি পোস্ট করেছিলেন, কিন্তু সেখানে তিনি নিজে অনুপস্থিত। বরং প্রকৃতির দৃশ্যের মাধ্যমে যেন নিজেকে আড়ালেই রেখেছিলেন। তারপর ধীরে ধীরে বন্ধুমহলের ভিডিওতে তাঁর উপস্থিতি চোখে পড়ে। ফলে অনুরাগীদের একাংশ বুঝতে পারেন, তিনি হয়ত আবার ফিরতে চলেছেন।

আরও পড়ুন:Shankar Ghosal:“নাতি মাথায় ঘুষি মে’রে’ছে, ছেলে লাঠি.. ” – ৭৫ বছরের বৃদ্ধ বাবাকে ঘু’ষি, লাঠি—ছেলে-নাতির হাতে নিত্য নি’র্যা’ত’নে’র অভিযোগ বর্ষীয়ান অভিনেতা শঙ্কর ঘোষালের

অবশেষে দোলের দিনে সেই প্রত্যাবর্তন। মঙ্গলবার নিজের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে একগুচ্ছ ছবি পোস্ট করেন সায়ক। সাদা সুতোর কাজ করা সাদা শার্ট ও নীল সুতোর কাজ করা ট্রাউজারে তাঁকে দেখা যায় বসন্তের আমেজে। হাতে নীল ব্যান্ডের ঘড়ি, চোখে রোদচশমা, গলায় ও হাতে পলাশের মালা। গালে গোলাপি আবিরের রং, ঠোঁটে হাসি। সবচেয়ে নজর কাড়ে তাঁর হাতে ধরা বাঁশি যেন বসন্তের এক প্রতীকী রূপক। ছবিগুলির ক্যাপশনে তিনি লেখেন, “রাঙিয়ে দিয়ে যাও, অনেক দিন পর ইনস্টাগ্রামেতে।” সংক্ষিপ্ত এই বার্তাতেই যেন ছিল ফিরে আসার ইঙ্গিত।

ছবি প্রকাশ্যে আসতেই ভরে যায় কমেন্ট বক্স। ভক্তরা তাঁকে দোলের শুভেচ্ছা জানান, কেউ লেখেন ‘ওয়েলকাম ব্যাক’, কেউ আবার বলেন ‘মিস করছিলাম’। বিতর্কের পর এই প্রথম তাঁকে এতটা উজ্জ্বল, হাসিখুশি মেজাজে দেখা গেল। অনেকে মনে করছেন, এ যেন নতুন করে শুরু করার প্রচেষ্টা।
একসময় বাংলা টেলিভিশনের একাধিক জনপ্রিয় ধারাবাহিকে অভিনয় করেছেন সায়ক চক্রবর্তী। টলিপাড়ায় তাঁর পরিচিতি ছিল যথেষ্ট। তবে সাম্প্রতিক সময়ে অভিনয়ের চেয়ে ভ্লগিংয়েই বেশি সক্রিয় ছিলেন তিনি। তাঁর কনটেন্টের পরিধি বিস্তৃত কখনও ব্যক্তিগত রোজনামচা, কখনও শাড়ি, গয়না বা বিউটি প্রোডাক্টের ব্র্যান্ডিং, কখনও আবার রেস্তোরাঁর ফুড রিভিউ। এই বহুমুখী কনটেন্টের মাধ্যমেই গড়ে উঠেছে তাঁর বিশাল ফলোয়ার বেস। বর্তমানে তাঁর ফলোয়ার সংখ্যা প্রায় ১.৪ মিলিয়ন।

আরও পড়ুন:Shaheb-Susmita:”যাও, সাইন করো আমার হিরো” – ‘আমার হিরো’ ট্যাগে জোর গুঞ্জন! সাহেব ভট্টাচার্য-র নতুন মেগার প্রোমো শেয়ার করে প্রেমের ইঙ্গিত দিলেন সুস্মিতা দে?

তবে বিফ-সংক্রান্ত মন্তব্যের পর সেই জনপ্রিয়তার উপরেই প্রশ্নচিহ্ন উঠেছিল। অনেকেই তাঁর বক্তব্যের সমালোচনা করেন, আবার কেউ কেউ সমর্থনও জানান। বিতর্ক যতটা খাদ্য পরিবেশন নিয়ে, তার থেকেও বেশি আলোচনায় উঠে আসে ধর্মীয় পরিচয় টেনে আনার বিষয়টি। ফলে ঘটনাটি নিছক রেস্তোরাঁর ভুল পরিবেশন নয়, বরং বৃহত্তর সামাজিক পরিসরে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।
এই প্রেক্ষাপটে দোলের দিনে রঙে রাঙা সায়কের প্রত্যাবর্তন অনেকের কাছেই তাৎপর্যপূর্ণ। বসন্তের উৎসব, রঙের আবহ আর ‘রাঙিয়ে দিয়ে যাও’ বার্তা সব মিলিয়ে যেন এক নতুন সূচনার ইঙ্গিত। যদিও তিনি সরাসরি বিতর্ক প্রসঙ্গে কিছু বলেননি, তবুও সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর সক্রিয় প্রত্যাবর্তনই অনেক প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে বলে মনে করছেন অনুরাগীরা।

এখন দেখার বিষয়, এই কামব্যাকের পর তিনি আগের ছন্দে ফিরতে পারেন কি না। বিতর্কের আঁচ পেরিয়ে আবার কি আগের মতোই দর্শকের ভালোবাসা ফিরে পাবেন? নাকি এই ঘটনাই তাঁর ডিজিটাল ইমেজে স্থায়ী প্রভাব ফেলবে? আপাতত দোলের রঙে সেজে তিনি যেন স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি ফিরেছেন। আর তাঁর ভক্তরাও অপেক্ষায়, এবার কী নতুন কনটেন্ট নিয়ে হাজির হন সায়ক চক্রবর্তী।

Leave a Comment