Sayak Chakraborty: অভিনেতা সায়ক চক্রবর্তী, শুধু কি অভিনয় পাশাপাশি একজন কন্টেন্ট ক্রিকেটারও তিনি। জীবনের অনেক ওঠাপড়ার মধ্যে দিয়ে গিয়েছেন সায়ক। একসময় নিতান্তই অভাবের মধ্যে কাটিয়েছিলেন তিনি। দিনের পর দিন অর্থকষ্টে দিন কেটেছিল সায়ক এবং গোটা পরিবারের। তবে আজ নিজের জীবনে আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছেন সায়ক। তাঁর জীবনের নানা অজানা কথা থেকে শুরু করে জীবনের যেকোনও ছোটখাটো মুহূর্ত তিনি ভাগ করে নেন সমাজ মাধ্যমের বন্ধুদের সঙ্গে। তবে এবার জীবনের আর এক কঠিন সত্যের কথা জানালেন তিনি। কিভাবে স্কুলে তাঁর উপর ক্লাসের অন্যান্য ছাত্ররা অত্যাচার করেছিল সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন সায়ক।
ছোটবেলায় স্কুলে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনার কথা উল্লেখ করে সায়ক বলেন, “বেশ কয়েকদিন ধরে ইনস্টা ও ফেসবুক থেকে অনেক মেসেজ আসছে। ‘কিরে ভাই রিপ্লাই দিচ্ছিস না? আরে চিনতে পারছিস না আমি তোর স্কুলের বন্ধু, সোনারপুর বিদ্যাপীঠে একসাথে পড়তিস ভুলে গেলি ভাই? সেলিব্রিটি হয়ে গেলে এই হয়, ভুলে যায়,পাত্তা দেয় না। কিরে তোকে কবে থেকে ফোন করছি, জানিস না আমার পাড়ার প্রোগ্রাম রয়েছে, তোকে ডাকার চেষ্টা করছি। তোকে টাকা দেব,আয়! আমার বিয়ে আছে, আমার বউ তোকে খুব পছন্দ করে,তুই কি আসবি আমার বিয়েতে?’ এই ধরনের মেসেজ আমার কাছে আসছে কিছুদিন ধরে। তাদের দাবি তারা নাকি আমার স্কুলের বন্ধু। তারা সবাই আমার বন্ধু বলে দাবি করছে। যারা মেসেজ করছ তাদের উদ্দেশ্যে বলি, আমার কোনো বন্ধু ছিল না স্কুলে। মাত্র দু’জন ছাড়া আমার স্কুলে কোনো বন্ধু ছিল না। সুতরাং, তোমরা যারা লেখ বা লিখছ, বিশ্বাস করো আমি তোমাদের কখনই বন্ধু ছিলাম না। তোমরা যারা আমাকে মেসেজ করছ, তোমরা প্রচুর আমাকে স্কুলে টর্চার করেছিলে। আমার স্কুল জীবনটা দুর্বিষহ করে তুলেছিল। আমার স্কুল জীবন সবথেকে জঘন্য ছিল।
আমার স্কুল জীবনটা এতটা বাজে কেটেছে বলে বোঝাতে পারব না। সোনারপুর বিদ্যাপীঠের স্যার ম্যাডামরা ভীষণ ভালো। স্কুলের ম্যাম, স্যাররা আমাকে ভীষণ ভালবাসলেও আমি যেহেতু খুব লাজুক ছিলাম তাই আমার সহপাঠীরা ভীষণভাবে টর্চার করত আমাকে। আমি ফার্স্ট বেঞ্চে বসতাম পড়াশোনায় ভালো তার জন্য নয় কারণ পিছনে যারা বসে থাকত তারা আমার ওপর রীতিমতো অত্যাচার করত। তাদের সাথে বসব না বলে সবার আগে স্কুলে গিয়ে ফার্স্ট বেঞ্চে বসতাম। মাথায় চা মেরে চলে যেত, পিছনে চুল ধরে টানত, প্রচন্ড অত্যাচার করেছে। আমার স্কুল জীবন একদমই ভালো কাটেনি। যে মানুষটার পুরো স্কুল জীবন তোমরা নষ্ট করছ তাকে তোমরা এইভাবে ডাকছ? আর ভাবছ সে যাবে! ‘টাকা দেব তো’ কি ধরনের কথা? তোমরা যারা আমাকে বলছ, আমি তো স্কুলের বন্ধু, বিশ্বাস কর তোমরা কেউ আমার বন্ধু নও। আমার স্কুলের শত্রু বললেও, তাও কম বলা হবে। একটা বাচ্চা ছেলের স্কুল জীবনটাকে নষ্ট করেছ তোমরা।
খুব ইচ্ছে করছে তোমাদের নামগুলোকে বলে দিতে। কিন্তু ঠিক আছে এখন অনেকদিন হয়ে গেছে। আর ক্ষমাই তো পরম ধর্ম। তোমাদের সাথে ভালো যোগাযোগ রাখতে চাই না, কারণ তোমরা এতটাই খারাপ। আমি আশা করছি তোমাদের ছেলে মেয়েদের সাথে এই একই ঘটনা ঘটুক, তাদের সাথেও এরকম কেউ করুক। একটা সময় তোমরা আমার সঙ্গে যা করেছ তোমাদের ছেলেমেয়েদের হাত ধরে তোমাদের সেই কর্ম আবার ফিরে আসবে। তোমরা সেটা অনুভব করো একটা স্কুলের ছেলের সাথে তোমরা যে টর্চারটা করতে সেটা খারাপ করতে।”
একটা সময় ভীষণ লাজুক প্রকৃতির ছিলেন সায়ক। যদিও আজ অন্যায়ের প্রতিবাদ করার সাহস এসেছে তাঁর। তাই একসময় তাঁর সঙ্গে ঘটে যাওয়া সমস্ত অন্যায়ের প্রতিবাদ এইভাবেই করলেন তিনি।