Sayak Chakraborty:“কী ফালতু লাগছে, কী ড্রেসআপ!” মা–বাবাকে ‘বুড়ো–বুড়ি’ ক’টা’ক্ষে ফুঁ’সে উঠলেন সায়ক চক্রবর্তী – কঠোর জবাবে ট্রো’লা’র’কে তুলোধোনা”

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now
Instagram Group Join Now

Sayak Chakraborty:অভিনেতা সায়ক চক্রবর্তী (Sayak Chakraborty) শুধু টেলিভিশনের পর্দাতেই নয়, আজকাল সোশ্যাল মিডিয়াতেও সমান জনপ্রিয়। তাঁর দৈনন্দিন জীবনের নানান মুহূর্ত, পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো সময় সবটাই ধরা পড়ে তাঁর নেটদুনিয়ার পোস্টে। স্বচ্ছ ও খোলামেলা স্বভাবের জন্যই অনেকেই তাঁর কনটেন্ট পছন্দ করেন। কিন্তু সেই পরিবারকেন্দ্রিক এক পোস্টকে ঘিরেই এবার তৈরি হল বি’ত’র্ক, উঠে এল তী’ব্র ক’টা’ক্ষ, আর তারই জবাবে ক্ষো’ভ উগরে দিলেন সায়ক।

সম্প্রতি তিনি নিজের মা-বাবার একটি ছবি শেয়ার করেন। ২৬ ডিসেম্বর পোস্ট করা সেই ছবিতে দেখা যায়, সায়কের বাবা পরেছেন নীল পাঞ্জাবি, আর তাঁর মায়ের গায়ে নীল শাড়ি। দু’জনকেই বেশ সুখী ও স্বচ্ছন্দ লাগছিল। সেই ছবির ক্যাপশনে সায়ক লেখেন, এমন এক ভা’লো’বা’সা’র গল্পের কথা যেখানে নানা ও’ঠা’প’ড়া, ভা’লো-খা’রা’প অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েও মা এখনও বাবার হাত ধরে রয়েছেন। সায়কের কথায়, তাঁর মাতামহ নাকি বলতেন, “যে সয়, সে রয়” আর সেই কথাকেই জীবনে মান্যতা দিয়েছেন তাঁর মা। বর্তমান সময়ে এমন সম্পর্ক ক’জনই বা ধরে রাখতে পারেন এই আ’ক্ষে’প’ও ঝরে পড়ে তাঁর লেখায়। সেই কারণেই তিনি প্রার্থনা করেছিলেন, যেন সব মা-বাবাই এমন সম্পর্কের মায়াজালে আবদ্ধ থাকেন।

কিন্তু এই আবেগঘন পোস্টেরই কমেন্ট বক্সে এক মহিলা করে বসেন অত্যন্ত কুরুচিকর মন্তব্য। সায়কের মা-বাবার বয়স ও চেহারা নিয়ে তিনি লেখেন, “কী ফালতু লাগছে, কী ড্রেসআপ… যেমন বুড়ি, তেমন বুড়ো। দাঁত নেই, গাল শুকনো পাঁপড়ের মতো।” এমন ব্যক্তিগত আ’ক্র’ম’ণ সাধারণত নেটদুনিয়ায় নতুন নয়, কিন্তু মা-বাবাকে নিয়ে এমন অ’শা’লী’ন মন্তব্য দেখা মাত্রই ক্ষো’ভ চেপে রাখতে পারেননি সায়ক।
তিনি সরাসরি জবাব দিয়ে লেখেন “আপনি এযুগের মানুষরূপী অ’মা’নু’ষ। দু’-দিন বাদে আপনিও বুড়ি হবেন। সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করি, যেন নিজের মুখ আয়নায় দেখে আপনি নিজেই আঁতকে ওঠেন।”

আরও পড়ুন:Anirban Bhattacharya:গানে রাজনীতি, তারপরই কপালে শুনানির নোটিস! অনির্বাণ ভট্টাচার্যের জীবনে অপ্রত্যাশিত মোড়

এছাড়াও সেই মহিলার সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইলের ছবি দিয়ে সায়ক লেখেন, “এযুগের মানুষ রূপী অমানুষ!
চিনে নিন আপনার আমার পাশেই মানুষ সেজে ঘুরছে হয়তো!
এনারও পরিবার স্বজন আছে নিশ্চয়ই, বাড়ির ঠিকানা টা দিন, খুব ইচ্ছে সামনে গিয়ে ২ টি কাঁচা খি’স্তি মেড়ে আসি।”

তাঁর এই প্রতিক্রিয়াতে স্পষ্ট, পরিবারকে নিয়ে আ’ঘা’ত তিনি কোনওভাবেই স’হ্য করবেন না। একজন সন্তানের কাছে বাবা-মায়ের সম্মানই সবার আগে সেটাই যেন আরেকবার মনে করিয়ে দিলেন অভিনেতা।

আরও পড়ুন:Hrithik Roshan:রোশন পরিবারে বিয়ের আসরে ‘ভবিষ্যৎ বউ’ সাবা? ১৭ বছরের ছোট প্রেমিকার হাত ধরে হাজির হৃতিক

শুধু একটা পরিবারের ছবি নয়, এই মন্তব্যে আসলে যেন উঠে আসে সায়কের মায়ের জীবনের দীর্ঘ সং’গ্রা’মে’র গল্পও। রেখা চক্রবর্তী সায়কের মা, দুই ছেলেকে মানুষ করতে জীবনের বহু ক’ঠি’ন সময়ের মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। একসময় এমন অবস্থা হয়েছিল যে দু’বেলা ঠিকমতো খাবার জোগাড় করাই ছিল দুঃসাধ্য। আ’র্থি’ক টা’না’পো’ড়ে’ন, সংসারের চাপ সব মিলিয়ে জীবন তখন ভীষণ ক’ঠি’ন। সেই সময়ে খুব বেশি মানুষের সহায়তাও জোটেনি, হাতেগোনা কয়েকজন আত্মীয়ই পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন।

এর মাঝেই এমন এক পর্ব এসেছিল, যখন পারিবারিক টা’না’পো’ড়ে’নে’র জেরে সায়কের বাবা বাড়ি ছেড়ে চলে যান। দীর্ঘ সময় বি’চ্ছে’দে’র সেই অধ্যায় কাটিয়ে পরে অবশ্য তিনি ফিরে আসেন পরিবারের কাছে। কিন্তু ততদিনে একাই দুই সন্তানকে আঁকড়ে ধরে দাঁড়িয়ে গিয়েছেন রেখা। সন্তানদের শিক্ষার খরচ চালাতে কখনও নিজের গয়না বি’ক্রি করেছেন, কখনও নিজের ইচ্ছেপূরণ বিসর্জন দিয়েছেন। তাঁর কাছে তখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব ছেলেদের মানুষ করা, তাদের ভবিষ্যৎ গড়ে দেওয়া।

আরও পড়ুন:Sweta Bhattacharya:”আমি যদি কাউকে আমার গ’র্ভে ধারণ করতে পারি সেটা আমার কাছে খুব সৌভাগ্যের, প্রথম দু’তিন মাস জানাব না…”, ‘অ’ন্তঃ’স’ত্ত্বা’ অভিনেত্রী শ্বেতা? কতটা সত্যি এই খবর? নিজের মুখেই জানালেন অভিনেত্রী

আজ পরিস্থিতি বদলেছে। সায়ক ও তাঁর ভাই দু’জনেই নিজের জগতে প্রতিষ্ঠিত। কৃতজ্ঞতা আর ভা’লো’বা’সা’য় তাঁরা আজ তাঁদের মায়ের পাশে। শৈশবে যিনি অক্লান্ত পরিশ্রমে সন্তানদের বড় করেছেন, এখন তাঁর প্রতিটি ইচ্ছেপূরণে কোনও খামতি রাখেন না তাঁরা। হয়ত সেই কারণেই মা-বাবাকে নিয়ে করা মন্তব্যটাকে ব্যক্তিগত আ’ক্র’ম’ণ নয়, অ’প’মা’ন হিসেবে দেখেছেন সায়ক এবং তাই তাঁর প্রতিক্রিয়া এতটাই তীব্র।

নেটদুনিয়ায় ট্রোলিং এখন এক চেনা বাস্তবতা। বয়স, শরীর, চেহারা যে কোনও বিষয়েই সহজেই কটাক্ষ ছুড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু কোনও সাধারণ মানুষ নয়, নিজের বাবা-মাকে নিয়ে এমন অসম্মানজনক কথা তা স্বাভাবিকভাবে মেনে নেওয়া কোনও সন্তানের পক্ষেই সম্ভব নয়। সায়কের জবাব হয়তো প্রখর, কিন্তু তার মধ্যেই ছিল পরিবারের প্রতি অকৃত্রিম ভালবাসা আর মর্যাদা রক্ষার দৃঢ়তা।

এই ঘটনাটি আবারও মনে করিয়ে দিল সোশ্যাল মিডিয়ার স্ক্রিনের আড়ালে বসে লেখা প্রতিটি কথারও একটা প্রভাব থাকে। কারও পরিবার, কারও সম্পর্ক, কারও আত্মসম্মান তাতে আঘাত লাগতে পারে। আর তাই, কটাক্ষের বদলে সম্মান শেখাই হয়তো সমাজকে আরও মানবিক করে তুলবে। সায়ক চক্রবর্তীর এই ঘটনার মধ্য দিয়ে সেই কথাই যেন আরও একবার সামনে এলো।

Leave a Comment