Hiraan Chatterjee:বেনারসে হিরণের ‘সিক্রেট’ বিয়ে, বিস্ফোরক প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now
Instagram Group Join Now

Hiraan Chatterjee: মঙ্গলবার বিকেলে যখন গঙ্গার ঘাটে পড়ন্ত রোদে বেনারসী সাজে ঋত্বিকা গিরির সিঁথিতে সিঁদুর দান করছিলেন খড়গপুরের বিজেপি বিধায়ক তথা অভিনেতা হিরণ্ময় চট্টোপাধ্যায় (Hiranmoy Chattopadhyaya)ওরফে হিরণ , তখন টলিউড থেকে রাজনীতি সর্বত্রই আলোচনার তুফান উঠেছিল। কিন্তু সেই আ’গু’নে’র শিখা দাবানলে পরিণত হলো যখন পর্দার ‘হিরো’র প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায় মুখ খুললেন।

“ডিভোর্স তো দূরস্ত, বিচ্ছেদের প্রক্রিয়াও শুরু হয়নি! ওটা পুরোপুরি বেআইনি,” এই এক কথাতেই হিরণের দ্বিতীয় বিয়ের আইনি বৈধতাকে কার্যত নস্যাৎ করে দিলেন অনিন্দিতা। দীর্ঘ ২৫ বছরের দাম্পত্য, ১৯ বছরের এক সন্তান এবং একরাশ মানসিক য’ন্ত্র’ণা বুকে নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে বোমা ফাটালেন তিনি। তাঁর দাবি, গত মাসেই তাদের বিয়ের ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে, অথচ এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে তাকে দেখতে হচ্ছে স্বামীর ‘দ্বিতীয় বিয়ের’ ভাইরাল ছবি।

হিরণের বিয়ের ছবি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই টলিপাড়ায় প্রশ্ন উঠেছিল, হিরণ কি তবে ডি’ভো’র্সি? এই প্রশ্নের উত্তর অনিন্দিতা দিয়েছেন অত্যন্ত কড়া ভাষায়। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ২০০০ সালের ১১ই ডিসেম্বর তাদের বিয়ে হয়েছিল। ভালোবেসে সাতপাকে বাঁধা পড়েছিলেন দুজনে। অনিন্দিতার বয়স তখন ছিল মাত্র ১৮, আর হিরণের ২৪।

অনিন্দিতার কথায়, “সবচেয়ে বড় কথা ডি’ভো’র্স হয়নি, ফাইলও হয়নি আমাদের। আমি যখনই ডি’ভো’র্সে’র কথা বলেছি, ওঁ বলেছে ‘তুমি ডি’ভোর্স চেও না, আমি ডিভো’র্স চাই না’।” অনিন্দিতার এই দাবি যদি সত্যি হয়, তবে ভারতীয় দণ্ডবিধি অনুযায়ী প্রথম স্ত্রী জীবিত থাকাকালীন এবং বিবাহবিচ্ছেদ না হওয়া পর্যন্ত দ্বিতীয় বিবাহ আইনত দ’ণ্ড’নী’য় অপরাধ। ফলে বেনারসের ঘাটে ঋতিকার গলায় পরানো মঙ্গলসূত্র কি কেবলই লোক দেখানো? নাকি হিরণ কোনো বড় আইনি জটিলতায় পড়তে চলেছেন, তা নিয়ে জ’ল্প’না তুঙ্গে।

আরও পড়ুন:Debolinaa-Sayak:”সায়ককে এর মধ্যে টানবেন না, যদি আমাকে ম’*’তে হয় আমি ম* যাব, কিন্তু সংসার ভা’ঙ’তে চাই না, মানুষটাকে আমি ছাড়তে চাই না, আমি এখনও ওর জন্য অপেক্ষা করছি…” ভিডিওতে কা’ন্না’য় ভে’ঙে পড়লেন দেবলীনা, সায়ক ও তাঁকে নিয়ে চলা কু’রু’চি’ক’র ম’ন্ত’ব্যে’র জ’বা’ব’ও দিলেন তিনি

হিরণের দ্বিতীয় স্ত্রী ঋত্বিকা গিরিকে নিয়ে অনিন্দিতার ক্ষো’ভ আরও তীব্র। জানা যাচ্ছে, ঋত্বিকা হিরণের মেয়ে নিয়াসার চেয়ে মাত্র দু-এক বছরের বড়। যেখানে নিয়াসার বয়স ১৯, সেখানে তার সমবয়সী এক তরুণীকে হিরণ বিয়ে করেছেন শুনে স্তম্ভিত অনিন্দিতা। তাঁর কথায়,“মেয়েটা আমার মেয়ের বয়সী, ছি!” এবং তিনি অত্যন্ত তিক্ততার সাথে বলেন, “মেয়েটা বোকা অথবা ভীষণ শয়তান। ১৭-১৮ বছর বয়স থেকে যদি একটা মেয়ে ৫০ বছরের লোকের কাছে চলে যায়, সে কী লেভেলের মেয়ে হতে পারে তা তো তোমরাও জানো আর আমিও জানি।” অনিন্দিতার দাবি, হিরণ আগে এই সম্পর্কের কথা অস্বীকার করেছিলেন। মেয়ে যখন জানতে চেয়েছিল, তখন হিরণ বলেছিলেন, “এটা ফেক, মেয়েটা আমাকে ব্ল্যাকমেইল করছে।” কিন্তু বেনারসের বিয়ের ছবি সামনে আসতেই সেই মিথ্যেটা তাসের ঘরের মতো ভে’ঙে পড়েছে।

এই গোটা ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষ’তি’গ্র’স্ত হয়েছে হিরণ ও অনিন্দিতার ১৯ বছরের মেয়ে নিয়াসা। অনিন্দিতা অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে জানান, বাবার এই কীর্তিতে তাদের মেয়ের চোখ ফুলে গেছে কান্নায়। নিজের পরিচয় নিয়ে লজ্জিতবোধ করছে সে।

আরও পড়ুন:Maitreyee Mitra:”এই অবস্থাটা সকলের সামনে আনাটা কি খুব দরকার ছিল? আদৌও কি স্যান্ডির ভালো হবে? যিনি করেছেন বিষয়টা সম্পূর্ণ তাঁর উপর…” ফেসবুকে স্যান্ডিকে নিয়ে পোস্ট করায় লাগাতার কটাক্ষের মুখে মৈত্রেয়ী মিত্র,পরোক্ষভাবে কার দিকে আঙ্গুল তুললেন অভিনেত্রী?

অনিন্দিতার অভিযোগ, “এত বাজে বাবা কারোর হতে পারে যে নিজের সন্তানকেই ভালোবাসে না? ওর মনে একটা দাগ লেগে গেছে… বাবার হঠাৎ এমন রূপ দেখে ও অবাক।” তিনি আরও যোগ করেন যে, হিরণ কোনোদিন বাবার দায়িত্ব ঠিকঠাক পালন করেননি। এমনকি আর্থিক সাহায্যও করেননি বলে অভিযোগ তার। অনিন্দিতার মতে, হিরণ হয়ত সচেতনভাবেই তাঁকে আর্থিকভাবে দুর্বল করে রেখেছিলেন যাতে তিনি কোনো আইনি পদক্ষেপ নিতে না পারেন।

বিজেপি বিধায়কের স্ত্রী হওয়ার সুবাদে অনিন্দিতা গত কয়েক বছর ধরেই নিজেকে আড়ালে রেখেছিলেন। কিন্তু সেই আড়ালের গল্পটা ছিল ভয়াবহ মানসিক য’ন্ত্র’ণা’র। অনিন্দিতার দাবি, গত দুই-তিন বছর ধরে তিনি এবং তার মেয়ে অকথ্য মানসিক নির্যাতনের শি’কা’র।

তার কথায়, “আমি অত্যন্ত য’ন্ত্র’ণা’র মধ্যে ছিলাম। মানসিক য’ন্ত্র’ণা’র তো কোনো ভাষা হয় না। লোকে জানে না যে ও কতটা বাজে লোক। ২৫ বছর ঘর করার পর আজ মনে হচ্ছে আমি লোকটাকে চিনতেই পারিনি।” এমনকি সোশ্যাল মিডিয়াতেও হিরণ তাকে ব্লক করে রেখেছেন বলে জানান তিনি। বিধায়ক হওয়ার পর ক্ষ’ম’তা’র দাপট দেখিয়ে অনিন্দিতাকে চুপ করানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। অনিন্দিতা বলেন, “আমি যখন বলেছি বড় স্টেপ নিতে পারি, তখন ওঁ বলেছে ‘ওরকম সবাই করে। তুমি কাকে বলতে যাবে, সবারই তো নাম এরকমই খারাপ’।”

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে খড়গপুর সদর কেন্দ্র থেকে যখন হিরণ লড়ছিলেন, তখন ছায়ার মতো তার পাশে ছিলেন অনিন্দিতা। এক মাস খড়গপুরে থেকে প্রচার থেকে শুরু করে মেন্টাল সাপোর্ট—সবই দিয়েছিলেন তিনি। আজ সেই দিনগুলোর কথা মনে করে অনিন্দিতার আ’ক্ষে’প, “মানুষ কত বেইমান হয় আমরা তো সবাই জানি।”

তিনি জানান, ২০২৪ সালেও তারা কলকাতার আরবানা আবাসনে একসাথে থেকেছেন। তাদের দাম্পত্য যে বজায় ছিল, তার প্রমাণ আবাসন কর্তৃপক্ষ বা প্রতিবেশীদের কাছে রয়েছে। অথচ বিধানসভা নির্বাচনের আগে বা তার পরবর্তী সময়ে হিরণ নিজের ব্যক্তিগত জীবনকে এমনভাবে বদলে ফেলবেন, তা কল্পনাও করতে পারেননি অনিন্দিতা।

এতদিন মেয়ের সম্মান এবং নিজের মর্যাদার কথা ভেবে চুপ থাকলেও, এখন আর পিছু হটতে রাজি নন অনিন্দিতা। তিনি সাফ জানিয়েছেন, যারা তাকে ভালোবাসেন এবং গাইড করেন, সেই সব ‘বড়লোক’দের সাথে কথা বলে তিনি খুব শীঘ্রই কড়া আইনি পদক্ষেপ নেবেন।

অনিন্দিতার বয়ানে কয়েকটি চাঞ্চল্যকর দিক উঠে এসেছে। প্রথমত, বিয়ে অবৈধ – যেহেতু ডি’ভো’র্স হয়নি, তাই দ্বিতীয় বিয়েটি ইনভ্যালিড অর্থাৎ মূল্যহীন। দ্বিতীয়ত, প্রতারণা – স্বামী হিসেবে বিশ্বাসভঙ্গ এবং অন্য মহিলার সাথে পরকীয়া। এবং তৃতীয়ত, মানসিক নির্যাতন- দীর্ঘ সময় ধরে স্ত্রী ও সন্তানকে ট্রমার মধ্যে রাখা।

যদি অনিন্দিতা ডি’ভো’র্স না হওয়া সত্ত্বেও দ্বিতীয় বিয়ের দায়ে হিরণের বিরুদ্ধে মামলা করেন, তবে বিপাকে পড়তে পারেন এই তারকা বিধায়ক। রাজনৈতিক মহলের মতে, দুর্নীতির অভিযোগের পর এবার ব্যক্তিগত চারিত্রিক নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়া হিরণের ক্যারিয়ারে বড়সড় ধাক্কা দিতে পারে।

বেনারসের গঙ্গার ঘাটে মঙ্গল আরতির মাঝে যে বিয়ের পিঁড়িতে হিরণ বসেছিলেন, তা কি তাঁর জীবনের নতুন শুরু নাকি পতনের আরম্ভ? অনিন্দিতার চোখে এখন আর জল নেই, আছে প্রতিবাদের ভাষা। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, “এই লোকটার সাথে দূরে থাকাই আমার আর আমার মেয়ের জন্য ভালো।”

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া লাল বেনারসি পরিহিত ঋত্বিকা এবং ধুতি-পাঞ্জাবিতে হিরণের সেই সুখী মুহূর্তের ছবির নীচে এখন জমা হচ্ছে হাজার হাজার প্রশ্ন। যার একটিরও উত্তর এখনও পর্যন্ত হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে পাওয়া যায়নি। টলিপাড়ার ‘চকলেট বয়’ থেকে রাজনীতির ‘হেভিওয়েট’ হিরণের এই রূপান্তর কি তবে বেইমানির কালিমায় ঢাকা পড়বে?

Leave a Comment