Shamik Adhikary:সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘ননসেন’(Nonsane) নামে পরিচিত জনপ্রিয় ইউটিউবার শমীক অধিকারী(Shamik Adhikary)-র বিরুদ্ধে উঠল গুরুতর অভিযোগ। এক তরুণীকে প্রায় ১২ ঘণ্টা আটকে রেখে শা’রী’রি’ক ও যৌ’ন হে’ন’স্থা করার অভিযোগে বৃহস্পতিবার বেহালা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। বিষয়টি ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে রাজনৈতিক মহল সব জায়গাতেই শুরু হয়েছে তীব্র চর্চা।
অভিযোগকারিণী ২২ বছরের ওই তরুণীর দাবি, শমীক অধিকারী তাঁর ইচ্ছের বিরুদ্ধে তাঁকে আটকে রেখেছিলেন। শুধু তাই নয়, ওই সময় তাঁর উপর শা’রী’রি’ক নি’র্যা’ত’ন চালানো হয় বলেও অভিযোগ। তরুণীর বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছে গত ২ ফেব্রুয়ারি রাত থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর সন্ধ্যা পর্যন্ত। এই সময় সীমার মধ্যে প্রায় ১২ ঘণ্টা বেহালা এলাকার একটি আবাসনে তাঁকে আটকে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ।
তরুণীর অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ব্যক্তিগত বিবাদ থেকেই ঘটনার সূত্রপাত। সেই বিবাদের জেরেই তাঁকে মারধর করা হয় এবং একাধিকবার হুমকি দেওয়া হয়। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে তিনি মানসিক ও শারীরিকভাবে ভেঙে পড়েন বলে অভিযোগ পত্রে উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি, ওই তরুণী শমীকের বিরুদ্ধে যৌ’ন নি’র্যা’ত’নে’র অভিযোগও তুলেছেন, যা এই মামলাকে আরও গুরুতর করে তুলেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগ দায়ের হওয়ার পরই বেহালা থানার পক্ষ থেকে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগপত্রের ভিত্তিতে প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে। তরুণীর বয়ান নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং ঘটনার সময়কাল, স্থান ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে মেডিক্যাল পরীক্ষা ও অন্যান্য ফরেনসিক প্রক্রিয়াও করা হতে পারে বলে পুলিশ সূত্রে ইঙ্গিত।
এদিকে, এই অভিযোগ প্রসঙ্গে শমীক অধিকারীর প্রতিক্রিয়া জানার চেষ্টা করা হলেও এখনও পর্যন্ত তাঁর তরফে কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি। ফোন বা অন্য কোনও মাধ্যমে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে জানা গিয়েছে। ফলে অভিযুক্তের বক্তব্য বা পাল্টা দাবি এখনও সামনে আসেনি।
ঘটনার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। যিনি নিজেকে সমাজ সচেতন কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে তুলে ধরতেন এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে সরব ছিলেন, তাঁর বিরুদ্ধেই এই ধরনের অভিযোগ ওঠায় অনেকেই বিস্মিত। বিশেষ করে শমীক অধিকারীর অতীতের কিছু ভিডিও ও মন্তব্য নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে।
এই প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিবিদ কুণাল ঘোষ(Kunal Ghosh) কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া দেন। তিনি বলেন, “এই তিনিই সেই ব্যক্তি, যিনি একটি ভিডিও বানিয়ে দাবি করেছিলেন পশ্চিমবঙ্গে মহিলারা নিরাপদ নন। এমনকী, সেই ভিডিওতে তৃণমূল কংগ্রেসকে ভোট না দেওয়ার কথাও বলেছিলেন।” কুণাল ঘোষের এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মাত্রা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি শুধু একটি ব্যক্তিগত অভিযোগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। অভিযুক্তের পরিচিতি, তাঁর সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রভাব এবং অতীতে করা রাজনৈতিক মন্তব্য সব মিলিয়ে ঘটনাটি বহুমাত্রিক রূপ নিয়েছে। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন, যিনি প্রকাশ্যে নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন, তাঁর বিরুদ্ধেই যদি এমন অভিযোগ ওঠে, তাহলে সমাজে কী বার্তা যায়?
অন্যদিকে, মানবাধিকার কর্মী ও নারী অধিকার সংগঠনগুলিও বিষয়টি নজরে রেখেছে। তাঁদের বক্তব্য, অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোরতম শাস্তি হওয়া উচিত। একইসঙ্গে তাঁরা এটাও জোর দিয়ে বলছেন, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আইনের পথেই এগোনো জরুরি, যাতে প্রকৃত সত্য সামনে আসে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের অভিযোগে তদন্ত প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভিযুক্ত ও অভিযোগকারিণী দু’পক্ষের বক্তব্য, প্রমাণ, মেডিক্যাল রিপোর্ট, কল ডিটেইলস, সিসিটিভি ফুটেজ সব কিছু খতিয়ে দেখার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব। কোনও দিক উপেক্ষা করলে ন্যায়বিচার বিঘ্নিত হতে পারে বলেও মত তাঁদের।
সব মিলিয়ে, ‘ননসেন’-খ্যাত শমীক অধিকারীর বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগ ঘিরে রাজ্য জুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তদন্ত কোন দিকে এগোয়, অভিযোগ কতটা প্রমাণিত হয় এবং অভিযুক্তের তরফে কী বক্তব্য আসে সেদিকেই এখন নজর সকলের। আপাতত পুলিশি তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষায় রাজ্য।