Shamik Adhikary:“আমি নি’র্দো’ষ, সত্য সামনে আসবেই…আমাকে ফাঁ’সা’নো হচ্ছে, বেরিয়ে সব বলব, যারা পাশে আছেন কাউকে হ’তা’শ করব না”- প্রিজন ভ্যানে ওঠার আগে হু’ঙ্কা’র ‘ননসেন’ শমীকের

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now
Instagram Group Join Now

Shamik Adhikary: সোশ্যাল মিডিয়ার পরিচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর ‘ননসেন’(Nonsane)নামে খ্যাত শমীক অধিকারী(Shamik Adhikary)-র আইনি জটিলতা আরও গভীর হলো। বান্ধবীকে ফ্ল্যাটে আটকে রেখে মা’র’ধ’র ও শ্লী’ল’তা’হা’নি’র অভিযোগে গ্রেফতার হওয়ার পর এবার তাঁর জামিনের আবেদন নাকচ করল আদালত। আলিপুর আদালতের নির্দেশে তাঁকে ১৪ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে (জুডিশিয়াল কাস্টডি) পাঠানো হয়েছে। ফলে আপাতত জেলেই কাটবে তাঁর আগামী কয়েকটি দিন।

কয়েকদিন আগেই তাঁকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিনি পুলিশ হেফাজতে ছিলেন। তদন্তের অগ্রগতি এবং মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে আদালত তাঁকে আরও ১৪ দিনের জন্য জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। আগামী ২ মার্চ ফের তাঁকে আদালতে তোলা হবে।
আদালতের নির্দেশ ঘোষণার পর যখন তাঁকে প্রিজন ভ্যানে তোলা হচ্ছিল, তখন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ বলে দাবি করেন শমীক। কড়া পুলিশি নিরাপত্তা ও মিডিয়ার ভিড়ের মাঝেও তাঁকে আত্মবিশ্বাসী দেখায়।
তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, “আমি নির্দোষ। আমাকে ফাঁ’সা’নো হচ্ছে। সত্যিটা সবাই জানে। বেরিয়ে আমি সব বলব।”

সংবাদমাধ্যমের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আগেও তিনি ষ’ড়’য’ন্ত্রে’র অভিযোগ তুলেছিলেন এবং এখনও সেই অবস্থানেই অনড়। তিনি সরাসরি জানান, “ফাঁ’সা’নো’র কথা আমি আগেরবারও বলেছি, আর এটাই সত্যি কথা।” তাঁর কথায়, অভিযোগগুলি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তাঁকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে।
সমর্থকদের উদ্দেশ্যে তিনি বিশেষ বার্তাও দেন। তিনি বলেন, “যারা এই কঠিন সময়ে আমার পাশে আছেন, তারা যেন থাকেন। আমি কাউকে হতাশ করব না।” তাঁর দাবি, সময় এলে তিনি বিস্তারিতভাবে সমস্ত ঘটনার ব্যাখ্যা দেবেন। বর্তমানে সবটা বলা সম্ভব নয় বলেই জানিয়েছেন তিনি। তিনি বারবার জোর দিয়ে বলেন যে সত্য সামনে এলে তাঁর সমর্থকরা তাঁর ওপর আস্থা হারাবেন না। তিনি বলেন, “বেরিয়ে আমি সব বলব… এত কম সময়ের মধ্যে সবটা বলা যায় না।” এরপর দ্রুত তাঁকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ।

ঘটনার সূত্রপাত হয় তাঁর দীর্ঘদিনের পরিচিত এক মহিলার অভিযোগ থেকে। অভিযোগকারিণীর দাবি, শমীক তাঁকে ফ্ল্যাটে আটকে রেখে মা’র’ধ’র করেন এবং শ্লী’ল’তা’হা’নি’র চেষ্টা করেন। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে উত্যক্ত করা ও অ’শা’লী’ন আচরণের অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
অভিযোগকারিণী জানিয়েছেন, “মা’রে’র চোটে আমার এক চোখ ফুলে যায়। চোখের নীচে এখনও কালশিটে রয়েছে।” তাঁর আরও দাবি, চিৎকার শুনে শমীকের বাবা-মা ঘটনাস্থলে এলেও তাঁকে রক্ষা করার বদলে পরিস্থিতি এড়িয়ে যান। অভিযোগকারিণীর কথায়, শমীক তখন আ’ত্ম’হ’ত্যা’র হুমকি দেন, যার ফলে তাঁর বাবা-মা আ’ত’ঙ্কি’ত হয়ে পড়েন। কিন্তু তাঁকে মা’র’ধ’র করা সত্ত্বেও তাঁকে একা ফেলে চলে যান বলে অভিযোগ।
এই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে।

আরও পড়ুন:Parambrata Chattopadhay:“এটা আর নতুন কিছু নয়!…রেজাল্ট আগে থেকেই জানা..ভারত–পাক আর রাইভালরি নয়, একঘেয়ে একপাক্ষিক ল’ড়া’ই!” — সোশ্যাল মিডিয়ায় পরমব্রতের কটাক্ষে নতুন বিতর্ক

তদন্তের সময় পুলিশ শমীকের মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করে। তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, সেই ফোনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-প্রমাণ মিলেছে। আদালতে সেই প্রমাণ পেশ করা হয়। মামলার গুরুত্ব এবং তদন্তের স্বার্থে আদালত তাঁর জামিনের আবেদন নাকচ করে দেয়।
পুলিশের দাবি, সংগৃহীত তথ্য প্রমাণ মামলার তদন্তে তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও এই বিষয়ে শমীকের পক্ষ থেকে এখনও বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

শনিবার তাঁকে আদালতে তোলা হলে দু’পক্ষের আইনজীবীদের সওয়াল-জবাব শোনেন বিচারক। প্রতিরক্ষা পক্ষ জামিনের আবেদন জানালেও বিচারক তা খারিজ করেন। পরিবর্তে মামলার গুরুত্ব ও তদন্তের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে তাঁকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এই সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। ২ মার্চ ফের তাঁকে আদালতে তোলা হবে, তখন মামলার অগ্রগতি নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

আরও পড়ুন:Kunal Ghosh:”লাইক আর ভিউয়ের নে’শা’য়, এরা মা’ন’সি’ক রো’গী…ছেলেটি অত্যন্ত পাকা, হি’ন্দু’ত্ব দেখানোর নাটক কেন?”…”এখন আমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কথা বলছি”… সায়ক চক্রবর্তীকে নিশানা কুণাল ঘোষের সঙ্গে দেবকে কী বললেন তিনি?

মিডিয়ার সামনে শমীকের বাবা-মা স্বীকার করেছেন যে, তাঁদের ছেলে অভিযোগকারিণীকে চ’ড় মে’রে ছিল। এই স্বীকারোক্তি সামনে আসার পর বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়েছে।
অভিযোগকারিণীর বক্তব্য অনুযায়ী, শারীরিক আঘাতের চিহ্ন এখনও স্পষ্ট। তিনি দাবি করেছেন, ঘটনার সময় তাঁকে রক্ষা করার বদলে পরিস্থিতি অন্যদিকে ঘোরানোর চেষ্টা করা হয়। এই সমস্ত অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের মধ্যেই মামলাটি এখন বিচারাধীন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় মজার ভিডিও ও কনটেন্টের জন্য জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন শমীক অধিকারী। তাঁর অনুগামীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। তবে এই আইনি জটিলতা ও গুরুতর অভিযোগে তাঁর ভাবমূর্তি বড় ধাক্কা খেয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

সম্প্রতি রাজ্যের শাসকদলের বিরোধী কিছু কনটেন্ট তৈরি করেছিলেন তিনি। সেই প্রসঙ্গ টেনে অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘ষড়যন্ত্র তত্ত্ব’ সামনে আনছেন। যদিও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এই মুহূর্তে মামলার ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়ে নানা জল্পনা চলছে। সমর্থকদের একাংশ তাঁর পাশে দাঁড়ালেও, অন্যদিকে কঠোর সমালোচনার মুখেও পড়তে হচ্ছে তাঁকে।
বর্তমানে শমীক ১৪ দিনের জেল হেফাজতে রয়েছেন। ২ মার্চ তাঁকে ফের আদালতে তোলা হবে। তখন তদন্তের অগ্রগতি ও প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে।

একদিকে তাঁর নির্দোষ দাবি, অন্যদিকে গুরুতর অভিযোগ ও পুলিশের সংগৃহীত প্রমাণ এই দ্বন্দ্বেই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে গোটা ঘটনা। শমীকের কথায়, “সত্য সামনে আসবেই।”
তবে আদালতের প্রাথমিক অবস্থান স্পষ্ট তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত জামিন নয়। এখন নজর আদালতের পরবর্তী শুনানির দিকে। মামলার মোড় কোন দিকে ঘোরে, সেটাই দেখার।

Leave a Comment