Soham Chakraborty: টলিপাড়ায় নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়াল আর্থিক লেনদেন ঘিরে। জনপ্রিয় অভিনেতা ও তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক সোহম চক্রবর্তী(Soham Chakraborty)-র বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছেন অভিনেতা তথা রাজনীতিবিদ শাহিদ ইমাম(Syed Shahid Imam)। ইন্ডাস্ট্রিতে যিনি ‘শুভম’ নামেই বেশি পরিচিত। অভিযোগ, কয়েক বছর আগে ধার নেওয়া বিপুল অঙ্কের টাকা এখনও সম্পূর্ণ শোধ করেননি সোহম।
সম্প্রতি মুম্বইয়ে চেক বাউন্সের মামলায় অভিনেতা রাজপাল যাদব(Rajpal Naurang Yadav)-এর কারাবাসের ঘটনা সামনে আসার পরই টলিউডে এই নতুন আর্থিক বিতর্ক আরও বেশি নজর কাড়ছে। সেই আবহেই সোহম-শাহিদ আর্থিক দ্বন্দ্ব এখন আদালতের দোরগোড়ায়।
শাহিদ ইমামের দাবি, ২০২১ সালে সোহম তাঁর কাছ থেকে মোট ৬৮ লক্ষ টাকা ধার নেন। তাঁদের দীর্ঘ দিনের পরিচয় এবং পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতেই তিনি এত বড় অঙ্কের টাকা ধার দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন শাহিদ। তাঁর কথায়, প্রথম দিকে ঋণের একটি অংশ ফেরত এলেও পরে আর বাকি টাকা শোধের বিষয়ে সোহমের তরফে কার্যকর কোনও পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
শাহিদের অভিযোগ আরও গুরুতর তিনি দাবি করেছেন, টাকা চাওয়ায় উল্টে তাঁকেই হুমকি দেওয়া হয়েছে। এই অভিযোগকে ভিত্তি করেই তিনি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে সোহম জানিয়েছেন, তাঁকে ঘিরে হুমকির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “হুমকি দেওয়ার অভিযোগ মিথ্যা। আমি একাধিক বার জানিয়েছি, বাকি টাকা ফেরত দেব। নির্বাচনের আগে আমাকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা চলছে।”
সোহম আরও জানান, তিনি ইতিমধ্যেই আইনি নোটিস পেয়েছেন এবং তাঁর আইনজীবী বিষয়টি দেখছেন। তাঁর বক্তব্য, “শাহিদ যদি আইনি পথে হাঁটেন, আমিও আইনি পদক্ষেপ করব। তবে উনি কবে যুবনেতা ছিলেন, সেটা আমার জানা নেই।”
অর্থাৎ, রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও একপ্রকার কটাক্ষ করতে শোনা গিয়েছে তাঁকে।
শাহিদের দাবি অনুযায়ী, ২০২১ সালে সোহম ৬৮ লক্ষ টাকা ধার নেন। অন্যদিকে সোহম স্বীকার করেছেন যে তিনি টাকা নিয়েছিলেন, তবে প্রসঙ্গ টেনেছেন তাঁর ছবি ‘পাকা দেখা’র। তাঁর বক্তব্য, “২০২১ সালে ‘পাকা দেখা’ ছবির কারণে ৬৮ লক্ষ টাকা ধার নিয়েছিলাম। শাহিদের আরও বেশি টাকা দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু পরে সেটা দেননি। তখন অন্যদের থেকে বাকি টাকা জোগাড় করতে হয়েছে।”
সোহমের দাবি, তিনি ইতিমধ্যেই দুই দফায় মোট ২৫ লক্ষ টাকা শাহিদকে ফিরিয়ে দিয়েছেন। ফলে বাকি রয়েছে ৪৩ লক্ষ টাকা। সেই টাকা তিনি শোধ করবেন বলেও বারবার জানিয়েছেন বলে দাবি করেন অভিনেতা-বিধায়ক।
বকেয়া টাকা পরিশোধে দেরির কারণ হিসেবে সোহম তুলে ধরেছেন টলিউডের আর্থিক সঙ্কটের কথা। তাঁর বক্তব্য, “আমার কয়েকটি ছবি আটকে রয়েছে। বাংলা ছবির ব্যবসার অবস্থা সবারই জানা। ছবি মুক্তি না পেলে বা হাতে টাকা না এলে ঋণ শোধ করব কীভাবে? শাহিদ আমার অবস্থাটা বুঝলেন না।”
অর্থাৎ, তাঁর দাবি ইচ্ছাকৃতভাবে টাকা আটকে রাখা হয়নি, বরং কাজ ও আর্থিক পরিস্থিতির চাপে সময় লেগে যাচ্ছে।
এই বিতর্কে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে এসেছে। এসএসসি কাণ্ডে গ্রেফতার হয়েছিলেন শাহিদ ইমাম। ২০২৩ সালে তিনি জামিন পান। শাহিদের কথায়, “অভিনয়ের পাশাপাশি সেই সময় আমি তৃণমূল কংগ্রেসের যুবনেতা ছিলাম। সংশোধনাগারে থাকার কারণে আমি টাকা ফেরত চাইতে পারিনি। ২০২৩ সালে জামিন পেয়ে বেরিয়ে এসে সোহমের সঙ্গে যোগাযোগ করি এবং টাকা চাই।”
তিনি স্বীকার করেছেন, সোহম দুই দফায় মোট ২৫ লক্ষ টাকা ফেরত দিয়েছেন। কিন্তু তারপর থেকেই নাকি এই বিষয়ে আর কোনও সাড়া মেলেনি। বহুবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও আশানুরূপ প্রতিক্রিয়া না পেয়ে শেষমেশ আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
ঘটনার সময়কাল এবং নির্বাচন প্রসঙ্গ টেনে সোহম যেভাবে ‘কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা’ মন্তব্য করেছেন, তাতে এই আর্থিক বিতর্কে রাজনৈতিক রং লাগার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। দুই পক্ষই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ফলে বিষয়টি শুধুমাত্র ব্যক্তিগত আর্থিক বিবাদে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে রূপ নেবে, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে।
টলিপাড়ায় দুই পরিচিত মুখের মধ্যে এই টানাপোড়েন স্বাভাবিকভাবেই ইন্ডাস্ট্রিতে আলোড়ন ফেলেছে। আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে মৌখিক চুক্তি, ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও আস্থার ওপর নির্ভর করার ঝুঁকি নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।
একদিকে সোহমের দাবি আর্থিক চাপে দেরি হচ্ছে, কিন্তু টাকা শোধ করা হবে। অন্যদিকে শাহিদের অভিযোগ দীর্ঘ সময় পার হয়ে গিয়েছে, প্রতিশ্রুতি মিললেও বাস্তবে পূর্ণ অর্থ ফেরত আসেনি।
বর্তমানে বিষয়টি হাইকোর্টের বিচারাধীন। ফলে আদালতের নির্দেশই চূড়ান্ত দিশা দেখাবে। বাকি ৪৩ লক্ষ টাকা আদৌ কবে এবং কীভাবে মেটানো হবে, তা নিয়ে জোর জল্পনা চলছে।
এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও সামনে এল টলিউডের তারকাদের ব্যক্তিগত আর্থিক লেনদেন কত দ্রুত জনসমক্ষে বিতর্কে রূপ নিতে পারে। এখন নজর আদালতের দিকে। সোহম-শাহিদ আর্থিক টানাপোড়েনের পরিণতি কোন দিকে যায়, সেটাই দেখার।