Kanchan-Sreemoyee:“দোলে মাম্মা বুড়ি পেটে এসেছিল…”- কটাক্ষের মাঝেই সন্তানের জন্ম প্রসঙ্গে ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা শ্রীময়ীর?

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now
Instagram Group Join Now

Kanchan-Sreemoyee: গতকাল ছিল দেশজুড়ে দোলের রঙিন আবহ। আবির-গুলালের উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেছেন সাধারণ মানুষ থেকে তারকারাও। সেই রঙের উৎসবে সামিল হয়েছিলেন টলিপাড়ার চর্চিত দম্পতি কাঞ্চন মল্লিক(Kanchan Mullick) এবং শ্রীময়ী চট্টোরাজ(Sreemoyee Chattoraj Mullick)। তাঁদের সঙ্গে ছিল ছোট্ট কন্যা কৃষভিও। পরিবারের দোল উদযাপনের একটি ভিডিও সমাজমাধ্যমে অনুরাগীদের সঙ্গে ভাগ করে নেন শ্রীময়ী নিজেই। আর সেই ভিডিও ঘিরেই ফের জোর চর্চা শুরু হয়েছে নেটমহলে।

গতকাল শেয়ার করা সেই ভিডিওতে দেখা যায়, সাদা পোশাকে রঙের আবেশে মাখামাখি তিনজনই। ছোট্ট কৃষভি পরেছিল আইসক্রিম প্রিন্টের মিষ্টি একটি ফ্রক। মাথার দু’পাশে বাঁধা ঝুঁটি তাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছিল। অন্যদিকে কাঞ্চন ও শ্রীময়ী দু’জনেই পরেছিলেন সাদা রঙের পোশাক, মুখে লেগেছিল আবিরের ছোঁয়া। সাদার ওপর রঙের মেলবন্ধনে ধরা পড়ে এক পারিবারিক মুহূর্তের সরল আনন্দ।

ভিডিওতে কথা বলতে শোনা যায় শ্রীময়ীকে। তিনি বলেন, “এক বছর দোলে মাম্মা বুড়ি পেটে এসেছিল। আমি জানতে পেরেছিলাম। ২০২৪-এর ২৪ মার্চ। আর এই বছর সে এক মুখ আবির মেখেছে।” তাঁর এই মন্তব্য অনেকের কাছেই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে হয়েছে। কারণ, সন্তানের জন্ম ও সময়কাল নিয়ে অতীতে একাধিকবার কটাক্ষের মুখে পড়তে হয়েছিল এই দম্পতিকে। ফলে শ্রীময়ীর এই উক্তিকে অনেকেই পরোক্ষে জবাব হিসেবেই দেখছেন।
এরপর সকলকে দোলের শুভেচ্ছা জানান অভিনেত্রী। তিনি আরও বলেন, তাঁরা খুব একটা রং খেলেন না। তবে এদিন তাঁরা রাধামাধবের পুজো করেছেন। উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি তিনি একটি বার্তাও দেন হোলি খেলতে গিয়ে যেন অবলা পশুদের গায়ে রং না দেওয়া হয় এবং ছোট শিশুদের ওপর জোর করে রং না লাগানো হয়। তাঁর কথায়, উৎসব হোক আনন্দের, কিন্তু তা যেন কারও অস্বস্তির কারণ না হয়ে ওঠে।

তবে ভিডিওতে কৃষভির মুখে রং দেখা যাওয়ায় সেই প্রসঙ্গও স্পষ্ট করেন শ্রীময়ী। তিনি বলেন, “আমি আমার মেয়ের গায়ে রং দিইনি। একটা টিপ দিয়েছি, ও ঘেঁটে ফেলেছে।” এরপর সকলের উদ্দেশে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, “আপনাদের হোলি খুব ভালো কাটুক। আপনাদের সকলের মন রঙিন থাকুক।” ভিডিওটির ক্যাপশনে তিনি লেখেন, “আমাদের পক্ষ থেকে সকলকে হ্যাপি হলি।”
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি হঠাৎ করেই আইনি বিয়ে করে সকলকে চমকে দিয়েছিলেন কাঞ্চন ও শ্রীময়ী। খবরটি প্রকাশ্যে আসতেই টলিপাড়ায় জোর চর্চা শুরু হয়। এরপর ২ মার্চ সামাজিকভাবে সমস্ত রীতিনীতি মেনে বিয়ের আসরে বসেন তাঁরা। সম্প্রতি তাঁদের সামাজিক বিবাহের দু’বছর পূর্ণ হয়েছে।

আরও পড়ুন:Roopa Ganguly:”তোমাকে সিনেমাতে নেবে না.. “বাড়ি থেকে বের করে দিতে হয়, না হলে থাপ্পড় মারতে হয়।”- ‘কাস্টিং কাউচ’ না মানলে থাপ্পড়! – ইন্ডাস্ট্রির অন্ধকার দিক নিয়ে বিস্ফোরক রূপা গঙ্গোপাধ্যায়

তবে বিয়ের পর থেকেই নানা কারণে চর্চায় থেকেছেন এই তারকা দম্পতি। আইনি বিয়ের সাড়ে আট মাসের মাথায় শ্রীময়ী কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। তাঁদের কোল আলো করে আসে কৃষভি। সন্তানের জন্মের সময়কাল ঘিরে নেটমাধ্যমে শুরু হয় কটূক্তি ও সমালোচনা। পাশাপাশি শ্রীময়ীর সঙ্গে কাঞ্চনের বয়সের ব্যবধান নিয়েও কম কথা শোনেননি তাঁরা। বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় একাংশের বিদ্রূপ ছিল চোখে পড়ার মতো।
তবে সেই সমস্ত মন্তব্যকে প্রকাশ্যে খুব একটা গুরুত্ব দিতে দেখা যায়নি দম্পতিকে। বরং তাঁরা নিজেদের ব্যক্তিগত জীবন ও সন্তানের বেড়ে ওঠার মুহূর্তগুলোই ভাগ করে নিয়েছেন অনুরাগীদের সঙ্গে। কৃষভির বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও মাঝেমধ্যেই শেয়ার করেন শ্রীময়ী। ফলে ধীরে ধীরে তাঁদের পরিবারকেন্দ্রিক পোস্টই হয়ে উঠেছে অনুরাগীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু।

এবারের দোলের ভিডিওতেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বরং “দোলে মাম্মা বুড়ি পেটে এসেছিল” মন্তব্য ঘিরেই নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকের মতে, এটি নিছকই আবেগঘন স্মৃতিচারণ। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, সন্তানের জন্মকাল নিয়ে যাঁরা প্রশ্ন তুলেছিলেন, তাঁদের উদ্দেশেই এটি এক নিঃশব্দ জবাব।
যাই হোক, ভিডিওতে ধরা পড়েছে এক সাধারণ পারিবারিক উদযাপন। নেই বাড়াবাড়ি, নেই অতিরিক্ত রঙের হুল্লোড়। বরং সাদামাটা পোশাকে আবিরের হালকা ছোঁয়া আর সন্তানের সঙ্গে সময় কাটানোর আনন্দ এটাই ছিল তাঁদের দোলের মূল আকর্ষণ। উৎসবের দিনে তারকারাও যে শেষ পর্যন্ত পরিবারকেন্দ্রিক মানুষ, সেই ছবিই যেন তুলে ধরলেন কাঞ্চন ও শ্রীময়ী।

আরও পড়ুন:Sweta-Rubel:‘বুড়ি’ বলে শ্বেতাকে কটাক্ষ! পল্লবী-অনুরাগীর মন্তব্যে ক্ষোভ, পালটা জবাবে রুবেলের তোপ – “আপনার মায়েরও তো বয়স হয়েছে,..এটাই কালের নিয়ম… কোনো নেশা করেন আপনি, বয়স বাড়বে না?”

সমালোচনা, ক’টা’ক্ষ, বিতর্ক সব কিছুর মাঝেও নিজেদের মতো করে জীবনযাপন করছেন এই দম্পতি। সামাজিক মাধ্যমের তীর্যক মন্তব্যকে পাশ কাটিয়ে তাঁরা যে নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড়, তার ইঙ্গিত মিলেছে বারবার। এবারের দোলের বার্তাতেও যেন সেই সুরই শোনা গেল অতীতের কথা মনে রেখেও বর্তমানের আনন্দে বাঁচার প্রয়াস।
রঙের উৎসবের দিনে তাই তাঁদের বার্তা স্পষ্ট ভালো থাকুন, মন রঙিন রাখুন, আর উৎসব হোক সংযত ও সংবেদনশীল। আর শ্রীময়ীর সেই একটি বাক্যই যেন নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু, “এক বছর দোলে মাম্মা বুড়ি পেটে এসেছিল…”। কটাক্ষের উত্তরে এ কি নিঃশব্দ কিন্তু দৃঢ় জবাব? নাকি শুধুই এক মায়ের আবেগঘন স্মৃতি তার উত্তর আপাতত পাঠকের বিচারেই রইল।

Leave a Comment