রাজ চক্রবর্তী (Raj Chakrabarty) ও শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়(Subhashree Ganguly)-এর সং’সা’রে এখন যেন আনন্দের ঢেউ। ক’র্মক্ষে’ত্রে সা’ফ’ল্যে’র পাশাপাশি দুই সন্তান ইউভান (Yuvaan Chakraborty) ও ইয়ালিনি(Yaalini Chakraborty)-কে নিয়ে তাঁদের পা’রি’বা’রি’ক জীবনও সমান সুখের। ইউভান জ’ন্মে’র পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বিপুল জ’ন’প্রি’য়’তা পায়, আর ছোট্ট ইয়ালিনিও এখন সকলের প্রিয়। তবে সবচেয়ে অ’বা’ক করা তথ্য হল যে এই দুই সন্তান হওয়ার অনেক আগেই নাকি ‘মা’ হয়ে উঠেছিলেন শুভশ্রী। আর সেই ছেলেটি আর কেউ নন, তাঁর দিদি দেবশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়ের ছেলে অনীশ।
ছোটবেলা থেকেই অনীশের সঙ্গে শুভশ্রীর স’ম্প’র্ক’টা যেন মায়ের সঙ্গে সন্তানের মতো। প্রচলিত কথা, “মাসির আ’দ’র নাকি মায়ের থেকেও বেশি।” সেই কথার জী’ব’ন্ত প্রমাণ যেন এই স’ম্প’র্ক। পড়াশোনা ও কাজের কারণে অনীশকে বেশিরভাগ সময় শহরের বাইরে থাকতে হয়, কিন্তু কলকাতায় ফিরলেই সে ছুটে যায় মাসির বাড়িতে। ইউভান ও ইয়ালিনির সঙ্গে সময় কা’টা’য়, আর শুভশ্রীর কাছ থেকেও সে পান পরমানন্দের আ’দ’র।
দেবশ্রী (Debosree Ganguly) খুব অ’ল্প বয়সেই বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু ব্য’ক্তি’গ’ত জী’ব’নে’র টা’না’পো’ড়ে’নে সেই বি’য়ে টে’কে’নি। একাই স’ন্তা’ন’কে বড় করার দায়িত্ব কাঁ’ধে তুলে নেন তিনি। সেই ক’ঠি’ন সময়ে পাশে দাঁড়িয়েছিল তাঁদের পরিবার, আর সবচেয়ে বেশি শ’ক্তি’র জোগান দিয়েছিলেন শুভশ্রী। তখন তিনি কর্পোরেট অফিসে চাকরি করতেন, তবে আজ তিনি নিজেও বোনের মতো জ’ড়ি’য়ে রয়েছেন টলিউডের কাজের সঙ্গে। এমনকি তাঁকে দেখা গিয়েছিল ‘ফা’টা’ফা’টি’ (Fatafati) ছবিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায়।
দেবশ্রীর ডি’ভো’র্সে’র সময় অনীশের বয়স ছিল মাত্র ছয়। কাজের দিকে মন দেওয়ার জন্য ছেলেকে দার্জিলিংয়ের একটি বোর্ডিং স্কুলে রাখার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ভর্তি প্রক্রিয়ার সময়ে হঠাৎই প্রায় ৩০ হাজার টাকার ঘাটতি দেখা দেয়। তখন দেবশ্রীর হাতে তেমন উ’পা’র্জ’ন’ও ছিল না। ঠিক সেই সময়ে বোনের ভ’র’সা’র জায়গা হয়ে ওঠেন শুভশ্রী। দেবশ্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, “দার্জিলিংয়ের এক নামী বোর্ডিং স্কুলে ভর্তি করাতে চাইছিলাম। কিন্তু শে’ষ মুহূর্তে প্রায় ৩০ হাজার টা’কা ক’ম পড়ে যায়। শুভই তখন সেই টাকা আমাকে পাঠায়।”
দেবশ্রীর কথায় আরও উঠে আসে শুভশ্রীর নিঃ’শ’ব্দ অবলম্বন হয়ে থাকার গল্প। তাঁর ভাষায়, “আমার বোন তো মজা করে বলে ক্লাস এইট থেকেই ও নাকি মা হয়ে গেছে! অনীশকে ও এমনভাবে ভা’লো’বা’সে, যেন আমারই আরেক রূপ। আমার বি’চ্ছে’দে’র সময়ে ও বুঝতে পারত আমার ক’ষ্ট’টা। বারবার বলত, অনীশকে নিয়ে বা’ই’রে গিয়ে ঘুরে আসতে। কিন্তু আমার তো তখন সং’সা’রে’র অ’ব’স্থা খুব টা’না’টা’নি। কথাটা বলতেই শুভ কিছু বলেনি চু’প’চা’প নিজের ডেবিট কার্ডটা এগিয়ে দিয়েছিল। ওরা পাশে না থাকলে হয়ত এতটা পথ আমি ল’ড়া’ই করে উঠতে পারতাম না।”
একইভাবে দেবশ্রীও আ’গ’লে রাখেন বোনের দুই সন্তান ইউভান ও ইয়ালিনিকে। দুই পরিবারের মধ্যে সেই বন্ধন শুধুই র’ক্তে’র টান নয় বরং পারস্পরিক নির্ভরতার স’ম্প’র্ক।
শুভশ্রীর পরিবারের সঙ্গে সমান মধুর স’ম্প’র্ক গড়ে তুলেছেন রাজ চক্রবর্তীও। বড় শালির সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্বপূর্ণ স’ম্প’র্ক প্রায়ই দেখা যায় সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্টে। দেবশ্রী কখনও ভোলেন না রাজের জন্মদিন বা বি’বা’হ’বা’র্ষি’কী’তে শুভেচ্ছা জানাতে। আবার রাজও দেবশ্রীর জী’ব’নে’র গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে থেকেছেন শ’ক্তি’র স্ত’ম্ভ হয়ে। এমনকি দেবশ্রীর দ্বিতীয় বি’বা’হে’র সময়ও পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তিনিই। পরে যখন সেই বি’য়ে’তে কিছু স’ম’স্যা’র প’রি’স্থি’তি তৈরি হয়, তখনও ঢা’ল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন রাজ স্বামী নয়, বরং পরিবারের একজন হয়ে।
সব মিলিয়ে এই গল্প কেবল একজন নায়িকার তারকা-জীবনের নয় এটি এক পরিবারের ভ’র’সা, স’ম্প’র্কে’র টা’ন, এবং নি’র্ভ’র’তা’র কাহিনি। ইউভান ও ইয়ালিনির জ’ন্মে’র বহু আগেই শুভশ্রী মা’তৃ’ত্বে’র মমতা অ’নু’ভ’ব করেছিলেন অনীশের প্রতি। আজও সেই স’ম্প’র্কে’র উ’ষ্ণ’তা তাঁদের পুরো পরিবারকে এক সুতোয় বেঁ’ধে রেখেছে।