Aratrika Maity: বাংলা টেলিভিশনের অতি পরিচিত মুখ আরাত্রিকা মাইতি(Aratrika Maity)। অল্প বয়সেই ধারাবাহিক সাফল্য, জনপ্রিয় মেগা, দর্শকমহলে গ্রহণযোগ্যতা সব মিলিয়ে ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম আলোচিত অভিনেত্রীদের তালিকায় তাঁর নাম এখন পাকাপাকি। তবে শুধুমাত্র অভিনয় নয়, আরাত্রিকার আর এক পরিচয় তাঁর লুক। বিশেষ করে তাঁর চোখের ভাষা, কাজলটানা দৃষ্টি আর একধরনের ক্লাসিক আবেদন বারবার নেটিজেনদের মনে করিয়ে দেয় বাংলা সিনেমার এক চিরকালীন আইকনকে মহানায়িকা সুচিত্রা সেন(Suchitra Sen)-কে । আর এবার সেই তুলনাই নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে।
সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে নিজের বেশ কিছু নতুন ছবি শেয়ার করেছেন আরাত্রিকা। সাদা-কালো ফ্রেমে ধরা পড়া এই ছবিগুলিতেই যেন তৈরি হয়েছে ঝড়। সুতির শাড়ি, খোলা চুল, একদম সাধারণ সাজ অথচ সেই সাধারণতার মধ্যেই ধরা পড়েছে এক অনন্য আভিজাত্য। তবে সব কিছুর ঊর্ধ্বে নজর কেড়েছে তাঁর চোখ। কাজল দিয়ে টানা চোখে কখনও মায়াভরা চাহনি, কখনও রহস্যময় আড়চোখ, আবার কখনও তীক্ষ্ণ দৃষ্টি একের পর এক এক্সপ্রেশন যেন দর্শকদের টেনে নিয়ে গেছে অন্য এক সময়ের দিকে।
ছবিগুলি পোস্ট করার সময় আরাত্রিকার ক্যাপশনও আলাদা করে নজর কাড়ে। কবিতার ছন্দে লেখা কয়েকটি লাইনে তিনি তুলে ধরেন এক ‘মেঘবালিকা’র গল্প। ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘মেঘ আসে এলোকেশে, ছুঁয়ে দিলেই সব চুপ। সেই মেঘবালিকার গল্প হোক, শহরজুড়ে বৃষ্টি হোক, রোদ্দুর হোক আজ শুধুই তার ডাকনাম…’ এই লেখার সঙ্গে ছবির আবহ মিলে যেন আরও গভীর হয়েছে অনুভূতি।
ছবি প্রকাশ্যে আসার পরই মন্তব্যে ভরে ওঠে ভালোবাসা, প্রশংসা আর তুলনায়। একের পর এক নেটিজেন আরাত্রিকার চেহারা, অভিব্যক্তি আর লুকের সঙ্গে সুচিত্রা সেনের মিল খুঁজে পান। কেউ লেখেন, “এই যুগের সুচিত্রা সেন।” আবার কেউ সরাসরি মন্তব্য করেন, “প্রথম ঝলকেই সুচিত্রা সেন মনে হয়েছিল।” আরও এক অনুরাগী তো মহানায়িকার বিখ্যাত সংলাপ করে লেখেন, “মিসেস সেন, আমাকে টাচ করো না।” সব মিলিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় যেন ফের একবার ‘সুচিত্রা সেন’ তুলনায় উত্তাল হয়ে ওঠে আলোচনা।
এই তুলনা অবশ্য এই প্রথম নয়। এর আগেও বহুবার আরাত্রিকার চোখের ভাষা, শাড়িতে ধরা পড়া ক্লাসিক লুক বা সাদা-কালো ফটোশুট ঘিরে সুচিত্রা সেনের প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। অনেকেই মনে করেন, আজকের প্রজন্মের অভিনেত্রীদের মধ্যে আরাত্রিকার মধ্যেই সবচেয়ে বেশি ‘ভিনটেজ বাঙালি নায়িকা’ ছাপ রয়েছে। আবার কেউ কেউ বলেন, এই তুলনা যেমন গর্বের, তেমনই বড় দায়িত্বেরও। কারণ সুচিত্রা সেন(Suchitra Sen) শুধুই একজন অভিনেত্রী নন, তিনি এক যুগ, এক আবেগ।
তবে এই সব তুলনার মাঝেও নিজের জায়গায় স্থির আরাত্রিকা। অভিনয়ের দিক থেকেও তাঁর ঝুলিতে একের পর এক সফল কাজ। একই চ্যানেলে টানা তিনটি জনপ্রিয় মেগা তাঁকে দিয়েছে বাড়তি পরিচিতি। ‘খেলনা বাড়ি’(Khelna Bari) দিয়ে শুরু, তারপর ‘মিঠিঝোরা’(Mithijhora) প্রতিটি ধারাবাহিকেই দর্শকের মন জয় করেছেন তিনি। বর্তমানে ‘জোয়ার ভাঁটা’(Jowar Bhanta) ধারাবাহিকের মাধ্যমে আবারও প্রমাণ করছেন, জনপ্রিয়তা ধরে রাখার ক্ষেত্রে তিনি কতটা দৃঢ়।
শুধু টেলিভিশন নয়, বড়পর্দাতেও ইতিমধ্যেই পা রেখেছেন আরাত্রিকা। সৃজিত মুখোপাধ্যায়(Srijit Mukherji)-এর পরিচালনায় ‘লহ গৌরাঙ্গের নাম রে…’ (Lawho Gouranger Naam Rey)ছবিতে ‘লক্ষ্মীপ্রিয়া’র চরিত্রে তাঁকে দেখা গিয়েছে। দিব্যজ্যোতি দত্ত(Dibyojyoti Dutta)-এর বিপরীতে তাঁর অভিনয় সমালোচকদের নজরও কেড়েছে। এই ছবির মাধ্যমে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, টেলিভিশনের গণ্ডি পেরিয়ে বড়পর্দাতেও নিজেকে মেলে ধরতে প্রস্তুত তিনি।
সব মিলিয়ে বলা যায়, আরাত্রিকা মাইতি এখন এমন এক জায়গায় দাঁড়িয়ে, যেখানে তাঁর প্রতিটি লুক, প্রতিটি ছবি, প্রতিটি এক্সপ্রেশন খবরের শিরোনাম হয়ে উঠছে। সুচিত্রা সেনের সঙ্গে তুলনা তাঁকে যেমন নতুন করে আলোচনায় আনছে, তেমনই তাঁর প্রতি প্রত্যাশাও বাড়িয়ে দিচ্ছে। সময়ই বলবে, ভবিষ্যতে এই তুলনা কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়। তবে আপাতত এটুকু বলাই যায় কাজলটানা চোখ আর খোলা চুলে আরাত্রিকার এক ঝলকেই নেটিজেনদের মনে ফিরে আসছে মহানায়িকার স্মৃতি, আর সেটাই তাঁকে করে তুলছে আরও বেশি চর্চিত।