Sudipa Chatterjee:”আমি কি রে* হওয়া অবদি বসে থাকতাম?” লাগাতার কটাক্ষের জবাব দিলেন সুদীপা চ্যাটার্জী

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now
Instagram Group Join Now

Sudipa Chatterjee:হঠাৎই নিজের জীবনে ঘটে যাওয়া এক ঘটনা নিয়ে চিন্তিত সুদীপা চ্যাটার্জী। বাড়ির গাড়ি ব্যবহার না করে দাদার বাড়ি যাওয়ার জন্য অ্যাপ ক্যাব ব্যবহার করেছিলেন তিনি। আর সেটাই যেন জীবনের খুব ভুল সিদ্ধান্ত ছিল তাঁর। অ্যাপ ক্যাব ড্রাইভারের সাথে হওয়া সুদীপার সেই ঝামেলার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। ঘটনাটি এমনই পর্যায়ে চলে যায়। শেষে বাধ্য হয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হতে হয় তাঁকে।

সুদীপা গাড়ির নম্বর লিখে কড়েয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন অভিজ্ঞতা আর কারোর সাথে না হয়।এই ঘটনা জানাজানি হতেই, সমাজমাধ্যমে একদিকে যেমন তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছে, অন্যদিকে নেটিজেনদের একাংশের থেকে জুটেছে কটাক্ষ। অনেকেই বলেছেন, বারবার এমন সব ঘটনা কেন শুধু তাঁর সঙ্গেই ঘটে? নিশ্চয়ই এই মহিলারই দোষ ছিল? এই নিয়ে অবশেষে মুখ খুললেন সুদীপা।

একটি সাক্ষাৎকারে সুদীপা জানান, “আমার গাড়িটা সার্ভিস সেন্টারে ছিল তাই আমি একটি বিশেষ অ্যাপ ক্যাব সংস্থা থেকে অ্যাপ ক্যাব বুক করি। যাওয়ার সময় শুরুতে আমি বলি দাদা এখানে একটা মিষ্টির দোকান আছে সামনে, আমার কেনাই আছে, শুধু টাকাটা দিয়ে নিয়েই চলে আসব। তখন ওই লোকটি বলে আপনি স্টপেজ এড করুন। তো আমি এটা জানতাম না কিভাবে করতে হয়। তো আমি বললাম দাদা আমি তো করতে জানি না আপনি একটু করে দিন। তো আমি আমার মোবাইলটা এগিয়ে দি। লোকটা বলল আপনি হিন্দিতে কথা বলুন। আমি বাংলা বুঝি না। তো সেটা আমার খুব খারাপ লেগেছিল। কারণ আমি অন্য কোনো রাজ্যে গিয়ে এই কথাটা বলতে পারব না। আমি যে রাজ্যে গিয়ে কাজ করছি, সেই রাজ্যে গিয়ে তাদের বাধ্য করতে পারিনা অন্য ভাষায় কথা বলাতে। তারপর আমি বললাম ঠিক আছে এত ঝামেলার দরকার নেই। তারপর চালককে মা ফ্লাইওভার দিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা বললে, সে স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে ম্যাপে যা দেখাচ্ছে, সেই রাস্তা দিয়েই যাবে। তারপর আমি বললাম দাদা এটা ঠিক হচ্ছে না। আপনি ছেড়ে দিন। আমাকে সাইড করে নামিয়ে দিন। তাতে তিনি কিছুতেই রাজি হননি। বলে আপনি পুরো ভাড়া দিন তারপর নামাব। আমি বললাম এখনও ২ মিনিটও হয়নি। তাতে যা টাকা হয়েছে সেটাই আপনি নিন। তাতে তিনি রাজি হননি। তারপর হিন্দিতে খুব জ’ঘ’ন্য ভাষায় আমাকে গা’লা’গা’ল দিতে থাকে। আমি বলি আপনার সাহস কি করে হয় আমার সাথে এমন কথা বলার? উনি মেয়েদের যা তা টেনে এনে বলেন, মেয়ে জাতিদের সাথে এমনভাবেই কথা বলা উচিত।

আরও পড়ুন:Chumki Chowdhury:বাবার হাতে কেন থা’প্প’ড় খেতে হয়েছিল অভিনেত্রীকে? কেনই বা অভিনয় ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন অভিনেত্রী? জীবনের বেশকিছু অজানা সত্যের কথা জানালেন অভিনেত্রী চুমকি চৌধুরী

আমি বারবার গাড়ি থামিয়ে নামার কথা বললেও কিন্তু সে আমার কথা শোনে না। তারপর দু’পক্ষের কথা কাটাকাটি হয়। তারপর ও রেকর্ড করতে শুরু করে। তারপর বলে আজ তোকে মজা দেখাব। বলে একদম উল্টো একটি অপরিচিত রাস্তায় নিয়ে যেতে থাকে। প্যানিক বটনও কাজ করে না। আমি পুলিশের উচ্চপদস্থ এক কর্মচারীর সঙ্গে তার কথা পর্যন্ত বলাই, কিন্তু সে কিছুতেই বোঝে না। অবশেষে কিছু দূর যাওয়ার পর, ট্রাফিক সার্জেন্টকে দেখে ভয় গাড়ি থামায়। আর আমি আদির কা’ন্না দেখে, কোনোরকমে গাড়ির স্টিয়ারিংটা বাঁদিকে ঘুরিয়ে দিই। তার জন্য আমার হাতে মা’রে’ও। গাড়ি থামাতে লোকজন আমাদের ঘিরে ধরে আর সে এই ঝামেলাটাকে হিন্দু-মুসলিম পর্যায়ে নিয়ে চলে যায়।আমার সাজপোশাক থেকে সে বুঝতে পারেনি আমি হিন্দু, তাই বলতে থাকে একজন হিন্দু ছেলের গায়ে আমি হাত তুলেছি এবং মুসলিমদের দিয়ে মারার হু’ম’কি’ও দিয়েছি। পরবর্তীতে যখন সত্যিটা জানতে পারে, আমাকে বলে যে লোক না থাকলে আমাকে মে’রে নাকি ও শিক্ষা দিত। আমি বলি ঠিক আছে, মারো, সে তেড়ে আসে আর হাতটা ধরে আমি গালে একটা চড় বসিয়ে দিই।”

অভিনেত্রী আরও জানান যে, সমাজমাধ্যমে তার ব্যবহারে অনেকেই ক্ষু’ব্ধ হয়েছেন। তারা বলছেন কমেন্ট করে এমন ব্যবহার নাকি আমার করা উচিত হয়নি! তাদের উদ্দেশ্যে একটাই প্রশ্ন, ‘তাহলে আমি কি নিজের রে* হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতাম?’ হয়ত চালকটিকে চড় মা’রা বা কটু কথা বলা আমার উচিৎ হয়নি। কিন্তু নিজের আ’ত্ম’র’ক্ষা’র তাগিদে আমি এটা করতে বাধ্য হয়েছি। যারা সোশ্যাল মিডিয়ায় এতটা জাজমেন্টাল হয়ে যান, তারা একবারও ভাবেন না একটা মেয়ে কতটা বাজে পরিস্থিতির মধ্যে গেলে একজনের গায়ে হাত তুলতে পারে। যখন কোনো বি’প্ল’ব বা যু’দ্ধ হয়, দুই পক্ষের প্রতিক্রিয়া সমান গুরুত্বপূর্ণ! আমি সাধারণত নিজের গাড়িতেই যাতায়াত করি, কিন্তু সেদিন প্রয়োজনে অ্যাপ ক্যাবের সাহায্য নিতে হয়েছিল। আমরা ছোট থেকেই ট্যাক্সিতে যাতায়াত করেছি। সেখানে টাকা পয়সা দিয়ে কথা কাটাকাটিও হয়েছে, কিন্তু এমন ঘটনা সত্যি অপ্রত্যাশিত ছিল। অনেকেই বলছেন আমার সঙ্গেই কেন এটা হয়? আর কারোর সঙ্গে তো হয় না।

আরও পড়ুন:Sagarika Roy:”কী ভেবেছিলেন আমি খুব সস্তা, প্র’তি’বা’দ করতে পারব না, এইভাবে শিল্পীদেরকে সস্তা না করাই ভালো…” অনুমতি না নিয়েই ‘জোয়ার ভাঁটা’তে নিজের ছবি ব্যবহার উপরন্ত তিনি নিজেই সেটা জানেন না, রে’গে ফুঁ’সে উঠলেন অভিনেত্রী সাগরিকা রায়, টলিউড ইন্ডাস্ট্রির প্রতি ক্ষো’ভ প্রকাশ করে কী বললেন তিনি?

আমার অনেক কিছুতে সমস্যা আছে, যার জন্য বারবার আওয়াজ তুলতে গিয়ে বি’প’দে পড়ি। বিধবা বিবাহ বা সতীদাহ প্রথা নিয়েও, আপত্তি ছিল বলেই পাল্টানো গেছে! আরজি করের ঘটনাও একজনের সঙ্গেই ঘটেছে, তাই বলে সবাই বলতে পারে না, যে আমার মেয়ের সঙ্গে ঘটছে না, ওর মধ্যেই দো’ষ ছিল! আসলে, আমাদের বাংলার সংস্কৃতি এমন কোনদিনও ছিল না। একটা বাইরের রাজ্যে গিয়ে, ওই চালক বলতে পারতেন যে আমি বাংলা ভাষা বুঝি না হিন্দিতে কথা বলো? আমি একজন বাঙালি হয়ে কেনই বা বলব! ভবিষ্যতে এমন কোনো ঘটনা ঘটলে আমি আবারও আমার ভা’ঙা গলা নিয়ে নির্দ্বিধায় প্র’তি’বা’দ করব, যতই বিতর্ক হোক!”

Leave a Comment